ভেড়ার প্রজনন, গর্ভকালীন সময় ও নবজাত বাচ্চার পরিচর্যা

এখানে ভেড়ীর প্রজনন, গর্ভকালীন সময় ও নবজাত বাচ্চার পরিচর্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
(১) ভেড়ী প্রজনন ও গর্ভবতী ভেড়ীর পরিচর্যা
ভেড়ী গরম হওয়ার লক্ষণ:
- ভেড়ী গরম হলে সোজাভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, লেজ বাঁকিয়ে রাখে এবং ঘন ঘন লেজ নাড়ে।
- ভেড়ীর যোনিদ্বার দিয়ে সাদাটে মিউকাস বের হয়।
- ভেড়ীর খাওয়া-দাওয়া কমে যায়, ডাকা-ডাকি করে।
- অন্যান্য প্রজাতির যেমন ছাগল/গাভী/মহিষ গরম হলে অন্য ছাগল/গাভী/মহিষের উপর লাফ দেয়, ভেড়ীর ক্ষেত্রে এ ধরনের স্বভাব সাধারণত দেখা যায় না।
- ভেড়ী গরম থাকার সময় ২০-৩৬ ঘণ্টা। উক্ত সময়ের মধ্যে ভেড়ীকে পাল না দিলে ভেড়ী বারবার গরম হতে পারে।
ভেড়ী প্রজননের নিয়ম-কানুন:
- সাধারণত আমাদের দেশী জাতের ভেড়ী ১২-১৫ মাসে প্রথম বাচ্চা দেয় এবং প্রতিবারে ২-৩টি বাচ্চা দেয় এবং বছরে দু’বার বাচ্চা দেয়।
- অনেক সময় প্রসব পরবর্তী ২-৩ মাস প্রজনন করা হয় না, সেক্ষেত্রে প্রসব বিরতিকাল ৭-৮ মাস পর্যন্ত হয়ে যায়।
- সংকর জাতের ভেড়ী প্রতিবারে ১-২টি বাচ্চা দেয় (দেশী জাতের ভেড়ার সঙ্গে সাধারণত পার্শ্ববর্তী দেশের ভেড়ার সংকরায়ন করা হয়)।
- সংকর জাতের ভেড়ী প্রজনন রোগে বেশি আক্রান্ত হয় এবং এদের পুনঃপ্রজনন ও গর্ভপাতের (abortion) হার বেশি হয়।
- সাধারণত পালের ভেড়া দিয়েই ভেড়ীকে পাল দেওয়া হয়, ফলে খামারে আন্তঃপ্রজনন (inbreeding) জনিত সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।
- প্রজননের সময় কম বয়সের পাঠীকে কম বয়সের পাঠার সাথে পাল দেওয়া যাবে না। যদি পাল দেওয়া হয় তাহলে এ ধরনের ভেড়ীর বাচ্চার মৃত্যুর হার বেশি হয়।
গর্ভবতী ভেড়ীর পরিচর্যা:
- প্রজননের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য প্রয়োজন, বিশেষ করে গর্ভধারণের শেষ দু’মাসে যখন গর্ভস্থ বাচ্চা দ্রুত বৃদ্ধি পায় তখন গর্ভবতী মায়ের প্রচুর পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
- গর্ভবতী ভেড়ীর দানাদার মোট খাদ্যকে সমান দুই ভাগ করে সকালে ও বিকালে সরবরাহ করতে হবে।
- গর্ভবতী ভেড়ীর খাদ্যে হঠাৎ পরিবর্তন আনা যাবে না, যেমন গর্ভবতী ভেড়ী কাঁচা ঘাসে অভ্যস্ত থাকলে তাকে হঠাৎ ইউ.এম.এস দেওয়া ঠিক হবে না।
- সময়মত ফুল (placenta) পড়লে তা সাথে সাথে সরিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
(২) নবজাত ভেড়ীর বাচ্চার পরিচর্যা
- প্রসবের পর পরই নবজাত বাচ্চার মুখমণ্ডল থেকে পিচ্ছিল জাতীয় পদার্থ বা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।
- পায়ের খুর ও নাভি কাটার পর সেখানে জীবাণুনাশক ওষুধ দিয়ে মুছে দিতে হবে।
- বাচ্চাকে মায়ের সামনে রাখতে হবে, যাতে মা সহজে বাচ্চাকে চেটে পরিষ্কার রাখতে পারে।
- ভেড়ীর নবজাত বাচ্চাকে দ্রুত (জন্মানোর আধা ঘণ্টার মধ্যে) শাল দুধ খাওয়াতে হবে।
- ভেড়ীর বাচ্চা ঠান্ডায় কাতর হয়, সেজন্য বাচ্চার শীত নিবারণের ব্যবস্থা করতে হবে।
- বাচ্চা প্রসবের পর ছাগল/ভেড়ীকে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম চিটাগুড় এবং ২ গ্রাম লবণ মিশ্রিত পানি ২-৩ লিটার পর্যন্ত পান করালে প্রসবের ধকল কমে আসে।
- এ সময়ে প্রসবকৃত ভেড়ীকে টাটকা জাউভাতসহ ভালো ঘাস সরবরাহ করতে হবে।
- বর্ষাকালে ভেড়ার বাচ্চার মৃত্যুর হার বেশি, তাই বর্ষাকালে বাচ্চা ভেড়ার বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
[তথ্যসূত্র: সিআইজি রিফ্রেসার ট্রেনিং (ভেড়া পালন সিআইজি), ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।]









