ভেড়া ও গাড়ল পালন সম্পর্কে কিছু প্রশ্নের উত্তর

ভেড়া ও গাড়ল পালন বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে, যা কম খরচে উচ্চ লাভের সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। এই প্রাণীগুলোর সহজ পালন পদ্ধতি, কম রোগব্যাধি এবং মাংসের উচ্চ চাহিদার কারণে অনেক উদ্যোক্তা এই খাতে আগ্রহী হচ্ছেন। এই ব্লগে আমরা ভেড়া ও গাড়ল পালন সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব-
১. প্রশ্ন: বৃষ্টির মৌসুমে গাড়লকে কি খাওয়াবো? ঘাস চাষ করার কোন ব্যবস্থা নাই, কারণ চার মাস জমি থাকে পানির নিচে। দয়া করে পরামর্শ দিবেন।
উত্তর:
বর্ষার আগে ঘাস চাষ করে সাইলেজ করে রাখতে হবে। সাইলেজের কোন বিকল্প নেই। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র খাওয়াতে পারেন।
২. প্রশ্ন: বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত? কিভাবে ভেড়ার বাচ্চা সংগ্রহ করা যাবে?
উত্তর:
প্রাণী সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট সাভারে অবস্থিত। সেখান থেকে শুধু পরামর্শ পাবেন। যে স্টকের কথা তারা বলে, প্রকৃত অর্থে সেখান থেকে সেরকম কোনো সুযোগ পাওয়া অনেক জটিল। তবে আপনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
বাংলাদেশের মেহেরপুর অঞ্চল, কুষ্টিয়া জেলা, এছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবন অঞ্চলে উন্নত জাতের গাড়ল ভেড়া পাওয়া যায়। বর্তমানে কিছু কিছু ফার্মে ডরপার ভেড়া পালন করতে দেখা যায়, তাদের কাছ থেকেও সংগ্রহ করতে পারেন।
৩. প্রশ্ন: গাড়লের বাচ্চার ক্ষেত্রে কত মাস বয়সে কৃমিনাষক প্রয়োগ করা যায় এবং কিভাবে?
উত্তর:
বাচ্চার বয়স ২১ দিন পূর্ণ হলে প্রথম কৃমি নাশক দিতে হবে। এবং প্রতি তিন মাস অন্তর কৃমি নাশক প্রয়োগ করতে হয়।
৪. প্রশ্ন: ভালো মানের গাড়ল কোথায় কিনতে পাওয়া যাবে?
উত্তর:
মেহেরপুর জেলায় পাবেন এছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবন অঞ্চলে পাওয়া যায়।
৫. প্রশ্ন: গাড়ল বছরে বাচ্চা কতবার দেয়?
উত্তর:
১৬ মাসে ২ বার বাচ্চা পাবেন। ব্লাড লাইন ভালো হলে গড়ে তিনটি। আমাদের দেশি ভেড়ার ব্লাড লাইন বেশি থাকলে চারটি করে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনার পাঁঠার উপর নির্ভর করবে।
১৬ মাসে ২ বার। ৬০% ক্ষেত্রে ১টি, ৪০% ক্ষেত্রে ২টি।
সাধারণভাবে আমরা গাড়ল বলতে যে পশুর সাথে পরিচিত, প্রকৃত অর্থে তার নাম গাড়ল নয়। নামকরণ করা হয়েছে গাড়ল। মূলত এই জাতটি ভারতীয় নাগপুরি ভেড়ার সাথে আমাদের দেশি ভেড়ার ক্রস। কখনো আবার ১৮ মাসে ২ বার বাচ্চা দেয়। পূর্ণবয়স্ক একটা গাড়ল ২৫-৩০ কেজি হয়।
৬. প্রশ্ন: গাড়লের ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খাসিয়া করার প্রয়োজন আছে কি?
উত্তর:
হ্যাঁ। খাসি করে দিলে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পায়। যত অল্প বয়সে খাসি করবেন তত ভালো। জন্মের তিন সপ্তাহে খাসি করলে উত্তম ফল পাওয়া যায়। খাসি করার পর সারা বছর শুধুমাত্র ইএমএস স্ট্র খাওয়াবেন আর কিছু না। শুধুমাত্র বিক্রির তিন মাস আগে দানাদার খাওয়াবেন। দেখার মতো খাসি হবে। বিক্রি করে লাভবানও হবেন।
৭. প্রশ্ন: উন্নত জাতের ভেড়া নাম জানতে চাই?
উত্তর:
বাংলাদেশে ভেড়া পালন জনপ্রিয় নয়। তাই বাংলাদেশে আপনি উন্নত জাতের ভেড়া পাবেন না।
১. উন্নত জাতের ভেড়ার মাঝে আপনি ডরপার ভেড়া পেতে পারেন।
- ডরপার ভেড়া, পৃথিবীর সবচেয়ে বাড়ন্ত জাত, পুরুষ ডরপার ১১৫-১৩৫ কেজি হয়। মহিলা ডরপার ৮০-১০৫ কেজি হয়। জন্মকালীন ওজন ৪-৬ কেজি হয়, সাধারণত বছরে ২টা বাচ্চা হয়।
২. ভারতীয় বড় জাতের ভেড়ার সাথে দেশীয় ভেড়ার ক্রস করে উন্নত জাতের ভেড়ার বাচ্চা উৎপাদন করা হয়, স্থানীয় নাম গাড়ল। - যা জাতের ভেড়া দেশীয় ভেড়ার চেয়ে আকারে বড় এবং মাংস দ্বিগুণ হয়।
পরিশেষে বলব, ভেড়া ও গাড়ল পালন শুধু অর্থনৈতিকভাবে লাভজনকই নয়, এটি গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক জ্ঞান, পরিকল্পনা এবং যত্নের মাধ্যমে এই পেশা বেকারত্ব কমিয়ে স্বাবলম্বী জীবন গড়তে সহায়ক হতে পারে। আশা করি, এই ব্লগে আলোচিত প্রশ্নোত্তরগুলো আপনার খামার শুরু বা পরিচালনায় সঠিক পথ দেখাবে এবং এই লাভজনক উদ্যোগে আপনাকে উৎসাহিত করবে।



