কোরানে যুদ্ধবন্দী যৌণদাসী মুসলমানদের জন্য হালাল করা হয়েছে?!

😥 অপপ্রচারের জবাব/অপব্যাখ্যা খন্ডন: কোরআনে কি যুদ্ধবন্দী যৌনদাসী হালাল? না, এটা একটা ভুল ধারণা!
❌ নাস্তিক আর ইসলাম-বিদ্বেষীদের ভুল দাবিটা কী?
ওরা সব সময় একটা কথা বলে বেড়ায় যে, “কোরআনে নাকি যুদ্ধবন্দী নারীদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য জায়েজ বা হালাল!”
এটা ইসলামের বিরুদ্ধে ছড়ানো বড় একটা ভুল প্রচার। চলুন, আমরা আসল কথাটা জানি।
🧐 আসল সত্যিটা কী?
ওরা যেই আরবী শব্দটা নিয়ে এমন ভুল বোঝাবুঝি ছড়ায়, সেটা হলো: “মা মালাকাত আইমানুকুম”।
ওরা এটার অর্থ করে ‘যুদ্ধবন্দী যৌনদাসী’। কিন্তু এই অর্থটা একদমই ভুল!
আসুন, আমরা আসল অর্থটা বুঝি–
- এই শব্দটার মধ্যে থাকা ‘আইমানু’ হলো ‘ইয়ামিন’ শব্দের বহুবচন।
- ‘ইয়ামিন’ শব্দের মানে হলো শপথ, অঙ্গীকার, বা প্রতিশ্রুতি (OATH)।
- তাহলে, “মা মালাকাত আইমানুকুম” এর সঠিক অর্থ হলো— “যারা তোমার শপথ বা অঙ্গীকারের অধীনে রয়েছে।”
মানে, এরা সেই সব মানুষ, যাদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আপনি আল্লাহর কাছে কসম বা অঙ্গীকার করেছেন।
📖 প্রমাণ কোথায়? কোরআনেই দেখুন!
কোরআনের অনেক আয়াতেই ‘আইমানুকুম’ শব্দটা ‘শপথ’ বা ‘অঙ্গীকার’ অর্থে ব্যবহার হয়েছে। কয়েকটা উদাহরণ দিচ্ছি, যেখানে ‘শপথ’ অর্থ না করলে আয়াতের মানেই দাঁড়ায় না-
- ২:২২৪ – “আর তোমাদের শপথের (আইমানুকুম) জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না…”
- ৩:৭৭ – “যারা আল্লাহর নামে কৃত তাদের অঙ্গীকার (আইমানুহুম) এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মূল্যে বিক্রি করে…”
- ১৬:৯১ – “আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে অঙ্গীকার পূর্ণ কর এবং পাকাপাকি শপথ (আল-আইমান) করার পর তা ভঙ্গ করো না,…”
🤯 আরেকটা বড় ভুল: ‘যৌনদাসী’ মানে কি শুধু নারী?
না, “মা মালাকাত আইমানুকুম” শব্দটা শুধু মেয়েদের জন্য নয়, এটা পুরুষদের জন্যও হতে পারে!
যদি এর অর্থ ‘যৌনদাসী’ হতো, তাহলে নিচের আয়াতটার মানে কী দাঁড়াত?
“…তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত দাঁস (আইমানুহুন্না), যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক… তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে,…”
২৪:৩১
তাহলে কি এখন আমরা বলব যে, ঈমানদার নারীরাও পুরুষ ‘যৌনদাঁস’ রাখতে পারতেন? কখনোই না! এতেই প্রমাণ হয় যে, এই শব্দের অর্থ ‘যৌনদাসী’ নয়।
🤲 আসল বিষয়টা আসলে কী বোঝায়?
কোরআনের “মা মালাকাত আইমানুকুম” দিয়ে কোনো যৌনদাসী রাখা জায়েজ করা হয়নি। বরং এটা সেই সব অসহায় পুরুষ ও নারীদের কথা বলেছে, যারা যুদ্ধের কারণে বা অন্য কোনো বিপর্যয়ে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন।
ইসলামের শুরুর দিকে-
- যুদ্ধের কারণে: অনেক পুরুষ শহীদ হওয়ায় তাদের পরিবার আর্থিক সমস্যায় পড়ত।
- ধর্ম বদলানোর কারণে: অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বিতাড়িত হয়ে নিঃস্ব হয়ে যেত।
- মহিলারা: ইসলাম গ্রহণ করায় কাফের স্বামীরা তাদের তাড়িয়ে দিত বা ছেড়ে দিত। ফলে তারাও অসহায় হয়ে পড়ত।
এইসব অসহায়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়া পুরুষ ও নারীদের খাবার, বাসস্থান এবং ভরনপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার জন্যই তখনকার সামর্থ্যবান মুসলমান পুরুষ ও নারীরা অঙ্গীকার করতেন। এই অঙ্গীকারের অধীনে থাকা মানুষগুলোকেই বলা হয়েছে “মা মালাকাত আইমানুকুম”।
✅ সবথেকে বড় প্রমাণ: বিয়ে এবং মোহরানা!
যারা ‘যৌনদাসী’ বলে অপপ্রচার চালায়, তারা কোরআনের এই আয়াতটা ভুলে যায়-
“আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের শপথভুক্ত মুসলিম নারীকে (আইমানুকুম) বিয়ে করবে।… তাদেরকে তাদের পরিবারের (أَهْلِهِنَّ) অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর…”
৪:২৫
দেখুন! এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে-
- “মা মালাকাত আইমানুকুম” (অর্থাৎ শপথভুক্ত নারীকে) বিয়ে করতে হবে।
- তাদের পরিবারের অনুমতি নিতে হবে।
- তাদের প্রাপ্য মোহরানা দিতে হবে।
যদি তারা ‘যৌনদাসী’ হতো, তাহলে কি তাদের বিয়ে করার, মোহরানা দেওয়ার, বা তাদের পরিবারের অনুমতি নেওয়ার কোনো দরকার পড়ত? কখনোই না!
🙏 শেষ কথা
কোরআন যৌনদাসী বা দাসত্বকে কোনো স্বীকৃতি দিচ্ছে না। বরং, “মা মালাকাত আইমানুকুম” শব্দটা দিয়ে ইসলাম এমন এক সামাজিক দায়িত্ব চাপিয়েছে, যেখানে অসহায়, আশ্রয়হীন, ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের দেখভাল ও সুরক্ষার জন্য অঙ্গীকার করার কথা বলা হয়েছে। এটা মানবিকতার এক উজ্জ্বল দিক।
এই ভুল ধারণাটা দূর করতে আপনিও লেখাটা শেয়ার করুন!
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।









