গরু-ছাগলের কীটনাশক বিষক্রিয়া (Insecticide Poisoning)

(১) কীটনাশক বিষক্রিয়া কি?
শস্যক্ষেতের পোকা-মাকড় ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন প্রকার ঔষধ যেমন— ডি.ডি.টি (DDT), এলড্রিন, ডায়ালড্রিন, বি.এইচ.সি, মালাথিওন, প্যারাথিওন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে প্রাণির বহিঃদেহের পোকা-মাকড় যেমন— আঠালী, উকুন, মাইটস ইত্যাদি ধ্বংস করার জন্য অর্গানো-ফসফরাস (Organophosphates) জাতীয় ঔষধ (যেমন: মালাথিওন, প্যারাথিওন) ও কার্বামেট জাতীয় ঔষধ (যেমন: সেভিন) ব্যবহার হয়ে থাকে। উভয় কারণেই প্রাণি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।

(২) গবাদি পশুর কীভাবে বিষক্রিয়া হতে পারে?
সাধারণত নিম্নলিখিত কারণে গবাদিপশু বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়-
- প্রাণির দুর্বল শরীরে ঔষধ প্রয়োগ করলে।
- ঘা যুক্ত শরীরে কীটনাশক প্রয়োগ করলে।
- প্রাণিকে শত্রুতাবশতঃ কীটনাশক খাওয়ালে।
- কীটনাশক ছিটানো শস্য ও ঘাস খেয়ে ফেললে।
- প্রাণির খাদ্যে অসাবধানতাবশত কীটনাশক মিশে গেলে।
- প্রাণির উকুন, আঠালী, মাইটস, ডাঁস দমন করার জন্য কীটনাশক গায়ে লাগানো বা স্প্রে করার সময় ঔষধের ঘনত্ব বেশি হলে।
(৩) গরু-ছাগলের কীটনাশক বিষক্রিয়া রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ
বিষক্রিয়ার ফলে প্রাণির মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়-
- প্রাণিকে অত্যন্ত অস্থির দেখায়।
- তীব্র ডায়রিয়া (Diarrhoea) দেখা দেয়।
- প্রাণির পেট ফেঁপে যায় (Bloat)।
- তীব্র বিষক্রিয়ায় প্রাণি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যেতে পারে।
- প্রাণি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মাটিতে শুয়ে পড়ে।
- পেশীর কম্পন ও খিঁচুনী হয়।
- শ্বাস-প্রশ্বাসে তীব্র কষ্ট হয়।
- চোখের অক্ষিতারা (Pupil) সংকুচিত হয়।
- পেট ব্যথা করে।
- শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় (৯৮° ফাঃ হতে ১০০° ফাঃ)।
- বিষক্রিয়ার ফলে প্রাণির মুখ দিয়ে ফেনা ঝরতে থাকে।

(৪) কীটনাশক বিষক্রিয়ার চিকিৎসা (মাঝারি প্রাণির জন্য: ১৫০-২০০ কেজি ওজন)
(সতর্কতা: চিকিৎসা চলাকালীন অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি)
১. এট্রোপিন সালফেট ইনজেকশন (Antidote)
- ঔষধের নাম: Inj. Tropin vet (ACME) / Inj. Atro vet (Techno) / Inj. Atropine sulphate (Chemist)।
- মাত্রা ও প্রয়োগবিধি: ১ মি.লি. অ্যাম্পুল (মানুষের ব্যবহার্য Jason বা সমমানের) মোট ৩০টি অ্যাম্পুল লাগবে।
- ১০ মি.লি. শিরায় (IV)
- ১০ মি.লি. মাংসপেশীতে (IM)
- ১০ মি.লি. চামড়ার নিচে (SC)
- ৪-৬ ঘণ্টা পরপর একই মাত্রায় দিতে হবে।
২. ডেক্সট্রোজ স্যালাইন (সাপোর্টিভ থেরাপি)
- ঔষধের নাম: Inj. Dextrose saline (Opsonin) – 1000ml pack.
- মাত্রা: ২ ব্যাগ (Total 2000ml)।
- প্রয়োগবিধি: ১৫০০-২০০০ মি.লি. ডেক্সট্রোজ স্যালাইন শিরায় (IV) দিতে হবে।
৩. এন্টিহিস্টামিন ইনজেকশন
- ঔষধের নাম: Inj. Histavet 10ml (ACI) / Inj. Dellergen 10ml (Renata) / Inj. Astravet 10ml (ACME)।
- মাত্রা: ১০ মি.লি.।
- প্রয়োগবিধি: সম্পূর্ণ ১০ মি.লি. মাংসপেশীতে (IM) পুশ করতে হবে।
৪. ঘরোয়া প্রাথমিক চিকিৎসা
- ১০-১২টি হাঁস-মুরগির ডিম ভেঙ্গে শুধু সাদা অংশ প্রাণিকে খাওয়ানো যেতে পারে। এটি পাকস্থলীতে বিষের শোষণ কমাতে সাহায্য করে।

(৫) প্রয়োজনীয় সতর্কতা
- সর্বদা বিষমিশ্রিত খাদ্য হতে প্রাণিকে বিরত রাখতে হবে।
- কীটনাশক ব্যবহারের পর বা বোতল সাবধানে ফেলে দিতে হবে যেন প্রাণির নাগালের বাইরে থাকে।
বিঃদ্রঃ উপরের চিকিৎসাটি একটি সাধারণ গাইডলাইন। প্রাণির অবস্থা এবং ওজন ভেদে ঔষধের মাত্রা কম-বেশি হতে পারে। তাই দ্রুত নিকটস্থ পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করাই শ্রেয়।
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।









