ইসলাম কি নারীদের প্রতি অত্যাচার করে?

মারাত্বক ভুল ধারণা: ইসলাম নারীদের ওপর অত্যাচার করে!
আমাদের সমাজে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই একটা কথা শোনা যায়— “ইসলাম নারীদের বন্দি করে রাখে” বা “ইসলামে নারীদের ওপর অত্যাচার করা হয়।”
সত্যি বলতে, এই ধারণাটা পুরোপুরি ভুল। ইসলাম নারীদের ছোট করেনি, বরং ইসলামই নারীদের আসল সম্মান দিয়েছে। আসুন, খুব সহজ কিছু কথায় বিষয়টি বুঝে নিই।
১. পর্দা কি অত্যাচার?
অনেকে ভাবেন বোরকা বা পর্দা করা মানে মেয়েদের আটকে রাখা। আসলে তা নয়। দামী জিনিস সবসময় ঢেকে রাখতে হয়। পর্দা নারীর সম্মান আর সম্ভ্রম রক্ষার একটা ঢাল। এটা তাকে অত্যাচার থেকে বাঁচায়, ছোট করে না।
২. নারী ও পুরুষের কাজ কেন আলাদা?
আল্লাহ নারী এবং পুরুষকে আলাদা শারীরিক গঠন দিয়ে বানিয়েছেন। মা হওয়া, সন্তান পেটে ধরা, বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো—এই কঠিন কাজগুলো শুধু নারীরাই করতে পারেন। পুরুষরা চাইলেও তা পারবে না।
নারীরা ঘরে থেকে সংসার ও সন্তান সামলানো মানে ‘জেলখানায় বন্দি’ থাকা নয়। এটা অনেক বড় একটা দায়িত্ব। তবে এর মানে এই নয় যে নারীরা কিছুই করতে পারবে না। পর্দার মধ্যে থেকে এবং নিরাপদ পরিবেশে নারীরাও কাজ করতে পারে, ইসলাম এতে বাধা দেয়নি।
৩. বিয়ে ও মতামতের স্বাধীনতা
ইসলামে নারীর ইচ্ছার মূল্য অনেক।
- বিয়ের সম্মতি: একজন মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া ইসলামে হারাম। মেয়ের অনুমতি ছাড়া বিয়ে হবে না।
- তালাক: বিয়ের পর যদি বনিবনা না হয়, তবে জোর করে সংসার করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ইসলাম নারীকেও ‘খোলা তালাক’ বা বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার দিয়েছে।
৪. মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত
ইসলাম নারীকে মা হিসেবে যে সম্মান দিয়েছে, তা আর কোথাও নেই। রাসুল (সা.) বলেছেন, “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।”
একবার এক সাহাবী রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “আমার ভালো ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে?”
নবীজি বললেন, “তোমার মা।”
লোকটি তিনবার একই প্রশ্ন করলেন, তিনবারই উত্তর এলো— “তোমার মা।” চতুর্থবার বললেন, “তোমার বাবা।”
মানে বাবার চেয়ে মায়ের সম্মান ও অধিকার তিনগুণ বেশি দেওয়া হয়েছে।
৫. সম্পদে নারীর অধিকার (উত্তরাধিকার)
অনেকে প্রশ্ন তোলেন, বাবার সম্পদে ছেলে কেন মেয়ের চেয়ে দ্বিগুণ পায়? এটা কি অবিচার না?
না, এটা একদমই অবিচার নয়। একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন-
- পুরুষের দায়িত্ব: বিয়ের পর স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, সন্তানের খরচ, সংসারের সব খরচ পুরুষের একার। এখানে নারীর কোনো টাকা খরচ করা বাধ্যতামূলক নয়।
- নারীর সুবিধা: নারী বাবার বাড়ি থেকে সম্পত্তি পায়, আবার স্বামীর কাছ থেকে ‘মোহরানা’ পায়। তার নিজের টাকা সে যা ইচ্ছা করতে পারে, সংসারে খরচ করতে সে বাধ্য নয়।
- যৌক্তিকতা: যেহেতু পুরুষের কাঁধে খরচের বোঝা অনেক বেশি, তাই তাকে একটু বেশি দেওয়া হয়েছে। আর নারীর যেহেতু খরচের চাপ নেই, তাই তার অংশটি তার জন্য পুরোটাই লাভ।
শেষ কথা
সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই পৃথিবী আর আমাদের সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ। তিনি আমাদের চেয়ে ভালো জানেন কোনটা আমাদের জন্য ভালো আর কোনটা খারাপ। মুসলিম হিসেবে আমাদের কাজ হলো তাঁর হুকুম মেনে নেওয়া।
যারা আল্লাহ ও পরকাল বিশ্বাস করে না, তারা ইসলামের ভুল ধরবেই। কিন্তু আমরা যদি নিরপেক্ষ মনে ভাবি, দেখব ইসলামই একমাত্র জীবনব্যবস্থা যা নারীকে তার ন্যায্য অধিকার, সম্মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকটা বোঝার তৌফিক দিন। আমিন।
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।









