ইতিহাস সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর

ইতিহাস আমাদের অতীতের গৌরবময় ও বেদনাদায়ক ঘটনাবলির একটি জীবন্ত দলিল, যা আমাদের বর্তমানকে বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করে। এই ব্লগে আমরা ইতিহাস সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব, যা পাঠকদের ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং তথ্যভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে।
১. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর/মহাদুর্ভিক্ষ বলতে কি বুঝ?
উত্তর:
বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের নাম হলো ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে এই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল বলে একে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বা মহাদুর্ভিক্ষ বলা হয়।
অর্থাৎ, রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈতশাসন নীতি ও ইংরেজদের অত্যাচার, উৎপীড়ন, নির্যাতন ও শোষণের ফলে বাংলার মানুষের অবস্থা ধীরে ধীরে শোচনীয় হয়ে পড়ে। এছাড়াও ১৭৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাংলায় প্রচুর খাদ্যের অভাব পড়ে। সারা দেশে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নেমে আসে।
প্রায় ১ কোটি লোক এ দুর্ভিক্ষে মারা যায়। বাংলা ১১৭৬ সালের (ইংরেজি ১৭৭০) এই দুর্ভিক্ষই ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বা মহাদুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। এ দুর্ভিক্ষের ফলে বাংলার এক তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা কমে যায়। কার্টিয়ার এ সময় বাংলার গভর্নর ছিলেন।
২. কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক আসলে কে?
উত্তর:
কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক আসলে কে: সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের আংশিক অনুবাদ করেন মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া ১৮০৮ সালে। এরপর বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন মৌলভী নাঈমুদ্দীন ১৮৩৬ সালে। গিরিশ চন্দ্র সেন শুধু উক্ত অনুবাদকে পুস্তক আকারে সন্নিবেশ করেছেন, গিরিশ চন্দ্র হচ্ছেন প্রকাশক। তাও অনেক পরে, ১৮৮৬ সালে।
সুতরাং কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র নন, বরং মৌলভী নাঈমুদ্দীনই পূর্ণাঙ্গ কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক। আর মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া হলেন বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের আংশিক অনুবাদক।
গিরিশ চন্দ্র সেনের জন্ম ১৮৩৫ সালে এবং মৃত্যু ১৯১০ সালে। গিরিশ চন্দ্রের জন্মেরও আগে অর্থাৎ ১৮০৮ সালে কুরআন শরীফের বাংলায় অনুবাদের কাজ শুরু করেন মাওলানা আমীর উদ্দীন বসুনিয়া। এরপর গিরিশ চন্দ্র সেনের জন্মের একবছর পরই অর্থাৎ ১৮৩৬ সনে মৌলভী নাঈমুদ্দীন পূর্ণাঙ্গ কুরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন। আরবি জানে না, আরবি ব্যাকরণ জানে না এমন ব্যক্তি কুরআন অনুবাদ করেছে এমন প্রচার মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে যে, গিরিশ চন্দ্র সেন আল কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক। এ প্রচারণার কিছু কারণ ছিল।
ব্রিটিশ আমলে এদেশে ব্রাহ্মধর্মের একটা জোয়ার এসেছিল। গোঁড়া হিন্দু গিরিশ চন্দ্র সেন এক সময় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। ব্রাহ্মধর্ম এ দেশে ছিল একটি নতুন ধর্মমত। তাই এ ধর্মমত আপামর জনসাধারণের মধ্যে প্রচারের জন্য গিরিশ চন্দ্র নিজে উদ্যোগী হলেন। কিন্তু অর্থকড়ির তো প্রয়োজন। সেটা আসবে কোত্থেকে!? সে ফারসী ভাষায় পণ্ডিত ছিল। মুসলমানদের পকেট থেকে টাকা বের করার জন্য বেশ কিছু ইসলামী বই রচনা করল এবং সেই সাথে পবিত্র আল কুরআনের প্রকাশ করল প্রকাশক হয়ে। মুসলমানরা এ বই কিনলোও প্রচুর। ফলে বাংলা ভাষাভাষী যারাই কুরআন শরীফের বঙ্গানুবাদ হাতে পেতে চাইলো তাদের হাতে পৌঁছে গেল তার অনূদিত কুরআন শরীফ। এ ব্যাপারে তাঁকে ব্রাহ্মসমাজ হিন্দু ব্যক্তিবর্গ এমনকি ব্রিটিশরাও যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। ফলে মানুষ মনে করেছে পবিত্র কুরআন শরীফের প্রথম বঙ্গানুবাদকারী হচ্ছেন গিরিশ চন্দ্র সেন। আসলে পবিত্র কুরআনের প্রথম বঙ্গানুবাদকারী যে মৌলবী মোহাম্মদ নঈমউদ্দীন সে কথা অল্প কিছু লোক জানলেও ব্যাপকভাবে প্রচার করার সুযোগ আসেনি।
গিরিশ চন্দ্র কুরআনের অনুবাদ বিক্রি করে যে অর্থ লাভ করত তা সে ব্যয় করতো ব্রাহ্মধর্ম প্রচার কাজে। ফলে ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের মিশনের সাথে কুরআন বিক্রয়ের একটা গভীর সম্পর্ক ছিল।
মৌলবী মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন ছিলেন একজন মুসলমান। তিনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আল কুরআনের বঙ্গানুবাদ করেছিলেন। তা প্রচারের জন্য গিরিশ চন্দ্র সেনের মতো কোনো মিশন ছিল না। যার কারণে তার প্রচার প্রসার ছিল সীমিত। এমনি করেই আল কুরআনের প্রথম বঙ্গানুবাদকারী হয়েও মৌলবী মোহাম্মদ নঈমউদ্দীন, গিরিশ চন্দ্র সেনের মতো প্রচার পেতে পারেন নাই।
৩. ৬ দফা দিবস কবে পালন করা হয়?
উত্তর:
প্রতি বছর ৭ই জুন বাংলাদেশে ‘৬ দফা দিবস’ পালন করা হয়।
৪. সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নাম মনে রাখার সহজ উপায়?
উত্তর:
সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নাম মনে রাখার সহজ উপায় হলো নিচের বাক্যটি মনে রাখা। যথা-
“সাত হাজার মোম আন”:
- সা: সা হামিদুর রহমান
- জা: জা জাহাঙ্গীর আলম (সঠিক হবে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর)
- র: রুহুল আমিন
- মো: মোস্তফা কামাল
- ম: মতিউর রহমান
- আ: আব্দুর রউফ
- ন: নূর মোহাম্মদ
সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের সংশোধিত বাক্য ও নাম মনে রাখার সহজ উপায় হলো নিচের বাক্যটি মনে রাখা। যথা-
“সাত হাজার মোম আ(ন): হা. জা. রু. মো. মা. আ. নূ.”:
- হা: হামিদুর রহমান
- জা: মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
- রু: রুহুল আমিন
- মো: মোস্তফা কামাল
- মা: মতিউর রহমান
- আ: আব্দুর রউফ
- নূ: নূর মোহাম্মদ শেখ
৫. লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?
উত্তর:
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে মুসলিম লীগের অধিবেশন বসে। এ অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক (বাংলার বাঘ নামে খ্যাত) লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মূল বিষয় ছিল মুসলমানদের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
৬. মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উত্তর:
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
৭. মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
উত্তর:
ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন।





