গাভী সুষম তালিকা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নত জাতের ঘাস চাষ

গাভী পালনকে লাভজনক করতে সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। দুধ উৎপাদন, গাভীর গর্ভধারণকাল এবং দৈহিক ওজনের ওপর ভিত্তি করে একটি সঠিক খাদ্য তালিকা অনুসরণ করা জরুরি। নিচে আপনার জন্য বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো-
(১) গাভীর সুষম খাদ্যে তালিকার নমুনা (মিশ্রণ তৈরি)
দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ সঠিক পরিমাণে তৈরি করতে নিচের চারটি নমুনা অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রতিটি নমুনা ১০০ কেজি বা ২৫ কেজির পরিমাপে দেওয়া হলো-
| খাদ্যের উপাদান | ১ নং নমুনা (কেজি) | ২ নং নমুনা (কেজি) | ৩ নং নমুনা (কেজি) | ৪ নং নমুনা (কেজি) |
| গমের ভূষি | ৫০.০০ | ১৫.০০ | ৩০.৭৫ | ৮.০০ |
| ভুট্টা ভাঙ্গা | – | ৪০.০০ | – | – |
| চালের কুড়া | ২০.০০ | ১৮.০০ | ১০.০০ | ৫.০০ |
| খেশারী/ডালের ভূষি | ১৮.০০ | – | ৩০.০০ | ৬.০০ |
| ছোলা ভাঙ্গা | – | – | ১০.০০ | ২.০০ |
| তিল/সয়াবিন খৈল | ১০.০০ | ২৫.০০ | ১৫.০০ | ২.৫০ |
| হাড়ের গুড়া/ ডিসিপি | ১.০০ | ১.০০ | ৩.০০ | ১.০০ |
| লবণ | ০.৭৫ | ০.৫০ | ১.০০ | ০.৪০ |
| ভিটামিন মিশ্রণ | ০.২৫ | ০.৫০ | ০.২৫ | ০.১০ |
| মোট | ১০০ | ১০০ | ১০০ | ২৫ |
(২) গাভীকে খাদ্য খাওয়ানোর নিয়মাবলী
গাভীকে কতটুকু খাদ্য দিতে হবে তা নির্ভর করে তার উৎপাদন এবং দৈহিক অবস্থার ওপর-
- দুধ উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে: দানাদার খাদ্য দুধ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে সরবরাহ করতে হয়। যেমন প্রথম ৩ কেজি দুধ ও তার শরীরের ক্ষয়পূরণ ও পুষ্টি সাধনের জন্য ৩ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। পরবর্তী প্রতি ৩ কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য ১ কেজি দানাদার খাদ্য দিতে হবে। অর্থাৎ, ৬ কেজি দুধ দেয় এমন গাভীকে (৩+১) = ৪ কেজি দানাদার খাদ্য মিশ্রণ দৈনিক দিতে হয়।
- গর্ভবতী গাভীর জন্য: গর্ভবতী গাভীকে গর্ভাবস্থার ৫ মাস থেকে প্রতিদিন ৩ কেজি করে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হয়।
- দৈহিক ওজনের ওপর ভিত্তি করে: সাধারণত গাভীর ওজনের ৩% হারে শুকনা আঁশ খাবার সরবরাহ করতে হয়। যেমন ২০০ কেজি ওজনের একটি গাভী দৈনিক ৬ কেজি জলহীন শুকনা খাবার খাবে।
- আঁশ জাতীয় খাবারের অনুপাত: ৩ কেজি শুকনা খড় এবং অন্য ৩ কেজি শুকনা খড়ের পরিবর্তে ১২-১৪ কেজি কাঁচা ঘাস আঁশ জাতীয় খাবার হিসেবে গাভীকে সরবরাহ করতে হবে। মনে রাখবেন, ১ কেজি শুকনা খড় সমান ৪-৪.৫ কেজি কাঁচা ঘাস।
(৩) গাভীর জন্য ঘাস চাষ পদ্ধতি
গাভীর খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে বিভিন্ন প্রকার উন্নত ঘাস চাষ করা প্রয়োজন-
ক) ঘাসের প্রকারভেদ
১। স্থায়ী ঘাস: নেপিয়ার, পারা, জার্মান, গিনি ইত্যাদি।
২। অস্থায়ী ঘাস: জাম্বু, ভুট্টা, খেশারী, কাউপি, মাসকলাই ইত্যাদি।
খ) চাষাবাদের বিস্তারিত তথ্য
| ঘাসের নাম | জমির ধরণ | রোপনের সময় | প্রতি চারার দূরত্ব (সেমি) | ১ম ফসল পাওয়ার সময় (দিন) | পরবর্তী ফসল কাটার সময় (দিন পর পর) | বছরে ফলন (বার) | বছরে একর প্রতি মোট ফলন (টন) | স্থায়িত্বকাল (বছর) |
| নেপিয়ার | উঁচু, ঢালু | বৈশাখ-আশ্বিন | ৪৫ – ৬০ | ৬০-৭০ | ৫০-৬০ | ৪-৬ | ৮০ – ১০০ | ৩-৪ |
| জাম্বু | এটেল, দো-আঁশ | সারা বছর | ছিটিয়ে দিতে হবে | ৬০-৭০ | – | ১ | – | – |









