ছাগলের দুধ জ্বর বা মিল্ক ফিভার রোগের লক্ষণ

ছাগল পালন ব্যবসায় খামারিদের জন্য একটি আতঙ্কের নাম হলো মিল্ক ফিভার বা দুগ্ধ জ্বর। মূলত শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত কারণে এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি ছাগলের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
ছাগলের বাচ্চা প্রসবের কিছুদিন পূর্ব হতে কিছুদিন পর পর্যন্ত সময়ে ক্যালসিয়ামের অভাবে ছাগীতে এ রোগ দেখা যায়।
মিল্ক ফিভার কী?
ছাগলের বাচ্চা প্রসবের কিছুদিন পূর্ব হতে প্রসবের কিছুদিন পর পর্যন্ত সময়ে শরীরে ক্যালসিয়ামের তীব্র ঘাটতি দেখা দিলে এই রোগ হয়। এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়, বরং একটি বিপাকীয় বা মেটাবলিক সমস্যা।
ছাগলের দুধ জ্বর বা মিল্ক ফিভার রোগের লক্ষণগুলো হলো-
- ছাগীর পক্ষাঘাতের মত অবস্থা হয়।
- ছাগী ঘাড় ঘুরিয়ে অবশ হয়ে শুয়ে পড়ে।
- অজ্ঞান ও প্যারালাইজড হয়ে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়।
- চিকিৎসা না করালে ১২-২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাগল মারা যায়।
মিল্ক ফিভারের লক্ষণ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র দেরি করা উচিত নয়। এর চিকিৎসা মূলত শরীরে দ্রুত ক্যালসিয়াম সরবরাহের ওপর নির্ভর করে।
মিল্ক ফিভার একটি জরুরি অবস্থা। তাই লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই একজন অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের (Vet) পরামর্শ অনুযায়ী ইনজেকশন বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতিরোধে খামারিদের জন্য টিপসঃ
- গর্ভবতী ছাগীকে সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত খনিজ (Mineral Mix) সরবরাহ করুন।
- প্রসবের আগে ও পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাওয়াতে পারেন।
খামারে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা দিলেই এই রোগ থেকে ছাগলকে রক্ষা করা সম্ভব। মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।









