আবদ্ধ পদ্ধতীতে ছাগল পালন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য, সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ

(১) আবদ্ধ পদ্ধতীতে ছাগল পালন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য

১। এই পদ্ধতিতে খামারে শতাধিক হতে সহস্রাধিক ছাগল পালন করা সম্ভব। বিনিয়োগের পরিমানের উপর এই সংখ্যা নির্ভরশীল।
২। এই পদ্ধতিতে ছাগলকে সম্পূর্ণ আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা হয় এবং কাচা ঘাস, দানাদার খাদ্যসহ সকল প্রকার খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করা হয়।
৩। এই পদ্ধতিতে ছাগলের মুক্তভাবে চারণভূমিতে চরে বেড়ানোর কোন সুযোগ থাকে না। তবে খামার গৃহের সাথে খামার গৃহের প্রায় দ্বিগুন জায়গা নিয়ে খোঁয়াড় তৈরী করা হয় যার চারপাশে বেড়া দেওয়া থাকে। উক্ত খোঁয়ারে ছাগলকে দিনের বেলা ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সকল প্রকার রাফেজ জাতীয় খাদ্য খোঁয়াড়ে সরবরাহ করা হয়।
৪। বিনিয়োগের উপর আয় নির্ভরশীল। বিনিয়োগ যত বেশী হবে অ্যাৎ যত বেশী সংখ্যায় ছাগল পালন করা হবে আয়ও সেই অনুপাতে বেশী হবে।
(২) আবদ্ধ পদ্ধতীতে ছাগল পালন পদ্ধতির সুবিধা
১। পরিকল্পিতভাবে খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করা হয় বলে উৎপাদন আশানুরূপ হয়।
২। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রজনন ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
৩। অল্প জায়গায় অধিক সংখ্যক ছাগল পালন করা হয় বলে তুলনামূলকভাবে জনবল খাতে ব্যয় কমহয়।
৪। বিজ্ঞান সম্মত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করার মাধ্যমে ছাগল পালনকে শিল্প হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব।
(৩) আবদ্ধ পদ্ধতীতে ছাগল পালন পদ্ধতির অসুবিধা
১। গৃহ নির্মান ও স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে বেশী।
২। এই পদ্ধতিতে খাদ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় তুলনামূলকভাবে অন্য পদ্ধতির চেয়ে বেশী। সময়মত কাঙ্ঘিত উৎপাদন নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে কখনো কখনো এই পদ্ধতি লাভজনক হয় না।
৩। একসাথে অধিক সংখ্যক ছাগল পালন করা হয় বলে খামারের কোন একটি ছাগলে সংক্রামক রোগ হলে তা দ্রুত খামারে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উৎপাদন ক্ষতিথন্থ হয় এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় বদ্ধি পায়।









