ই-পাসপোর্ট আবেদন করতে কোন কোন কাগজপত্র লাগে?

আসসালামু আলাইকুম
অনেকেই প্রশ্ন করেন, নতুন পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন? এই পোস্টে আমি বিস্তারিতভাবে সেই বিষয়ে আলোচনা করব। দয়া করে পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন, যাতে কোনো তথ্য বাদ না যায়।
(১) ই-পাসপোর্ট আবেদন করতেযে সকল কাগজপত্র লাগে
নিচে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশনার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো-
১। অনলাইন ফর্ম পূরণ
- পাসপোর্টের আবেদন ফর্ম অনলাইনে পূরণ করতে হবে।
- কোনো কাগজপত্র সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই।
- ছবি সংযোজন বা সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই।
২। জন্ম নিবন্ধন/জাতীয় পরিচয়পত্র
- আবেদনের জন্য ইংরেজি সংস্করণে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) প্রয়োজন।
- বয়সের ভিত্তিতে নিম্নলিখিত নিয়ম প্রযোজ্য-
- ১৮ বছরের কম: ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন জমা দিতে হবে।
- ১৮-২০ বছর: জন্ম নিবন্ধন বা NID, যেকোনো একটি দিয়ে আবেদন করা যাবে।
- ২০ বছরের বেশি: শুধুমাত্র NID দিয়ে আবেদন করতে হবে।
- বিদেশে থাকলে: জন্ম নিবন্ধন দিয়েও আবেদন করা যাবে।
- ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার NID নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
৩। অতিরিক্ত নির্দেশনা
- দত্তক/অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে: সুরক্ষা সেবা বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশ জমা দিতে হবে।
- বর্তমান ঠিকানা: আবেদনের সময় বর্তমান ঠিকানা সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। দেশের বাইরে থাকলে, স্থানীয় বাংলাদেশ মিশনে আবেদন জমা দিতে হবে।
- পাসপোর্টের মেয়াদ: ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।
৪। পেশা-সংক্রান্ত তথ্য
- পেশাগত প্রমাণপত্র (যেমন: ডাক্তারের জন্য BMDC সার্টিফিকেট, ইঞ্জিনিয়ারের জন্য প্রমাণপত্র, ড্রাইভারের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি) জমা দিতে হবে।
- সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে GO (Government Order) বা NOC (No Objection Certificate) প্রয়োজন।
- অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে PRL (Post Retirement Leave) আদেশ বা পেনশন বই জমা দিতে হবে।
৫। বিবাহ/বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত তথ্য
- বিবাহিত হলে নিকাহনামা বা বিবাহ সনদ জমা দিতে হবে।
- বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা জমা দিতে হবে।
- নাম সংশোধন বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারনামা প্রয়োজন হতে পারে।
৬। ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য
- ৩x৩ সাইজের ছবি (ল্যাব প্রিন্ট, ধূসর ব্যাকগ্রাউন্ড) জমা দিতে হবে।
৭। পাসপোর্ট রি-ইস্যু/হারানো পাসপোর্ট
- রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হবে।
- হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে জিডির কপি এবং পুরানো পাসপোর্টের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
৮। অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- নাগরিক/চারিত্রিক সনদ: অনেক সময় চেয়ারম্যানের ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রয়োজন হতে পারে।
- NID সার্ভার কপি: কিছু ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের বিস্তারিত তথ্য (সার্ভার কপি) জমা দিতে হতে পারে।
(২) পেমেন্ট সংক্রান্ত সতর্কতা
- পাসপোর্ট ফি সঠিকভাবে জমা দিন। ভুল পেমেন্টের ক্ষেত্রে টাকা ফেরত পাওয়া যায় না।
- বিকাশ বা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট করার সময় সতর্ক থাকুন।
- কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ওয়েলফেয়ার উইং বা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আবেদন করতে হবে।
- বিদেশ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
(৩) গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হতে পারে। তবে, এই নিয়মটি বর্তমানে অস্পষ্ট; আবেদনের সময় বিস্তারিত জেনে নিন।
অনলাইন ফর্মে লাল তারকা (*) চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে। - সঠিক আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কাগজপত্র জমা দিন। অন্য অফিসে জমা দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
- কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় সব তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে নিন।
আশা করি, এই তথ্যগুলো আপনাদের পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে। কোনো সমস্যা এড়াতে ওয়েবসাইটের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ুন এবং সতর্কতার সাথে আবেদন করুন। যদি এই পোস্টটি উপকারী মনে হয়, তাহলে আমাদের এই আর্টিকেলটি সোস্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে দিয়ে পাশে থাকুন ও কমেন্ট করে আমাদরে উৎসাহিত করবেন। সবাই ভালো থাকবেন।









