বীর্য বাহির হয় না বা রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন কী? বীর্য বাহির না হবার কারণসমূহ

আসসালামু আলাইকুম!
পুরুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন (অর্থাৎ বীর্য বাহির হয় না)। এই সমস্যাটি খুবই কম সংখ্যক পুরুষের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়, তবে এটি একটি জটিল সমস্যা নয়—অনেকে মনে করেন কিন্তু এটা অনেক জটিল নয়।
রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন কী?
- রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন বলতে বুঝায় যে আপনার বীর্যটা বাহির না হয়ে ইউরিনারি ব্লাডারে যায়।
- ইউরিনারি ব্লাডারে সাধারণত মূত্র থাকে।
- আমাদের প্রসাবের নালি থেকে একই নালি দিয়ে শুক্রাণু এবং ইউরিন বের হয়।
- এই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে প্রস্টেট গ্ল্যান্ড।
- প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের মাঝপথে একটা নালী রয়েছে, যেখান থেকে শুক্রাণু এবং ইউরিন বের হয়।
- ইউরিন জমা থাকে প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের উপরে ইউরিনারি ব্লাডারে।
- যখন প্রসাবের চাপ আসে, প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের উপরে এবং নিচে স্ফিঙ্কটার (স্প্রিংটার) রিলাক্স করে, তখন প্রসাব বের হয়।
- শুক্রাণু বের হওয়ার সময়ও একইভাবে স্ফিঙ্কটার রিলাক্স করে।
- এই একই জায়গা থেকে দুটি ফাংশন হয়: প্রসাবের কার্যক্রম এবং শুক্রাণুর কার্যক্রম।
- যদি স্ফিঙ্কটারে সমস্যা হয় বা প্রস্টেট গ্ল্যান্ড ইনলার্জ হয় বা সার্জারি হয়, তাহলে শুক্রাণু নিচের দিকে না বের হয়ে উল্টো দিকে ইউরিনারি ব্লাডারে চলে যায়।
- এটাকে বলা হয় রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন বা ঊর্ধ্মুখী বীর্যপাত।
বীর্য বাহির না হবার কারণসমূহঃ
রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন হবার অনেকগুলো কারণে হতে পারে। নিচে মূল কারণগুলো তালিকাভুক্ত করা হলো-
- প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের অস্বাভাবিকতা: ইনলার্জ হলে বা সার্জারি হলে।
- স্ফিঙ্কটারে সমস্যা: এখানে কোনো ধরনের সমস্যা হলে।
- ইজাকুলেশন ডাক্টের অবস্ট্রাকশন: ভাস ডিফারেন্স বা সেমিনাল ভেসিকেলে আটকে গেলে শুক্রাণু বাহির হতে পারে না।
- নিউরোলজিক্যাল সমস্যা: ডিপ্রেশন বা অন্যান্য নিউরোলজিক্যাল সমস্যা। স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি—এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়।
- মেডিসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: প্রস্টেট গ্ল্যান্ড ইনলার্জের মেডিসিন। ব্লাড প্রেসারের মেডিসিন। এন্টি-ডিপ্রেশন এবং এংজাইটির মেডিসিন। (সবার ক্ষেত্রে হয় না, কিন্তু হতে পারে।)
লক্ষণ এবং ডায়াগনোসিসঃ
রোগীর হিস্ট্রি নেয়া হয়: ইজাকুলেশন আগে হতো কি না?
- কিছু রোগী বলে: কখনোই ইজাকুলেশন হয়নি (ছোটবেলা থেকে)।
- অন্যরা বলে: আগে ঠিক ছিল (হস্তমৈথুন বা স্ত্রী সহবাসে হতো), কিন্তু এখন হচ্ছে না।
একেকজনের একেক কারণে হয়, তাই কারণ ফাইন্ড আউট করে চিকিৎসা করা হয়।
তাই সিমটমস এবং হিস্ট্রি নিয়ে ডায়াগনোসিস করা হয়।
চিকিৎসাঃ
- হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন: উইদাউট এনি অপারেশন ছাড়াই চিকিৎসা করা যায়।
- পর্যাপ্ত ভালো চিকিৎসা রয়েছে।
প্রিয় দর্শক, এটুকুই ছিল এই পর্বের আলোচনা। আপনারা ভালো থাকবেন।
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।





