জীবের প্রজনন (Reproduction) কী? জীবে প্রজননের ধারণা ও গুরুত্ব

জীবের প্রজনন (Reproduction) জীবে প্রজননের ধারণা ও গুরুত্ব।

(১) জীবের প্রজনন (Reproduction) কী?

প্রজনন (Reproduction) জীবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জীব তার জীবদ্দশায় নিজের প্রতিরূপ সৃষ্টির মাধ্যমে তার প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখে। ভিন্ন ভিন্ন জীবের প্রজননের প্রক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে প্রজনন প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্যগুলো লক্ষণীয়।

(২) জীবে প্রজননের ধারণা ও গুরুত্ব

  • জীবের ক্ষেত্রে জন্ম হলে মৃত্যু অবধারিত। জীবের শুধু মৃত্যু হলে পৃথিবী থেকে একসময় সেসব প্রজাতির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হয়নি, কারণ একদিকে পৃথিবীতে যেমন জীবের মৃত্যু ঘটছে, অন্যদিকে তেমনি প্রজননের মাধ্যমে জীবের জন্ম হচ্ছে।
  • প্রজনন হচ্ছে এমন একটি শারীরতত্ত্বীয় কার্যক্রম, যার মাধ্যমে জীব তার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে ভবিষ্যৎ বংশধর রেখে যায়। যে প্রক্রিয়ায় কোনো জীব তার বংশধর সৃষ্টি করে, তাকেই প্রজনন বলে। প্রজনন প্রধানত দুই ধরনের যৌন এবং অযৌন।
  • সাধারণত নিম্নশ্রেণির জীবে যৌন প্রজনন হয় না, তবে কোনো কোনো নিম্নশ্রেণির জীব যৌন উপায়েও প্রজনন ঘটায়। উচ্চশ্রেণির অধিকাংশ উদ্ভিদ এবং উচ্চশ্রেণির সকল প্রাণী যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশধর সৃষ্টি করে।
  • যৌন জননে দুটি বিপরীতধর্মী জননকোষ পরস্পরের সাথে মিলিত হয়। এ ক্ষেত্রে একটিকে পুং জননকোষ বা শুক্রাণু (sperm), অন্যটিকে স্ত্রী জননকোষ বা ডিম্বাণু (Egg) বলে। এই দুধরনের জননকোষ একই ফুলে বা একই দেহে সৃষ্টি হতে পারে। উন্নত উদ্ভিদে এ দুধরনের জননকোষ একই দেহে সৃষ্টি হয়। এরা সহবাসী (monoecious) উদ্ভিদ। যখন দুধরনের জননকোষ আলাদা দেহে সৃষ্টি হয় তখন সেই উদ্ভিদকে ভিন্নবাসী (diecious) উদ্ভিদ বলে।
  • জননকোষ সৃষ্টির পূর্ব শর্ত হলো, জনন মাতৃকোষকে অবশ্যই মিয়োসিস (Meiosis) পদ্ধতিতে বিভাজিত হতে হয়। তোমরা জান, এই বিভাজনের ফলে ক্রোমোজোমের সংখ্যা জনন মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়। কাজেই যখন পুং ও স্ত্রী জননকোষ দুটি মিলিত হয়ে যে জাইগোট সৃষ্টি করে, তাতে ক্রোমোজোমের সংখ্যা আবার জনন মাতৃকোষের সমান হয়ে যায়। পরে এই জাইগোটটি মাইটোটিক কোষ বিভাজনের (Mitotic cell division) মাধ্যমে বারবার বিভাজিত হয়ে একটি নতুন জীবদেহ সৃষ্টি করে। এভাবে একটি জীব বহু জীবের জন্ম দিয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় জীব তার ভবিষ্যৎ বংশধর সৃষ্টি করে বংশধারা রক্ষা করে।
  • প্রজনন না হলে জীবের অস্তিত্ব বিলোপ হয়ে যেত। ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে মানুষ পর্যন্ত সকল জীব এভাবে বংশধর সৃষ্টি করে প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। তবে কী উপায়ে প্রজনন ঘটবে তা জীবের বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে। এ জন্যই নিম্নশ্রেণির জীব কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জনন ঘটায় আবার উচ্চশ্রেণির জীবে জটিল প্রক্রিয়ায় যৌন জনন সংঘটিত হয়।
  • যৌন জনন, অযৌন জননের তুলনায় জটিল, শ্রমসাধ্য এবং সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া হওয়া সত্ত্বেও যৌন জনন বিবর্তনের ধারায় জীবজগতে নিজের স্থান করে নিয়েছে। কারণ এতে মিয়োসিস বিভাজনের ফলে খুব সহজে কোনো প্রজাতির এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে অচিন্তনীয় পরিমাণ জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হতে পারে। এই বৈচিত্র্য কোনো প্রজাতিকে প্রতিকূল পরিবেশে টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। অপরদিকে অযৌন জননে অপত্য জীবগুলো মাতৃজীবের (প্রায়) হুবহু অনুরূপ হয়, সে কারণে বৈচিত্র্য খুব কম থাকে।
  • তুলনামূলকভাবে সরলতর জীবগুলো (যেমন: ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি) অযৌন জননের মাধ্যমে খুব কম সময়ে কম শক্তি ব্যয়ে অধিকসংখ্যক জীব জন্ম দিতে পারে বলে সেইসব জীবে প্রজননের এই প্রক্রিয়াটি এখনও টিকে আছে।

অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফাংশন কাকে বলে, ফাংশনের চিত্রসহ বর্ণনা

ফাংশন কাকে বলে? ফাংশনের চিত্রসহ বর্ণনা

আলোচ্য বিষয়: (১) ফাংশন কাকে বলে? ফাংশনের চিত্র (২) ডোমেন ও রেঞ্জ কাকে বলে? চিত্রসহ বর্ণনা Read
শ্বসনতন্ত্র কি বা কাকে বলে, শ্বসনতন্ত্রের প্রকারভেদ ও পরিচিতি

শ্বসনতন্ত্র কি বা কাকে বলে? শ্বসনতন্ত্রের প্রকারভেদ ও পরিচিতি

আলোচ্য বিষয়: (১) শ্বসনতন্ত্র কি বা কাকে বলে? (২) শ্বসনতন্ত্রের প্রকারভেদ Read
মোলারিটি কাকে বলে, মোলালিটি কি, উদাহরণ দাও

মোলারিটি কাকে বলে? মোলালিটি কি? উদাহরণ দাও

আলোচ্য বিষয়: (১) মোলারিটি কাকে বলে? (২) মোলারিটির বৈশিষ্ট্য (৩) মোলারিটির উদাহরণ (৪) মোলালিটি কাকে বলে? (৫) মোলারিটি ও মোলালিটির মধ্যে কোনটি তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল এবং কেন? Read
পরিপাক তন্ত্রের বিভিন্ন অংশের নাম, কাজ কি, গঠন, চিত্র ও প্রধান অংশ কয়টি এবং খাদ্য পরিপাক

পরিপাক তন্ত্রের বিভিন্ন অংশের নাম, কাজ কি, গঠন, চিত্র ও প্রধান অংশ কয়টি? এবং খাদ্য পরিপাক পক্রিয়ার বিস্তারিত বর্ণনা

আলোচ্য বিষয়: (১) পরিপাক কি? পরিপাক তন্ত্র কাকে বলে? (২) পৌষ্টিকনালি কী? পৌষ্টিকনালি এর প্রধান অংশসমূহ (৩) পরিপাকগ্রন্থি বা পৌষ্টিকগ্রন্থি কী? পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অংশের নাম, কাজ কি, গঠন ও প্রধান অংশ (৪) খাদ্য পরিপাক পক্রিয়া (Digestion of Food) Read
পদ কাকে বলে, পদ কত প্রকার ও কি কি, উদাহরণসহ পদের শ্রেণীবিভাগ

পদ কাকে বলে? পদ কত প্রকার ও কি কি? উদাহরণসহ পদের শ্রেণীবিভাগ

আলোচ্য বিষয়: (১) পদ কাকে বলে? (২) পদ কত প্রকার ও কি কি? (৩) বিশেষ্য পদ (৪) বিশেষণ পদ (৫) সর্বনাম পদ (৬) ক্রিয়া পদ (৭) অব্যয় পদ Read
জীবনীশক্তি কি কাকে বলে, ATP এর পূর্ণরূপ কি, ATP কি কাকে বলে, ATP এর কাজ বা ভূমিকা কি

জীবনীশক্তি কি, কাকে বলে? ATP এর পূর্ণরূপ কি? ATP কি কাকে বলে? ATP এর কাজ বা ভূমিকা কি?

আলোচ্য বিষয়: নিম্নে জীবনীশক্তি কি কাকে বলে, ATP এর পূর্ণরূপ কি, ATP কি কাকে বলে, ATP এর কাজ বা ভূমিকা কি প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করা হলো- (১) জীবনীশক্তি কি কাকে বলে? (২) ATP এর পূর্ণরূপ কি? ATP কি কাকে বলে? (৩) জীবনীশক্তি ও ATP এর কাজ বা ভূমিকা Read
সাধু ভাষা রীতি কি বা কাকে বলে, সাধু ভাষা রীতির বৈশিষ্ট্য

সাধু ভাষা/রীতি কি বা কাকে বলে? সাধু ভাষা/রীতির বৈশিষ্ট্য

আলোচ্য বিষয়: আজকে এই আর্টিকেলটি থেকে আমার জানব- সাধু ভাষা/রীতি কি বা কাকে বলে? সাধু ভাষা/রীতির বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে। Read
সমাজ বিজ্ঞান কাকে বলে, সমাজবিজ্ঞানের জনক কে

সমাজ বিজ্ঞান কাকে বলে? সমাজবিজ্ঞানের জনক কে?

আলোচ্য বিষয়: (১) সমাজ বিজ্ঞান কাকে বলে? (২) সমাজবিজ্ঞানের জনক কে? Read
প্রকৃতি কাকে বলে, প্রকৃতি কত প্রকার এবং কি কি

প্রকৃতি কাকে বলে? প্রকৃতি কত প্রকার ও কি কি?

আলোচ্য বিষয়: (১) প্রকৃতি কাকে বলে? (২) প্রকৃতির প্রকারভেদ/শ্রেণীবিভাগ Read
পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব ও পদ্ধতি

পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব

আলোচ্য বিষয়: প্রকৃতি ও পরিবেশ পরিবেশ সংরক্ষণে আমদের সকলের উদ্যোগ গ্রহণ করা যে কারণে জরুরি হয়ে পড়েছে- Read