মোলারিটি কাকে বলে? মোলালিটি কি? উদাহরণ দাও

মোলারিটি কাকে বলে, মোলালিটি কি, উদাহরণ দাও

(১) মোলারিটি কাকে বলে?

মোলারিটি: কোন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যা বা গ্রাম আণবিক ভর সংখ্যাকে ঐ দ্রবণের মোলারিটি বলে।

এক কথায় বলা যায় যে, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রব্যের মোল সংখ্যাকে ঐ দ্রবণের মোলারিটি বলা হয়।

মোলারিটিকে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

(২) মোলারিটির বৈশিষ্ট্য

মোলারিটির বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে-

  • মোলারিটি হলো দ্রবণের ঘনত্ব যার দ্বারা প্রতি লিটার দ্রবণের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়।
  • এটি তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
  • একে M দ্বারা চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
  • এটি দ্রবণের আয়তন এবং দ্রবের মোল সংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
  • তাপমাত্রার পরিবর্তনে দ্রবের মোল সংখ্যার পরিবর্তন না

(৩) মোলারিটির উদাহরণ

প্রশ্নঃ ২৫০ ml দ্রবণে 20g Na2CO3 থাকলে Na2CO3 দ্রবণের মোলারিটি কত?

সমাধানঃ 

Na2CO3 এর আণবিক ভর ২৩ × ২ + ১২ + ১৬ × ৩ = ১০৬

১ লিটারে ১ মোলারিটির জন্য প্রয়োজন ১০৬ গ্রাম

২৫০ ml দ্রবণে ১ মোলারিটির জন্য প্রয়োজন (১০৬ × ২৫০) ÷ ১০০০ = ২৬.৫ গ্রাম

২৫০ ml দ্রবণে ২৬.৫ গ্রাম Na2CO3 থাকলে মোলারিটি হয় ১ মোলার

২৫০ ml দ্রবণে ১ গ্রাম Na2CO3 থাকলে মোলারিটি হয় (১ ÷ ২৬.৫) মোলার

২৫০ ml দ্রবণে ২০ গ্রাম Na2CO3 থাকলে মোলারিটি হয় (১ × ২০) ÷ ২৬.৫ = ০.৭৫ মোলার

সুতরাং বলা যায়, ২৫০ ml দ্রবণে ২০ গ্রাম Na2CO3 থাকলে Na2CO3 দ্রবণের মোলারিটি হলো ০.৭৫ মোলার।

সূত্রের মাধ্যমে বিকল্প সমাধানঃ

আমরা জানি,

w = (S × V × M) ÷ ১

এখানে,

w = গ্রাম এককে দ্রবের ভর

S = দ্রবণের মোলারিটি

V = মিলিলিটার এককে দ্রবণের আয়তন

M = দ্রবের আনবিক ভর

এই সূত্রটি ব্যবহার করে আপনি দ্রবণের মোলারিটি, দ্রবের ভর, দ্রবণের আয়তন বা দ্রবের আনবিক ভর বের করতে পারবেন।

উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার কাছে নিম্নলিখিত তথ্য থাকে-

  • দ্রবের ভর (w) = ৪৫ গ্রাম
  • দ্রবণের আয়তন (V) = ৪০০ মিলিলিটার
  • দ্রবের আনবিক ভর (M) = ১৫০ গ্রাম/মোল

তাহলে আপনি মোলারিটি (S) বের করতে পারেন।

S = (w × ১০০০) ÷ (V × M)

বা, S = (৪৫ গ্রাম × ১০০০) ÷ (৪০০ মিলিলিটার × ১৫০ গ্রাম/মোল)

বা, S = ০.৭৫ মোলার

এইভাবে, আপনি এই সূত্রটি ব্যবহার করে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রবণের মোলারিটি হিসাব করতে পারবেন।

আরও উদাহরণঃ

যেমন- 1 লিটার Na2CO3 দ্রবণে 106g Na2CO3 দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণের মোলারিটি হবে 1M (M= মোল) বা 1 mol/L.

আবার মনে করেন, ১ মোল = ৫৮.৫ গ্রাম। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১ লিটার দ্রবণের মাঝে যদি ১ মোল NaCl বা ৫৮.৫ গ্রাম NaCl দ্রবীভূত থাকে তাহলে ঐ দ্রবণটির মোলারিটি হলো ১।

(৪) মোলালিটি কাকে বলে?

মোলালিটি: কোন দ্রবণের প্রতি এক কিলোগ্রাম দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রবের মোলসংখ্যা বা গ্রাম আণবিক ভরসংখ্যাকে ঐ দ্রবণে দ্রবের মোলালিটি বলে। 

(৫) মোলারিটি ও মোলালিটির মধ্যে কোনটি তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল এবং কেন?

মোলারিটি মূলত দ্রবণের আয়তন এবং দ্রবের মোল সংখ্যার সাথে সম্পর্কিত। সাধারণত তাপমাত্রার পরিবর্তনে দ্রবের মোল সংখ্যার কোন পরিবর্তন না হলেও দ্রবণের আয়তনের পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাই দ্রবণের মোলারিটি তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, মোলালিটি দ্রাবকের ওজন এবং দ্রবের মোল সংখ্যার সাথে সম্পর্কিত। তাপমাত্রার পরিবর্তনে দ্রাবকের ওজন এবং দ্রবের মোল সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না। তাই দ্রবণের মোলালিটি তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল নয়।


তো আজ এপর্যন্তই থাকলো। আশা করি মোলারিটি কাকে বলে? মোলালিটি কি? উদাহরণ সহ অল্প কিছু হলেও ধারণা দিতে পেরেছি। আর্টিকেলটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পরিবার কাকে বলে, পরিবারের প্রকারভেদ

পরিবার কাকে বলে? পরিবারের প্রকারভেদ

আলোচ্য বিষয়: (১) পরিবার কাকে বলে? (২) পরিবারের প্রকারভেদ Read
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কি/কাকে বলে? জিএমও (GMO) বা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রস্তুত করার ধাপসমূহ, রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমূহ।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কি বা কাকে বলে? জিএমও (GMO) বা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রস্তুত করার ধাপসমূহ, রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমূহ

আলোচ্য বিষয়: (১) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic engineering) কি/কাকে বলে? (২) জিএমও (GMO) বা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রস্তুত করার ধাপসমূহ (৩) রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি (৪) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহার Read
informationbangla.com default featured image compressed

সোনাঃ সোনার বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহার

আলোচ্য বিষয়: (১) যেখানে সোনার সন্ধান পাওয়া যায় (২) সোনার বৈশিষ্ট্য (৩) সোনার ব্যবহার Read
informationbangla.com default featured image compressed

বিজ্ঞাপন কি? বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য, প্রকারভেদ এবং গুরুত্ব

আলোচ্য বিষয়: (১) বিজ্ঞাপন কি? (২) বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য কি? (৩) বিজ্ঞাপনের প্রকারভেদ (৪) বিজ্ঞাপন প্রচারের লাভ ও সুবিধা Read
সাইন্স বা বিজ্ঞান কাকে বলে, বিজ্ঞানের শাখা

সাইন্স/বিজ্ঞান কাকে বলে? বিজ্ঞানের শাখা

আলোচ্য বিষয়: (১) সাইন্স/বিজ্ঞান কাকে বলে? (২) বিজ্ঞানের শাখা Read
বীজগাণিতিক সূত্রাবলী, বর্গের সূত্র, ত্রিপদী রাশির সূত্রঘনের সূত্র,

বীজগাণিতিক সূত্রাবলী

আলোচ্য বিষয়: (১) বীজগাণিতিক বর্গের সূত্র (২) বীজগাণিতিক ঘনের সূত্র (৩) আরো কিছু বীজগাণিতিক ত্রিপদী রাশির সূত্র Read
ভগ্নাংশ কাকে বলে

ভগ্নাংশ কাকে বলে?

আলোচ্য বিষয়: (১) ভগ্নাংশ কাকে বলে? (২) ভগ্নাংশ কত প্রকার? (৩) ভগ্নাংশ কাকে বলে সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য (৪) ভগ্নাংশ সম্পর্কিত প্রায় জিজ্ঞাত প্রশ্ন Read
উদ্ভিদ কাকে বলে, উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস বা প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

উদ্ভিদ কাকে বলে? উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস বা প্রকারভেদ

আলোচ্য বিষয়: (১) উদ্ভিদ কাকে বলে? (২) উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য (৩) উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস বা প্রকারভেদ ক) অপুষ্পক উদ্ভিদ কাকে বলে? খ) সপুষ্পক উদ্ভিদ কাকে বলে? ক) একবীজপত্রী উদ্ভিদ কাকে বলে? খ) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ কাকে বলে? i) গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ কাকে বলে? ও এদের বৈশিষ্ট্য ii) বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ কাকে বলে? ও এদের বৈশিষ্ট্য iii) বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ কাকে বলে? ও এদের বৈশিষ্ট্য (১১) পুষ্টি অনুসারে উদ্ভিদ জগতের শ্রেণিবিন্যাস (১২) উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা Read
শ্বসনতন্ত্র কিকাকে বলে,কাজ, শ্বাসক্রিয়া কিকাকে বলেবলতে কি বুঝায় শ্বাসক্রিয়া পদ্ধতি।

শ্বসনতন্ত্র কি বা কাকে বলে? শ্বসনতন্ত্রের কাজ ও সম্পৃক্ত অঙ্গ সমূহ এবং শ্বাসক্রিয়া ও শ্বাসক্রিয়ার পদ্ধতি

আলোচ্য বিষয়: (১) শ্বসনতন্ত্র ও শ্বাসক্রিয়া কি/কাকে বলে/বলতে কি বুঝায়? (২) শ্বসনতন্ত্রের কাজ (Respriratory system) ও সম্পৃক্ত অঙ্গ সমূহ (৩) শ্বাসক্রিয়া পদ্ধতি Read
সেট কাকে বলে, সেট কত প্রকার ও কি কি

সেট কাকে বলে? সেট কত প্রকার ও কি কি?

আলোচ্য বিষয়: (১) সেট কাকে বলে? (২) সেট প্রকাশের পদ্ধতি (৩) সেট কত প্রকার? Read