নাপাক কি? নাপাক কত প্রকার? কি কি কারণে কাপড় নাপাক হয়?

নাপাক কি, নাপাক কত প্রকার, কি কি কারণে কাপড় নাপাক হয়

নাপাক হওয়া, নাপাক দূর করা ও শরীয়তের বিধানঃ নাপাক হলে কী করবেন? ইসলাম কী বলে? আপনি কি জানেন কোন জিনিস নাপাক আর কোনটা নয়? নাপাক ও পাকের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে বুঝবেন? নাপাকি দূর করার সঠিক নিয়ম কি ইসলাম শেখায়? বিস্তারিত জানুন এখানে-

(১) নাপাক কি?

নাপাকিকে আরবীতে নাজাসাত বলা হয়। আর নাজাছা হলো অপবিত্রতা অর্থাৎ পবিত্রতার বিপরীত। নাপাকি হলো এমন ধরনের ময়লা অপরিচ্ছন্নতা যা থেকে দূরে থাকার জন্য আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

(২) নাপাক কত প্রকার?

ক) হুকমী নাপাক: ওযূ করার পর একজন লোক পেশাব করল। ফলে সে নাপাক হয়ে গেল। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হলো। এতেও সে নাপাক হয়ে গেল। ব্যক্তিটি কিন্তু নাপাক নয়। এ লোকটি নাপাক হয়েছে পেশাব বা স্বপ্নদোষের কারণে। কোন একটা কারণে নাপাক হওয়ার দরুন এটাকে বলা হয় হুকুমগত নাপাকি অর্থাৎ নাজাছাতে হুকমিয়্যাহ। হুকমী নাপাক আবার দু’ প্রকার:

i) ছোট নাপাকি: কেউ পেশাব করল বা পায়খানা করল বা বায়ু বের হলো, ফলে লোকটি এখন নাপাক। এ ব্যক্তি কেবল ওযূ করলেই আবার পবিত্র হয়ে যাবে।

ii) বড় নাপাকি: কারোর স্বপ্নদোষ হলো বা কেউ স্ত্রী সহবাস করল। এ ব্যক্তিটি এখন যে ধরনের নাপাকী হলো সেটা হলো বড় নাপাক। এমন নাপাকী থেকে পবিত্র হতে হলোে ওযূ নয়, গোসল করতে হবে। আর এ গোসলটি হলো ফরয গোসল। সারসংক্ষেপ হলো- ছোট নাপাক হলোে শুধু ওযু এবং বড় নাপাক হলোে গোসল করে পবিত্র হতে হয়।

খ) হাকীকী নাপাক: হলো মূল বস্তুটিই নাপাক অর্থাৎ, যে সমস্ত নাপাকী চক্ষু দ্বারা দেখা যায় এবং যা থেকে শরীর, খাদ্যবস্তু পাক রাখা উচিত। যেমন- পেশাব, পায়খানা, শূকর, কুকুর, মদ ইত্যাদি। ধৌত করে এগুলোকে পবিত্র করা সম্ভব নয়। কারণ এগুলো প্রকৃত নাপাক বস্তু। এসবকে আবার ‘নাজাছাতে আইনিয়্যাহও বলা হয়। অর্থাৎ এগুলো নিজেরাই নাপাক। হাকীকী নাপাক আবার দুই ধরনের।

i) গালীযা অর্থাৎ তীব্র নাপাক: কাপড় ও মানুষের মল মূত্র, মানুষ ও প্রাণীর রক্ত, বীর্য, মদ, সব ধরনের পশুর পায়খানা, সব ধরনের হারাম পশুর পেশাব এবং পাখীর মধ্যে শুধু হাঁস ও মুরগির বিষ্টা হলো নাজাছাতে গলীজা বা শক্ত নাপাকী।

ii) খাফীফা অর্থাৎ হালকা নাপাক: গরু, মহিষ, বকরী ইত্যাদি সকল হালাল পশুর পেশাব, কাক চিল ইত্যাদি সকল হারাম পাখির বিষ্ঠা এবং ঘোড়ার পেশাব হলো নাজাছাতে খফীফা বা হালকা নাপাক।

(৩) কাপড় নাপাক হওয়ার কারণ সমূহ কি?

নিম্নক্ত জিনিস নাপাক নয়-

১. মশা, মাছি, ছারপোকা ও মাছের রক্ত।
২. মানুষের ঘাম।
৩. নাপাক দ্রব্য থেকে উত্থিত বাষ্প।
৫. ঘুমন্ত ব্যক্তির মুখের লালা।
৬. হালাল পাখির পচা ডিম।
৭. উঠানে মাড়া দেওয়ার সময় গরু মহিষের পেশাব করা শস্য।
৮. মাইয়্যেত গোসল দেওয়ার সময় গোসলকারীর গায়ে ছিটা লাগা অল্প পরিমাণ ছিটাফুটা পানি।
৯. সূচের মাথা পরিমাণ অল্প নাপাকি।
১০. রাস্তা ঘাটের কাদা পানি।

দেহ থেকে নির্গত নিচে উল্লেখ করা বস্তু তীব্র নাপাক-

১. মানুষের পেশাব, পায়খানা।
২. হায়েযের রক্ত, মেয়েদের প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে নির্গত যেকোন তরল পদার্থ।
৩. মৃত প্রাণীর দেহ থেকে নির্গত তরল পদার্থ।
৪. মণি অর্থাৎ সাদা গাঢ় বীর্য (বুখারী: ২৩০; আধুনিক)। অপর একদল ফকীহর মতে, মণি নাপাক নয়। (শরহুল মুসলিম-লিন্নববী: ৩/১৯৭)
৫. মযী অর্থাৎ এমন এক প্রকার সাদা তরল পদার্থ, যা স্ত্রী সহবাসের পূর্বে বা এ জাতীয় অনুভূতির সময় শরীর থেকে নির্গত হয়।
৬. অদী, রোগের কারণে কারো কারো প্রস্রাবের পর এক প্রকার গাঢ় সাদা পানি বের হয়। এটা হলো অদী।
৭. হালাল প্রাণীর প্রবহমান রক্ত। অবশ্য গোশতের সাথে লেগে থাকা রক্ত নয়। হালাল প্রাণী হলো যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল।
৮. হারাম প্রাণীর গোবর ও পেশাব। যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম সেগুলোকেই হারাম প্রাণী বলা হয়।

(৪) কতটুকু নাপাক মাফ?

▣ মানুষের বমি, রক্ত ও পূজ হালকা নাপাক।

হাঁস, মুরগি ও পানকৌড়ি ব্যতীত অন্যান্য হালাল পাখির বিষ্ঠা (যেমন কবুতর, চড়ুই, শালিক ইত্যাদির বিষ্ঠা) এবং বাদুর ও চামচিকার পেশাব পায়খানা পাক। এমনিভাবে মশা, মাছি, ছারপোকা এবং মাছের রক্তও পাক। অপরদিকে, কুকুর, শূকর, ইঁদুর,এমন মৃত জানোয়ার যা শরয়ী পদ্ধতিতে জবাই করা হয়নি তা নাপাক, তবে মাছ ব্যতীত।

▣ মদ ও মাদক দ্রব্য ও কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র নাপাক।

▣ তীব্র নাপাকী মধ্যে যেগুলো তরল, যেমন রক্ত পেশাব ইত্যাদি, তা এক দেরহাম (গোলকৃত ভাবে একটা কাঁচা টাকা অর্থাৎ, হাতের তালুর নীচ স্থান পরিমাণের সমান) পর্যন্ত শরীর বা কাপড়ে লাগলে মাফ আছে।

অর্থাৎ, তা না ধুয়ে নামায পড়লে নামায হয়ে যাবে, তবে বিনা ওজরে স্বেচ্ছায় এরূপ করা মাকরূহ। আর এক দেরহাম পরিমাণের চেয়ে বেশী হলোে তা মাফ নয় অর্থাৎ, তা পাক না করে নামায পড়া জায়েয নয়।

▣ তীব্র নাপাকী মধ্যে যেগুলো গাঢ় যেমন গোবর, পায়খানা ইত্যাদি তা এক সিকি পরিমাণ পর্যন্ত (অর্থাৎ, ৪.৮৬ গ্রাম পর্যন্ত) কাপড় বা শরীরে লাগলে মাফ কিন্তু তার চেয়ে অধিক পরিমাণ লাগলে মাফ নয়।

▣ হালকা নাপাকি শরীর বা কাপড়ে লাগলে যে অঙ্গে লেগেছে তার চার ভাগের এক ভাগের কম হলোে মাফ, আর পূর্ণ চার ভাগের এক ভাগ বা আরও বেশী হলে মাফ নয়। জামার হাতা, কলি, কাপড়ের আঁচল, পায়জামার দুই মুহরীর প্রত্যেকটা ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ (অংশ) বলে গণ্য হবে।

▣ নাপাকী কম হোক বা বেশী হোক পানিতে পড়লে সেই পানি নাজাছাত বা নাপাক হয়ে যাবে- নাজাছাতে গলীজা পড়লে পানিও নাজাছাতে গলীজা হয়ে যাবে এবং নাজাছাতে খফীফা পড়লে নাজাছাতে খফীফা হবে। তবে প্রবাহিত পানিতে বা ১০০ বর্গহাত কিংবা তার চেয়ে বড় কোন কুয়া হাউজ ইত্যাদিতে নাপাকী পড়লে তা নাপাক হবে না। তবে নাপাকী পড়ার কারণে তার রং স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে গেলে নাপাক হয়ে যাবে। যে পানি দ্বারা কোন নাপাক জিনিস ধৌত করা হয়, সে পানি নাপাক হয়ে যায়।

▣ মৃতকে যে পানি দ্বারা গোসল দেয়া হয় সে পানিও নাপাক।

▣ রাস্তা-ঘাটে বা বাজারে যে পানি বা কাদার ছিটা কাপড়ে কিংবা শরীরে লাগে তাতে স্পষ্টতঃ কোন নাপাক জিনিস দেখা গেলে তা নাপাক আর স্পষ্টতঃ কোন নাপাক জিনিস দেখা না গেলে নাপাক নয়। এটাই ফতওয়া; তবে মুত্তাকী লোকদের জন্য- যাদের হাটে বাজারে যাওয়ার অভ্যাস নয়, যারা সাধারণতঃ খুব পাক ছাফ থাকেন- তাদের শরীরে বা কাপড়ে এই পানি কাদা লাগলে তাতে কোন নাপাক জিনিস দেখা না গেলেও ধুয়ে নেয়া উচিৎ।

▣ পেশাবের অতি ক্ষুদ্র ফোটা যা চোখে দেখা যায় না তার কারণে শরীর কাপড় অপবিত্র হয় না। অনর্থক সন্দেহের কারণে ধৌত করার প্রয়োজন নেই।

▣ গাভী, বকরী দহন করার সময় যদি দুই একটি লেদা বা সামান্য গোবর দুধের মধ্যে পড়ে এবং সাথে সাথে তা বের করে ফেলা হয় তাহলে তা মাফ। কিন্তু যদি লেদা বা গোবর দুধের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে যায়, তাহলে সম্পূর্ণ দুধ নাপাক হয়ে যাবে, তা খাওয়া জায়েয হবে না।

▣ উৎপন্ন ফসল মাড়াই করার সময় গরু অথবা অন্য কোন পশু তার উপর পেশাব করলে তা নাপাক হবে না। তবে মাড়াবার সময় ব্যতীত অন্য সময় পেশাব করলে নাপাক হয়ে যাবে।

▣ কুকুর, শুকর, বানর এবং বাঘ, চিতাবাঘ প্রভৃতি হিংস্র প্রাণীর ঝুটা নাপাক৷ ( খাদ্য বা পানীয় বস্তুতে মুখ লাগিয়ে ত্যাগ করলে তাকে ঝুটা বা উচ্ছিষ্ট বলা হয়)।

▣ তবে মানুষের ঝুটা নাপাক নয়, এমনকি বিধর্মী হলোেও। ঋতুবতী মহিলার ঝুটাও পাক। অতএব, যেকোন ধর্মের মানুষ এবং যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া জায়েয এসব হালাল প্রাণী এমনকি গাধা ও বিড়ালের মুখ দেওয়া পানিতেও ওযূ গোসল করা জায়েয।

▣ বিড়ালের ঝুটা পাক, তবে মাকরূহ। কোন পানিতে বিড়াল মুখ দিয়ে থাকলে তা দ্বারা উযূ করবে না। অবশ্য যদি অন্য পানি না পাওয়া যায় তবে ঐ পানি দ্বারাই উযূ করবে।

▣ আর বিড়াল দুধ বা তরকারী ইত্যাদি খাদ্য খাবারের মধ্যে মুখ দিয়ে থাকলে যদি মালিক অবস্থাপন্ন হয় তাহলে তা খাবে না, খাওয়া মাকরূহ হবে। যদি গরীব হয় তবে তার জন্য তা খাওয়া মাকরূহ নয়।

তবে বিড়াল যদি সদ্য ইঁদুর ধরে এসে তৎক্ষণাৎ কোন পানি বা খাদ্য খাবারে মুখ দেয় তবে তা নাপাক হয়ে যাবে। আর যদি কিছুক্ষণ দেরী করে নিজের মুখ চেটে চুষে পরিষ্কার করে তারপর মুখ দেয় তখন নাপাক হবে না, এখন পূর্বের মাসআলার ন্যায় মাকরূহ হবে।

▣ যে সব প্রাণী ঘরে থাকে যেমন সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর, তেলাপোকা, টিকটিকি এবং মুরগি, যে গুলো সর্বত্র ছাড়া থাকে, এদের ঝুটা মাকরূহ তানযীহী। ইঁদুর যদি রুটির কিছু অংশ খেয়ে থাকে সেদিক দিয়ে কিছুটা ছিড়ে ফেলে অবশিষ্ট অংশ খাবে।

▣ হালাল পশু ও হালাল পাখীর ঝুটা পাক। ঘোড়ার ঝুটাও পাক। যে কোন রকম পোশা পাখী যদি মরা না খায় এবং তার ঠোটে কোন রকম নাপাকী থাকার সন্দেহ না থাকে তবে তাদের ঝুটাও পাক।

▣ হালাল পশু ও হালাল জানোয়ারের ঝুটা পাক। তাদের ঘামও পাক। যাদের ঝুটা মাকরূহ তাদের ঘামও মাকরূহ।

▣ মুসলমান অমুসলমান সব লোকের ঝুটা পাক। তবে কোন নাপাক বস্তু তার মুখে থাকা অবস্থায় পানি উচ্ছিষ্ট করলে ঐ পানি নাপাক হয়ে যাবে।

▣ জানা অবস্থায় বেগানা পুরুষের ঝুটা খাদ্য ও পানি নারীর জন্য খাওয়া মাকরূহ। অনুরূপ বেগানা নারীর ঝুটাও পুরুষের জন্য মাকরূহ। অবশ্য নাজানা অবস্থায় খেয়ে ফেললে মাকরূহ হবে না।

(৫) শরীর ও নাপাক কাপড় কিভাবে পাক করতে হয়? নাপাক কাপড় পাক করার নিয়ম?

  • গাঢ় নাপাকী (যা দেখা যায় যেমন পায়খানা, রক্ত) শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা পাক করার নিয়ম হলো নাপাকিকে এমনভাবে ধৌত করবে যেন দাগ না থাকে। একবার বা দুইবার ধোয়ায় দাগ চলে গেলেও পাক হয়ে যাবে তবে তিনবার ধোয়া মোস্তাহাব। তিনবার ধোয়া সত্ত্বেও এবং নাপাকি চলে গিয়ে পরিষ্কার হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও যদি কিছু দাগ বা দুর্গন্ধ থেকে যায় তাতে কোন দোষ নেই, সাবান প্রভৃতি লাগিয়ে দাগ বা দুর্গন্ধ দূর করা ওয়াজিব নয়।
  • পানির মত তরল নাপাকি শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা পাক করার নিয়ম হলো তিনবার ধৌত করা এবং প্রত্যেক বার কাপড় ভাল করে নিংড়ানো। তৃতীয়বার খুব জোরে নিংড়াতে হবে। ভালমত না নিংড়ালে কাপড় পাক হবেনা।
  • কাপড় বা শরীরে গাঢ় কিংবা তরল নাপাকি লাগলে ধোয়া ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে পাক করা যায় না। পানির দ্বারা ধুয়ে যেরূপ পাক করা যায় তদ্রূপ পানির ন্যায় তরল এবং পাক (যেমন গোলাপ জল, রস, সিরকা প্রভৃতি) জিনিস দ্বারাও ধুয়ে পাক করা যায়। কিন্তু যেসব জিনিস তৈলাক্ত তা দ্বারা ধুলে পাক হবে না যেমন দুধ, ঘি, তেল ইত্যাদি।
  • ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়া হলোে মেশিন যেহেতু নিয়ম মত কাপড় নিংড়াতে পারে না এবং নাপাক কাপড়ের সাথে থাকা পাক কাপড় একত্রে ভিজানোর কারণে পাক কাপড়ও নাপাক হয়ে যায়, তাই ধোয়ার পুর্বে বা পরে নাপ!ক কাপড় গুলিকে পৃথকভাবে নিয়ম মত ধুয়ে পাক করে নিতে হবে। তা না করলে যদি মেশিনেই তিনবার নিয়মমত পানি ঢেলে নিংড়িয়ে নেয়, তবুও চলবে।
  • ধোপাগণ সাধারণতঃ অনেক কাপড় একসাথে ভিজিয়ে রাখে। এর মধ্যে কোন কাপড় নাপাক থাকলে পাক কাপড়গুলিও নাপাক হয়ে যাবে, তখন সবগুলিকে নিয়ম মত ধুয়ে পাক করা প্রয়োজন। ধোপাগণ সেরূপ করেন কি না তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তাই লন্ড্রির মাধ্যমে কাপড় ধোলাই করার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তবে একান্তই কেউ পাক কাপড় দিলে তা নাপাক হয়েছে ধরা হবে না। পক্ষান্তরে নাপাক কাপড় দিলে তা পাকও ধরা হবে না। ড্রাই ওয়াশ-এর হুকুমও অনুরূপ।
  • দুই পাল্লা বিশিষ্ট কাপড়ের এক পাল্লা বা তুলা ভরা কাপড়ের এক দিক যদি নাপাক এবং অন্য পাল্লা বা অন্য দিক পাক হয় এমতাবস্থায় উভয় পাল্লা যদি একত্রে সেলাই করা হয় তাহলে পাক পাল্লার উপর নামায পড়া দুরস্ত হবে না। সেলাই করা না হলোে নাপাক পাল্লা নীচে রেখে পাক পাল্লার উপর নামায় পড়া দুরস্ত হবে; তবে শর্ত এই যে, পাক পাল্লা এত মোটা হওয়া চাই যাতে পাক পাল্লার উপর থেকে নাপাকীর রং দেখা না যায় এবং গন্ধও টের না পাওয়া যায়।
  • বিছানার এক কোণ নাপাক এবং বাকী অংশ পাক হলোে পাক অংশে নামায পড়া দুরস্ত আছে।
  • না ধুয়ে কাফেরদের কাপড়ে বা বিছানায় নামায পড়া মাকরূহ।
  • তুলার গদি, তোষক অথবা লেপে যদি মল মূত্র বা অন্য কোন প্রকার নাপাকী লাগে তাহলে পানি দ্বারা ধৌত করতে হবে। যদি নিংড়ানো কঠিন হয় তাহলে ভাল করে তিনবার পানি প্রবাহিত করতে হবে। প্রতিবার পানি প্রবাহিত করার পর এমনভাবে রেখে দিবে যেন সমস্ত পানি ঝরে যায়, তারপর আবার পানি প্রবাহিত করবে, এভাবে তিনবার করলেই পাক হয়ে যাবে- তুলা ইত্যাদি বের করে ধৌত করার প্রয়োজন নেই।

(৬) আসবাব/দ্রব্য পাক করার নিয়ম? কিভাবে পাক করতে হয়?

  • যদি এমন জিনিসে নাজাছাত (নাপাকী) লাগে যা নিংড়ানো যায় না (যেমন থালা-বাসন, কলস, খাট, মাদুর, জুতা ইত্যাদি) তাহলে তা পাক করার নিয়ম হলো একবার তা ধুয়ে এমন ভাবে রেখে দিবে যেন সমস্ত পানি ঝরে যায় এবং পানির ফোটা পড়া বন্ধ হয়ে যায়, তারপর অনুরূপ আর একবার করবে, এভাবে তিনবার ধৌত করলে ঐ জিনিস পাক হয়ে যাবে।
  • জুতা বা চামড়ার মোজায় গাঢ় বীর্য, রক্ত, পায়খানা, গোবর ইত্যাদি গাঢ় নাপাকি লাগলে তা যদি মাটিতে খুব ভালমত ঘষে বা শুকনা হলোে নখ বা ছুরি/চাকু দিয়ে খুঁটে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে ফেলা যায় এবং বিন্দুমাত্র নাজাছাত বা নাপাকী না থাকে তাহলেও তা পাক হয়ে যাবে, না ধৌত করলেও চলবে। কিন্তু পেশাবের ন্যায় তরল নাজাছাত লাগলে পূর্বোক্ত নিয়মে ধোয়া ব্যতীত পাক হবেনা।
  • আয়না, ছুরি, চাকু সোনা রূপার অলংকার, থালা-বাসন, বদনা, কলস ইত্যাদি নাপাক হলোে ভালমত ঘষে বা মাটি দ্বারা মেজে ফেললেও পাক হয়ে যায়। কিন্তু এই জাতীয় জিনিস নকশীদার হলোে উপরোক্ত নিয়মে পানি দ্বারা ধৌত করা ব্যতীত পাক হবেনা। নাপাক ছুরি, চাকু বা হাড়ি-পাতিল জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে পোড়ালেও পাক হয়ে যায়। মাটির তৈরি পাত্র আগুন দিয়ে উত্তাপ দিয়ে পুড়ে নিলে পাক হয়ে যায়।
  • হাড়ি-পাতিল ও বাসনপত্রে কুকুর মুখ দিলে পাত্রটি ৭ বার ভালো করে ধৌত করতে হবে। এর মধ্যে ৭ম বার অর্থাৎ শেষ বার মাটি দিয়ে বা সাবান দিয়ে ঘষেমেজে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এতে পাত্রটি পবিত্র হয়ে যাবে। আর বিড়ালে মুখ দিলে তা নাপাক হয় না। তখন তা সাধারণভাবে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই চলবে।
  • চিনা মাটির থালাবাসন পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই যথেষ্ট। মেলামাইনের প্লেট বাটিও একই কায়দায় ধুয়ে নিলে পাক হয়ে যায়।
  • কাঠের তৈরি আসবাবপত্র টুল, ব্যাঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, পিড়ি এগুলোতে নাপাকি লাগলে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
  • বাঁশ, বেত ও মুলির তৈরি চাটাই মাদুর ও হোগলা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিলে পাক হয়ে যাবে।

(৭) জমীন পাক করার নিয়ম? কিভাবে পাক করতে হয়?

▣ জমীন/মাটিতে কোন নাজাছাত লাগলে তিন বার পানি প্রবাহিত করে দিলে তা পাক হয়ে যাবে।

▣ জমীন/মাটির উপর কোন নাজাছাত লেগে যদি এমনভাবে শুকিয়ে যায় যে, নাজাছাতের কোন চিহ্ন না থাকে তবুও তা পাক হয়ে যায় তার উপর নামায পড়া দুরস্ত আছে; তবে ঐ মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা দুরস্ত নয়।

▣ ইট, সিমেন্ট বা পাথর প্রভৃতি দ্বারা পাকা স্থান ও জমীনের হুকুমে, তবে শুধু খালি ইট বিছানো থাকলে তা পূর্বের নিয়মে ধোয়া ব্যতীত পাক হবে না।

▣ জমীনের সঙ্গে যে ঘাস লাগা আছে তাও জমীনেরই মত অর্থাৎ, শুধু শুকালে এবং নাজাছাতের চিহ্ন চলে গেলে পাক হয়ে যাবে এবং তার উপর নামায পড়া দুরস্ত হবে। কিন্তু কাটা ঘাস ধোয়া ব্যতীত পাক হবে না।

▣ গোবর দ্বারা লেপা জমীনের উপর পাক বিছানা না বিছিয়ে নামায পড়া দুরস্ত নয়।

(৮) খাদ্য দ্রব্য পাক করার নিয়ম? তরল দ্রব্য কিভাবে পাক করতে হয়?

খাদ্য দ্রব্য পাক করার নিয়ম, তরল দ্রব্য কিভাবে পাক করতে হয়

মধু, চিনি, মিছরি, শিরা, তেল, ঘি, ডালডা ইত্যাদি নাপাক হলে তা পাক করার দুইটি নিয়ম-

ক) যে পরিমাণ তেল, শিরা ইত্যাদি, সেই পরিমাণ পানি তাতে মিশ্রিত করে আগুনে জ্বাল দিবে। যখন সমস্ত পানি উড়ে যাবে তখন আবার ঐ পরিমাণ পানি মিশ্রিত করে জ্বাল দিবে, এভাবে তিনবার করলে পাক হয়ে যাবে।

খ) তেল ঘি ইত্যাদির সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশ্রিত করে তাতে নাড়াচাড়া দিলে তেলটা উপরে উঠে আসবে; তারপর আস্তে আস্তে কোন উপায়ে উপর থেকে তেলটা তুলে নিয়ে আবার সমপরিমাণ পানি মিশ্রিত করে আবার অনুরূপ ভাবে তেলটা তুলে নিবে। এভাবে তিনবার করলে পাক হয়ে যাবে। যদি ঘি, ডালডা, তেল জমাট হয় তাহলে তাতে পানি মিশ্রিত করে রৌদ্র বা আগুনের আঁচের উপর রাখবে। এভাবে গলে তেল ঘি ইত্যাদি উপরে ভেসে উঠলে তারপর উপরোক্ত নিয়মে তিনবার পানি দিয়ে তা তুলে নিলে পাক হয়ে যাবে।

যে সব প্রাণীর ঝুটা হারাম বা মাকরূহ তারা যদি রুটি পাউরুটি ভাত ইত্যাদি শক্ত খাবারে মুখ দেয় বা খায়, তাহলে মুখ দেয়ার স্থান থেকে কিছুটা ফেলে দিয়ে অবশিষ্ট অংশ খাওয়া যায়।

(দুধ বা তরকারী ইত্যাদি তরল জিনিসে বিড়াল মুখ দিলে তার মাসআলা পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে।)

(৯) হাউজ বা ট্যাংকি পাক করার নিয়ম? কিভাবে পাক করতে হয়?

হাউজ বা ট্যাংকি পাক করার নিয়ম হলো-

▣ হাউজ বা ট্যাংকি যদি ১০০ বর্গ হাত বা তার চেয়ে বড় হয় তাহলে তাতে কোন নাপাকী পড়লে বা কোন প্রাণী তাতে মারা গেলে তার পানি নাপাক হয় না। আর ১০০ বর্গ হাতের চেয়ে ছোট হলোে নাপাক হয়ে যায়।

▣ অবশ্য মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ, কাঁকড়া ইত্যাদি জলজ প্রাণী মরলে তাতে পানি নাপাক হয় না। তবে এ সব প্রাণীও যদি মরে পঁচে গলে যায়, তাহলে তার পানি পান করা বা এ দ্বারা খাদ্য পাকানো দুরস্ত নয়, যদিও উযূ গোসল করা দুরস্ত আছে।

▣ সাধারণতঃ হাউজ বা ট্যাংকি দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক. আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাংকি, যাতে সরকারী পানির লাইনের মাধ্যমে পানি এসে ভৱে। দুই. ছাদে বা উপরে স্থাপিত ও নির্মিত ট্যাংকি, যার থেকে সব কামরায় উযূ গোসল ইত্যাদির জন্য পানি পৌঁছানো হয়।

এই উভয় ধরনের হাউজ বা ট্যাংকিতে এক দিকের পাইপ থেকে পানি আসছে অন্য দিকের পাইপ থেকে সরছে- এমতাস্থায় তাতে যদি কোন নাপাক পড়ে তাহলে অধিকাংশ ফেকাহবিদের মতে সে ট্যাংকির পানি নাপাক হবে না, কারণ সেটা প্রবাহমান পানির পর্যায়ভুক্ত। অবশ্য যদি উক্ত পানিতে নাপাকীর রং, গন্ধ বা স্বাদ পাওয়া যায় তাহলে যতটুকু পানিতে রং, গন্ধ বা স্বাদ পাওয়া যাবে ততটুকু পানি নাপাক হয়ে যাবে।

অনুরূপভাবে যদি নাপাক বস্তুটি পানি উভয় দিক থেকে প্রবাহকালে পতিত হয়ে কোন এক দিকের পাইপের পানি বন্ধ হওয়ার পরও তাতে পড়ে থাকে তাহলেও তখন পানি নাপাক হয়ে যাবে।

আর যদি কোন এক দিকের লাইনের পানি বন্ধ থাকা অবস্থায় নাপাকী পতিত হয় তাহলে অধিকাংশ ফকীহের মতে হাউজ/ট্যাংকি নাপাক হয়ে যাবে। অতঃপর তা পাক করার দুইটি নিয়ম। যথা

ক) যদি হউজ থেকে ফেলে দেয়ার মত কোন নাপাক বস্তু হয় তাহলে তা ফেলে দেয়ার পর হাউজের এক দিকের পাইপ থেকে পানি প্রবেশ করানো শুরু হবে এবং অন্যদিকের পাইপ থেকে পানি বের করা শুরু হবে।

এরূপ করা শুরু করলেই সাথে সাথে হাউজ/ট্যাংকি ও পানি সব পাক হয়ে যাবে। সম্পূর্ণ পানি বা কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি বের করা শর্ত নয়।

খ) নীচের ট্যাংকি (আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাংকি) হলোে সরকারী পাইপ থেকে পানি আসতে আসতে সেটি ভরে গিয়ে যখন মুখ থেকে পানি উপচে পড়া শুরু হবে তখন তা পাক হয়ে যাবে। আর উপরের ট্যাংকি হলোে তা থেকে গোসল খানা ইত্যাদিতে যাওয়ার সব লাইন বন্ধ করে দিবে এবং তারপর মেশিনের সাহায্যে তাতে পানি ভরা (তোলা) শুরু করবে।

যখন উপরের পাইপ বা মুখ থেকে পানি উপচে পড়া শুরু হবে তখন উপরের ট্যাংকি এবং তার সাথে সংযুক্ত সব পাইপ পাক হয়ে যাবে। তবে কোন কোন ফকীহের মতে তিনবার আবার কারও মতে একবার নাপাক ট্যাংকি পানিতে ভরে রেখে পানি ফেলে দেয়া আবশ্যক। এই মতভেদের প্রেক্ষিতে নাপাক বস্তু পতিত হওয়ার সময় হাউজে যে পরিমাণ পানি ছিল সেই পানি হাউজ থেকে বের করার পর হাউজটি পাক হয়েছে বলে মনে করা উত্তম।

(১০) টিউবওয়েল বা নলকূপ পাক করার নিয়ম? কিভাবে পাক করতে হয়?

▣ যদি নলকূপে নাপাক কাপড় ইত্যাদি এমন বস্তু পতিত হয় যা বের করা সম্ভব, তাহলে তা বের করার পর নাপাক বস্তু পতিত হওয়ার সময় নলকূপে যে পরিমাণ পনি ছিল তা বের করে ফেললে নলকূপ পাক হয়ে যাবে। পেশাব ইত্যাদি তরল নাপাকী পড়লেও এই পরিমাণ পানি বের করলে নলকূপ পাক হয়ে যাবে।

▣ যদি নলকূপে পায়খানা গোবর ইত্যাদি স্থুল নাপাক বস্তু পতিত হয়, তাহলে নাপাক বস্তুটি মাটিতে রূপান্তরিত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করতে হবে অতঃপর পূর্বের নিয়মে পানি বের করে নলকূপটি পাক করতে হবে।

[তথ্যসূত্র: আহকামে যিন্দেগী by মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন]

অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইতিকাফের নিয়ম ও ফজিলতসমূহ

ইতিকাফের নিয়ম ও ফজিলতসমূহ

○ ইসলাম
প্রিয় পাঠক, আমি আজকের এই পোষ্টটিতে ইতিকাফের নিয়ম এবং ইতিকাফের ফজিলতসমূহ সুন্দরভাবে গুছিয়ে ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার যথা সাধ্য চেষ্টা করেছি। আপনি যদি ইতিকাফের নিয়ম এবং ইতিকাফের ফজিলতসমূহ জানতে সত্যই আগ্রহী হন, আপনি সম্পূর্ণ পোষ্টটি পড়বেন। আশা করি পোষ্টটি পড়ে আপনি অবশ্য উপকৃত হবেন। চলুন শুরু থেকে শুরু করা যাক। আলোচ্য বিষয়: (১) ইতিকাফ কি? ইতিকাফ কী? এতেকাফ কি? (২) ইতিকাফের সময়সীমা (৩) ইতিকাফের ফজিলত, ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত (৪) ইতিকাফের প্রকারভেদ (৫) ইতিকাফের নিয়ম, এতেকাফ করার নিয়ম, ইতিকাফ করার নিয়ম Read
সূফিবাদ কি, সুফিবাদের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ও প্রয়োজনীয়তা

সূফিবাদ কি? সুফিবাদের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ও প্রয়োজনীয়তা

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: ইসলাম মানুষের দুটি দিক নিয়ে আলোচনা করে। একটি হলো বাহ্যিক বা বস্তুগত দিক, আরেকটি হলো অভ্যন্তরীণ বা আধ্যাত্মিক দিক। আর অভ্যন্তরীণ দিকই হলো তাসাউফ বা সুফিবাদ। চলুন তাহলে সুফিবাদ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই- Read
ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে, ফিতরার পরিমাণ, সদকাতুল ফিতর, ফিতরা কার উপর ওয়াজিব

ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে?

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর কি? (২) ফিতরা কেন দিতে হয়? (৩) ফিতরা কার উপর ওয়াজিব বা আবশ্যিক? (৪) ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে? (৫) ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে না? (৬) ফিতরা কখন আদায় করতে হয়? (৭) সদকাতুল ফিতরের বা ফিতরার পরিমাণ কত? ফিতরা কত টাকা দিতে হয়? (৮) ফিতরা কি দ্বারা আদায় করতে হবে? Read
২৫টি সুখে থাকার উপায়

২৫টি সুখে থাকার উপায়

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: নিম্নে ২৫টি সুখে থাকার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো- Read
ভুল ধারণা ইসলাম নারীদের প্রতি অত্যাচার করে!

ইসলাম কি নারীদের প্রতি অত্যাচার করে?

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: আমাদের সমাজে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই একটা কথা শোনা যায়— "ইসলাম নারীদের বন্দি করে রাখে" বা "ইসলামে নারীদের ওপর অত্যাচার করা হয়।" সত্যি বলতে, এই ধারণাটা পুরোপুরি ভুল। ইসলাম নারীদের ছোট করেনি, বরং ইসলামই নারীদের আসল সম্মান দিয়েছে। আসুন, খুব সহজ কিছু কথায় বিষয়টি বুঝে নিই। Read
গিবত শব্দের অর্থ, কী, কাকে বলে গিবতের কুফল ও পরিণাম

গিবত শব্দের অর্থ, কী, কাকে বলে? গিবতের কুফল ও পরিণাম

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) গিবত শব্দের অর্থ কী? (২) গিবত কাকে বলে? (৩) গিবত কী? (৪) গিবতের কুফল ও পরিণাম Read
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ বলতে কী বুঝায় এর গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও ত্যাগের পরিণতি

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ বলতে কী বুঝায়? এর গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও ত্যাগের পরিণতি

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ বলতে কী বুঝায়? (২) গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা (৩) আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার ত্যাগের পরিণতি Read
আখিরাতের স্তর কয়টি বলতে কি বুঝায় স্তর সমূহের বর্ণনা

আখিরাতের স্তর কয়টি? বলতে কী বুঝায়? স্তর সমূহের বর্ণনা

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) আখিরাতের স্তর কয়টি? (২) আখিরাতের স্তর বলতে কী বুঝায়? (৩) আখিরাতে স্তর সমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি/বর্ণনা Read
রোজার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

রোজার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: নিম্নে সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে রোজার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরা হলো- (১) রোজার পরিচয় (২) রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব (৩) রোজার সামাজিক শিক্ষা Read
আমানত অর্থ, কী, কাকে বলে আমানত রক্ষার গুরুত্ব

আমানত অর্থ, কী, কাকে বলে? আমানত রক্ষার গুরুত্ব

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) আমানত অর্থ কী? (২) আমানত কী, কাকে বলে? (৩) আমানত রক্ষার গুরুত্ব Read