আরবি বারো মাসের নাম এবং নামকরণের কারণ

আরবি বারো মাসের নাম এবং নামকরণের কারণ (1)

আরবি বারো মাসের নাম এবং নামকরণের কারণ।

আপনি কি আরবি ১২ মাসের নাম অর্থসহ জানেন? যদি না জেনে থাকেন তাহলে এখনি মুখস্থ করে ফেলেন। বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের এগুলো দরকার হয়। আর আপনি যদি মুসলমান হয়ে থাকেন তাহলে এ নামগুলো অবশ্যই মনে রাখতে হবে। কারণ বিভিন্ন ইবাদাত ও উৎসবে এ নামগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

তো আজকের আর্টিকেলে আমরা আরবি ১২ মাসের নাম অর্থ সহ এবং নামকরণের কারণ সহ আলোচনা করব। তাহলে আর দেরি না করে চলুন এ সম্পর্কে জেনে নেই।

(১) আরবি বার মাসের নামের টেবিল/চার্ট

ক্রমআরবি
নাম
বাংলা
উচ্চারণ
ইংরেজি
নাম
محرمমহররমMoharram
০২.صفرসফরSofor
০৩.ربيع الاولরবিউল আউয়ালRobiul Awal
০৪.ربيع الثانيরবিউস সানিRabius Sani
০৫.جمادى الاولজমাদিউল আউয়ালJamadiul Awal
০৬.جمادي الثانيজমাদিউস সানিJamadius Sani
০৭.رجبরজবRajab
০৮.شعبانশাবানShaban
০৯.رمضانরমজান
১০.شوالশাওয়ালShawal
১১.ذي القدজিলক্বদJelkad
১২.ذي الحجজিলহজ্জJilhaj

(২) আরবি ১২ নাম নামকরণের কারণ

মহররমঃ এ মাসে জাহেলি যুগে যেকোনো ধরণের যুদ্ধবিগ্রহ ও রক্তপাত করা হারাম ও অবৈধ ছিল। তাই এই মাসকে মুহাররমুল হারাম নামকরণ করা হয়েছে।

সফর : সফর শব্দটি মূলত সিফর থেকে নির্গত। এর অর্থ হলো শূন্য হওয়া। জাহেলি যুগে এ মাসে লোকেরা যুদ্ধের জন্য বের হয়ে গেলে বাড়ি-ঘর খালি হয়ে যেত, তাই সফরের মাসের নাম রাখা হয়েছে সফর।

রবিউল আউয়াল : এই রবিউল আউয়াল মাসের নামকরণকালে ফসলে রবি, অর্থাৎ বসন্তকাল ছিল। তাই মাসের নামকরণ হয়েছে রবিউল আউয়াল।

রবিউস সানি : এর নামকরণকালে বসন্তের শেষার্ধে পড়ার কারণে রবিউল আখের বা শেষ বসন্ত নাম রাখা হয়।

জমাদিউল আউয়াল : জুমাদা শব্দটি এসেছে জুমুদ থেকে। এর অর্থ হলো জমে যাওয়া, স্থবির হওয়া। যখন এই মাসের নাম রাখা হয়, তখন ঠাণ্ডার মৌসুম আরম্ভ হয়, কেননা ঠাণ্ডার কারণে বেশির ভাগ জিনিস জমে যায়। এ জন্য এ মাসের নাম এভাবে রাখা হয়েছিল।

জমাদিউস সানি : এই মাসের নাম রাখার কারণ হলো, এই মাসের শেষে শীতের প্রচণ্ডতায় পানি পর্যন্ত জমে যেত। তাই এর নাম রাখা হ জমাদিউস সানি।

রজবঃ রজিব শব্দ থেকে রজব শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে। এর অর্থ সম্মান করা। যেহেতু এ মাসকে আরবরা সম্মান করত এবং শাহরুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর মাস বলত, তাই এ মাসের নাম রজব বা সম্মানিত মাস রাখা হয়।

শাবান : শাব শব্দ থেকে শাবান শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। এর অর্থ হলো বের হওয়া, প্রকাশ হওয়া, বিদীর্ণ হওয়া। এ মাসে বিপুল কল্যাণ প্রকাশিত হয়, মানুষের রিজিক উৎপাদন ও বণ্টিত হয় এবং তাকদিরের ফয়সালাগুলোও বণ্টন করে দেওয়া হয়। তাই এ মাসের নাম শাবান রাখা হয়েছে।

রমজান : রমজান শব্দের মূল অর্থ হচ্ছে জ্বালানো-পোড়ানো। যেহেতু এই মাসে মুমিনের গুনাহগুলো জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়। তাই এ মাসের নাম রমজান।

শাওয়াল : শাওয়াল শব্দটি ‘শাওল’ মূলধাতু থেকে নির্গত। এর অর্থ হলো বাইরে গমন করা। এখানে আরববাসী নিজ ঘরবাড়ি ত্যাগ করে ভ্রমণে যেত। তাই এর নামকরণ করা হয় শাওয়াল।

জুলকদ/জিলকদ : ‘জুল/জিল’ অর্থ ওয়ালা আর ‘কাদাহ’ অর্থ হলো বসা। এ মাস সম্মানিত মাসের একটি। আরবরা এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকত।

জুলহজ্ব/জিলহজ্ব : জুলহজ্ব/জিলহজ্ব শব্দটি সম্ভবত হাজ্জাহ থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ একবার হজ করা। অথবা শব্দটি ‘হিজ’ শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে। এর মানে অর্থবছর। যেহেতু এই মাস বছরের শেষাংশে আসে এবং এর দ্বারাই পূর্ণ বছরের সমাপ্তি ঘটে, তাই এই মাসের নামকরণ হয়েছে জুলহজ্ব/জিলহজ্ব।

(৩) আরবি বারো মাসের নাম এর পিক/ছবি

আরবি বারো মাসের নাম এবং নামকরণের কারণগুলো জানেলাম। আজ এখানেই থাকলো আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সূরা আল বাকারা-এর নামকরণ

সূরা আল বাকারা-এর নামকরণ

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) কুরআনের সূরার নামকরণের ভিত্তি (২) সূরা আল-বাকারা নামকরণের কারণ (৩) সূরা আল-বাকারা নামকরণের তাৎপর্য (৪) সূরা আল-বাকারা নাযিল হওয়ার সময়কাল (৫) সূরা আল-বাকারা এর ফযিলত Read
ঈমানের শাখা (imaner shakha)

৭৭টি ঈমানের শাখা (imaner shakha)

○ ইসলাম
আলোচনার বিষয়:  ঈমানের শাখা কি? ঈমানের শাখা কয়টি? ঈমানের শাখা প্রশাখা কয়টি? ঈমানের শাখা pdf, ঈমানের শাখা কয়টি ও কি কি? ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা কি? ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা কি? ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা কয়টি? ঈমানের মৌলিক শাখা কয়টি? ঈমানের সংখ্যা কয়টি? ঈমানের শাখা সমূহ, ঈমানের শাখা কতটি? ঈমানের সর্বোৎকৃষ্ট শাখা কোনটি? ঈমানের ৭৭ টি শাখা কি কি? ঈমানের অংগ, ঈমানের সবচেয়ে ছোট শাখা কোনটি? ঈমানের ৭৭ টি শাখা বই, ঈমানের ৭৭ টি শাখা, ঈমানের শাখা প্রশাখা। Read
মোজা মাসেহ করার নিয়ম

মোজা মাসেহ করার নিয়ম

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) মোজায় মাসেহের শর্তসমূহ (২) কোন ধরনের মোজায় মাসেহ করা জায়েয? (৩) মোজায় কত দিন মাসেহ করা জায়েয? (৪) মোজায় মাসেহের নিয়ম/পদ্ধতি (৫) যেসব কারণে মোজায় মাসেহ ভঙ্গ হয়ে যায়? (৬) মোজার ওপর মাসেহ কখন বাতিল হবে? (৭) মোজার মাসেহ সংক্রান্ত আরও কিছু মাসয়ালা মাসায়েল Read
নিফাকের (কপটতা) পরিচয় ও এর কুফল

নিফাকের (কপটতা) পরিচয় ও এর কুফল

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) নিফাকের পরিচয় (২) মুনাফিকদের চরিত্র (৩) নিফাকের কুফল ও পরিণতি (৪) নিফাক পরিহারের উপায় Read
তিলাওয়াত শব্দের অর্থ, কী, কাকে বলে, কত প্রকার এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য

তিলাওয়াত শব্দের অর্থ, কী, কাকে বলে, কত প্রকার? এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) তিলাওয়াত শব্দের অর্থ কী? (২) তিলাওয়াত কী? (৩) তিলাওয়াত কাকে বলে? (৪) তিলাওয়াত কত প্রকার? (৫) তিলাওয়াত এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য Read
অশ্লীলতা পরিহার সংক্রান্ত ১টি বিষয়ভিত্তিক হাদিস

অশ্লীলতা পরিহার সংক্রান্ত ১টি বিষয়ভিত্তিক হাদিস

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: নিম্নে অশ্লীলতা পরিহার সংক্রান্ত ১টি বিষয়ভিত্তিক হাদিসের অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা তুলে ধরা হলো- Read
আখিরাত শব্দের অর্থ, কি, কাকে বলে এবং আখিরাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব

আখিরাত শব্দের অর্থ, কী, কাকে বলে? আখিরাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) আখিরাত শব্দের অর্থ কী? (২) আখিরাত কাকে বলে? (৩) আখিরাত কী? (৪) আখিরাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব Read
হজ্জের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

হজ্জের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: নিম্নে ও সহজ সংক্ষিপ্তভাবে হজ্জের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরা হলো- (১) হজ্জের পরিচয় ও পটভূমি (২) হজ্জের ধর্মীয় গুরুত্ব (৩) হজ্জের সামাজিক শিক্ষা (৪) হজ্জের অর্থনৈতিক শিক্ষা Read
আল্লাহ কি নিরাকার

আল্লাহ কি নিরাকার?

আলোচ্য বিষয়: আমাদের সমাজের অনেকের মধ্যেই একটা বদ্ধমূল ধারণা আছে যে, মহান আল্লাহ 'নিরাকার'। অর্থাৎ তাঁর কোনো আকার বা আকৃতি নেই। আমরা ছোটবেলা থেকে অনেকেই এটাই শুনে এসেছি। কিন্তু আপনারা কি জানেন, কুরআন ও হাদিস এবং বড় বড় ইমামদের কথা অনুযায়ী এই ধারণাটি আসলে পুরোপুরি সঠিক নয়? আজকের এই লেখায় খুব সহজ ভাষায় এবং প্রমাণসহ জানাব—কেন আল্লাহ নিরাকার নন এবং তাঁর আকার সম্পর্কে ইসলাম আসলে কী বলে। Read
যাকাত দেওয়ার নিয়ম, যাকাত কে দিবে, কাকে দিবে, এবং কাকে দেওয়া যাবে না

যাকাত দেওয়ার নিয়ম কি? যাকাত কে দিবে? কাকে দিবে? এবং কাকে দেওয়া যাবে না?

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: যাকাত দেওয়ার নিয়ম কি? যাকাত কে দিবে? কাকে দিবে? এবং কাকে দেওয়া যাবে না? যাকাত দেওয়ার নিয়মসমূহকে নিম্নোক্ত মোট ৬টি পয়েন্টে তুলে ধরা হলো: (১) যাকাত কাকে বলে? যাকাত কি ও কেন? (২) যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি? যাকাত কাদের উপর ফরজ? (৩) নিসাব কাকে বলে? নিসাব পরিমাণ সম্পদ কত টাকা? কত টাকা থাকলে যাকাত দিতে হয়? কত টাকা হলে যাকাত ফরজ? (৪) যাকাতের খাত কয়টি? কাদের যাকাত দেওয়া যাবে? কয় শ্রেণীর লোককে যাকাত দেওয়া যায়? কে যাকাত পাওয়ার যোগ্য? (৫) যাকাত কাদের দেয়া যাবে না? যাকাত কাকে দেওয়া দেয়া যাবে না? যাকাত কারা পাবে না? যাকাতের টাকা কাদের দেওয়া যাবে না? (৬) যাকাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য Read