কিডনি বিকল, কিডনি ডায়ালাইসিস, কিডনি প্রতিস্থাপন ও সতর্কতা

বৃক্ককিডনি বিকল, কিডনি ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন, মূত্রনালি সুস্থ রাখার উপায়।

কিডনি বিকলঃ

নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর ইত্যাদি কারণে কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায়। আকস্মিক কিডনি অকেজো বা বিকল হওয়ার কারণগুলো হলো কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।

কিডনি বিকল হলে মূত্রের পরিমাণ কমে যাবে। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পাবে। তখন রক্তের বর্জ্য দ্রব্যাদি অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর রোগীকে ডায়ালাইসিস করা হয়।

বৃক্ক বা কিডনি ডায়ালাইসিসঃ (Dialysis)

ডায়ালাইসিস কি?

বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস।

ডায়ালাইসিস কিভাবে করে?

সাধারণত ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধিত করা হয়। এ মেশিনের ডায়ালাইসিস টিউটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধর্মনির সাথে এবং অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভিতর পুনরায় প্রবেশ করে।

এখানে উল্লেখ্য, ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে, যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ) বাইরে নিষ্কাশিত হয়। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

উপরে ডায়ালাইসিস এর চিত্র দেওয়া হয়েছে।

কিডনি প্রতিস্থাপন/সংযোজনঃ

যখন কোনো ব্যক্তির কিডনি বিকল বা অকেজো হয়ে পড়ে তখন কোনো সুস্থ ব্যক্তির কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়, তাকে কিডনি সংযোজন বলে। কিডনি সংযোজন দুভাবে করা যায়: কোনো নিকট আত্মীয়ের কিডনি অথবা কোনো মৃত ব্যক্তির কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। নিকট আত্মীয় বলতে বাবা, মা, ভাইবোন, মামা, খালাকে বোঝায়। মৃত ব্যক্তি বলতে ‘ব্রেন ডেড’ মানুষকে বোঝায়, যাঁর আর কখনোই জ্ঞান ফিরবে না কিন্তু তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কৃত্রিমভাবে জীবিত রাখা হয়েছে। মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মরণোত্তর বৃদ্ধ দানের মাধ্যমে একজন কিডনি বিকল রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভবপর হতে পারে। মরণোত্তর সুস্থ কিডনি দানে মানবজাতির উপকার করা যায়।

পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ কিডনি অকেজো রোগী কিডনি সংযোজনের মাধ্যমে সুস্থ জীবন যাপন করছে। আমাদের দেশেও কিডনি সংযোজন কার্যক্রম সাফল্যের সাথে করা হচ্ছে। তবে আমাদের দেশে আইনগত জটিলতার কারণে রক্তের সম্পর্ক না থাকলে রোগীকে কিডনি দান করা যায় না, এজন্য অনেক সময় রোগী জরুরি কিডনি প্রতিস্থাপন থেকে বঞ্চিত হন। একটি কিডনি কার্যক্ষম থাকলেই সেটি দিয়ে জীবনধারণ করা সম্ভব, তাই একটি সুস্থ কিডনি প্রতিস্থাপন করে রোগের চিকিৎসা করা যায়। তবে দেখতে হবে যে টিস্যু ম্যাচ করে কি না। পিতামাতা, ভাইবোন এবং নিকট আত্মীয়ের কিডনির টিস্যু ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে, দৈনিক অপর্যাপ্ত পানি পান করলে এবং অন্যান্য নানা কারণে মূত্রনালির রোগ দেখা দেয়। মূত্রনালির সংক্রমণ হলে মূত্রনালি জ্বালাপোড়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। ডাক্তারের সত্বর পরামর্শ এবং চিকিৎসা গ্রহণে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।

আগে ধারণা করা হতো, সবার দৈনিক আট গ্লাস পানি পান করা উচিত। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা যায়, পানি পানের স্বাভাবিক মাত্রা ব্যক্তি, লিঙ্গ, কাজের ধরন, শারীরিক অসুস্থতার প্রকৃতি এবং আবহাওয়া ভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করা ঠিক নয়। তাই পিপাসা পেলেই পানি পান করা উচিত।

সতর্কতাঃ

অনেকে ডায়রিয়া বা বমি হওয়া ছাড়াই গরমে ঘেমে গেলে, ক্লান্ত অবস্থায় কিংবা তেমন কোনো কারণ ছাড়াই খাবার স্যালাইন পান করে থাকেন। এটি একেবারেই ঠিক নয়, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের বেলায় ডায়রিয়া বা বমি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাবার স্যালাইন বিপদ ডেকে আনতে পারে।

এমনকি ডায়রিয়া বা বমি হলেও তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক সঠিক পরিমাণে স্যালাইন দিতে হবে। সাধারণ ক্লান্তি বা ঘামের ক্ষেত্রে লেবুর রস এবং সামান্য লবণমিশ্রিত শরবতই যথেষ্ট। ডায়াবেটিস  না থাকলে এতে কিছুটা চিনিও যোগ করা যেতে পারে।

শিশুদের টনসিল এবং খোসপাঁচড়া থেকে সাবধান হওয়া প্রয়োজন; কেননা সেখান থেকে কিডনির অসুখ হতে পারে। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। ডায়রিয়া ও রক্তক্ষরণ ইত্যাদির দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে। ধূমপান ত্যাগ করা এবং ব্যথা নিরাময়ের ঔষধ যথাসম্ভব পরিহার করা প্রয়োজন। পরিমাণমতো পানি পান করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, নিয়ম মেনে জীবন যাপন করতে হবে।

অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কত বছর বয়সে মেয়েদের যোনির চুল গজায়

কত বছর বয়সে মেয়েদের যোনির চুল গজায়?

আলোচ্য বিষয়: ঠিক কত বছর বয়সে মেয়েদের যোনির চুল গজায়? Read
ডেঙ্গু জ্বর কি, ডেঙ্গু রোগের বা জ্বরের লক্ষণ ও ডেঙ্গু হলে করণীয় কি কি

ডেঙ্গু জ্বর কি? ডেঙ্গু রোগের বা জ্বরের লক্ষণ ও ডেঙ্গু হলে করণীয় কি কি?

আলোচ্য বিষয়: (১) ডেঙ্গু জ্বর কি? ডেঙ্গু ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়? (২) ডেঙ্গু ভইরাস কী? (৩) ডেঙ্গুর লক্ষণঃ ডেঙ্গু রোগের বা জ্বরের লক্ষণ (৪) ডেঙ্গু হলে করণীয় কি কি? ডেঙ্গু জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা (৫) ডেঙ্গু হলে ডাক্তার কখন দেখাতে হবে? (৬) যে সব প্যাথলজি পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত করা যায় (৭) ডেঙ্গু হলে কী খাবেন আর কি খাবেন না? (৮) ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করবেন কিভাবে? Read
রসুন খেলে কি হয়

রসুন খেলে কি হয়?

আলোচ্য বিষয়: (১) রসুন খেলে আমাদের শরীরে নিম্নক্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রবেশ করে (২) রসুন খেলে ক্যানসার প্রতিরোধে দারুণ কাজ করে (৩) রসুন খেলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায় (৪) রসুন খেলে রক্ত সঞ্চালনক্ষমতা বাড়ে (৫) রসুন খেলে কি বীর্য ঘন হয়? (৬) রসুন খেলে হৃৎপিণ্ডের শক্তি বাড়ে (৭) রসুন খেলে কি প্রেসার কমে? (৮) রসুন খেলে সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় (৯) রসুন খেলে রক্ত পরিশোধ ক্ষমতা বাড়ে (১০) রসুন খেলে ত্বক সুস্থ থাকে (১১) রসুন খেলে চুলের জন্য কি হয়? (১২) রসুন খেলে কি হাড়ের শক্তি বাড়ে? (১৩) কাঁচা রসুন খেলে কি হয়? (১৪) পরিমিত পরিমাণে রসুন খেলে কি হয়? (১৫) অতিরিক্ত পরিমাণে রসুন খেলে কি হয়? (১৬) রসুনের আচারের খেলে কি হয়? Read
বাচ্চা শিশুদের জন্য কেমন বালিশ ব্যবহার করা উচিত

বাচ্চা শিশুদের জন্য কেমন বালিশ ব্যবহার করা উচিত?

আলোচ্য বিষয়: (১) শিশুদের জন্য বালিশ কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? (২) নবজাতকের জন্য বালিশ ব্যবহার করা কি উচিত? (৩) শিশুর মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের উপর বালিশের প্রভাব (৪) উঁচু বালিশ ব্যবহারের ঝুঁকি (৫) শিশুর জন্য সঠিক বালিশ কেমন হওয়া উচিত? (৬) বালিশ পরিবর্তে সমতল পৃষ্ঠই কেন নিরাপদ? (৭) ঐতিহ্যগত বালিশঃ সরিষার বীজ ও তুলার বালিশ (৮) শিশুর ঘুমের পরিবেশ ও কিছু পরামর্শ (৯) শিশুর জন্য বালিশ ব্যবহারের সঠিক সময় (১০) শিশুর বালিশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (১১) বিশেষজ্ঞদের মতামত (১২) শেষকথা Read
ডায়াবেটিস কী, কেন হয়, কত হলে কি বিপদ, ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়

ডায়াবেটিস কী? কেন হয়, কত হলে কি বিপদ? ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়?

আলোচ্য বিষয়: (১) ডায়াবেটিস কী? (২) ডায়াবেটিসের কারণ (৩) ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়? (৪) ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (৫) কখন সতর্ক হবেন? (৫) কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন? (৬) ডায়াবেটিস কত হলে বিপদ? (৭) ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায় (৮) ডায়াবেটিসের জটিলতা নিয়ে ভুল ধারণা/মিথ (৯) ডায়াবেটিসে প্রতিরোধে ব্যবহারিক টিপস (১০) উপসংহার Read
ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার কারণ, লক্ষণ এবং সমাধানের উপায়

ঘন ঘন ঢেকুর ওঠার কারণ, লক্ষণ এবং সমাধানের উপায়

আলোচ্য বিষয়: (১) ঢেকুর ওঠা কী? (২) ঢেকুর ওঠার লক্ষণ (৩) ঢেকুর ওঠার কারণ (৪) ঢেকুর ওঠার ঝুঁকি (৫) ঢেকুর ওঠার পরীক্ষা/ডায়াগনোসিস (৬) ঢেকুর ওঠার সমাধান (৭) ঢেকুর প্রতিরোধের উপায় (৮) ঢেকুর ওঠা নিয়ে সাধারণ কিছূ ভুল ধারণা (৯) কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন? (১০) উপসংহার Read
মিসক্যারেজ বা গর্ভস্থ ভ্রূণের নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ কি, প্রতিরোধ, করণীয় ও ভুল ধারণা সমূহ

মিসক্যারেজ বা গর্ভস্থ ভ্রূণের নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ কি, প্রতিরোধ, করণীয় ও ভুল ধারণা সমূহ

আলোচ্য বিষয়: (১) মিসক্যারেজ কী? (২) মিসক্যারেজের কারণ কী? (৩) মিসক্যারেজ প্রতিরোধে করণীয় (৪) মিসক্যারেজ সম্পর্কে ভুল ধারণা (৫) মিসক্যারেজ হলে কী করবেন? (৬) উপসংহার Read
প্রতিদিন হস্তমৈথুন কি প্রোস্টেটের ক্ষতি করে, জানুন বিজ্ঞান কী বলছে

প্রতিদিন হস্তমৈথুন কি প্রোস্টেটের ক্ষতি করে? জানুন বিজ্ঞান কী বলছে

আলোচ্য বিষয়: আমরা অনেকেই মাঝেমধ্যে ইন্টারনেটে বা বন্ধুদের আড্ডায় একটা প্রশ্ন নিয়ে দ্বিধায় থাকি—প্রতিদিন হস্তমৈথুন করলে কি শরীরের বা বিশেষ করে প্রোস্টেটের কোনো ক্ষতি হয়? অনেকেই ভয় দেখান যে এতে ক্যান্সার হতে পারে বা শরীর দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু আসলে কি তাই? আজ আমরা একদম সহজ ভাষায় জানব বিজ্ঞান এই ব্যাপারে কী বলছে। Read
জন্মনিয়ন্ত্রণ বা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিসমূহঃ ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য জানা দরকার

জন্মনিয়ন্ত্রণ বা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিসমূহঃ ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য জানা দরকার!

আসসালামু আলাইকুম সবাইকে! আমি আজকে আপনাদের সাথে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব – পরিবার পরিকল্পনা। এটা শুধু জনসংখ্যা কমানোর জন্য নয়, বরং আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর, সুখী আর স্বাস্থ্যকর করে তোলার একটা বড় সাহায্য। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে পরিবারগুলো ছোট হলে সমাজ, অর্থনীতি আর পরিবেশ সবকিছু ভালো থাকে। আমি আজকে এই ব্লগে সবকিছু খুব সহজ ভাষায় বলব, যেন সাধারণ মানুষ যারা ডাক্তারি শব্দ না বুঝেন, তারাও সহজে বুঝতে পারেন। আমরা দেখব কী কী পদ্ধতি আছে, কেন এটা দরকার, আর কীভাবে এটা আমাদের জীবনকে ভালো করে। চলুন শুরু করি! পরিবার পরিকল্পনা কী আর কেন এটা জরুরি? পরিবার পরিকল্পনা মানে হলো, স্বামী-স্ত্রী মিলে ঠিক করা যে কখন বাচ্চা নেবেন, কতগুলো নেবেন, আর কীভাবে নিরাপদে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করবেন। এটা Read
মায়ের দুধের স্বাদ কেমন

মায়ের দুধের স্বাদ কেমন?

আলোচ্য বিষয়: মায়ের দুধের স্বাদ কেমন, মায়ের বুকের দুধের স্বাদ কেমন হয়? বা মেয়েদের বুকের দুধের স্বাদ কেমন? Read