গবাদি পশুর প্রোটোজোয়া রোগের ঔষধঃ এন্ট্রিপ্রোটোজোয়ান ঔষধের নাম (Antiprotozoal Drug)

খামারি ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম। আমরা যারা গরু, ছাগল বা মহিষ লালন-পালন করি, আমাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হলো পশুর হঠাৎ অসুস্থতা। অনেক সময় দেখা যায় গরু খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, পাতলা পায়খানা হচ্ছে কিংবা প্রস্রাবের রঙ লাল হয়ে যাচ্ছে। এসবের পেছনে বেশিরভাগ সময় দায়ী থাকে ‘প্রোটোজোয়া’ নামের এক ধরণের অতি ক্ষুদ্র জীবাণু।
আজকের ব্লগে আমরা গবাদি পশুর এমন কিছু জটিল রোগ এবং তা সারিয়ে তোলার কার্যকর ঔষধগুলো নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করব।
(১) আমাশয় ও জরায়ুর ইনফেকশনে ‘মেট্রোনিডাজল’ (Metronidazole) গ্রুপের ঔষধের নাম
পশুর আমাশয়, বাছুরের সাদা ডায়রিয়া কিংবা গাভীর জরায়ুর সমস্যায় মেট্রোনিডাজল গ্রুপের ঔষধ জাদুর মতো কাজ করে।
কখন এই ঔষধটি ব্যবহার করবেন?
- যদি পশুর আমাশয় বা রক্ত আমাশয় হয়।
- বাছুরের সাদা পাতলা পায়খানা হলে।
- পশুর মাড়িতে প্রদাহ বা মুখ দিয়ে লালা পড়লে।
- গাভীর জরায়ুতে ইনফেকশন (মেট্রাইটিস) হলে।
- পশুর যোনিপথে বা প্রজননতন্ত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে।
বাজারে প্রচলিত কিছু জনপ্রিয় নাম (ব্র্যান্ড):
নিচের ছকটি থেকে আপনি আপনার পরিচিত ঔষধটি চিনে নিতে পারেন:
| ঔষধের নাম | প্রস্তুতকারক কোম্পানি |
| Tab. Metrovet (মেট্রোভেট) | টেকনো ড্রাগস |
| Tab. Metonid (মিটানিড) | পপুলার |
| Tab. Amodis-Vet (এ্যামোডিস ভেট) | স্কয়ার |
| Bol. Zonabac (জোনাব্যাক) | অপসোনিন |
| Tab. Dirovet (ডাইরোভেট) | এসিআই (ACI) |
মাত্রা ও সেবনবিধি: সাধারণত পশুর প্রতি ৪০-৫০ কেজি ওজনের জন্য ১টি বড় ট্যাবলেট (২ গ্রাম) দিনে দুইবার করে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হয়। আর জরায়ুর সমস্যার জন্য ট্যাবলেটটি গুঁড়ো করে সরাসরি জরায়ুতে ব্যবহার করা হয়।
(২) রক্তপ্রস্রাব ও রক্তশূণ্যতায় ‘ইমিডাকার্ব’ (Imidocarb) গ্রুপের ঔষধের নাম
অনেক সময় দেখা যায় গরু প্রচণ্ড জ্বরে কাঁপছে এবং কফির মতো লাল প্রস্রাব করছে। এগুলোকে বলা হয় ব্যাবেসিওসিস বা থেইলেরিয়াসিস, যা মূলত এঁটেল বা উঁকুন থেকে ছড়ায়। এই রোগের জন্য ইমিডাকার্ব বা ডিমিনাজিন গ্রুপের ইনজেকশন সবচেয়ে কার্যকর।
লক্ষণগুলো কী কী?
- পশুর প্রস্রাব লাল বা খয়েরি রঙের হওয়া।
- প্রচণ্ড জ্বর থাকা এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া।
- পশুর রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়া।
বাজারে পাওয়া যায় এমন কিছু ইনজেকশন:
| ইনজেকশনের নাম | প্রস্তুতকারক কোম্পানি |
| Inj. Bebenil (ব্যাবেনিল) | টেকনো ড্রাগস |
| Inj. Ectorid (এক্টোরিড ভেট) | রেনাটা |
| Inj. Diminal (ডিমিন্যাল) | এসিআই (ACI) |
| Inj. Babcop vet (ব্যবকপ ভেট) | স্কয়ার |
| Inj. Berenil (বেরিনিল) | ইন্টারভেট |
প্রয়োগ মাত্রা: এটি সাধারণত ইনজেকশন আকারে মাংসপেশিতে দিতে হয়। প্রতি ১০০ কেজি ওজনের পশুর জন্য মাত্র ১ মিলি ইনজেকশনই যথেষ্ট। তবে রোগের ধরন বুঝে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এর মাত্রা কম-বেশি হতে পারে।
(৩) পশুকে ঔষধ খাওনোর কিছু সতর্কতা
১. ওজন মেপে ঔষধ দিন: পশুর ওজন আন্দাজ না করে ফিতা দিয়ে মেপে ঔষধ দেওয়া ভালো। ঔষধ কম হলে রোগ সারবে না, আবার বেশি হলে ক্ষতি হতে পারে।
২. কোর্স সম্পন্ন করুন: পশুর পাতলা পায়খানা ১ দিনেই ভালো হয়ে গেলেও ঔষধের কোর্স (৫-৭ দিন) মাঝপথে বন্ধ করবেন না।
৩. ডাক্তারের পরামর্শ: মনে রাখবেন, ঔষধ ব্যবহারের আগে একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি সার্জন বা প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
আপনার খামারের পশুগুলো সুস্থ থাকুক, এই কামনাই করি।



