বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম/পদ্ধতি

বর্তমানে বিকাশ একাউন্ট খোলা একদম সিম্পল। সকল এয়ারটেল, রবি, গ্রামীনফোন, টেলিটক ও বাংলালিংক গ্রাহকগণ নিজের ফোন থেকেই বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবে।
এ আর্টিকেলটি পড়ে আপনি নিজে নিজেই খুব সহজে বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট খুলতে পারবেন। আপনার ফোনে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে কয়েক মিনিটেই বিকাশ একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।
বিকাশ একাউন্ট খোলার পূর্বে চলুন বিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।
(১) বিকাশ কি?
আমাদের দেশে মোবাইল ফোন ভিত্তিক অর্থ আদান-প্রদানের একটি অন্যতম সার্ভিস হচ্ছে বিকাশ ( bkash)। বিকাশ একাউন্ট খুলে একজন গ্রাহক বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে তার মোবাইলে টাকা জমা, উত্তোলন ও নিজের ফোন থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ স্থানান্তর করতে পারে।
(২) বিকাশ একাউন্ট থেকে কি কি সেবা পাওয়া যায়?
একজন বিকাশ গ্রাহকের একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা থাকলে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকেই বিকাশের বিভিন্ন সেবা ভোগ করতে পারবে। বিকাশের বর্তমান সেবাগুলো হচ্ছে –
- একাউন্টে টাকা জমা করে রাখা যায়।
- পেমেন্ট করা যায়।
- এজেন্ট বা ব্র্যাক ব্যাংকের ATM থেকে টাকা উত্তোলন করা যায়।
- রিচার্জ করা যায়।
- ঘরে বসেই বিভিন্ন যানবাহনের টিকিট কাটা যায়।
- প্রোডাক্ট কেনার বিনিময়ে মূল্য পরিশোধ করা যায়।
- বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স গ্রহণ করা যায়।
- বিদ্যুৎ বিল ও বেতন প্রদান করা যায়।
- অটো-রিচার্জ চালু করে বিকাশ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যালেন্স রিচার্জ করা যায়।
- মানি ট্রান্সফার করা যায়।
- ইন্টারনেটে কেনাকাটা করা যায় ইত্যাদি।
(৩) বিকাশ একাউন্ট খোলার পদ্ধতি
বর্তমানে ৩ টি পদ্ধতিতে বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়। এগুলো হলো–
- মোবাইলে বিকাশ অ্যাপ ইনস্টল করে নিজে নিজে বিকাশ একাউন্ট খোলা।
- বিকাশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে একাউন্ট খোলা
- বিকাশ এজেন্টের কাছে বা কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে একাউন্ট খোলা।
(৪) অ্যাপের সাহায্যে নিজে নিজে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম
ক) বিকাশ একাউন্ট খুলতে কি কি লাগবে?
- বিকাশ অ্যাপ
- ইন্টারনেট কানেকশন
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- যেকোন একটি এক্টিভ ফোন নাম্বার
- ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (এজেন্টের ক্ষেত্রে)
খ) বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করব কীভাবে?
আপনার একটি স্মার্টফোন থাকলেই আপনি খুব সহজে গুগল প্লে স্টোর থেকে থেকে একদম ফ্রিতে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবেন। তাছাড়া নিম্নের লিঙ্কে ক্লিক করেও আপনি ডাউনলোড করতে পারবেন।
👇👇👇
গ) ঘরে বসে নিজে নিজে বিকাশ একাউন্ট খোলার ধাপসমূহ
অ্যাপের সাহায্যে নিজে নিজে বিকাশ একাউন্ট খুলতে নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করুন–
ধাপ ১ঃ
ঘরে বসে নিজে নিজে বিকাশ একাউন্ট খুলতে। পূর্ব বর্ণি নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে আপনার ফোনের গুগল “প্লে স্টোর/অ্যাপেল স্টোর” থেকে “বিকাশ অ্যাপটি ডাউনলোড” করে ইনস্টল করে নিন।
ধাপ ২ঃ
বিকাশ অ্যাপটি “Open” করে “রেজিস্ট্রেশন” বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩ঃ
রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করার পর নিম্নের ছবিতে দেখানো “ফোন নাম্বার” এর জায়গায় যে নাম্বারটি দিয়ে একাউন্ট খুলতে চান সেটি দিয়ে “পরবর্তীতে “ ক্লিক করুন।
ধাপ ৪ঃ
আপনার দেওয়া সিমের নাম্বারট কোন অপারেটর (গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, টেলিটক, রবি, এয়ারটেল) তা সিলেক্ট করুন।
ধাপ ৫ঃ
অপারেটর সিলেক্ট করার পর ভেরিফিকেশনের জন্য আপনার ফোন নাম্বারে একটি কোড পাঠানো হবে। এটি আপনি মেসেজ অপশনে পেয়ে যাবেন। নিম্নের দেখানো অংশে কোডটি বসিয়ে “কনফার্ম করুন” অংশে ক্লিক করুন।
ধাপ ৬ঃ
এবার আপনি নিয়ম ও শর্তসমূহ এর একটি পেইজ দেখতে পাবেন। এসব নিয়ম ও শর্তে আপনি যদি রাজি থাকেন তাহলে ” নিয়ম ও শর্তসমূহে সম্মত আছি” বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৭ঃ
এ ধাপ থেকেই শুরু হবে বিকাশের আসল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। এখানে আপনাকে ৩ টি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। এগুলো হলো –
- আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের (NID) সামনের সামনের ও পিছনের অংশের ছবি দিতে হবে।
- আনুষঙ্গিক তথ্যাবলী
- আপনার নিজের সেলফি
ধাপ ৮ঃ
এ ধাপে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের (NID) সামনের অংশ নিচে দেখানো ছবির ফ্রেমের মধ্যে রাখুন এবং ছবি তুলুন। আপনার ছবিটি ক্লিয়ার হয়েছে কিনা তা যাচাই করুন তবে কোন কারণে অস্পষ্ট হলে আবার তুলুন। সামনের অংশের ছবি তুলা হয়ে গেলে সাবমিট করুন।
নোট: ভেরিফিকেশনের জন্য স্পষ্ট ছবি দেওয়া বাঞ্ছনীয়।
ধাপ ৯ঃ
এবার আগের মত করে জাতীয় পরিচয় পত্রের ( NID) পিছনের দিকের ছবি তুলুন। NID কার্ডের পিছনের ছবিটি স্পষ্ট হয়েছে কিনা যাচাই করুন, স্পষ্ট না হলে আবার তুলে সাবমিট করুন।
ধাপ ১০ঃ
NID কার্ডের সামনে ও পিছনের ছবি সাবমিট করা হয়ে গেলে আপনি কিছু তথ্য দেখতে পাবেন। এখানে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী সকল তথ্য নিশ্চিত করুন এবং কোন ভুল থাকলে তা সংশোধন করে “পরবর্তী” তে ক্লিক করুন।
ধাপ ১১ঃ
এ ধাপে আপনার সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য (লিঙ্গ, আয়ের উৎস, আনুমানিক মাসিক আয়,পেশা) চায়বে। এসবের সঠিক তথ্য দিয়ে “পরবর্তী” তে ক্লিক করুন।
ধাপ ১২ঃ
এবার আপনার নিজের ছবি তুলতে হবে। ছবি তুলার জন্য ৩টি নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে। এবার “ছবি তুলুন” এ ক্লিক করুন। ছবি তুলার অপশন আসলে আপনার মুখমণ্ডল ক্যামেরার সামনে নিয়ে এসে ছবি তুলুন।
ধাপ ১৩ঃ
এ ধাপে বিকাশের নিকট সকল তথ্য ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
ধাপ ১৪ঃ
এখন কনফার্মেশন মেসেজের (SMS) জন্য অপেক্ষা করুন। মেসেজ পাওয়ার পর লগইন করলেই হয়ে গেল আপনার বিকাশ একাউন্ট।
তো বন্ধুরা আজ এখানেই শেষ করছি। আমার এ আর্টিকেলটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।
