১০+ কিছু সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর

সাধারণ জ্ঞান আমাদের দৈনন্দিন জীবন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ট্রাফিক লাইটের ক্রম থেকে শুরু করে আগুনের প্রকৃতি বা উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র পর্যন্ত, বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করে। এই ব্লগে আমরা কয়েকটি সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন ও তাদের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব, যা পাঠকদের জন্য তথ্যবহুল এবং আকর্ষণীয় হবে। এই প্রশ্নোত্তরগুলো আপনার জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে এবং কৌতূহল মেটাতে সহায়ক হবে।
১. প্রশ্ন: শহরের রাস্তায় ট্রাফিক লাইট যে ক্রম অনুসারে জ্বলে তা কী?
উত্তর:
শহরের রাস্তায় ট্রাফিক লাইট যে ক্রম অনুসারে জ্বলে তা হলো- লাল > হলুদ > সবুজ > হলুদ > লাল।
রাস্তার মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক বাতির সংকেত-
- লাল বাতি জ্বলতে দেখে গাড়িগুলো থামে।
- হলুদ বাতি দেখলে অপেক্ষা করে।
- সবুজ বাতি দেখে অবাধে এগিয়ে চলে।
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। তাই এটা অনেক দূর থেকেও দেখা যায়। সেই বিবেচনায় লাল অন্যান্য রঙের তুলনায় এগিয়ে। হলুদ রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য লালের চেয়ে কিছুটা কম, তবে সবুজের মতো এতটা কম নয়, সে কারণেই এটি বেছে নেওয়া হয়েছে।
২. প্রশ্ন: লিপইয়ার বা অধিবর্ষ কি?
উত্তর:
যদিও আমরা বলে থাকি ৩৬৫ দিনে এক বছর। বাস্তবিক ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ এক বছর হতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৫.৯৭ সেকেন্ড। যেহেতু দিনের সংখ্যা পরিপূর্ণ ৩৬৫ নয়, সেখানে আরও প্রায় ৬ ঘণ্টা বাড়তি আছে, সেটি প্রতি বছরে যোগ হতে থাকে। এভাবে চার বছরে সেটি প্রায় একদিনের সমান হয়ে যায়, তাই প্রতি চার বছর পরপর সেটি ২৯ দিনের ফেব্রুয়ারি মাস তৈরি করে। আর ওই বছরটিকে লিপ ইয়ার বলা হয়।
তবে যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে বাড়তি সময়টুকু পুরোপুরি ৬ ঘণ্টার কম। তাই আনুমানিক ১২৮ বছরে পুরো একটি দিন কমাতে হয়। সেটি কমানোর জন্য যেসব বছর ১০০ দিয়ে ভাগ যায় সেটি লিপইয়ার হওয়ার কথা থাকলেও ফেব্রুয়ারি মাস হয় ২৮ দিনের। কিন্তু এখানেও ত্রুটি থেকে যায়। কেননা ১২৮ বছরে সমতা আসলেও এখানে ধরা হয় ১০০ বছর। এভাবে চার শতাব্দী পরে আবার একটি বাড়তি দিন চলে আসে। তাই যেসব বছর ৪০০ দিয়ে ভাগ যায়, সেটি নিয়ম অনুযায়ী ১০০ দ্বারা ভাগ গেলেও এটিকেই লিপইয়ার ধরা হয়।
কিন্তু তারপরও একটি ত্রুটি থেকে যায়। প্রতি ৩৩২০ বছরে একটি বাড়তি দিন চলে আসে। আপাতত সেটি এত ভবিষ্যতে যে এটি নিয়ে কারোই তেমন মাথাব্যথা নেই।
৩. প্রশ্ন: মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর বিচারকরা কলমের নিব ভেঙে ফেলেন কেন?
উত্তর:
মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরে বিচারক বা বিচারপতিরা কলমের নিব ভেঙে ফেলেন। এ কথাটি শোনার পর অনেকেই চমকে উঠেন। এতে চমকানোর কিছু নেই, সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই এই রেওয়াজ চলে আসছে। আজকের দিন পর্যন্ত এই রেওয়াজটিই চলছে।
তবে প্রশ্ন হলো, কেন এই কাজটি করেন বিচারকরা? এর কারণ একটি নয়, একাধিক। এটি একটি প্রতীকী বিষয়, যার বিভিন্ন ব্যাখ্যা হলো-
- যে কলম একজনের জীবন নিয়ে নিয়েছে, তা যেন আর কারও জীবন নিতে না পারে।
- যে কলমটি দ্বারা একজন জঘন্য অপরাধীর মৃত্যুর ফরমান লেখা হয়েছে, একই কলম দ্বারা কোনো ভালো ব্যক্তির ভালো ফরমান লেখার কাজে ব্যবহার না করা হয়।
- বলা হয়, বিচারক বা বিচারপতি ওই মৃত্যুদণ্ড এবং তা থেকে প্রসূত অপরাধবোধ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চান। সে কারণেই নিবটি ভেঙে ফেলেন।
- একজন বিচারক বা বিচারপতি তাঁর দেওয়া মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে নিতে পারেন না। তিনি যাতে কোনোভাবেই মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবতে না পারেন।
- সব মৃত্যুই দুঃখের। কিন্তু কখনও মৃত্যুদণ্ডের মতো চরম শাস্তির প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তাই কলমের নিব ভেঙে ফেলা হয় এটা বোঝাতে যে, মৃত্যুদণ্ড দুঃখজনক ব্যাপার।
৪. প্রশ্ন: প্রখ্যাত ও বিখ্যাত-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
প্রখ্যাত এবং বিখ্যাত শব্দ দুটি প্রায় সমার্থক হলেও, এদের মধ্যে সূক্ষ্ম একটি অমিল রয়েছে।
- প্রখ্যাত ব্যক্তি বা বস্তু সেই, যার নিজের ভালো গুণের জন্য আপনা থেকেই সুপরিচিত অথবা লোকের দ্বারা মান্য। যেমন- প্রখ্যাত ডাক্তার ড. সাধন বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বিখ্যাত ব্যক্তি বা বস্তুও অনেকটা সেই রকম। তবে বিখ্যাত হবার কারণ ভালো অথবা খারাপ দুটোই হতে পারে। যেমন- বিখ্যাত আর্টিস্ট এম. এফ. হুসেন (ভালো কারণে) ও বিখ্যাত চোর রহমান আলী (খারাপ কারণে)।
- খারাপ (অথবা কু) কারণে যা বিখ্যাত, তাকে কুখ্যাত বলা হয়, এবং ভালো (অথবা সু) কারণে যা বিখ্যাত তাকে সুখ্যাত বলা হয়।
৫. প্রশ্ন: তাপ ও তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
তাপ ও তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য হলো-
| বৈশিষ্ট্য | তাপ | তাপমাত্রা |
| সংজ্ঞা | এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা বা গরমের অনুভূতি জাগায়। | বস্তুর তাপীয় অবস্থা। |
| প্রকৃতি | শক্তির নিদর্শন। | শক্তির বহিঃপ্রকাশ। |
| পরিমাপক যন্ত্র | ক্যালরিমিটার। | থার্মোমিটার। |
| একক | বিটিইউ, ক্যালরি, জুল ইত্যাদি। | ডিগ্রি সেলসিয়াস, ডিগ্রি ফারেনহাইট, ডিগ্রি রোমার ইত্যাদি। |
৬. প্রশ্ন: গাড়ির নাম্বার প্লেট ও প্লেটের বর্ণমালার অর্থ কি?
উত্তর:
গাড়ির নাম্বার প্লেট ও প্লেটের বর্ণমালার অর্থ খুবই সাধারণ।
যেমন, ‘ঢাকা মেট্রো য-১১২৫৯৯’। এখানে, ‘ঢাকা মেট্রো’ দ্বারা বোঝানো হয়েছে গাড়িটি ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আওতাধীন। ‘য’ হচ্ছে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়ির চিহ্নকারী বর্ণ। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন সব গাড়ি ‘য’ বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হবে। পরবর্তী ‘১১’ হচ্ছে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার এবং ‘২৫৯৯’ হচ্ছে গাড়ির সিরিয়াল নাম্বার।
সাধারণত বাংলা বর্ণমালার ‘অ, ই, উ, এ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ত, থ, ঢ, ড, ট, ঠ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, স, হ’ অক্ষরগুলো ব্যবহার করা হয়। উপরের প্রতিটি বর্ণ আলাদা আলাদা গাড়ির পরিচয় বহন করে।
চলুন জেনে নিই গাড়ির নাম্বার প্লেটের বর্ণমালার অর্থ কী-
- ক – ৮০০ সিসি প্রাইভেটকার
- খ – ১০০০-১৩০০ সিসি প্রাইভেটকার
- গ – ১৫০০-১৮০০ সিসি প্রাইভেটকার
- ঘ – জিপগাড়ি
- চ – মাইক্রোবাস
- ছ – মাইক্রোবাস/লেগুনা (ভাড়ায় চালিত)
- জ – বাস (মিনি)
- ঝ – বাস (কোস্টার)
- ট – ট্রাক (বড়)
- ঠ – ডাবল কেবিন পিকআপ
- ড – ট্রাক (মাঝারী)
- ন – পিকআপ (ছোট)
- প – ট্যাক্সি ক্যাব
- ভ – ২০০০+ সিসি প্রাইভেটকার
- ম – পিকআপ (ডেলিভারী)
- দ – সি এন জি (প্রাইভেট)
- থ – সি এন জি (ভাড়ায় চালিত)
- হ – ৮০-১২৫ সিসি মোটরবাইক
- ল – ১৩৫-২০০ সিসি মোটরবাইক
- ই – ট্রাক (ভটভটি)
৭. প্রশ্ন: ICMAB এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর:
ICMAB এর পূর্ণরূপ হলো- Institute of Cost and Management Accountants of Bangladesh।
৮. প্রশ্ন: উড়তে উড়তে কোন পাখি ঘুমায়?
উত্তর:
ফ্রিগেট বার্ড নামের সামুদ্রিক পাখি উড়তে উড়তে ঘুমায়। এই পাখি দুই পাখা মেলে ধরলে বিস্তার ছয়ফুট পর্যন্ত হয়। এরা মেঘের উপর দিয়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহ একটানা উড়ে বেড়াতে পারে। এই উড়ন্ত অবস্থাতেই এরা ঘুমিয়ে নেয়। কীভাবে তা সম্ভব?
এই পাখিগুলো এক চোখ খোলা রেখে ঘুমায়! এই বছরের শুরুতে Max Planck Institute for Ornithology এর গবেষকগণ বেশ কিছু ফ্রিগেট বার্ডকে মস্তিষ্কের তরঙ্গ মাপার জন্য ছোট EEG ডিভাইস যুক্ত করে দিয়েছিলেন, যেগুলো দূর থেকে গবেষণাগারে সংকেত প্রেরণ করত। দশটি তথ্য সংগ্রহ করে তাঁরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং তথ্য পর্যালোচনা শুরু করেন। তাঁরা লক্ষ্য করেন এই ১০ দিনে পাখিটি একটানা উড়ে ৩০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে।
এই ফলাফল বিষ্ময়কর। এখান থেকে দেখা যায় ফ্রিগেট বার্ড বাতাসেই উড়ন্ত অবস্থায় ঘুমায় এবং স্বল্প ব্যবধানে মস্তিষ্কে বিশ্রাম দেয়। মস্তিষ্কের একটি গোলার্ধ বিশ্রামরত থাকলেও অন্য গোলার্ধ তখন সক্রিয় থাকে। অন্যভাষায় বলতে গেলে, তারা উড়ন্ত অবস্থাতেই এক চোখ খোলা রেখে ঘুমায়। এই চোখটি মস্তিষ্কের জাগ্রত গোলার্ধের সাথে যুক্ত। গবেষকদের মতে তারা এক চোখ খোলা রাখে যেন বুঝতে পারে কোন পথে উড়ে যাচ্ছে। এর ফলে তারা একে অন্যের গায়ের উপর এসে পড়ে না।
তবে শুধু ফ্রিগেট বার্ডই যে এভাবে ঘুমায় তা নয়। ডলফিনও এই পদ্ধতিতে ঘুমায়। ডলফিনের মস্তিষ্কের বাম পাশ ঘুমালেও ডানপাশ তখন সক্রিয় থাকে এবং পরিবেশের প্রতি লক্ষ্য রাখে। আর ডানপাশের সাথে যুক্ত বাম চোখ এবং তাই বাম চোখ সক্রিয় থাকলে মস্তিষ্কের ডান গোলার্ধ জেগে থাকে।
আমাদের মানুষের মাঝেও এই ধরনের প্রবণতা আছে। গবেষকগণ ঘুমানোর সময় আমাদের ডান ও বাম পাশের সক্রিয় অংশে পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন। তবে এটি ফ্রিগেট বার্ড বা ডলফিনের মতো সম্পূর্ণ নয়। অর্থাৎ মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের সময় কোনো একপাশ পুরোপুরি বন্ধ বা পুরোপুরি সজাগ থাকে না। বরং এক ধরনের অপ্রতিসাম্য দেখা যায়। এটা বিশেষ করে কারো কোনো রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে দেখা যায়। নতুন কোনো জায়গায় গেলে প্রথম রাতে ঘুম আসতে চায় না। এটাকে First night effect বলা হয়। এই রকম সময় ঘুমের মাঝে মস্তিষ্কের একটি গোলার্ধ অপেক্ষাকৃত সজাগ থেকে নতুন পরিবেশের অপরিচিত শব্দ ইত্যাদির প্রতি নজর রাখে।
৯. প্রশ্ন: উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম কি?
উত্তর:
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম হলো- ট্যাকোমিটার।
১০. প্রশ্ন: আগুন কি?
উত্তর:
তাপের উপস্থিতিতে কোনো কিছুর সাথে অক্সিজেন এর বিক্রিয়াকে দহন বলে। এই বিক্রিয়ার সময় উৎপন্ন শক্তি বিক্রিয়ার আশেপাশের গ্যাসকে উত্তপ্ত করে তোলে, ফলে আমরা সেখানে কিছু ঘটনা দেখতে পাই যাকে আমরা আগুন বলি।
আবার প্রশ্ন জাগতে পারে অক্সিজেন ছাড়া তো আগুন জ্বলে না, তাহলে সূর্যের মধ্যে এত আগুন জ্বলে কিভাবে? সেখানে তো অক্সিজেন নাই।
সূর্যের গ্যাসের শতকরা ৫৫ ভাগ হাইড্রোজেন, ৪৫ ভাগ হিলিয়াম।
উত্তর হলো অক্সিজেন অপরকে জ্বলতে সাহায্য করে। কিন্তু হিলিয়াম নিজে জ্বলে।
১১. প্রশ্ন: অপদার্থ কাকে বলে?
উত্তর:
বিজ্ঞানের ভাষায়, পদার্থ মানেই যাহার অবস্থান, ভর ও ওজন আছে এবং যাহা কিছু না কিছু জায়গা দখল করে। পদার্থ দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান দুটোই হতে পারে। পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশ খালি চোখে তো দূরের কথা শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যেও ভালোভাবে দৃশ্যমান নয়। এমন অনেক কিছুই পদার্থ হিসেবে প্রমাণিত সত্য।
কিন্তু অপদার্থ মানে কী? এর যদি কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা খুঁজতে যান, তাহলে কিন্তু আপনাকে কেউ তেমন সঠিক ভাবে বলতে পারবে না।
অথচ বাক্য বিন্যাসের মারপ্যাঁচে আমরা সহজেই অপদার্থের উদাহরণ টানতে পারি। অপদার্থ বানাতে পারি। আমার আয় কম। ঘুষ খেতে পারিনা তাই আমি অপদার্থ। আমার গাড়ী নেই বাড়ী নেই তাই প্রবাহমান সংসারের দৃষ্টিকোণ থেকে আমি অপদার্থ। ছেলেটা ভালো রেজাল্ট করতে পারলো না, বাবা মায়ের চোখে ছেলেটা অপদার্থ। মেয়ে বিয়ে দিল অথচ জামাই ঠিক মত শাড়ী গয়না দিতে পারে না, জামাইটা একটা অপদার্থ। কাজের ছেলেটা বা বুয়াটা ঠিক মত কাজ সামলাতে পারে না, তাই তারাও অপদার্থ। সরকার দেশ চালাতে পারেনা তাই সরকার একটা অপদার্থ। আরও অনেক অনেক অপদার্থকে আমরা অনায়াসে চিহ্নিত করতে পারি। উদাহরণ টানতে পারি। কিন্তু কথা হলো তারা অপদার্থ কেন? তাদের দোষটা কোথায়? কিসের ভিত্তিতে তারা অপদার্থ, এর সঠিক ব্যাখ্যা কে দেবে?
আসল কথা হলো, আমরা আমাদের পারিপার্শ্বিক ও পারস্পরিক অবস্থানের ভিত্তিতে সমাজের যে চেহারাটা দেখছি এবং আমাদের চোখের সামনে প্রতিনিয়ত যা ঘটছে এবং যে পরিবর্তনগুলো অহরহ ঘটে যাচ্ছে তাতে করে আমরা নিজেদের মনের মধ্যে একটা কাল্পনিক অবস্থান সূচক বা স্ট্যান্ডার্ড ইনডেক্স তৈরি করে নিয়েছি, যার ভিত্তিতে আমরা কথায় কথায় অপদার্থ বলি। আর এটাই হলো আমাদের পদার্থ হওয়া না হওয়ার মাপকাঠি।
