পিরিয়ড কি? মাসিক হলে কি কি করা যাবে না?

পিরিয়ড কি, মাসিক হলে কি কি করা যাবে না
আলোচ্য বিষয়:

সকল মুসলিম মেয়েদর কাছে অনুরোধ, ব্যস্ততা থাকলেও, পোষ্ট সম্পর্ণ একবার পড়ার জন্য। কারণ এখানে পিরিয়ড কি? মাসিক হলে কি কি করা যাবে না? হায়েয, নেফাস ও ইস্তেহাযা ইত্যাদি সম্পর্কি সকল হুকুম ও মাসআলা মাসায়েল। সহজ ও সুন্দর ভাবে, বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

আলোচনা শুরুর আগে এটা জেনে নিই যে কোন ইসলামি পরিভাষা দ্বারা কি বুঝায়?

  • হায়েয (মাসিক) মানে হলো- প্রতি মাসের স্বাভাবিক রক্তস্রাব।
  • নেফাস মানে হলো- সন্তান প্রসব হওয়ার পরবর্তী রক্তস্রাব।
  • ইস্তেহাযা মানে হলো- রোগ জনিত রক্তস্রাব।
  • লিকুরিয়া (সাদা স্রাব) হলো- স্ত্রীলোকের জরায়ু প্রবাহনের ফলে যে রস বা সাদা স্রাব নির্গত হয়।

এই ইসলামিক পোষ্টটিতে আমরা আপনাদের মেয়েদের মাসিক সংক্রান্ত ২৫টি প্রশ্ন ও তার উত্তর তুলে ধরার চেষ্টা করব, ইংশাআল্লাহ। প্রশ্নগুলো হলো-

1. মেয়েদের মাসিক কি? মেয়েদের মাসিক কিভাবে হয়?
2. মাসিক কত বছর থেকে শুরু হয়?
3. মাসিক কত বছর পর্যন্ত হয়?
4. মাসিকের রং কেমন হয়? মাসিক দেখতে কেমন হয়?
5. মাসিকের হিসাব শুরু কখন থেকে ধরতে হবে?
6. মাসিক কত দিন পর পর হয়?
7. মেয়েদের মাসিক কত দিন হয়/থাকে? মাসিক কত দিন দেরি হতে পারে? মাসিক কত দিন পর্যন্ত হয়? মাসিক কত দিন ধরে হয়?
8. মাসিকের মাসআলা মাসায়েল
9. দুই মাসিক/হায়েযের মধ্যবর্তী স্রাব বা পবিত্রতার কিছু মাসআলা মাসায়েল
10. মাসিকের অভ্যাস পরিবর্তন হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা মাসায়েল
11. মাসিক চলাকালীন ও মাসিক শেষে নামায রোযার মাসআলা মাসায়েল
12. মাসিক হলোে কি নামাজ পড়া যাবে?
13. নামাজের সময় মাসিক শুরু হলোে করণীয় কি?
14. রোযা অবস্থায় মাসিক হলোে কি করা উচিত?
15. রমজানে রোযা অবস্থায় মাসিক শেষ/বন্ধ হলোে করণীয় কি?
16. হায়েয চলাকালীন ও হায়েয শেষে সহবাসের মাসআলা মাসায়েল
17. মাসিক এর কত দিন পর সহবাস করা যাবে? মাসিক ভালো হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা যায়?
18. লিকুরিয়া বা সাদা স্রাবের মাসআলা মাসায়েল
19. নেফাস কাকে বলে?
20. নেফাস (সন্তান প্রসব হওয়ার পরবর্তী রক্তস্রাব) এর সময়সীমা কত?
21. নেফাসের মাসআলা মাসায়েলঃ
22. মাসিক/হায়েয ও নেফাস উভয়টার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মাসআলা মাসায়েলঃ
23. মাসিক হলোে কি কি করা যাবে না?
24. ইস্তেহাযা (রোগ জনিত রক্তস্রাব) কাকে বলে?
25. ইস্তেহাযার হুকুম ও মাসআলা মাসায়েল

এবার চলুন ধারাবাহিকভাবে উপরে উল্লিখিত ২৫টি প্রশ্নগুলো উত্তর জেনে নেওয়া যাক।

(১) মেয়েদের মাসিক/ঋতুচক্র/হায়েয কি?

হায়েয বা মাসিক বা পিরিয়ড হলো প্রতি মাসের স্বাভাবিক রক্তস্রাব

মেয়েদের মাসিক কি? মেয়েদের মাসিক কিভাবে হয়?
◼ প্রতি মাসে বালেগা মেয়েদের যৌনাঙ্গ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যে রক্তস্রাব বের হয়, তাকে হায়েয বলে। কুরআন ও হাদীসে এই রক্তকে নাপাক বলা হয়েছে।

মাসিক কত বছর থেকে শুরু হয়?
◼ সাধারণতঃ ৯ বৎসরের পূর্বে এ রক্ত দেখা দেয় না। ৯ বৎসর বয়সের পূর্বে এ ধরনের রক্ত দেখা দিলে তা হায়েযের রক্ত বলে গণ্য হবে না বরং ইস্তেহাযার রক্ত হিসেবে গণ্য হবে।

মাসিক কত বছর পর্যন্ত হয়?
◼ ৫৫ বৎসর বয়সের পর সাধারণতঃ হায়েযের রক্ত আসে না। অতএব ৫৫ বৎসর পার হওয়ার পরও কোন মেয়েলোকের রক্তস্রাব দেখা দিলে তার রং যদি লাল অথবা কালো হয় তাহলে তাকে হায়েযই মনে করতে হবে। রং যদি হলোুদ বা সবুজ বা মেটে হয়, তাহলে তাকে হায়েয গণ্য করা হবে না বরং সেটা ইস্তেহাযা বলে গণ্য হবে। অবশ্য ঐ মেয়েলোকের যদি পূর্বেও হলোুদ, সবুজ বা মেটে বর্ণের রক্তস্রাব হওয়ার অভ্যাস থেকে থাকে তাহলে ৫৫ বৎসরের পরও অনুরূপ বর্ণের রক্তকে হায়েয ধরা হবে।

মাসিকের রং কেমন হয়? মাসিক দেখতে কেমন হয়?
◼ হায়েযের সময়সীমার মধ্যে লাল, হলোদে, মেটে, সবুজ, কাল যে কোন প্রকার রং-এর রক্তকে হায়েযের রক্ত বলে গণ্য করা হবে। যখন সম্পূর্ণ সাদা রং দেখা দিবে তখন মনে করতে হবে যে, হায়েয বন্ধ হয়েছে। সাদা রংয়ের পূর্বে সব ধরনের রংই হায়েযের রং।

মাসিকের হিসাব শুরু কখন থেকে ধরতে হবে?
◼ রক্ত যোনির ছিদ্রের বাইরে আসার পর (যোনি মুখের চামড়ার বাইরে না এলেও) থেকেই হায়েযের শুরু ধরা হবে। রক্ত ভিতরে থাকার কোন ধর্তব্য নেই। যদি ছিদ্রের মুখে তুলা দিয়ে রাখে তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত বাইরের তুলায় রক্তের দাগ দেখা না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে পবিত্র মনে করবে। যখন রক্তের চিহ্ন বাইরে ছড়িয়ে পড়বে অথবা ছিদ্রের তুলা সরিয়ে দেয়ার পর রক্ত বের হতে শুরু করবে, তখন থেকে হায়েযের শুরু ধরতে হবে।

◼ পবিত্র অবস্থায় যোনির ভেতরে তুলা ঢুকিয়ে ঘুমিয়ে ছিল। সকালে উঠে তার মধ্যে রক্তের দাগ নজরে পড়ল, তাহলে যখন থেকে দাগ নজরে পড়েছে তখন থেকে হায়েযের হিসাব শুরু হবে।

(২) মাসিক কত দিন হয়/থাকে? কত দিন পর পর হয়? কত দিন দেরি হতে পারে?

মাসিক কত দিন পর পর হয়?
◼ মাসিক এক মাস পর পর হয়, অর্থ্যাৎ প্রতি মাসে বালেগা মেয়েদের যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্তস্রাব/মাসিক হয়।

মেয়েদের মাসিক কত দিন হয়/থাকে? মাসিক কত দিন দেরি হতে পারে? মাসিক কত দিন পর্যন্ত হয়? মাসিক কত দিন ধরে হয়?
◼ হায়েযের সময়সীমা কমপক্ষে ৩ দিন ৩ রাত এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন ১০ রাত।

◼ হায়েযের সময়ে অর্থাৎ হায়েযের দিনগুলোতে সর্বক্ষণ রক্ত আসা জরুরী নয় বরং নিয়মমত রক্ত আসার পর অভ্যাসের দিনগুলিতে বা ১০ দিন ১০ রাতের ভিতরে মাঝে মধ্যে দুই চার ঘন্টা বা এক দিন আধ দিন রক্ত বন্ধ থেকে আবার এলেও সেই মাঝখানের সময়কেও হায়েযের সময় ধরা হবে।

(৩) মাসিকের মাসআলা মাসায়েল

◼ যেহেতু হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা কমপক্ষে ৩ দিন ৩ রাত আর সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন ১০ রাত, অতএব কোন স্ত্রীলোকের ৩ দিন ৩ রাতের কম রক্তস্রাব হলোে মাসিকের/হায়েযের রক্ত বলে গণ্য হবে না, তাকে ইস্তেহাযার রক্ত ধরা হবে। এমনিভাবে ১০ দিন ১০ রাতের অধিক রক্তস্রাব হলোে সর্বশেষ যে হায়েয এসেছিল তার চেয়ে যে কয়দিন বেশী হবে সে কয়দিনের রক্ত হায়েযের রক্ত বলে গণ্য হবে না, তাকে ইস্তেহাযার রক্ত ধরা হবে। ইস্তেহাযার মাসায়েল পরে আলোচনা করা হয়েছে।

◼ যদি কোন মেয়েলোকের জীবনের প্রথম রক্তস্রাব শুরু হয়েই ১০ দিনের চেয়ে বেশী হয়ে যায়, তাহলে তার ক্ষেত্রে মাসআলা হলো সে ১০ দিন ১০ রাত হায়েয গণ্য করবে, অবশিষ্ট দিনগুলো এস্তেহাযা গণ্য করবে। আর যদি এরূপ মেয়েলোকের রক্ত বরাবর জারী থাকে মোটেই বন্ধ না হয়, তাহলে প্রতিমাসে ১০ দিন ১০ রাত হায়েয এবং মাসের অবশিষ্ট দিনগুলো এস্তেহাযা গণ্য করবে।

(৩) দুই মাসিক/হায়েযের মধ্যবর্তী স্রাব বা পবিত্রতার কিছু মাসআলা মাসায়েল

◼ দুই হায়েযের মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ দিন পবিত্র থাকার সময়। অতিরিক্ত কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট নেই। অতএব যদি কোন মেয়েলোকের ১ অথবা ২ দিন রক্তস্রাব দেখা দেয়ার পর ১৫ দিন পাক থাকে এবং আবার ১ অথবা ২ দিন রক্ত দেখে তাহলে মাঝখানের ১৫ দিন পবিত্রতার সময় আর এদিক ওদিক যে ১ বা ২ দিন রক্ত দেখেছে তা হায়েয নয় বরং তা ইস্তোহাযা। কারণ ৩ দিনের কম হায়েয হয় না।

◼ যদি কোন মেয়েলোকের ৩ দিন ৩ রাত রক্ত দেখা দেয়, তারপর ১৫ দিন পাক থাকে; আবার ৩ দিন ৩ রাত রক্ত দেখা দেয়, তাহলে পর্বের ৩ দিন ৩ রাত এবং পরের ৩ দিন ৩ রাত হায়েয ধরা হবে আর মধ্যকার দিনগুলি পাক থাকার সময়।

◼ কোন স্ত্রীলোকের ৩ দিনের কম ১ অথবা ২ দিন রক্তস্রাব হয়ে পুনরায় ১ অথবা ২ দিন পাক থাকার পর আবারও যদি রক্তস্রাব দেখা দেয়, সবগুলোকে হায়েয ধরে নিতে হবে।

◼ কারও ১ অথবা ২ দিন রক্তস্রাব দেখা দেয়ার পর ১৫ দিনের কম অর্থাৎ, ১০/১২ দিন রক্তস্রাব বন্ধ রইল, তারপর আবার রক্তস্রাব দেখা দিল, এমতাবস্থায় যত দিন অভ্যাসের দিন ছিল, ততদিন হায়েয গণনা করা হবে, অবশিষ্ট দিনগুলো ইস্তেহাযা হিসেবে ধরে নিতে হবে।

◼ যদি কোন মেয়েলোকের এক হায়েয শেষ হওয়ার পর ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আবার রক্ত দেখা দেয় এবং সে এটাকে হায়েয মনে করে নামায ছেড়ে দিতে থাকে আর ৩ দিন ৩ রাত পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই সে রক্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং তারপর আবার ১৫/২০ দিন কোন রক্ত দেখা না যায়, তাহলে (বুঝতে হবে এই রক্ত হায়েযের রক্ত নয়; কেননা ৩ দিন ৩ রাতের কম হায়েয হয় না। অতএব) হায়েয মনে করে যে নামাযগুলো ছেড়ে দিয়েছিল তার কাযা করতে হবে।

◼ দুই হায়েযের মধ্যবর্তী কয়েক মাস বা বৎসর পর্যন্ত যদি রক্ত দেখা না দেয়, তবুও পুরো সময়কে পাক/পবিত্র ধরতে হবে।

(৪) মাসিকের অভ্যাস পরিবর্তন হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা মাসায়েল

◼ কোন স্ত্রীলোকের সাধারণভাবে প্রত্যেক মাসে ৩ দিন রক্তস্রাব হয়, তার হায়েযের সময়সীমা ৩ দিন ধরে নিতে হবে, এটাই তার অভ্যাস। কোন মাসে তার ৭ দিন রক্তস্রাব হলোে সেটাকেও হায়েয মনে করতে হবে, কেননা হায়েযের সর্বোচ্চ সীমা ১০ দিন। তবে পরবর্তী কোন মাসে তার রক্তস্রাব ১০ দিনের বেশী হলোে যেমন ১২ দিন অথবা ১৫ দিন হলোে, তখন পূর্ববর্তী মাসে যে কয়দিন রক্ত এসেছিল সেই কয়দিন হায়েয হিসেবে পরিগণিত হবে। অবশিষ্ট দিনগুলোকে ইস্তেহাযা ধরে নিতে হবে।

◼ কোন স্ত্রীলোকের হায়েযের অভ্যাস ৩ দিন, কিন্তু একমাসে তার ৪ দিন স্রাব হলো। তার পরবর্তী মাসে ১৫ দিন স্রাব হলো, এমতাবস্থায় যেহেতু এক মাসে তার ৪ দিন রক্ত এসেছিল, সে জন্য তার অভ্যাস ৪ দিনই মনে করে নিতে হবে। অবশিষ্ট দিনগুলোর নামায কাযা করতে হবে।

তবে এ কাযা আদায় করার জন্য ১০ দিন বিলম্ব করতে হবে। কেননা ১০ দিন পর্যন্ত অভ্যাস পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ১০ দিন চলে যাওয়ার পরও রক্ত বন্ধ না হওয়ায় পরিষ্কার ধরে নিতে হবে যে, ৪ দিনের চেয়ে যতগুলো দিন বেশী রক্তস্রাব হয়েছে সেগুলো ইস্তেহাযার রক্ত।

আর যে মাসে তার ৮ দিন অথবা ৯ দিন অথবা ১০ দিন রক্তস্রাব হয়, তখন পূর্ববর্তী অভ্যাস ধর্তব্য হবে না। বরং এই ৮ অথবা ৯ অথবা ১০ দিনই তার হায়েয। কেননা ১০ দিন পর্যন্ত হায়েযের সর্বোচ্চ মেয়াদ। মনে করতে হবে তার অভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে। অবশ্য ১০ দিনের বেশী রক্তস্রাব হলোে পূর্বের মাসের ঐ ৪ দিনকেই তার অভ্যাসের দিন বলে মনে রাখতে হবে।

◼ কারও অভ্যাস ৩ দিনের। হঠাৎ এক মাসে দেখা গেল ৩ দিনের পরও স্রাব বন্ধ হয়নি, তাহলে গোসল করার দরকার নেই। নামাযও পড়তে হবে না। যদি ১০ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেটা হায়েয এবং সব নামায মাফ। মনে করতে হবে অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটেছে। আর যদি ১০ দিনের পরে একাদশ দিনে বা দ্বাদশ দিনে বা আরও পরে রক্ত বন্ধ হয়, তাহলে মনে করতে হবে ৩ দিন হায়েয ছিল, বাকিটা ইস্তেহাযা। তাই গোসল করে ৩ দিন বাদ দিয়ে বাকি দিনের নামায কাযা করতে হবে।

◼ সার কথা এই যে, ১০ দিন পার হয়ে গেলে অভ্যাসের অতিরিক্ত দিনগুলোর রক্তস্রাবকে নিঃসন্দেহে ইস্তেহাযা মনে করতে হবে। কিন্তু ১০ দিনের মধ্যে রক্তস্রাবের অভ্যাস সর্বদা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন সর্বদা ৪ দিন রক্তস্রাব হতো, মুহাররম মাসে ৫ দিন আসলো, আবার সফর মাসে ১২ দিন আসলো, তখন ঐ ৫ দিনকেই তার অভ্যাস মনে করতে হবে। কিন্তু সফর মাসে ৯ দিন এসে থাকলে মনে করতে হবে যে, তার অভ্যাস পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। কেননা ১০ দিনের মধ্যে অভ্যাস পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৷

(৫) মাসিক চলাকালীন ও মাসিক শেষে নামায রোযার মাসআলা মাসায়েল

মাসিক হলোে কি নামাজ পড়া যাবে?

◼ মাসিক/হায়েযের সময় গুলোতে নামায পড়া, রোযা রাখা নিষেধ। তবে নামায ও রোযার মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। নামায পরিপূর্ণভাবে মাফ হয়ে যায়, আর কখনো কাযা করতে হয় না। কিন্তু রোযা সাময়িক মাফ হয়। হায়েয শেষে আবার রোযার কাযা করতে হয়।

নামাজের সময় মাসিক শুরু হলোে করণীয় কি?

◼ ফরয নামায পড়াকালে যদি হায়েয দেখা দেয়, তাহলে সেই নামায ফাসেদ হয়ে যাবে, সেই চলতি নামাযও মাফ হয়ে যাবে। হায়েয শেষে সেটার কাযা পড়তে হবে না।

◼ নফল বা সুন্নাত নামায পড়াকালে রক্ত দেখা দিলে সে নামায ফাসেদ হয়ে যাবে এবং সেটা পরে কাযা করতে হবে।

◼ ওয়াক্তের নামায এখনো পড়েনি, কিন্তু নামায পড়ার মত সময় এখনো আছে, অর্থাৎ ওয়াক্তের শেষ অবস্থা, এমতাবস্থায় যদি হায়েয শুরু হয়, তাহলে সেই ওয়াক্তের নামাযও মাফ হয়ে যাবে, কাযা পড়তে হবে না।

◼ যদি কারও ১০ দিনের কম সময় স্রাব হয় এবং এমন সময় গিয়ে রক্ত বন্ধ হয়, যদি খুব তাড়াহুড়া করে গোসল করে নেয়, তাহলে পবিত্রতার পর এতটুকু সময় থাকবে, যার মধ্যে একবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাযের নিয়ত বাধা যায়, তাহলেও সেই ওয়াক্তের নামায ওয়াজিব হবে। এমতাবস্থায় নামায শুরু করার পর যদি ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, তবুও নামায পুরা করে নিবে। তবে ফজরের ওয়াক্ত হলোে যদি নামায শুরু করার পর সূর্য উদিত হয়ে যায়, তাহলে সে নামায কাযা করতে হবে। আর যদি সময় তার চেয়ে কয়, অর্থাৎ, এমন সময় গিয়ে রক্ত বন্ধ হয়, যে খুব ভাড়াহুড়া করে গোসল করে নিয়ে পবিত্রতা অর্জনের পর এতটুকু সময় থাকবে না, যার মধ্য ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাযের নিয়ত বাধা যায়, তাহলে সেই ওর-৩০, নামায মাফ, তার কাযা করতে হবে না।

◼ যদি পরিপূর্ণ ১০ দিন ১০ রাত হায়েয হয় এবং এমন সময় বা বন্ধ হয়, যার মধ্যে শুধু একবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলার সময় আছে, তার পরেই নামাযের সময় শেষ, গোসলেরও সময় নেই। তবুও ঐ ওয়াক্তের নায ওয়াজিব হবে। পরে কাযা পড়তে হবে।

রোযা অবস্থায় মাসিক হলোে কি করা উচিত?

◼ রোযা শুরু করার পর যদি হায়েয দেখা দেয়, তাহলে সেটারও পরে কাযা করতে হবে, চাই সেটা ফরয রোযা হোক বা নফল রোযা।

রমজানে রোযা অবস্থায় মাসিক শেষ/বন্ধ হলোে করণীয় কি?

◼ যদি রমযান মাসে দিনের বেলায় হায়েয বন্ধ হয়, তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোযাদারের মতই থাকতে হবে, পানাহার করতে পারবে না। অবশ্য পরে এ দিনটির রোযারও কাযা করতে হবে।

◼ যদি কেউ পূর্ণ ১০ দিন ১০ রাত পর রাতের শেষভাগে গিয়ে পবিত্র হয়, যখন পাক হয়েছে তখন রাতের এতটুকু সময়ও হাতে নেই, যার মধ্যে একবার আল্লাহু আকবার বলতে পারে। তবুও পরের দিনের রোজা রাখা ওয়াজিব।

◼ আর যদি ১০ দিনের কমেই হায়েয বন্ধ হয় এবং এতটুকু রাত অবশিষ্ট থাকে, যার মধ্যে তড়িঘড়ি করে গোসল করে নিতে পারে তবে একবার ‘আল্লাহু আকবার’ও বলা যায় না, তবুও পরের দিনের রোযা ওয়াজিব হবে। এমতাবস্থায় গোসল না করে থাকলে গোসল ছাড়াই রোযার নিয়ত করে নিবে। সকাল বেলায় গোসল করে নিবে। আর যদি সময় তার চেয়েও কম থাকে, অর্থাৎ, গোসল করা পরিমাণ সময়ও না থাকে, তাহলে রোযা জায়েয হবে না। তাই সে রোযা রাখবে না, তবে সারাদিন তাকে রোযাদারের মতই থাকতে হবে। পরে কাযা করতে হবে।

◼ ১/২ দিন হায়েয হওয়ার পর রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে গোসল ওয়াজিব হয় না। উযূ করে নামায পড়তে থাকবে। তবে এখনই সহবাস করা দোরস্ত নয়। যদি ১৫ দিনের মধ্যে আবার স্রাব শুরু হয়, তাহলে প্রমাণিত হবে সেটা হায়েযের সময় ছিল। এমতাবস্থায় হিসাব করে যত দিন হায়েযের সেটাকে হায়েয মনে করবে। এবং এখন গোসল করে নামায পড়তে শুরু করবে। আর যদি পূর্ণ ১৫ দিন রক্ত দেখা না যায়, তাহলে মনে করতে হবে সেটা ইস্তেহাযার রক্ত ছিল। সুতরাং সেই সময়ে বাদ পড়া নামাযগুলোর কাযা পড়তে হবে।

◼ যদি কোন মেয়েলোকের এক হায়েয শেষ হওয়ার পর ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আবার রক্ত দেখা দেয় এবং সে এটাকে হায়েয মনে করে নামায ছেড়ে দিতে থাকে আর ৩ দিন ৩ রাত পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই সে রক্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং তারপর আবার ১৫/২০ দিন কোন রক্ত দেখা না যায়, তাহলে হায়েয মনে করে যে নামাযগুলো ছেড়ে দিয়েছিল তার কাযা করতে হবে।

◼ হায়েযের অবস্থায় যে কাপড় পরিহিত ছিল, সে কাপড়ে যদি হায়েযের নাপাকী বা অন্য কোন নাপাকী না লেগে থাকে, তাহলে সে কাপড় ব্যবহার করে নামায আদায় করাতে কোন ক্ষতি নেই। যদি কোন স্থানে নাপাকী লেগে থাকে, তাহলে সে স্থানটুকু ধৌত করে তাতে নামায পড়া যাবে, পুরো কাপড় ধৌত করা জরুরী নয়।

(৭) মাসিক চলাকালীন ও মাসিক শেষে সহবাসের মাসায়েল

মাসিক অবস্থায় সহবাস করা যাবে কিনা? মাসিকের সময় সহবাস করলে কি হয়?

◼ মাসিক চলাকালীন সময়ে সহবাস জায়েয নেই। সহবাস ছাড়া আর সব কিছুই জায়েয। অর্থাৎ একসাথে খানা-পিনা করা, বিশ্রাম ও শয্যাগ্রহণ করা সবই জায়েয। মাসিকের সময় সহবাস করলে গুনাহ হবে।

◼ স্বামী স্ত্রীর হাটু থেকে নাভি পর্যন্ত স্থানে তার কোন অঙ্গ স্পর্শ করে লজ্জত হাসেল করতে পারবে না। এ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী যৌন তৃপ্তি মেটাতে পারে না, শরীয়ত মতে তা হারাম, হেকিমী মতেও এ অবস্থায় যৌন ব্যবহার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। স্বামী এরূপ করতে চাইলে স্ত্রীর কর্তব্য স্বামীকে নরমে বুঝিয়ে বিরত রাখবে। হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সম্মতিতে সহবাস হলোে স্ত্রীও গোনাহগার হবে।

◼ স্বামী তার হায়েযা স্ত্রীর নাভীর নীচ হতে হাটু পর্যন্ত স্থানে হাত বা কোন অঙ্গ লাগাবে না। নাভীর উপর থেকে মাথা পর্যন্ত অন্যান্য স্থানে হাত লাগাতে পারবে, চুমু দিতে পারবে।

◼ হায়েয অবস্থায় মহিলার শরীর ও মুখের লালা পবিত্র। হ্যাঁ যদি শরীরে রক্ত বা অন্য কোন নাপাকী লাগে তাহলে ভিন্ন কথা। তাহলে শরীর নাপাক হবে। অন্যথায় শুধু হায়েযের কারণে তার শরীর নাপাক বলে গণ্য হবে না। অতএব হায়েয অবস্থায় তার শরীরের সাথে ছোয়া লাগলে বা স্বামী স্ত্রীর মুখের মধ্যে জিহ্বা প্রবেশ করালে তাতে কোন ক্ষতি নেই।

মাসিক এর কত দিন পর সহবাস করা যাবে? মাসিক ভালো হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা যায়?

◼ যদি কারও ১০ দিনের মধ্যেই অভ্যাস মোতাবেক ৫ দিন, ৬ দিন, ৭ দিন, ৮ দিন অথবা ৯ দিনে হায়েয বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গোসল না করা পর্যন্ত তার সাথে সহবাস জায়েয হবে না। হ্যাঁ, যদি এক ওয়াক্ত নামাযের সময় চলে যায় (অর্থাৎ, এতটুকু সময় অতিবাহিত হয়ে যায় যার মধ্যে গোসল সেরে তাকবীরে তাহরীমা বাধতে পারা যায়) এবং তার উপর এক ওয়াক্ত নামাযের কাযা ওয়াজিব হয়, তারপর গোসলের পূর্বেও সহবাস জায়েয হবে।

◼ যদি কারও অভ্যাস অনুযায়ী হায়েযের যে কয়দিন ছিল তার পূর্বেই স্রাব বন্ধ হয়ে যায়, যেমন অভ্যাস ছিল ৫ দিনের; ৪ দিনেই রক্ত বন্ধ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় গোসল করে নামায পড়া ওয়াজিব। কিন্তু সহবাস জায়েয হবে না। কারণ, হতে পারে আবার স্রাব শুরু হয়ে যাবে। ৫ দিন পার হওয়ার পর সহবাস জায়েয হবে।

◼ যদি পরিপূর্ণ ১০ দিন ১০ রাত হায়েয হয় এবং হায়েয বন্ধ হওয়ার পরও অলসতা বশতঃ স্ত্রী গোসল না করে, তাহলে গোসলের পূর্বেও সহবাস জায়েয হবে। তবে গোসলের পূর্বে সহবাস থেকে বিরত থাকা উত্তম। এটাই পবিত্র মানসিকতার পরিচায়ক।

◼ ১ বা ২ দিন হায়েয হওয়ার পর রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে গোসল ওয়াজিব হয় না। উযূ করে নামায পড়তে থাকবে। কেননা হায়েযের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন ৩ রাত। ৩ দিন ৩ রাতের কম স্রাব হলোে তা হায়েয বলে গণ্য হয় না। তবে এখনই সহবাস করা দোরস্ত হবে না। কেননা যদি ১৫ দিনের মধ্যে আবার স্রাব শুরু হয়, তাহলে প্রমাণিত হবে সেটা হায়েযের সময় ছিল।

(৮) লিকুরিয়া বা সাদা স্রাবের মাসআলা মাসায়েল

লিকুরিয়া বা সাদা স্রাব (স্ত্রীলোকের জরায়ু প্রবাহনের ফলে যে রস বা সাদা স্রাব নির্গত হয়)

◼ স্ত্রীলোকের জরায়ু প্রবাহনের ফলে যে রস বা সাদা স্রাব (লিকুরিয়া) নির্গত হয়, এতে উযূ নষ্ট হয়, গোসল করা আবশ্যক হয় না। আজকাল অনেক মহিলাদেরই এ রোগ দেখা যায়। তাই এর মাসায়েল ভালভাবে বুঝে নেয়া চাই।

◼ যদি সর্বক্ষণ এই স্রাব বের হতে থাকে এবং পুরো ওয়াক্তের মধ্যে এতটুকু সময়ও না পায় যাতে পবিত্র হয়ে নামায পড়ে নিতে পারে, তাহলে সে মায়ূর বলে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় সে প্রত্যেক নামাযের সময় নতুন উযূ করে নামায আদায় করে নিবে এবং উযূর পূর্বে স্রাব ধৌত করে নিবে। এমতাবস্থায় নামাযের মধ্যে স্রাব দেখা দিলেও সে অবস্থায় সে কাপড়েই নামায হয়ে যাবে। আর যদি মাঝে মধ্যে এই স্রাব দেখা দেয় এবং মাঝে মধ্যে বন্ধ থাকে, তাহলে সে বন্ধ থাকার সময়ে নামায পড়ে নিবে। এমতাবস্থায় নামাযের মধ্যে স্রাব দেখা দিলে নামায ছেড়ে দিয়ে পুনরায় উযূ করে নামায পড়বে এবং কাপড়ে লেগে থাকলে কাপড়ও পরিবর্তন করে নিবে।

(৯) নেফাস কাকে বলে?

নেফাস বা সন্তান প্রসব হওয়ার পরবর্তী রক্তস্রাব

◼ সন্তান প্রসব হওয়ার পর স্ত্রীলোকের যোনি থেকে যে রক্তস্রাব হয়, তাকে নেফাস বলে।

◼ এক গর্ভে কয়েকটা সন্তান হলোে (৬ মাসের মধ্যে) প্রথম বাচ্চা প্রসবের পর থেকেই নেফাসের মেয়াদ গণনা করা শুরু করা হবে। দ্বিতীয় সন্তান থেকে নয়।

(১০) নেফাস (সন্তান প্রসব হওয়ার পরবর্তী রক্তস্রাব) এর সময়সীমা

◼সন্তান প্রসব হওয়ার পর নেফাসের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৪০ দিন। ৪০ দিনের পরেও রক্ত আসতে থাকলে সেটা নেফাসের রক্ত বলে গণ্য হবেনা বরং সেটাকে ইস্তেহাযার রক্ত বলে গণ্য করা হবে। ইস্তেহাযা সম্পর্কে পরে আলোচনা করা হয়েছে।

◼ নেফাসের সর্বনিম্ন সময়ের কোন সীমা নেই। দুই চার ঘন্টা বা দুই চার দিন বা পাঁচ দশ দিন ইত্যাদি যে কোন পরিমাণ সময়ের মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি সন্তান প্রসবের পর রক্ত একেবারেই নাও আসতে পারে।

◼ প্রসবের পর যদি কারও একেবারেই রক্ত না যায়, তবুও তাকে গোসল করতে হবে। এই গোসল ফরয।

◼ নেফাসের সময়সীমার মধ্যে সর্বক্ষণ রক্ত আসা জরুরী নয় বরং মেয়াদের ভিতরে মাঝে মধ্যে দুই চার ঘন্টা বা দুই এক দিন রক্ত বন্ধ থেকে আবার এলেও সেই মাঝখানের সময়কেও নেফাসের সময় ধরা হবে।

(১১) নেফাসের মাসআলা মাসায়েল

◼ ৪০ দিনের কম সময়ের মধ্যে রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে গোসল করে নিতে হবে। নিজেকে পাক মনে করে নামায পড়া আরম্ভ করতে হবে। কোন কোন এলাকায় মহিলাদের মধ্যে প্রচলন আছে যে, ৪০ দিনের আগে রক্ত বন্ধ হলোেও ৪০ দিন পর্যন্ত নামায থেকে বিরত থাকে, এটা ঠিক নয়।

◼ ৪০ দিনেও রক্ত বন্ধ না হলোে এবং এটা মহিলার জীবনের প্রথম নেফাস হয়ে থাকলে ৪০ দিনে নেফাস শেষ ধরা হবে এবং গোসল করে নিয়ে নামায পড়া শুরু করতে হবে। ৪০ দিনের অতিরিক্ত দিনগুলোর রক্তস্রাব ইস্তেহাযা হিসেবে ধরে নিতে হবে। সেমতে এস্তেহাযার মাসায়েল অনুযায়ী প্রতি ওয়াক্তে নতুন উযূ করে নামায পড়তে থাকবে। আর এটা মহিলার জীবনে প্রথম নেফাস না হয়ে থাকলে পূর্ববর্তী নেফাসে যে কয়দিন রক্তস্রাব এসেছিল সে কয়দিন পরই তাকে পবিত্র ধরা হবে। তার চেয়ে অতিরিক্ত সব দিনগুলোকে এস্তেহাযা ধরে নিতে হবে। অভ্যাসের অতিরিক্ত যে কয়দিনকে সে নেফাস মনে করে নামায ছেড়ে দিয়েছে তার কাযা করতে হবে।

◼ কোন মেয়েলোকের হয়তো ৩০ দিন রক্ত যাওয়ার অভ্যাস ছিল, কিন্তু একবার ৩০ দিন অতিক্রম হওয়ার পরও রক্ত বন্ধ হলো না; এমতাবস্থায় এই মেয়েলোক এখন গোসল না করে অপেক্ষা করবে। অতঃপর যদি পূর্ণ ৪০ দিন শেষে বা ৪০ দিনের ভিতর রক্ত বন্ধ হয়, তাহলে এই সব কয় দিনই নেফাসের মধ্যে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে যদি ৪০ দিনের বেশী রক্ত জারী থাকে, তাহলে পূর্বের অভ্যাস মোতাবেক ৩০ দিন নেফাসের মধ্যে গণ্য হবে এবং অবশিষ্ট দিনগুলো ইস্তেহাযা বলে গণ্য হবে। ৪০ দিন পর গোসল করে নামায পড়তে থাকবে এবং ৩০ দিনের পরের ১০ দিনের নামাযের কাযা করবে।

◼ নেফাসের অবস্থায় সহবাস ও হাটু থেকে নাভি পর্যন্ত স্থান ভোগ করা জায়েয নেই৷ তবে একসাথে খানা-পিনা বিশ্রাম ও শয্যাগ্রহণ সবই জায়েয।

(১২) মাসিক হলে কি কি করা যাবে না?

(নিম্নের মাসআলাগুলো হায়েয ও নেফাস উভয় অবস্থার জন্য প্রযোজ্য।)

◼ হায়েয, নেফাস অথবা অন্য যে কোন কারণে যে নারীর ওপর গোসল ওয়াজিব হয়ে পড়েছে তার জন্য মসজিদে যাওয়া হারাম। সে কা’বা শরীফ তওয়াফ করতে পারবে না; কুরআন শরীফ পড়তে পারবে না, স্পর্শ করতে পারবে না। হ্যাঁ, যদি কুরআন শরীফের উপর জুযদান লাগানো থাকে অথবা রুমাল দিয়ে জড়ানো থাকে তাহলে জুযদান অথবা রুমালের উপর দিয়ে স্পর্শ করা জায়েয আছে। অনুরূপভাবে যদি কাগজ বা চামড়ার আস্তর থাকে এবং যদি সেটা কুরআন শরীফের সাথে সেলাই করা না হয় কিংবা আঠা দিয়ে আঁটকানো না থাকে, তাহলে তার উপর দিয়ে স্পর্শ করা জায়েয আছে।

◼ যার উযূ নেই সেও কুরআন শরীফ স্পর্শ করতে পারবে না। তবে মুখস্থ পড়তে পারবে।

◼ যে টাকা পয়সা বা বরতনে বা তাবীজে কুরআনের কোন আয়াত লেখা আছে উল্লেখিত জনেরা সেই টাকা পয়সা, তাবীজ এবং বরতনও স্পর্শ করতে পারবে না। হ্যাঁ, কোন থলি বা পাত্রে রাখলে সে থলি বা পাত্র স্পর্শ করতে পারবে এবং থলি বা পাত্রের গায়ে ধরে উঠাতেও পারবে।

◼ গায়ের জামা এবং ওড়না দিয়েও কুরআন শরীফ স্পর্শ করা এবং উঠানো জায়েয নয়। হ্যাঁ, গা থেকে আলাদা কাপড় দিয়ে ধরতে ও উঠাতে পারবে। যেমন রুমাল দিয়ে ধরে উঠাতে পারবে।

◼ যদি পরিপূর্ণ আয়াত তেলাওয়াত না করে বরং কোন একটি শব্দ অথবা আয়াতের অর্ধেকটা তেলাওয়াত করে তাহলে জায়েয আছে। অবশ্য সেই অর্ধেক আয়াতটিও ছোট কোন আয়াতের সমান হতে পারবে না।

◼ কোন মেয়ে হেজ করা অবস্থায় হায়েয এসে গেলে এবং মুখস্থ করার জন্য তেলাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে বা কোন হাফেজা মেয়ে হায়েয অবস্থায় কুরআন হেফজ্ রাখার জন্য তেলাওয়াত জারী রাখতে চাইলে মনে মনে তেলাওয়াত করবে, মুখে উচ্চারণ করে নয়।

◼ সূরা ফাতেহা অথবা কুরআনে কারীমের অন্য কোন দু’আর আয়াত (যেমন আয়াতুল কুরছী) যদি তেলাওয়াতের নিয়তে না পড়ে বরং দু’আর নিয়তে পড়ে, তাহলে কোন গোনাহ নেই।

◼ দোয়া কুনূত পড়াও জায়েয আছে।

◼ যদি কোন মহিলা বাচ্চাদেরকে কুরআন শিক্ষা দেন তাহলে তিনি বানান করে পড়াতে পারবেন এবং রিডিং পড়ানোর সময় এক দুই শব্দ করে ভেঙ্গে আলাদা আলাদা শ্বাসে পড়তে পারবেন।

◼ হায়েয নেফাস অবস্থায় কালিমা, দুরূদ শরীফ, এস্তেগফার, আল্লাহর নাম নেয়া জায়েয। ওযীফাও পাঠ করা যায়।

◼ হায়েয নেফাসের অবস্থায় নামাযের সময়ে উযূ/ওযু করে নামাযের স্থানে নামায আদায় পরিমাণ সময় বসে থেকে সুবহানাল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে থাকবে, যেন ইবাদতের অভ্যাস বজায় থাকে। এটা মোস্তাহাব।

◼ হায়েয অবস্থায় মহিলারা প্রতি নামাযের ওয়াক্তে সত্তর বার এস্তেগফার পাঠ করলে এক হাজার রাকআত নফল নামাযের ছওয়াব পাবে, সত্তরটা গোনাহ মাফ হবে এবং দরজা বুলন্দ হবে।

◼ গোসল ফরয ছিল, গোসলের পানি ছিল না, যখন পানি পাওয়া গেছে তখন হায়েয নেফাস শুরু হয়ে গেছে, এমতাবস্থায় আর গোসলের প্রয়োজন নেই। স্রাব থেকে পাক হওয়ার পর একবারেই গোসল করে নিতে পারবে।

◼ কোন মহিলার বাচ্চা প্রসব হচ্ছে। কিছু (অর্ধেকের কম) বের হয়েছে। এমন অবস্থায় যদি হুঁশ থাকে, বিবেক সুস্থ থাকে, তাহলে নামায পড়া ওয়াজিব। কাযা করতে পারবে না। আর যদি বাচ্চার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে নামায পড়বে না। পরে কাযা পড়বে। অনুরূপভাবে ধাত্রী যদি মনে করে সে নামায পড়তে গেলে সদ্য প্রসূত শিশুটির ক্ষতি হবে, তাহলে সেও নামায কাযা করতে পারবে। সিজারকারী ডাক্তারও এই মাসআলা অনুযায়ী আমল করবেন।

◼ হায়েয ও নেফাস বন্ধ হবার পর সত্বর গোসল করে নামায আরম্ভ করতে হবে রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার পর যত ওয়াক্তের নামায ছুটবে, তার জন্য পাপ হবে।

◼ হায়েয ও নেফাস অবস্থায় নামায, রোযা ও কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি নিষিদ্ধ। অবশ্য নামায ও রোযার মধ্যে পার্থক্য এই যে, হায়েয ও নেফাস অবস্থায় যে নামায ছুটে গিয়েছিল সেগুলোর কাযা করতে হবে না, মাফ হয়ে গেল। তবে পবিত্র হওয়ার পর রোযার কাযা আবশ্যক। হায়েয ও নেফাস অবস্থায় যিক্র, দুরূদ, দোয়া, এস্তেগফার ও কুরআন শরীফে যে দোয়া আছে এগুলো পড়া যায়। স্বামী-স্ত্রী একত্রে উঠা-বসা ও খানা-পিনা করতে পারে, তবে যৌন তৃপ্তি মেটাতে পারে না, শরীয়ত মতে তা হারাম, হেকিমী মতেও এমন করা স্বাস্থ্যের পক্ষ্যে ক্ষতিকর।

(১৩) ইস্তেহাযা (রোগ জনিত রক্তস্রাব) কাকে বলে?

ইস্তেহাযা বা রোগ জনিত রক্তস্রাব

◼ স্ত্রী-লোকের যৌনাঙ্গ থেকে হায়েযের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন থেকে কম অথবা অভ্যাসের অতিরিক্ত ১০ দিনের চেয়ে বেশী যে রক্তস্রাব হয়, তাকে ইস্তেহাযা বলে।

◼ ৯ বৎসর বয়সের পূর্বে যদি রক্ত আসে, সেটাও ইস্তেহাযা বলে গণ্য। গর্ভাবস্থায় যদি রক্ত বের হয় সেটাও ইস্তেহাযা বলে গণ্য।

◼ প্রসবকালীন সময়ে বাচ্চা প্রসবের পূর্বে যে রক্ত বা পানি বের হয়, সেটাও ইস্তেহাযা। বাচ্চার অর্ধেকটা বের হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যে রক্ত বের হবে সেটাও ইস্তেহাযা।

◼ নেফাসের সর্বোচ্চ সময় ৪০ দিন পার হওয়ার পরও রক্ত আসতে থাকলে সেই রক্তকেও ইস্তেহাযা বলে গণ্য করা হবে।

(১৩) ইস্তেহাযার হুকুম ও মাসআলা মাসায়েল

◼ ইস্তেহাযার রক্ত এরূপ, যেমন নাক অথবা দাঁত দিয়ে পড়া রক্ত। রোগের কারণেই সাধারণতঃ এরূপ হয়ে থাকে। নাক অথবা দাঁত দিয়ে রক্ত পড়লে যেমন নামায রোযা মাফ হয় না, তদ্রূপ ইস্তেহাযার রক্তের কারণেও নামায রোযা মাফ হয় না।

◼ ইস্তেহাযার কারণে নামায রোযা মাফ হয় না। অতএব ইস্তেহাযার কারণে নামায রোযা কাযা করতে পারবে না।

◼ ইস্তেহাযা অবস্থায় নামায ত্যাগ করা যাবে না। তবে প্রত্যেক নামাযে নতুন করে উযূ করতে হবে। উযূ করে নামায শুরু করার পর নামাযের মধ্যে রক্ত এসে শরীর বা কাপড়ে লাগলে বা জায়নামাযে লাগলে সে অবস্থায়ই নামায পড়ে নিবে।

◼ এক ওযু/উযূ দ্বারা কয়েক ওয়াক্তের নামায আদায় করতে পারবে না। অবশ্য কয়েক ওয়াক্তের কাযা নামায এক উযূ দ্বারা আদায় করা যাবে।

◼ যদি ইস্তেহাযা অবস্থায় সর্বক্ষণ রক্ত না আসে বরং এরকম হয় যে, মাঝে মধ্যে আসে, মাঝে মধ্যে বন্ধও থাকে, তাহলে ওয়াক্ত আসার পর অপেক্ষা করবে, যখন রক্ত বন্ধ থাকবে সে সময় উযূ করে নামায পড়ে নিবে।

◼ ইস্তেহাযা অবস্থায় উযূ/ওযু করে কাবা শরীফ তওয়াফ করতে পারবে, কুরআন শরীফও স্পর্শ করতে পারবে।

◼ ইস্তেহাযা অবস্থায় স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে।


আলোচনাটি এখানেই সমাপ্ত হলো। আশা করি উপরে উলিল্লিখিত আলোচনা থেকে- পিরিয়ড কি? মাসিক হলে কি কি করা যাবে না? মাসিক/হায়েয, নেফাস ও ইস্তেহাযা, মাসিক সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কিত সকল হুকুম ও মাসআলা মাসায়েল এবং আপনাদের ২৫টি প্রশ্নের উত্তরগুলো জানতে পেরেছেন, যা আপনাদের কিছুটা হলেও উপকারে এসেছে।

যদি পোষ্টটি থেকে এতটুকু উপকৃত হয়ে থাকেন, অবশ্যই স্যোসাল মিডিয়াতে পোষ্ট শেয়ার করবেন।

কারণ মাসিক/হায়েয, নেফাস ও ইস্তেহাযা মেয়েদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অনেক মুসলিম মেয়ে আছে যারা এগুলো সঠিক/যথেষ্ট সম্পর্কে জানে না। শুধু মেয়ে না আমরা মনে করি ছেলেদেরও এ সকল বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান/সচেনতা থাকা উচিত।

এছাড়া আপনার দ্বারা কেউ ইসলামের জ্ঞান অর্জন করতে পারলে তার সেই আমলের সাওয়াবের অধিকারী আপনিও হবেন

তাই পোষ্টটি যতসম্ভব বেশি বেশি শেয়ার করবেন।

আল্লাহ আমাদের আরও জানার ও মানার তৌফিক সদান করুন, আমিন।

ট্যাগঃ মাসিক অবস্থায় সহবাস করার নিয়ম, মাসিক অবস্থায় সহবাস করলে কি হয়, মাসিক হলে কি কি আমল করা যায়, মাসিক হলে করনীয়, মাসিক হলে কি কি করা যাবে না, মাসিক হলে কি নামাজ পড়া যাবে, মাসিক বন্ধ হলে কি সহবাস করা যায়, মাসিক হলে সহবাস করা কি জায়েজ, মাসিক হলে কি রোজা থাকা যায়, রোজা থাকা অবস্থায় মাসিক হলে, ইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায়, মাসিকের সময় ইবাদত, মাসিকের সময় সহবাস ইসলাম কি বলে, মাসিকের এর পর গোসলের নিয়ম, মাসিকের কত দিন পর সহবাস করা যায় ইসলাম কি বলে, মাসিকের কতদিন পর কুরআন পড়া যায়, হায়েজ অবস্থায় কি কি করা যাবে না, হায়েজ অবস্থায় আমল, হায়েজ অবস্থায় আয়াতুল কুরসি পড়া যাবে, হায়েজ অবস্থায় মোবাইলে কুরআন পড়া যাবে কি, হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে, হায়েজ অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ, স্বপ্নে হায়েজ হতে দেখলে কি হয়, হায়েজ অবস্থায় সহবাসের হুকুম, হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়ার বিধান, হায়েজ অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ, হায়েজ অবস্থায় আজানের উত্তর, হায়েজ অবস্থায় কি কি ইবাদত করা যাবে, হায়েজ ও নেফাস কি, হায়েজ ও নেফাসের সময়সীমা, হায়েজ অবস্থায়, হায়েজ এর পর নামাজ, হায়েজ কত দিন পর পর হয়, হায়েজ কত দিন থাকে, হায়েজ কত প্রকার, হায়েজ অবস্থায় দরুদ পড়া যাবে কি, হায়েজ গোসলের দোয়া, হায়েজ গোসল, হায়েজ অবস্থায় জিকির করা যাবে কি, মেয়েদের হায়েজ কতদিন থাকে, হায়েজ অবস্থায় দোয়া, হায়েজ নেফাসের মাসআলা, হায়েজ নেফাসের সময় নামাজ, হায়েজ নেফাসের সময় রোজা, হায়েজ অবস্থায় নামাজ পড়ার বিধান, হায়েজ শেষে নামাজ, হায়েজের পর সহবাস, হায়েজের পর নামাজ, হায়েজের পর গোসল, হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কিনা, হায়েজের বিধান, হায়েজ কাকে বলে, হায়েজ অবস্থায় বিবাহ, হায়েজ অবস্থায় রোজার বিধান, হায়েজ অবস্থায় কুরআন শুনার বিধান, হায়েজ অবস্থায় কায়দা পড়ার বিধান, হায়েজ মানে কি, হায়েজের মাসয়ালা, মহিলাদের হায়েজ নেফাস, মহিলাদের হায়েজ অবস্থায় রোজা, হায়েজের মাসআলা, মেয়েদের হায়েজ নেফাস, মেয়েদের হায়েজ, হায়েজ সংক্রান্ত মাসআলা, হায়েজ অবস্থায় কুরআন শোনা যাবে কিনা, হায়েজ অবস্থায় রোজা রাখা যাবে কি, হায়েজ অবস্থায় হাদিস পড়া যাবে কি, রোজা অবস্থায় হায়েজ হলে, রোযা অবস্থায় হায়েজ হলে, হায়েজ অবস্থায় রোজা, হায়েজ শব্দের অর্থ কি, হায়েজ অবস্থায় কুরআন শুনা যাবে কি, হায়েজ অবস্থায় সহবাসের কাফফারা, হায়েজ অবস্থায় সহবাস করলে কি হয়, হায়েজ হওয়ার দোয়া, হায়েজ অবস্থায় হজ্জ।

[তথ্য সূত্র: মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন]

অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ayatul kursi bangla

ayatul kursi bangla

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: নিম্নে ayatul kursi bangla (with 100% Clear Picture + text copy + Audio mp3 + Video mp4 download option) সহ উক্ত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে- (১) ayatul kursir arbi (২) ayatul kursi bangla uccharon (৩) ayatul kursi bangla ortho (৪) ayatul kursi bangla, arabic o ortho akshathe (৫) ayatul kursi bangla and English (৬) ayatul kursi er fhojilot (৭) ayatul kursi er tatporjo (৮) ayatul kursi pather upokarta (৯) ayatul kursi bangla hidis (১০) uposonhar Read
informationbangla.com default featured image compressed

সূরা আশ-শামস অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: নিম্নে সূরা আশ-শামস অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ তুলে ধরা হলো- Read
আখলাক শব্দের অর্থ, কি, কাকে বলে আখলাক এর গুরুত্ব

আখলাক শব্দের অর্থ, কি, কাকে বলে? আখলাক এর গুরুত্ব

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) আখলাক কি/কাকে বলে? (২) আখলাক শব্দের অর্থ কি? (৩) আখলাকের প্রকার (৪) আখলাকের গুরুত্ব Read
surah humazah bangla, সূরা হুমাযাহ বাংলা উচ্চারণ এবং অর্থ

surah humazah bangla: সূরা হুমাযাহ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) surah humazah bangla (২) সূরা হুমাযাহ বাংলা উচ্চারণ (৩) সূরা হুমাযাহ বাংলা অর্থ (৪) সূরা হুমাযাহ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ ছবি (৫) surah humazah uccharon mp3 (৬) surah humazah bangla uccharonshoho ortho mp4 (৭) সূরা আল হুমাযাহ এর পরিচয় (৮) সূরা হুমাযাহ এর শানে নুযুল (৯) সূরা হুমাযাহ বাংলা তাফসীর/ব্যাখ্যা (১০) surah humazah er sikkha Read
কুফরী অর্থ কি, কুফরী কাকে বলে, কুফরী কত প্রকার ও কি কি

কুফরী অর্থ কি? কুফরী কাকে বলে? কুফরী কত প্রকার ও কি কি?

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) কুফরী অর্থ কি? কুফরী কাকে বলে? (২) কুফরী কত প্রকার ও কি কি? (৩) কতিপয় কুফরী ও তার তালিকা বিবরণ Read
ভুল ধারণা ইসলাম নারীদের প্রতি অত্যাচার করে!

ইসলাম কি নারীদের প্রতি অত্যাচার করে?

আলোচ্য বিষয়: আমাদের সমাজে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই একটা কথা শোনা যায়— "ইসলাম নারীদের বন্দি করে রাখে" বা "ইসলামে নারীদের ওপর অত্যাচার করা হয়।" সত্যি বলতে, এই ধারণাটা পুরোপুরি ভুল। ইসলাম নারীদের ছোট করেনি, বরং ইসলামই নারীদের আসল সম্মান দিয়েছে। আসুন, খুব সহজ কিছু কথায় বিষয়টি বুঝে নিই। Read
কুরআন অর্থ, কি, কাকে বলে পবিত্র কুরআনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

কুরআন অর্থ, কি, কাকে বলে? পবিত্র কুরআনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) কুরআন অর্থ কি? (২) কুরআন কি/কাকে বলে? (৩) আল কুরআন কোথায় সংরক্ষিত ছিল? (৪) সর্বপ্রথম আল কুরআন কোথায় কখন অবতীর্ণ হয়? (৫) কুরআনের সূরা কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি? (৬) কুরআনের আয়াত সংখ্যা কত? (৭) আল-কুরআনের নাম কি কি? (৮) আল-কুরআনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা (৯) আল-কুরআনের শিক্ষা (১০) কুরআন পাঠে তাজবিদের গুরুত্ব (১১) কুরআন তিলাওয়াতের আদব (১২) আল-কুরআন ও নৈতিক শিক্ষা Read
ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কী এর প্রয়োজনীয়তা এবং উক্ত বিষয়ে ইসলাম কী বলে

ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কী? এর প্রয়োজনীয়তা ও উক্ত বিষয়ে ইসলাম কী বলে?

আলোচ্য বিষয়: (১) ভ্রাতৃত্ববোধ কী? (২) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কী? (৩) ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এর প্রয়োজনীয়তা (৪) ইসলাম ধর্মে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি Read
informationbangla.com default featured image compressed

১৩ ধরনের মানুষ যাদের আমল/ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: এই আর্টিকেলটিতে ১৩ ধরনের ব্যক্তির কথা আলোচনা করা হবে, যাদের ইবাদত, বিশেষ করে সালাত, আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। এই তথ্যগুলো হাদিস ও ইসলামী শিক্ষা থেকে সংগৃহীত এবং সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে পাঠকরা সহজেই বুঝতে পারেন এবং তাদের জীবনে এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে পারেন। Read
বাংলা মোনাজাতের দোয়াসমূহ

বাংলা মোনাজাতের দোয়াসমূহ

○ ইসলাম
আলোচ্য বিষয়: (১) মোনাজাত কী বা কাকে বলে? (২) আটটি বাংলা মোনাজাতের দোয়ার হাদিস (৩) ছয়টি বাংলা মুনাজাতের দোয়ার আয়াত Read