১৫+ বিজ্ঞানের কিছু বেসিক প্রশ্ন ও তার উত্তর

informationbangla.com default featured image compressed

বিজ্ঞান আমাদের চারপাশের বিশ্বকে বোঝার এবং জীবনকে আরও সহজ ও উন্নত করার চাবিকাঠি। দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন প্রশ্ন, যেমন প্রকৃতির নিয়ম, পদার্থের গঠন, বা শক্তির রূপান্তর, বিজ্ঞানের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এই ব্লগে আমরা বিজ্ঞানের ১৫টিরও বেশি মৌলিক প্রশ্ন ও তাদের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব, যা শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিজ্ঞানে আগ্রহী সকলের জন্য সহজবোধ্য এবং তথ্যবহুল হবে।

🧬 জীব বিজ্ঞান

১. প্রশ্ন: জীবজগৎ কত রাজ্যে বিভক্ত?

উত্তর:
সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াসের (১৭০৭-১৭৭৮) সময় থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত জীবজগৎকে দুটি রাজ্যে শ্রেণীবিন্যাস করা হতো। এগুলো হলো-

  • উদ্ভিদজগৎ
  • প্রাণী জগৎ

বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার ফলে বর্তমান সময়ে কোষের ডিএনএ (DNA) এবং আরএনএ (RNA) এর প্রকারভেদ, জীবদেহে কোষের বৈশিষ্ট্য, কোষের সংখ্যা এবং খাদ্যাভ্যাসের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে ১৯৬৯ সালে আর. এইচ. হুইটেকার (R.H. Whittaker) জীবজগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করার প্রস্তাব করেন।

কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে মারগুলিস (Margulis), হুইটেকারের শ্রেণীবিন্যাসের পরিবর্তিত এবং বিস্তারিত রূপ দেন। মারগুলিস সমস্ত জীবজগতকে দুটি সুপার কিংডম এবং পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেন। আর রাজ্য পাঁচটি এই দুটি সুপার কিংডমের আওতাভুক্ত করেন।

এগুলো হলো-

  • সুপার কিংডম ১: প্রোক্যারিওটা (Prokaryota)
  • সুপার কিংডম ২: ইউক্যারিওটা (Eukaryota)

পাঁচটি রাজ্য হলো-

  • মনেরা (Monera) (রাজ্য-১)
  • প্রোটিস্টা (Protista) (রাজ্য-২)
  • ফানজাই (Fungi) (রাজ্য-৩)
  • প্লান্টি (Plantae) (রাজ্য-৪)
  • অ্যানিমেলিয়া (Animalia) (রাজ্য-৫)

২. প্রশ্ন: সাইটোজেনেটিক্স কী?

উত্তর:
সাইটোজেনেটিক্স হলো জেনেটিক্সের একটি শাখা, যেখানে কোনো কোষের ক্রোমোসোমে (Chromosome) সংখ্যা, কাঠামো এবং কার্যকরী পরিবর্তনগুলোর বিশ্লেষণের সাথে কাজ করা হয়।

সাইটোজেনেটিক অধ্যয়নে ক্রোমোজোমাল সংখ্যা এবং ক্রোমোজোমের কাঠামোর পার্থক্য প্রকাশ করে। তাছাড়া, ক্রোমোজোমাল অসংগতিতে ভ্রূণ নিরাপদ কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য সাধারণত গর্ভাবস্থায় সাইটোজেনেটিক বিশ্লেষণ করা হয়।

সাইটোজেনেটিক স্টাডিজ প্রজনন আলোচনা, রোগ নির্ণয় এবং কিছু রোগের চিকিৎসার জন্য (যেমন: লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা এবং টিউমার) ইত্যাদির জন্য মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে।

প্রধানত ক্যারিয়োটাইপিং (Karyotyping), এফআইএসএইচ (FISH), এসিজিএইচ (aCGH) ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাইটোজেনেটিক্স ব্যবহৃত হয়।

৩. প্রশ্ন: পানিকে ‘ফ্লুইড অফ লাইফ’ বলা হয় কেন?

উত্তর:
পানির অপর নাম জীবন। প্রোটোপ্লাজম জীবদেহের ভৌতভিত্তি। এই প্রোটোপ্লাজমের ৯০ শতাংশই পানি। পানির পরিমাণ কমে গেলে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয়ে মরে যেতে পারে। এ ছাড়া উদ্ভিদের দেহে যত বিপাকীয় বিক্রিয়া চলে, তা পানির অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে পানিকে ‘ফ্লুইড অফ লাইফ’ বলা হয়।

৪. প্রশ্ন: কোষের শক্তিঘর কাকে বলে?

উত্তর:
মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা পাওয়ার হাউজ বলা হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউজ বলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণগুলো হলো-

  • মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের সমস্ত কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
  • মাইটোকন্ড্রিয়া শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম, কো-এনজাইম প্রভৃতি ধারণ করে।
  • মাইটোকন্ড্রিয়া শ্বসনের বিভিন্ন পর্যায় যেমন: ক্রেবিস চক্র (Krebs Cycle), ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট (Electron Transport), অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন (Oxidative Phosphorylation) সম্পন্ন করে।
  • নিজস্ব DNA ও RNA তৈরি করে।
  • স্নেহ বিপাকে (Fat Metabolism) সাহায্য করে।

⚛️ পদার্থ বিজ্ঞান

৫. প্রশ্ন: সকল স্থিতি-ই আপেক্ষিক স্থিতি – সংক্ষিপ্তাকারে ব্যাখ্যা করুন।

উত্তর:
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে যদি কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন না হয়, তবে বস্তুর সেই অবস্থাকে স্থিতি বলে।

সাধারণত কোনো বস্তুর সাপেক্ষে কোনো বস্তুর স্থিতি ও গতি বিবেচনা করা হয়। কিন্তু পৃথিবী, গ্রহ, উপগ্রহ সবসময় গতিশীল। প্রকৃতপক্ষে এই মহাবিশ্বে কোনো স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো পাওয়া অসম্ভব। তাই মহাবিশ্বের যে বস্তুর সাপেক্ষেই স্থিতি ও গতি বিবেচনা করা হোক না কেন, তা কখনোই পরম স্থিতি নয়। এজন্য সকল স্থিতিই আপেক্ষিক স্থিতি

৬. প্রশ্ন: লোহার ল্যাটিন নাম কী?

উত্তর:
লোহার ল্যাটিন নাম হলো Ferrum (ফের্রুম)।

৭. প্রশ্ন: মৌলিক কণিকা কাকে বলে?

উত্তর:
যেসব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত, তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলে।

৮. প্রশ্ন: বায়ুশূন্য স্থানে পাখি উড়তে পারে না কেন?

উত্তর:
পাখি ওড়ে আকাশে। কিন্তু সেখানে বায়ু আছে কি না, তা অনেকেই হয়তো ভেবে দেখেননি। যখন শুনবেন পাখি বায়ুশূন্য স্থানে উড়তে পারে না, তখনই ধারণা করতে পারবেন পাখি যত ওপরে উড়তে পারে, তত দূর নিশ্চয় বায়ু আছে। এখন প্রশ্ন হলো, কেন পাখি বায়ুশূন্য স্থানে উড়তে পারে না?

এটা বোঝার জন্য আগে আপনাকে জানতে হবে পাখি ওড়ে কিভাবে? নিউটন-এর তৃতীয় সূত্রের কথা মনে আছে নিশ্চয়, “প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে।” নিউটনের সূত্রটি কাজে লাগায় পাখিরা। পাখিরা ওড়ার সময় ডানা দিয়ে বাতাসে নিচের দিকে বল প্রয়োগ করে। তখন বাতাসও নিউটনের সূত্রানুযায়ী ওপরের দিকে বল প্রয়োগ করে। ফলে পাখিরা খুব সহজেই বায়ুতে ভাসতে পারে এবং উড়তে পারে। নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন, পাখিরা কিভাবে বায়ুর ওপর ডানায় ভর প্রয়োগ করে ওড়ে। আর তাই বায়ুশূন্য স্থানে পাখিরা উড়তে পারে না।

ঠিক একই রকম বিমান বা হেলিকপ্টারও বায়ুশূন্য স্থানে উড়তে পারবে না। কারণ বিমান ও হেলিকপ্টারও একইভাবে বায়ুর ওপর ঘূর্ণায়মান পাখায় ভর প্রয়োগ করে বাতাসে ভেসে থাকে এবং চলাচল করে। কিন্তু রকেটের ক্ষেত্রে আবার ভিন্ন। কারণ রকেট চলে তার পেছনের একটি চেম্বারে জ্বালানি বিস্ফোরণে সৃষ্ট চাপ বা ধাক্কায়। তাই বিমান বা হেলিকপ্টার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে বের হতে পারে না। কিন্তু রকেট অন্য সৌরজগৎ থেকেও ঘুরে আসতে পারে।

৯. প্রশ্ন: মৌলের প্রতীক বলতে কী বোঝায়?

উত্তর:
কোনো মৌলের পূর্ণ নামের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকে ঐ মৌলের প্রতীক বলে। প্রতীকের মাধ্যমে প্রতিটি মৌলকে আলাদাভাবে প্রকাশ করা যায়। যেমন- H হচ্ছে হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক, O হচ্ছে অক্সিজেন মৌলের প্রতীক, Na হচ্ছে সোডিয়াম মৌলের প্রতীক ইত্যাদি।

১০. প্রশ্ন: পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ কেন?

উত্তর:
একটি পরমাণুতে তিনটি মৌলিক কণিকা বিদ্যমান। এগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। নিউট্রন চার্জ নিরপেক্ষ। প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত এবং ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত।

যেহেতু কেন্দ্রে অবস্থিত ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটনের সমানসংখ্যক ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করে, তাই পরমাণুতে মোট আধান শূন্য হয়। তাই একটি পরমাণু সাধারণ অবস্থায় চার্জ নিরপেক্ষ থাকে।

সামগ্রিকভাবে কোনো মৌল বা পরমাণু চার্জবিহীন। কারণ রাদারফোর্ডের পরমাণুর মডেল থেকে আমরা জানি, কোনো পরমাণুর একটি কেন্দ্রিকা থাকে যাকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। এই নিউক্লিয়াস ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন এবং চার্জ-নিরপেক্ষ নিউট্রন দিয়ে গঠিত। এবার, পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের বাইরে ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন থাকে। তাই, সামগ্রিকভাবে কোনো পরমাণু নিরপেক্ষ।

১১. প্রশ্ন: একজন নৃত্যশিল্পী ঘূর্ণনের সময় দুই হাত গুটিয়ে রাখে কেন?

উত্তর:
একজন নৃত্যশিল্পী নাচার সময় হঠাৎ করে তার ঘূর্ণন বেগ বৃদ্ধির প্রয়োজন হতে পারে। তখন সে দুই হাত গুটিয়ে নেয়। এতে ঘূর্ণন অক্ষের সাপেক্ষে দেহের জড়তার ভ্রামক (Moment of Inertia) কমে যাওয়ায় কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র (Conservation of Angular Momentum) অনুসারে তার দেহের কৌণিক বেগ বৃদ্ধি পায়।

৮. প্রশ্ন: অণু কী?

উত্তর:
কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, যা ঐ পদার্থের গুণাবলি অক্ষুণ্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে, কিন্তু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না, সেই ক্ষুদ্রতম কণাকে অণু (Molecule) বলে।

🧪 রসায়ন বিজ্ঞান

৯. প্রশ্ন: ENP কী? বা ENP বলতে কী বোঝায়?

উত্তর:
ENP এর পূর্ণরূপ হলো Engineered Nanoparticle বা বিশেষভাবে তৈরি ন্যানো পার্টিক্যাল। খাদ্য শিল্পে প্রিজারভেটিভস প্রস্তুতিতে ENP ব্যবহৃত হয়। পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি এবং খাদ্যের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণাগুণ বাড়াতে ENP ন্যানো পার্টিক্যাল ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও চা, চকলেট ইত্যাদির স্বাদ, গন্ধ পরিবর্তনে ENP এর গবেষণা অব্যাহত আছে।

১০. প্রশ্ন: সবল এসিড কাকে বলে?

উত্তর:
যে এসিডে উপস্থিত প্রত্যেকটি হাইড্রোজেন পরমাণু প্রোটন হিসেবে দ্রবণে যায়, তাকে সবল এসিড বলে।

১১. প্রশ্ন: মোলারিটি কাকে বলে?

উত্তর:
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রব্যের মোল সংখ্যাকে দ্রবণের মোলারিটি বলে।

১২. প্রশ্ন: পানিকে সার্বজনীন দ্রাবক বলা হয় কেন?

উত্তর:
পানিতে জৈব এবং অজৈব বিভিন্ন ধরনের যৌগ খুবই সহজেই দ্রবীভূত হয়। উচ্চ দ্বিমেরু ভ্রামক (1.84D), উচ্চ ডাইইলেকট্রিক ধ্রুবক (78.5) এবং আন্তঃআণবিক হাইড্রোজেন বন্ধন গঠনের কারণে তড়িৎযোজী এবং অনেক সমযোজী যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হয়। অর্থাৎ পানিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিভিন্ন প্রকৃতির যৌগ দ্রবীভূত হয়। তাই পানিকে সার্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।

সাধারণত যেসকল পদার্থ অন্য পদার্থকে দ্রবীভূত করতে পারে, তাদেরকে দ্রাবক বলে।

পানি একটি পোলার অণু। অর্থাৎ পানির এক প্রান্তে থাকে পজিটিভ চার্জ এবং অন্য প্রান্তে থাকে নেগেটিভ চার্জ। যেমন: পানির সংকেত H2​O; H+ হচ্ছে পজিটিভ প্রান্ত এবং OH− হচ্ছে নেগেটিভ প্রান্ত। ফলে যেকোনো পদার্থের পজিটিভ প্রান্তের সাথে পানির নেগেটিভ (OH−) এবং পদার্থের নেগেটিভ প্রান্তের সাথে পানির পজিটিভ প্রান্ত (H+) মিলে যৌগ গঠন করে। অর্থাৎ, তখন যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হয়। পানির এই পোলারিটির কারণে অধিকাংশ অজৈব যৌগ-ই পানিতে দ্রবীভূত হয়।

তাছাড়া, যেসকল জৈব যৌগে পোলারিটি রয়েছে, তারাও পানিতে দ্রবীভূত হয়।

অর্থাৎ, পানি জৈব ও অজৈব অধিকাংশ যৌগকেই দ্রবীভূত করতে পারে। এজন্যই পানিকে সার্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।

১৩. প্রশ্ন: টরিসেলির শূন্যস্থান কী?

উত্তর:
টরিসেলির শূন্যস্থান: একমুখ বন্ধ এক মিটার লম্বা একটি পারদপূর্ণ কাচ নলকে পারদপূর্ণ পাত্রে উল্টা করে খাড়াভাবে রাখলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা 76 cm-এ নেমে আসে। কাচ নলের বাকি অংশ অর্থাৎ পারদের উপরি তল হতে কাচ নলের বন্ধ প্রান্ত পর্যন্ত স্থানটুকু শূন্য থাকে। এই শূন্যস্থানকে টরিসেলির শূন্যস্থান বলে।

১৪. প্রশ্ন: জীবাশ্ম জ্বালানি কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর:
বায়ুর অনুপস্থিতিতে উচ্চ চাপ ও তাপে উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ হাজার বছর ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে উদ্ভিদদেহ মাটির নিচে পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। জলাভূমির ক্ষুদ্র প্রাণিসত্ত্বা তেল বা পেট্রোলিয়ামে পরিণত হয়। পেট্রোলিয়ামের ওপর গ্যাসীয় উপাদান হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস জমা হয়।

১৫. প্রশ্ন: OF6 গঠিত হয় না কেন?

উত্তর:
OF6​ গঠন করতে হলে অক্সিজেনের বহিস্থ কক্ষপথের ৬টি ইলেকট্রন ফ্লোরিনকে (F) দান বা শেয়ার করতে হবে। কিন্তু এর জন্য প্রচুর আভ্যন্তরীণ শক্তির প্রয়োজন, যা এরা জোগান দিতে পারে না। তাই OF6​ সম্ভব নয়।

তো আজকের মত এখানেই শেষ করছি। বিজ্ঞানের এই মৌলিক প্রশ্নোত্তরগুলো আমাদের জ্ঞানের দিগন্ত প্রসারিত করে এবং আমাদের চারপাশের জগৎ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে। এই ব্লগে আলোচিত বিষয়গুলো আপনার কৌতূহল মেটাতে এবং বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করেছে বলে আশা করি। বিজ্ঞানের শাখাগুলো অন্বেষণ করে এবং নতুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করে আপনার জ্ঞানের যাত্রা অব্যাহত রাখুন। ‘ইনফরমেশন বাংলা’ এর সাথেই থাকুন।

অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাশি কাকে বলে, স্কেলার রাশি ও ভেক্টর রাশি কাকে বলে

রাশি কাকে বলে? স্কেলার রাশি ও ভেক্টর রাশি কাকে বলে? উভয়ের মধ্য পার্থক্য সমূহ

আলোচ্য বিষয়: (১) রাশি কাকে বলে? বা রাশি কি? (২) স্কেলার রাশি ও ভেক্টর রাশি কাকে বলে? (৩) স্কেলার রাশি ও ভেক্টর রাশির মধ্যে পার্থক্য (৩) সম্পর্কিত আরও কিছু সংজ্ঞা Read
অণুবীক্ষণ যন্ত্র কি অণুবীক্ষণ যন্ত্র কত প্রকার ও কি কি (বিভিন্ন অংশ ও কাজ বর্ণনা)

অণুবীক্ষণ যন্ত্র কি/কাকে বলে? অণুবীক্ষণ যন্ত্র কত প্রকার ও কি কি (বিভিন্ন অংশ ও কাজ বর্ণনা)

আলোচ্য বিষয়: (১) অণুবীক্ষণ যন্ত্র কি/কাকে বলে? (২) আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Light microscope) (৩) ইলেক্ট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Electron microscope) Read
অনুসর্গ কি বা কাকে বলে, অনুসর্গের বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তা

অনুসর্গ কি বা কাকে বলে? অনুসর্গের বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তা

আলোচ্য বিষয়: (১) অনুসর্গ কি বা কাকে বলে? (২) অনুসর্গের বৈশিষ্ট্য (৩) অনুসর্গের প্রয়োজনীয়তা (৪) বাংলা ভাষার কয়েকটি অনুসর্গ Read
অনলাইনে জিআরই (GRE) প্রিপারেশনের জন্য সেরা ১০টি ওয়েবসাইট

অনলাইনে জিআরই (GRE) প্রিপারেশনের জন্য সেরা ১০টি ওয়েবসাইট

কারো জীবনে সবচেয়ে কার্যকর এবং গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হল শিক্ষা। প্রয়োজনের সময়, এটি আপনাকে কেবলমাত্র বৌদ্ধিকভাবেই নয়, আর্থিকভাবেও আপনাকে সাহায্য করে।আপনি যখন ইনঞ্জিনিয়ারিং, ব্যবসা, আইন বা অন্য কোনও গ্রেড স্কুলের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন তখন জিআরই পরীক্ষা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। আপনি কোন স্কুলে ভর্তি হতে চান, তার জন্য কেমন স্কোর প্রয়োজন এগুলো দেখে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। যেহেতু আপনি আপনার পছন্দের স্কুলের জন্য কোন সেকশনে কেমন স্কোর দরকার তা দেখে আবেদন করতে পারবেন, সেহেতু আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া অনেকাংশেই আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। বর্তমানে জিআরই পরীক্ষার আগ্রহীদের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং কোর্স চালু রয়েছে, যেগুলো আপনাকে জিআরই পরীক্ষার ভাল প্রস্তুতি জন্য সার্বিকভাবে সাহায্য করবে। তবে অধিক ওয়েবসাইটের জন্য কোন ওয়েবসাইটটি একজন নতুন আগ্রহীর জন্য ভাল, তা নির্বাচন করতে Read
রাষ্ট্রবিজ্ঞান কাকে বলে

রাষ্ট্রবিজ্ঞান কাকে বলে?

আলোচ্য বিষয়: নিম্নে রাষ্ট্রবিজ্ঞান কাকে বলে, তার সংঙ্গাসমূহ তলে ধরা হলো- Read
Paragraph A Winter Morning in Bangladesh (class 5- 12)

Paragraph: A Winter Morning in Bangladesh

Topic: Paragraph: A Winter Morning in Bangladesh for Class 6, Class 7, Class 8, Class 9, Class 10, SSC, HSC Exams.  Different numbers of word paragraphs about Winter Morning are presented below. Like 50-word, 100-word, 150-word, 200-word, 250-word, 300-word, 350-word etc. From there, you can read whichever is convenient and suitable for you. Let’s begin- Read
পরিবার কাকে বলে, পরিবারের প্রকারভেদ

পরিবার কাকে বলে? পরিবারের প্রকারভেদ

আলোচ্য বিষয়: (১) পরিবার কাকে বলে? (২) পরিবারের প্রকারভেদ Read
সমাজ কাকে বলে

সমাজ কাকে বলে?

আলোচ্য বিষয়: নিম্নে সমাজ কাকে বলে সম্পর্কে বিভিন্ন মনীষীগণের উক্তি ও সংঙ্গাসমূহ তুলে ধরা হলো- Read
টিস্যু কাকে বলে যাবতীয় উদ্ভিদ টিস্যু ও প্রাণিটিস্যুর প্রকারভেদসহ তাদের কাজ

টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্রঃ টিস্যু কাকে বলে? যাবতীয় উদ্ভিদ টিস্যু ও প্রাণিটিস্যুর প্রকারভেদসহ তাদের কাজ ও বিস্তারিতভাবে টিস্যুর শ্রেণীবিভাগ বর্ণনা

আলোচ্য বিষয়: আশা করি এই পোষ্টটি শেষ অবধি মনোযোগের সাথে পড়লে আশা করি আপনার আর টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থাকবে না। (১) টিস্যু ও কোষ (২) উদ্ভিদ টিস্যু (Plant tissue) (৩) প্রাণিটিস্যু (Prani tissue) Read
সন্ধি কাকে বলে, সন্ধি কত প্রকার ও কি কি

সন্ধি কাকে বলে? সন্ধি কত প্রকার ও কি কি?

আলোচ্য বিষয়: (১) সন্ধি কাকে বলে? (২) সন্ধির প্রয়োজনীয়তা (৩) সন্ধির প্রকারভেদ/শ্রেণীবিভাগ Read