বীর্য আটকে রাখার উপায়ঃ আসলেই কি বীর্যকে আটকে রাখা সম্ভব?

প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আসসালামু আলাইকুম। informationbangla.com-এ আপনাকে স্বাগতম!
পুরুষদের ক্ষেত্রে খুবই পরিচিত একটি বিষয় হচ্ছে তাদের বীর্যপাত এবং সিমেন (বীর্য) নিয়ে। তারা অনেক রকমের দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে থাকেন, বিশেষ করে বীর্য নিয়ে তাদের মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে।
আজকে মূলত কথা বলব সেই সকল পুরুষদের নিয়ে যারা এই বীর্যটাকে আটকে রাখার চেষ্টা করেন। অনেকে আছেন যাদের হস্তমৈথুন বা মাস্টারবেশনের একটা অভ্যাস রয়েছে, এবং অতিরিক্ত পরিমাণে রয়েছে। তারা এই অভ্যাস থেকে নিজেকে বিরত রাখতে চান এবং চিন্তা করেন যে ৩০ দিন টানা বীর্যপাত করবেন না। তারা কোনো না কোনোভাবে তাদের বীর্যকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন, অর্থাৎ ৩০ দিনে সিমেনটাকে বাইরে আসতে দেবেন না। তারা চান যে কোনোভাবেই যেন শুক্রাণু বা স্পার্ম বের হয়ে না আসে, এবং সেটা দেহের ভিতরে সুরক্ষিত থাকে।
- আপনি চাইলেই কি টানা ৩০ দিন আপনার বীর্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন?
- হস্তমৈথুন বা মাস্টারবেশন অতিরিক্ত পরিমাণে করা কখনোই ভালো না। এটা আমরা সকলেই বলে থাকি। বরং অতিরিক্ত হলে এটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
- কিন্তু একটা বিষয় হচ্ছে যে আপনি চাইলেই ৩০ দিন টানা আপনার বীর্যকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন না।
ধরুন আপনি হস্তমৈথুন করছেন না, কিংবা শারীরিকভাবে মেলামেশা করছেন না (সহবাসে যাচ্ছেন না)। তারপরও আপনার বীর্যপাত হতে পারে। সেটা হচ্ছে মূলত স্বপ্নদোষ।
- পুরুষদের শরীরে স্বাভাবিকভাবে নিজে থেকেই সিমেন তৈরি হতে থাকে। বীর্য তৈরি হতে থাকে।
- একটা পর্যায়ে গিয়ে যখন এটার ধারণ ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়, তখন এটা নিজে থেকেই বের হয়ে আসে। সেটাকে আমরা স্বপ্নদোষ বলে থাকি।
- বীর্যটা যেহেতু একটা নির্দিষ্ট জায়গায় থাকে এবং সেটার ধারণ ক্ষমতা নির্দিষ্ট পরিমাণে রয়েছে, যখন সেটা পার হয়ে যায় তখনই বীর্যটা বের হয়ে আসছে।
- তাহলে আপনি নিজে থেকে বীর্য বের করছেন না, সহবাসে যাচ্ছেন না কিংবা হস্তমৈথুন করছেন না, কিন্তু তারপরও আপনার বীর্যপাত হয়ে যাচ্ছে।
- অর্থাৎ, আপনি চাইলেই ৩০ দিন টানা বীর্যপাতকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।
যারা অতিরিক্ত হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত, তাদের ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে যে কখনো এভাবে চিন্তা করবেন না যে আজকে থেকে (যেমন জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে) আপনি একেবারে হস্তমৈথুন করবেন না।
- এভাবে চিন্তা করা একদিক থেকে ভালো। আপনার মনোবল অনেক ভালো, মানসিক শক্তি ভালো, আপনি অনেক বেশি দৃঢ় মনোবলের অধিকারী।
- কিন্তু বাস্তবে আপনি যখন একটা অভ্যাসকে হঠাৎ করে বন্ধ করার চেষ্টা করেন, তখন উইথড্রল সিনড্রোম দেখা যাবে।
উইথড্রল সিমটমের উদাহরণ হলো-
- কোনো কিছু ভালো লাগছে না।
- অনেক রাগ লাগছে।
- বিরক্ত লাগছে।
- অসুস্থ লাগছে।
- আপনি কোনো কাজে মন দিতে পারছেন না।
- কী জানি একটা নাই নাই মনে হচ্ছে।
- এরকম বেশ কিছু ধরনের সমস্যা দেখা যাবে।
এই উইথড্রল সিমটমটা যেন না হয়ে থাকে, সেজন্য সবসময় বলা হয়ে থাকে যে অতিরিক্ত হস্তমৈথুনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যাচ্ছেন তখন আপনাকে একটু বুদ্ধি করে, টেকনিক্যালি চলতে হবে।
সঠিক পদ্ধতি হলো ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ করা।
একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনি চেষ্টা করুন সেটাকে স্টেপ বাই স্টেপ করার।
- স্টেপ বাই স্টেপ বলতে: খুব তাড়াহুড়া না, ধীরে ধীরে কয়েকটা ধাপে আপনি এটাকে ভাগ করে নিন এবং তারপরে সেই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করার চেষ্টা করুন।
- যেমন, আপনি যখন একবারে উইথড্রল করতে চাচ্ছেন, তখন সেটা আবার রিলাপস হবে (পুনরায় একই জিনিস হচ্ছে, পুনরাবৃত্তি ঘটে)।
- যেমন: অনেকে মনে করে যে নো নট নভেম্বর বা নো ফ্যাব্রুয়ারি এই জাতীয় জিনিসগুলো। তাদের মধ্যে দেখা,যাচ্ছে রিলাপস হয়ে থাকে।
- হয়তোবা তিন-চারদিন ভালো থাকছেন, একদমই হস্তমৈথুন অভ্যস্ত হচ্ছেন না।
- চারদিন পরে তিনি আবার হচ্ছে, ওই চার দিনে যতটুকু না করতেন তার চেয়ে আরো বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।
পরিশেষে, বীর্যপাত একটা স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, এবং এটাকে জোর করে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন না। অতিরিক্ত হস্তমৈথুন থেকে বিরত হওয়া ভালো, কিন্তু সেটা করুন বুদ্ধিমত্তার সাথে—স্টেপ বাই স্টেপ। যদি আরও সমস্যা থাকে, তাহলে একজন সেক্সুয়াল হেলথ এক্সপার্টের সাথে কথা বলুন।
আপনার স্বাস্থ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! যদি এই পোস্ট ভালো লাগে, তাহলে পোষ্টাটকে শেয়ার করুন এবং কমেন্টে আপনার মতামত জানান। ধন্যবাদ!
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।





