কখন সহবাস করলে বাচ্চা হবে বা হবে না? জেনে নিন

হ্যালো! আজকের জীবনে অনেক দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তা করেন। কেউ বাচ্চা চান, কেউ চান না। প্রশ্ন আসে: কখন সহবাস করলে বাচ্চা হবে? আর কখন করলে হবে না? এটা নির্ভর করে মেয়েদের মাসিকের চক্রের ওপর। আমি সহজ ভাষায় বলব, যাতে সবাই বুঝতে পারেন। এটা কোনো ডাক্তারি বই নয়, শুধু সাধারণ জ্ঞান। চলুন শুরু করি!
(১) মাসিক চক্রটা কী?
মেয়েদের শরীরে প্রতি মাসে মাসিক হয়। গড়ে এটা ২৮ দিনের চক্র। মানে, মাসিক শুরু হওয়ার দিন থেকে পরের মাসিক শুরু হওয়া পর্যন্ত ২৮ দিন। কিন্তু কারো কারো ২১ থেকে ৩৫ দিনও হতে পারে। এই চক্রের মাঝে একটা সময় আসে যাকে বলে ওভুলেশন। তখন ডিম্বাণু (এগ) বাইরে আসে। যদি তখন শুক্রাণু (স্পার্ম) সাথে মিলে যায়, তাহলে বাচ্চা হতে পারে।
সহজ করে বলি: মাসিকের প্রথম দিনকে ১ নম্বর দিন বলে গণনা করি। ১৪ নম্বর দিনে সাধারণত ওভুলেশন হয়।
(২) যদি বাচ্চা চানঃ সোনালী সময় (গোল্ডেন পিরিয়ড)
যদি আপনারা বাচ্চা নিতে চান, তাহলে মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে সহবাস করুন। এটাকে বলে গোল্ডেন পিরিয়ড। কেন? কারণ তখন ডিম্বাণু তৈরি থাকে।
- মাসিক শুরুর ১০ম দিন থেকে ২১ম দিন। বিশেষ করে ১৩ থেকে ১৫ দিন সহবাস করলে বাচ্চা হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে ভালো।
- কারণ: শুক্রাণু শরীরে ৩-৫ দিন জীবিত থাকতে পারে। ডিম্বাণু ১-২ দিন। তাই এই সময়ে সহবাস করলে বাচ্চা হওয়ার চান্স বেশি।
(৩) যদি বাচ্চা না চানঃ নিরাপদ সময় (সেফ পিরিয়ড)
যদি এখন বাচ্চা না চান, তাহলে মাসিকের শুরু আর শেষের দিকে সহবাস করুন। এটাকে বলে সেফ পিরিয়ড। কারণ তখন ডিম্বাণু থাকে না।
- মাসিক শুরুর প্রথম ৭ দিন (১ থেকে ৭) আর ২১ম দিন থেকে ২৮ম দিন সহবাস করলে বাচ্চা হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম।
- কারণ: ওভুলেশন মাঝামাঝি হয়, তাই এই সময়ে বাচ্চা হবার সম্ভাবনা কম।
তবে এই পদ্ধতি ১০০% সঠিক নয়, ৮০% ক্ষেত্রে সঠিক হয়। কারণ অনেক সময় মাসিক অনিয়মিত হয়।
(৪) মাসের কখন সহবাস করলে বাচ্চা হবেঃ ২৮ দিনের মাসিকের চক্র এক নজরে
| সময় | দিনগুলো | বাচ্চা হওয়ার চান্স | কী করবেন? |
|---|---|---|---|
| সোনালী (গোল্ডেন) | ১০-২১ | সবচেয়ে বেশি | বাচ্চা চাইলে সহবাস করুন |
| নিরাপদ (সেফ) | ১-৭ এবং ২১-২৮ | খুব কম | বাচ্চা না চাইলে সহবাস করুন |
| ঝুঁকিপূর্ণ (ডেঞ্জার) | ১০-২০ | বেশি | এড়িয়ে চলুন যদি বাচ্চা না চান |
আপনার জীবন, আপনার সিদ্ধান্ত। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, কমেন্ট করুন। সুস্থ থাকুন!, এটা একটা গাইডলাইন – পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। আমি সাজেস্ট করব, একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিজের চক্র বুঝুন এবং নিরাপদ পদ্ধতি বেছে নিন। আপনার অভিজ্ঞতা কী? কমেন্টে শেয়ার করুন, যাতে অন্যরাও উপকৃত হয়। স্বাস্থ্যকর জীবন কামনা করি!
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।





