৪৫+ সাধারন ইলেকট্রিক্যাল প্রশ্নের উত্তর

৪৫+ সাধারন ইলেকট্রিক্যাল প্রশ্নের উত্তর

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এর মৌলিক ধারণাগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। বিদ্যুৎ, সার্কিট, ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষার্থী, টেকনিশিয়ান এবং সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগে। এই ব্লগে আমরা ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ের উপর ৪৫টিরও বেশি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব, যা শিক্ষানবিস থেকে পেশাদার সকলের জন্য সহজবোধ্য এবং ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করবে। এই প্রশ্নোত্তরগুলো আপনার ইলেকট্রিক্যাল জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

১. প্রশ্ন: একটি ডিসি জেনারেটর পূর্ণ স্পিডে ঘুরছে, কিন্তু কোন ভোল্টেজ উৎপন্ন হচ্ছে না – কারণ কি?

উত্তর:
একটি ডিসি জেনারেটর পূর্ণ গতিতে ঘোরার পরেও ভোল্টেজ উৎপন্ন না হওয়ার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর প্রধান কারণগুলো হলো: ফিল্ডে রেসিডুয়াল ম্যাগনেটিজমের অভাব, ফিল্ড বা আর্মেচার কয়েলে ওপেন সার্কিট, কার্বন ব্রাশের কম্যুটেটরের সাথে সংযোগ না থাকা, অথবা জেনারেটরের ভুল দিকে ঘোরা। এই সমস্যাগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ভোল্টেজ উৎপাদন শুরু হতে পারে।

২. প্রশ্ন: মোবাইল ফোনে ভাইব্রেশন কিভাবে কাজ করে?

মোবাইল-ফোনে-ভাইব্রেশন-কিভাবে-কাজ-করে

উত্তর:
মোবাইল ফোনের ভাইব্রেশন একটি সাধারণ ফিচার হলেও এর প্রযুক্তিগত দিকটি বেশ চমকপ্রদ। ফোন ভাইব্রেট করার সময় একটি ছোট মোটর কম্পন সৃষ্টি করে, যা সাধারণত দুই ধরনের হয়: Eccentric Rotating Motor (ERM) এবং Linear Resonant Actuator (LRA)

কল, নোটিফিকেশন বা স্ক্রিন টাচের মতো ইভেন্টে হার্ডওয়্যার থেকে বৈদ্যুতিক সংকেত মাইক্রোপ্রসেসরে পৌঁছায়। মাইক্রোপ্রসেসর পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী ভাইব্রেশনের ধরন নির্ধারণ করে এবং মোটরকে সেই অনুযায়ী সিগনাল পাঠায়, ফলে আমরা বিভিন্ন ধরনের কম্পন অনুভব করি।

বর্তমানে ভাইব্রেশন মোটরের ফ্রিকোয়েন্সি সাধারণত ১৬০–১৮০ হার্জ এর মধ্যে থাকে। যদিও এটি নিরাপদ মনে হয়, কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে অতিরিক্ত বা দীর্ঘমেয়াদি ভাইব্রেশন মাথাব্যথা, পেটের সমস্যা, ভারসাম্যহীনতা এমনকি স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্মার্টফোন ব্যবহারে সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩. প্রশ্ন: ফ্যান আস্তে ঘুরলে যে বিল আসে, জোরে ঘুরলেও কি সেই একই বিল আসে!?

উত্তর:
ফ্যান আস্তে ঘুরলে বা জোরে ঘুরলে বিদ্যুৎ বিলের তারতম্য নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের রেগুলেটর ব্যবহার করছেন তার উপর। যদি আপনি ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহার করেন, তাহলে ফ্যান আস্তে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ কম হবে এবং জোরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ বেশি হবে, ফলে বিলও কম-বেশি হবে। তবে, যদি আপনি রেজিস্টর টাইপ রেগুলেটর ব্যবহার করেন, তাহলে ফ্যান আস্তে ঘুরলেও বিদ্যুৎ বিল সর্বদা একই থাকবে, কারণ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রেগুলেটর নিজেই তাপ হিসেবে নষ্ট করে।

৪. প্রশ্ন: AC মোটর কি এবং মোটরের কি কি অংশ থাকে?

উত্তর:
মোটর হলো এমন একটি যন্ত্র যা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। যখন একটি মোটর AC কারেন্ট (অল্টারনেটিং কারেন্ট) দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন তাকে AC মোটর বলে।

AC মোটর প্রধানত দুই প্রকারের হয়-
সিনক্রোনাস মোটর এবং ইন্ডাকশন মোটর

ইন্ডাকশন মোটর আবার দুই প্রকারের হতে পারে-
স্কুইরেল কেজ ইন্ডাকশন মোটর এবং স্লিপ-রিং ইন্ডাকশন মোটর

একটি সাধারণ ইন্ডাকশন মোটরের প্রধান অংশগুলো হলো-
১. স্ট্যাটর, ২. রোটর, ৩. বিয়ারিং, ৪. কুলিং ফ্যান, ৫. ইয়োক, ৬. টার্মিনাল বক্স, ৭. নেম প্লেট, ৮. এন্ড কভার, ৯. বেড প্লেট, ১০. শ্যাফট, ১১. প্রিলোডিং রিং, ১২. ফিটিং স্ক্রু, এবং ১৩. গ্রিজ পয়েন্ট

৫. প্রশ্ন: UPS কাকে বলে?

উত্তর:
UPS এর পূর্ণ রূপ হলো Uninterrupted Power Supply (নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ)। এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় বৈদ্যুতিক ডিভাইস যা বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করে রাখে। বিদ্যুৎ চলে গেলে, UPS ১ থেকে ২ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে কম্পিউটার এবং অন্যান্য সংবেদনশীল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে, ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা ডেটা হারানোর ঝুঁকি কমে যায়। এটি কম্পিউটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

৬. প্রশ্ন: ২ টন AC-তে কত অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট নেয়?

উত্তর:
২ টন এসি কত অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট নেয় তা সিঙ্গেল ফেজ নাকি থ্রি ফেজ সিস্টেম এবং পাওয়ার ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে।

সিঙ্গেল ফেজ AC সিস্টেমে (২৩০V, পাওয়ার ফ্যাক্টর ০.৯৫ ধরে):
১ টন = ১৫০০ ওয়াট (১.৫ কিলোওয়াট)
২ টন = ২ x ১.৫ কিলোওয়াট = ৩ কিলোওয়াট = ৩০০০ ওয়াট
আমরা জানি, পাওয়ার (P) = ভোল্টেজ (V) x কারেন্ট (I) x পাওয়ার ফ্যাক্টর (Cosθ)
সুতরাং, কারেন্ট (I) = P / (V x Cosθ)
I = ৩০০০W / (২৩০V x ০.৯৫) ≈ ১৩.৭২ অ্যাম্পিয়ার

থ্রি ফেজ AC সিস্টেমে (৪৪০V, পাওয়ার ফ্যাক্টর ০.৮৫ ধরে):
পাওয়ার (P) = ২ টন = ৩০০০ ওয়াট
আমরা জানি, P = √৩ x VL x IL Cosθ
সুতরাং, কারেন্ট (I) = P / (√৩ x V x Cosθ)
I = ৩০০০W / (১.৭৩২ x ৪৪০V x ০.৮৫) ≈ ৪.৬৬ অ্যাম্পিয়ার

সুতরাং, ২ টন এসি সিঙ্গেল ফেজে প্রায় ১৩.৭২ অ্যাম্পিয়ার এবং থ্রি ফেজে প্রায় ৪.৬৬ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট নেয়।

৭. প্রশ্ন: ২ টন ও ১ টন AC এর জন্য MCB এর সাইজ কত হতে হবে?

উত্তর:
২ টন এবং ১ টন এসি-র জন্য MCB (মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার) এর সঠিক সাইজ নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসি স্টার্টআপের সময় তুলনামূলকভাবে বেশি কারেন্ট টানে, তাই এই বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

১ টন এসি সাধারণত সিঙ্গেল ফেজে ৭-৮ অ্যাম্পিয়ার এবং ২ টন এসি প্রায় ১৩.৭২ অ্যাম্পিয়ার (যেমনটা পূর্ববর্তী প্রশ্নে আলোচনা করা হয়েছে) কারেন্ট নেয়। থ্রি ফেজ সিস্টেমে ২ টন এসি প্রায় ৪.৬৬ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট নেয়।

সাধারণত, সিঙ্গেল ফেজ এসি-র জন্য ২৫ অ্যাম্পিয়ার ক্লাস C MCB এবং থ্রি ফেজ এসি-র জন্য ১০ অ্যাম্পিয়ার ক্লাস C MCB ব্যবহার করা উপযুক্ত। ক্লাস C MCB গুলো মোটরের মতো ইনডাক্টিভ লোডের জন্য উপযুক্ত, কারণ এগুলো স্টার্টিং কারেন্টকে সহ্য করতে পারে। এই রেটিংগুলো এসির পূর্ণ লোড অবস্থায় এবং স্টার্টিং কারেন্ট বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়।

৮. প্রশ্ন: সুইসগিয়ার কাকে বলে?

উত্তর:
সুইসগিয়ার বলতে একটি ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমে ব্যবহৃত সুইচিং ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, প্রটেকশন ডিভাইস, পরিমাপ যন্ত্র এবং সিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষাকারী সকল সরঞ্জামকে বোঝায়। এর পাশাপাশি, এই সরঞ্জামগুলো স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো, কক্ষ এবং ওয়্যারিংয়ের সমষ্টিকেও সুইসগিয়ার বলা হয়। এটি বিদ্যুৎ বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৯. প্রশ্ন: সিমেট্রিক্যাল ফল্ট কি?

উত্তর:
সিমেট্রিক্যাল ফল্ট হলো পাওয়ার সিস্টেমে এমন এক ধরনের ফল্ট, যেখানে থ্রি-ফেজ সিস্টেমের প্রতিটি ফেজে সমান ফল্ট কারেন্ট প্রবাহিত হয়। এই ধরনের ফল্টে ফেজগুলোর মধ্যেকার সম্পর্ক (যেমন, ভোল্টেজ ও কারেন্টের পরিমাণের সমানুপাতিক সম্পর্ক এবং ১২০ ডিগ্রি ফেজ পার্থক্য) সাধারণত বজায় থাকে, যদিও তাদের মান ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এটি সাধারণত থ্রি-ফেজ শর্ট সার্কিট ফল্টকে বোঝায়, যা পাওয়ার সিস্টেমে অত্যন্ত গুরুতর একটি সমস্যা।

১০. প্রশ্ন: সিঙ্গেল ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের গতির দিক পরিবর্তন করা যায় কিভাবে?

উত্তর:
থ্রি ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের গতির দিক পরিবর্তন করা তুলনামূলকভাবে সহজ – সাপ্লাইয়ের যেকোনো দুটি ফেজ পরিবর্তন করলেই হয়। কিন্তু সিঙ্গেল ফেজ মোটরের ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন। সিঙ্গেল ফেজ মোটরে দুটি প্রধান ওয়াইন্ডিং থাকে: মেইন ওয়াইন্ডিং এবং অক্সিলিয়ারি ওয়াইন্ডিং (বা স্টার্টিং ওয়াইন্ডিং)। মোটরের গতির দিক পরিবর্তন করার জন্য শুধুমাত্র অক্সিলিয়ারি ওয়াইন্ডিংয়ের সংযোগের দিক পরিবর্তন করতে হয়। এতে মোটরের ঘূর্ণনের দিক উল্টে যায়।

১১. প্রশ্ন: সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের কৌশল কি?

উত্তর:
সার্কিট ব্রেকার নির্বাচন করার জন্য একটি সহজ কৌশল হলো, প্রথমে সকল লোডের মোট ওয়াট (ক্ষমতা) বের করতে হবে। এরপর, এই মোট ওয়াটকে ২৩০ (সাধারণত সিঙ্গেল ফেজ সাপ্লাই ভোল্টেজ) দ্বারা ভাগ করে মোট অ্যাম্পিয়ার (কারেন্ট) নির্ণয় করতে হবে। প্রাপ্ত অ্যাম্পিয়ার মানের ১.৫ গুণ অ্যাম্পিয়ার বিশিষ্ট সার্কিট ব্রেকার নির্বাচন করা উচিত। এই ১.৫ গুণ বেশি মান লোডের স্টার্টিং কারেন্ট এবং ভবিষ্যতের লোড বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রাখে, যা ব্রেকারের অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রিপিং রোধ করে এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

১২. প্রশ্ন: সার্কিট ব্রেকার ও আইসোলেটরের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:
সার্কিট ব্রেকার এবং আইসোলেটর উভয়ই বৈদ্যুতিক সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়, তবে তাদের কার্যকারিতা এবং উদ্দেশ্য ভিন্ন। নিচে তাদের প্রধান পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো-

সার্কিট ব্রেকার:
১. এটি স্বাভাবিক কারেন্ট প্রবাহের সময় সুইচের মতো কাজ করে এবং অস্বাভাবিক অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করতে পারে (যেমন, ওভারলোড বা শর্ট সার্কিট)।
২. হাই ভোল্টেজের লাইনকে নিরাপদে ব্রেক করতে পারে এবং উৎপন্ন আর্ক (বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ) কমায়
৩. অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহে বাধা দেয় এবং সার্কিটকে সুরক্ষা দেয়।
৪. এটি ফিউজ ও সুইচ উভয় হিসেবেই কাজ করে
৫. সিস্টেমে সম্প্রসারণে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।
৬. স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে
৭. এটির তৈরির খরচ বেশি

আইসোলেটর:
১. এটি শুধুমাত্র বর্তনীতে কারেন্ট না থাকলে অপারেট করা সম্ভব। লোড অবস্থায় এটি ব্যবহার করলে বিপজ্জনক আর্ক তৈরি হতে পারে।
২. বর্তনীতে কারেন্ট থাকা অবস্থায় ব্যবহার করলে বিপজ্জনক আর্কের সৃষ্টি হয়
৩. এটি অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহে বাধা দেয় না
৪. এটি শুধুমাত্র ডিস-কানেক্টিং সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়
৫. ভবিষ্যতের সম্প্রসারণে সহায়ক নয়।
৬. স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে না, এটি ম্যানুয়ালি পরিচালিত হয়
৭. এর তৈরির খরচ কম

১৩. প্রশ্ন: সার্কিট ব্রেকারের রেটিং কি? রেটিং গুলো কি কি?

উত্তর:
সার্কিট ব্রেকারের রেটিং বলতে সেই স্পেসিফিকেশনগুলোকে বোঝায় যা থেকে একটি সার্কিট ব্রেকারের গুণগত মান, কার্জগত ক্ষমতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এই রেটিংগুলো ব্রেকারের কার্যকারিতা এবং সুরক্ষামূলক ক্ষমতা নির্ধারণ করে।

সার্কিট ব্রেকারের প্রধানত তিন ধরনের রেটিং থাকে-

  1. ব্রেকিং ক্যাপাসিটি (Breaking Capacity): এটি একটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ ফল্ট কারেন্ট যা এটি নিরাপদে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। এটি কিলোঅ্যাম্পিয়ারে (kA) প্রকাশ করা হয়।
  2. মেকিং ক্যাপাসিটি (Making Capacity): এটি সেই সর্বোচ্চ কারেন্ট যা একটি সার্কিট ব্রেকার শর্ট সার্কিট অবস্থায় বন্ধ হতে বা সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এটিও কিলোঅ্যাম্পিয়ারে (kA) প্রকাশ করা হয় এবং সাধারণত ব্রেকিং ক্যাপাসিটির ২.৫ গুণ হয়ে থাকে।
  3. শর্ট টাইম ক্যাপাসিটি (Short Time Capacity): এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন, ১ সেকেন্ড বা ৩ সেকেন্ড) জন্য সার্কিট ব্রেকার যে সর্বোচ্চ ফল্ট কারেন্ট সহ্য করতে পারে, সেটি নির্দেশ করে, সার্কিটকে বিচ্ছিন্ন না করেই। এটি মূলত সিস্টেমের সিলেক্টিভিটি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।

১৪. প্রশ্ন: সার্কিট ব্রেকারের টেস্টসমূহ কী কী? বা সার্কিট ব্রেকার এর কী কী টেস্ট করা হয়?

উত্তর:
একটি সার্কিট ব্রেকারের ডিজাইন, নির্মাণ এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের টেস্টিং করা হয়। নিচে সার্কিট ব্রেকারের প্রধান টেস্টগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

১. টাইপ টেস্ট (Type Test):
এটি নতুন ডিজাইন করা সার্কিট ব্রেকারের কার্যকারিতা ও রেটিং নিশ্চিত করার জন্য করা হয়। এটি সাধারণত সকল ব্রেকারে করা হয় না, বরং ডিজাইন চূড়ান্ত করার পর প্রথম কয়েকটি ইউনিটে করা হয়। টাইপ টেস্টের প্রকারভেদ-

  • মেকানিক্যাল টেস্ট
  • তাপমাত্রা বৃদ্ধি টেস্ট, মিলি ভোল্ট ড্রপ টেস্ট
  • হাই ভোল্টেজ টেস্ট
  • শর্ট সার্কিট টেস্ট
  • মেকিং ক্যাপাসিটি টেস্ট
  • ব্রেকিং ক্যাপাসিটি টেস্ট
  • শর্ট টাইম টেস্ট
  • অপারেটিং সিকোয়েন্স টেস্ট

২. রুটিন টেস্ট (Routine Test):
প্রস্তুতকারক কর্তৃক উৎপাদিত প্রতিটি সার্কিট ব্রেকার গ্রাহকের কাছে পাঠানোর আগে এই টেস্ট করা হয় যাতে স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মান ঠিক থাকে। রুটিন টেস্টের আওতাভুক্ত টেস্টসমূহ-

  • অপারেশন টেস্ট
  • মিলি ভোল্ট ড্রপ টেস্ট
  • পাওয়ার ফ্রিকোয়েন্সি ভোল্টেজ টেস্ট (প্রস্তুতকারক অঙ্গনে ও স্থাপন স্থলে)

৩. ডেভেলপমেন্ট টেস্ট (Development Test):
গবেষক, প্রস্তুতকারক এবং বিজ্ঞানীরা সার্কিট ব্রেকারের বিশেষ অংশ বা উপাদানগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য এই টেস্ট করেন।

৪. বিশ্বস্ততা টেস্ট (Reliability Test):
এই টেস্টে সার্কিট ব্রেকারের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে (যেমন- ভূমিকম্প, উচ্চ তাপমাত্রা, ধুলা-বালি, আর্দ্রতা, পুনঃপুন অপারেশন) সঠিকভাবে ও বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। এটি মূলত ল্যাবরেটরিতে করা হয়।

৫. কমিশনিং টেস্ট (Commissioning Test):
সার্কিট ব্রেকার স্থাপন করার পর এটি সঠিকভাবে সংযুক্ত হয়েছে কিনা এবং অপারেশনের জন্য প্রস্তুত কিনা তা নিশ্চিত করতে এই টেস্ট করা হয়। কমিশনিং টেস্টের অন্তর্ভূক্ত টেস্টসমূহ-

  • মেকানিক্যাল অপারেশন টেস্ট
  • কন্টাক্টসমূহের চলাচল টেস্ট
  • ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্ট
  • প্রি-কমিশনিং চেক
  • ম্যানুয়াল অপারেটিং সিগনাল দিয়ে কার্যকারিতা চেক করা
  • রিলে উত্তেজিত করে ব্রেকারের কার্যকারিতা চেক করা

৬. শর্ট সার্কিট টেস্ট সমূহ:
সার্কিট ব্রেকারের রেটিং যাচাই করার জন্য শর্ট সার্কিট টেস্টিং স্টেশনে এই টেস্টগুলো করা হয়। যেমন- ফিল্ড টাইপ টেস্টিং স্টেশন ও ল্যাবরেটরি টাইপ টেস্টিং।

১৫. প্রশ্ন: সার্কিট কাকে বলে? আদর্শ সার্কিট এর উপাদান কয়টি ও কি কি?

উত্তর:
সার্কিট বা বর্তনী হলো কারেন্ট চলাচলের একটি সম্পূর্ণ পথ। এটি বিদ্যুৎ উৎস, পরিবাহী, নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, লোড এবং রক্ষণ যন্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত হয়, যার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারে।

একটি আদর্শ সার্কিটের ৫টি উপাদান বিদ্যমান। এগুলো হলো-

  1. উৎস (Source): যেমন – জেনারেটর, ব্যাটারি। এটি সার্কিটে বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ করে।
  2. রক্ষণযন্ত্র (Protection Device): যেমন – ফিউজ, কাট আউট। এটি সার্কিটকে অতিরিক্ত কারেন্ট বা ফল্ট থেকে রক্ষা করে।
  3. নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (Control Device): যেমন – সুইচ। এটি সার্কিটে কারেন্ট প্রবাহ চালু বা বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়।
  4. লোড (Load): যেমন – বাতি, পাখা। এটি বৈদ্যুতিক শক্তিকে অন্য কোনো শক্তিতে (যেমন আলো, তাপ, যান্ত্রিক শক্তি) রূপান্তরিত করে।
  5. পরিবাহী (Conductor): যেমন – তার। এটি বৈদ্যুতিক কারেন্টকে সার্কিটের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে পরিবহন করে।

১৬. প্রশ্ন: রোধের সূত্র কয়টি ও কি কি?

উত্তর:
রোধ (Resistance) পরিবাহী পদার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যা কারেন্ট প্রবাহে বাধা দেয়। রোধের সূত্র প্রধানত তিনটি। এগুলো হলো-

  1. দৈর্ঘ্যের সূত্র (Law of Length): এই সূত্র অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট উপাদানের ও নির্দিষ্ট প্রস্থচ্ছেদের পরিবাহীর রোধ তার দৈর্ঘ্যের (L) সমানুপাতিক। অর্থাৎ, RproptoL। এর অর্থ হলো, পরিবাহীর দৈর্ঘ্য বাড়লে রোধও বাড়বে।
  2. ক্ষেত্রফলের সূত্র (Law of Area of Cross-Section): এই সূত্র অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট উপাদানের ও নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পরিবাহীর রোধ তার প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের (A) ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, Rproptofrac1A। এর অর্থ হলো, পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল বাড়লে রোধ কমবে।
  3. উপাদানের সূত্র (Law of Material/Resistivity): এই সূত্র অনুযায়ী, একটি পরিবাহীর রোধ তার উপাদানের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। বিভিন্ন উপাদানের রোধ ক্ষমতা ভিন্ন হয়, যা রোধাঙ্ক (resistivity) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

এই তিনটি সূত্র একত্রিত করে রোধের সাধারণ সূত্রটি প্রকাশ করা হয়: R=rhofracLA, যেখানে rho (রো) হলো পরিবাহীর রোধাঙ্ক বা আপেক্ষিক রোধ।

১৭. প্রশ্ন: রিভার্স পাওয়ার কি?

উত্তর:
রিভার্স পাওয়ার বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায় যেখানে একটি জেনারেটর তার নিজস্ব পাওয়ার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় অথবা উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায় এবং বাসবার থেকে পাওয়ার গ্রহণ করে মোটর হিসেবে ঘুরতে শুরু করে। এই ঘটনাকে মোটরিং এফেক্টও বলা হয়।

রিভার্স পাওয়ার রিলে হলো একটি দিকনির্দেশক প্রতিরক্ষামূলক রিলে যা জেনারেটরকে এই মোটরিং এফেক্ট থেকে রক্ষা করে। এটি সাধারণত সেইসব সিস্টেমে ব্যবহৃত হয় যেখানে একাধিক জেনারেটর সমান্তরালভাবে চলে অথবা জেনারেটর ইউটিলিটি গ্রিডের সাথে সমান্তরালভাবে সংযুক্ত থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কয়েকটি জেনারেটর সমান্তরালভাবে চলছিল এবং হঠাৎ করে একটি জেনারেটরের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয় ও ইঞ্জিন ট্রিপ করে, কিন্তু সেই জেনারেটরের ACB (এয়ার সার্কিট ব্রেকার) ট্রিপ না করে, তখন ওই জেনারেটরটি বাসবার থেকে বিদ্যুৎ শক্তি গ্রহণ করে মোটর হিসেবে ঘুরতে থাকে। এক্ষেত্রে জেনারেটরটি নিজেই তার ইঞ্জিনকে লোড হিসেবে চালায়, এবং কোনোভাবেই ইঞ্জিন বন্ধ করা যায় না (এমনকি ফুয়েল লাইন বা ডিসি সাপ্লাই বন্ধ করেও না)। এই পরিস্থিতিতে ACB ট্রিপ করালেই ইঞ্জিনটি বন্ধ হয়ে যাবে।

আধুনিক কন্ট্রোল প্যানেলগুলোতে এই রিভার্স পাওয়ার প্রোটেকশনের ব্যবস্থা থাকে, যেখানে একটি সেট পয়েন্ট নির্ধারিত থাকে (সাধারণত জেনারেটরের রেটেড পাওয়ারের ১০%)। এই সেট পয়েন্ট অতিক্রম করলে ACB স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রিপ হয়ে বড় ধরনের বিপদ এড়িয়ে যায়। এটি রিলে/পিএলসি এবং একটি কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।

১৮. প্রশ্ন: মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে?

উত্তর:
মিনিয়েচার শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ক্ষুদ্রাকার। যে সার্কিট ব্রেকারগুলো অল্প কারেন্টে কাজ করে এবং আকারেও ছোট হয়, সেই ধরনের সার্কিট ব্রেকারগুলোকে মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার (Miniature Circuit Breaker) বলে। এটি সংক্ষেপে MCB নামে পরিচিত। বাসা-বাড়ি, অফিস বা ছোট শিল্প কারখানায় ওভারলোড এবং শর্ট সার্কিট থেকে সার্কিট ও সরঞ্জাম রক্ষার জন্য এটি বহুল ব্যবহৃত হয়।

১৯. প্রশ্ন: ভ্যাকুয়াম সার্কিট ব্রেকারের সুবিধা ও অসুবিধা গুলো কী কী?

ভ্যাকুয়াম-সার্কিট-ব্রেকার

উত্তর:
ভ্যাকুয়াম সার্কিট ব্রেকার (VCB) অন্যান্য সার্কিট ব্রেকারের মতো নিজস্ব সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে গঠিত। নিচে এর প্রধান দিকগুলো আলোচনা করা হলো-

ভ্যাকুয়াম সার্কিট ব্রেকারের সুবিধা:

  1. এটি দৃঢ়, বিশ্বস্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী
  2. আগুন লাগার ভয় নেই, কারণ আর্ক নির্বাপণের জন্য ভ্যাকুয়াম মাধ্যম ব্যবহৃত হয়।
  3. অপারেশনের সময় এবং পরে কোনো গ্যাস উৎপন্ন হয় না, ফলে পরিবেশ দূষণ কম হয়।
  4. যেকোনো ত্রুটিপূর্ণ কারেন্টে (ফল্ট কারেন্ট) এটি দ্রুত অপারেট করে।
  5. মেরামত খরচ কম এবং এর অপারেশন প্রক্রিয়া সহজ।
  6. লাইটনিং সার্জেও (বজ্রপাতের সময় ভোল্টেজ বৃদ্ধি) এটি ভাল কাজ করে
  7. আর্ক (বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ) তুলনামূলকভাবে কম হয়
  8. নিয়ন্ত্রণ মেকানিজমের জন্য কম পাওয়ার লাগে
  9. এটি নীরব অপারেশন করে, অর্থাৎ শব্দ কম হয়।
  10. এর ডাই-ইলেকট্রিক স্ট্রেংথ (নিরোধক ক্ষমতা) এবং কন্টাক্ট রেজিস্ট্যান্স (স্পর্শকের রোধ) স্থিতিশীল থাকে

ভ্যাকুয়াম সার্কিট ব্রেকারের অসুবিধা:

  1. ভ্যাকুয়ামের মাধ্যমে অগ্নি নির্বাপণ প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল
  2. যদি ভ্যাকুয়াম কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে মেরামত করা কঠিন হতে পারে।
  3. কিছুদিন ব্যবহারের ফলে কন্টাক্টদ্বয়ের মাথা ক্ষয় হয়ে যেতে পারে, যার ফলে ডাই-ইলেকট্রিক স্ট্রেংথ কমে যায়।
  4. সাধারণত ৩৬ KV এর উপরের ভোল্টেজে এটি ব্যবহার সুবিধাজনক নয়

২০. প্রশ্ন: বৈদ্যুতিক সার্কিট কি? বৈদ্যুতিক সার্কিট কত প্রকার এবং কি কি?

উত্তর:
বৈদ্যুতিক সার্কিট হলো বিদ্যুৎ এর উৎস, পরিবাহী, নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ব্যবহার যন্ত্র এবং রক্ষণ যন্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্পূর্ণ পথ, যার মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারে। এটি বৈদ্যুতিক শক্তিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে এবং তাকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে সাহায্য করে।

সার্কিটের উপাদানসমূহের সংযোগের ভিত্তিতে বৈদ্যুতিক সার্কিট প্রধানত তিন প্রকারের হয়ে থাকে-

  1. সিরিজ সার্কিট (Series Circuit): এই ধরনের সার্কিটে উপাদানগুলো (যেমন- রোধ, বাল্ব) একটার পর একটা সিরিজে সংযুক্ত থাকে। এখানে কারেন্ট প্রবাহের জন্য একটি মাত্র পথ থাকে, ফলে সকল উপাদানের মধ্য দিয়ে একই পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহিত হয়। কিন্তু ভোল্টেজ প্রতিটি উপাদানের রোধ অনুযায়ী ভাগ হয়ে যায়।
  2. প্যারালাল সার্কিট (Parallel Circuit): এই সার্কিটে উপাদানগুলো সমান্তরালভাবে সংযুক্ত থাকে, যার ফলে কারেন্ট প্রবাহের জন্য একাধিক পথ তৈরি হয়। প্রতিটি উপাদানের ভোল্টেজ একই থাকে, কিন্তু মোট কারেন্ট প্রতিটি শাখার কারেন্টের যোগফলের সমান হয়। বাসা-বাড়িতে সাধারণত প্যারালাল সার্কিট ব্যবহার করা হয়।
  3. মিশ্র সার্কিট (Mixed Circuit): এটি সিরিজ এবং প্যারালাল সার্কিটের সমন্বয়ে গঠিত একটি সার্কিট। এখানে কিছু উপাদান সিরিজে এবং কিছু উপাদান প্যারালালে সংযুক্ত থাকে। এটি আরও জটিল সিস্টেমগুলোতে ব্যবহৃত হয়।

২১. প্রশ্ন: সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের কৌশল কি?

উত্তর:
সার্কিট ব্রেকার নির্বাচন করার জন্য একটি সহজ কৌশল হলো, প্রথমে সকল লোডের মোট ওয়াট (ক্ষমতা) বের করতে হবে। এরপর, এই মোট ওয়াটকে ২৩০ (সাধারণত সিঙ্গেল ফেজ সাপ্লাই ভোল্টেজ) দ্বারা ভাগ করে মোট অ্যাম্পিয়ার (কারেন্ট) নির্ণয় করতে হবে। প্রাপ্ত অ্যাম্পিয়ার মানের ১.৫ গুণ অ্যাম্পিয়ার বিশিষ্ট সার্কিট ব্রেকার নির্বাচন করা উচিত। এই ১.৫ গুণ বেশি মান লোডের স্টার্টিং কারেন্ট এবং ভবিষ্যতের লোড বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রাখে, যা ব্রেকারের অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রিপিং রোধ করে এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

২২. প্রশ্ন: সার্কিট ব্রেকার ও আইসোলেটরের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:
সার্কিট ব্রেকার এবং আইসোলেটর উভয়ই বৈদ্যুতিক সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়, তবে তাদের কার্যকারিতা এবং উদ্দেশ্য ভিন্ন। নিচে তাদের প্রধান পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো-

সার্কিট ব্রেকার:
১. এটি স্বাভাবিক কারেন্ট প্রবাহের সময় সুইচের মতো কাজ করে এবং অস্বাভাবিক অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করতে পারে (যেমন, ওভারলোড বা শর্ট সার্কিট)।
২. হাই ভোল্টেজের লাইনকে নিরাপদে ব্রেক করতে পারে এবং উৎপন্ন আর্ক (বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ) কমায়
৩. অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহে বাধা দেয় এবং সার্কিটকে সুরক্ষা দেয়।
৪. এটি ফিউজ ও সুইচ উভয় হিসেবেই কাজ করে
৫. সিস্টেমে সম্প্রসারণে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।
৬. স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে
৭. এটির তৈরির খরচ বেশি

আইসোলেটর:
১. এটি শুধুমাত্র বর্তনীতে কারেন্ট না থাকলে অপারেট করা সম্ভব। লোড অবস্থায় এটি ব্যবহার করলে বিপজ্জনক আর্ক তৈরি হতে পারে।
২. বর্তনীতে কারেন্ট থাকা অবস্থায় ব্যবহার করলে বিপজ্জনক আর্কের সৃষ্টি হয়
৩. এটি অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহে বাধা দেয় না
৪. এটি শুধুমাত্র ডিস-কানেক্টিং সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়
৫. ভবিষ্যতের সম্প্রসারণে সহায়ক নয়।
৬. স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে না, এটি ম্যানুয়ালি পরিচালিত হয়
৭. এর তৈরির খরচ কম

২৩. প্রশ্ন: সার্কিট ব্রেকারের রেটিং কি? রেটিং গুলো কি কি?

উত্তর:
সার্কিট ব্রেকারের রেটিং বলতে সেই স্পেসিফিকেশনগুলোকে বোঝায় যা থেকে একটি সার্কিট ব্রেকারের গুণগত মান, কার্জগত ক্ষমতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এই রেটিংগুলো ব্রেকারের কার্যকারিতা এবং সুরক্ষামূলক ক্ষমতা নির্ধারণ করে।

সার্কিট ব্রেকারের প্রধানত তিন ধরনের রেটিং থাকে-

  1. ব্রেকিং ক্যাপাসিটি (Breaking Capacity): এটি একটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ ফল্ট কারেন্ট যা এটি নিরাপদে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। এটি কিলোঅ্যাম্পিয়ারে (kA) প্রকাশ করা হয়।
  2. মেকিং ক্যাপাসিটি (Making Capacity): এটি সেই সর্বোচ্চ কারেন্ট যা একটি সার্কিট ব্রেকার শর্ট সার্কিট অবস্থায় বন্ধ হতে বা সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এটিও কিলোঅ্যাম্পিয়ারে (kA) প্রকাশ করা হয় এবং সাধারণত ব্রেকিং ক্যাপাসিটির ২.৫ গুণ হয়ে থাকে।
  3. শর্ট টাইম ক্যাপাসিটি (Short Time Capacity): এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন, ১ সেকেন্ড বা ৩ সেকেন্ড) জন্য সার্কিট ব্রেকার যে সর্বোচ্চ ফল্ট কারেন্ট সহ্য করতে পারে, সেটি নির্দেশ করে, সার্কিটকে বিচ্ছিন্ন না করেই। এটি মূলত সিস্টেমের সিলেক্টিভিটি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।

২৪. প্রশ্ন: সার্কিট ব্রেকারের টেস্টসমূহ কী কী? বা সার্কিট ব্রেকার এর কী কী টেস্ট করা হয়?

উত্তর:
একটি সার্কিট ব্রেকারের ডিজাইন, নির্মাণ এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের টেস্টিং করা হয়। নিচে সার্কিট ব্রেকারের প্রধান টেস্টগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

১. টাইপ টেস্ট (Type Test):
এটি নতুন ডিজাইন করা সার্কিট ব্রেকারের কার্যকারিতা ও রেটিং নিশ্চিত করার জন্য করা হয়। এটি সাধারণত সকল ব্রেকারে করা হয় না, বরং ডিজাইন চূড়ান্ত করার পর প্রথম কয়েকটি ইউনিটে করা হয়। টাইপ টেস্টের প্রকারভেদ-

  • মেকানিক্যাল টেস্ট
  • তাপমাত্রা বৃদ্ধি টেস্ট, মিলি ভোল্ট ড্রপ টেস্ট
  • হাই ভোল্টেজ টেস্ট
  • শর্ট সার্কিট টেস্ট
  • মেকিং ক্যাপাসিটি টেস্ট
  • ব্রেকিং ক্যাপাসিটি টেস্ট
  • শর্ট টাইম টেস্ট
  • অপারেটিং সিকোয়েন্স টেস্ট

২. রুটিন টেস্ট (Routine Test):
প্রস্তুতকারক কর্তৃক উৎপাদিত প্রতিটি সার্কিট ব্রেকার গ্রাহকের কাছে পাঠানোর আগে এই টেস্ট করা হয় যাতে স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মান ঠিক থাকে। রুটিন টেস্টের আওতাভুক্ত টেস্টসমূহ-

  • অপারেশন টেস্ট
  • মিলি ভোল্ট ড্রপ টেস্ট
  • পাওয়ার ফ্রিকোয়েন্সি ভোল্টেজ টেস্ট (প্রস্তুতকারক অঙ্গনে ও স্থাপন স্থলে)

৩. ডেভেলপমেন্ট টেস্ট (Development Test):
গবেষক, প্রস্তুতকারক এবং বিজ্ঞানীরা সার্কিট ব্রেকারের বিশেষ অংশ বা উপাদানগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য এই টেস্ট করেন।

৪. বিশ্বস্ততা টেস্ট (Reliability Test):
এই টেস্টে সার্কিট ব্রেকারের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে (যেমন- ভূমিকম্প, উচ্চ তাপমাত্রা, ধুলা-বালি, আর্দ্রতা, পুনঃপুন অপারেশন) সঠিকভাবে ও বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। এটি মূলত ল্যাবরেটরিতে করা হয়।

৫. কমিশনিং টেস্ট (Commissioning Test):
সার্কিট ব্রেকার স্থাপন করার পর এটি সঠিকভাবে সংযুক্ত হয়েছে কিনা এবং অপারেশনের জন্য প্রস্তুত কিনা তা নিশ্চিত করতে এই টেস্ট করা হয়। কমিশনিং টেস্টের অন্তর্ভূক্ত টেস্টসমূহ-

  • মেকানিক্যাল অপারেশন টেস্ট
  • কন্টাক্টসমূহের চলাচল টেস্ট
  • ইনসুলেশন রেজিস্ট্যান্স টেস্ট
  • প্রি-কমিশনিং চেক
  • ম্যানুয়াল অপারেটিং সিগনাল দিয়ে কার্যকারিতা চেক করা
  • রিলে উত্তেজিত করে ব্রেকারের কার্যকারিতা চেক করা

৬. শর্ট সার্কিট টেস্ট সমূহ:
সার্কিট ব্রেকারের রেটিং যাচাই করার জন্য শর্ট সার্কিট টেস্টিং স্টেশনে এই টেস্টগুলো করা হয়। যেমন- ফিল্ড টাইপ টেস্টিং স্টেশন ও ল্যাবরেটরি টাইপ টেস্টিং।

২৫. প্রশ্ন: বৈদ্যুতিক সার্কিটে কি কি প্রয়োজনীয় উপাদান থাকা আবশ্যক?

উত্তর:
একটি কার্যকর ও নিরাপদ বৈদ্যুতিক সার্কিটে পাঁচটি প্রয়োজনীয় উপাদান থাকা আবশ্যক। এই উপাদানগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে কারেন্ট প্রবাহের একটি সম্পূর্ণ পথ তৈরি করে-

  1. উৎস (Source): এটি সার্কিটে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যাটারি অথবা জেনারেটর
  2. পরিবাহী (Conductor): এটি কারেন্টকে সার্কিটের এক অংশ থেকে অন্য অংশে বহন করে। উদাহরণস্বরূপ, তামা অথবা অ্যালুমিনিয়াম তার
  3. নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (Controlling Device): এটি সার্কিটে কারেন্ট প্রবাহকে চালু বা বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, সুইচ
  4. ব্যবহার যন্ত্র (Consuming Device/Load): এটি বৈদ্যুতিক শক্তিকে অন্য কোনো ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে (যেমন আলো, তাপ, যান্ত্রিক শক্তি) রূপান্তরিত করে। উদাহরণস্বরূপ, বাতি, পাখা
  5. রক্ষণ যন্ত্র (Protective Device): এটি সার্কিটকে অতিরিক্ত কারেন্ট বা ফল্ট থেকে রক্ষা করে। উদাহরণস্বরূপ, ফিউজ, ব্রেকার

২৬. প্রশ্ন: বাসা বাড়িতে আর্থিং করার প্রয়োজনীয়তা কী?

উত্তর:
বাসা বাড়িতে আর্থিং (Earthing), যা গ্রাউন্ডিং নামেও পরিচিত, করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর প্রধান প্রয়োজনীয়তাগুলো নিম্নরূপ-

  1. নিরাপদ বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ: কোনো প্রকার ত্রুটি বা লিকেজ কারেন্ট (যেমন, তারের ইনসুলেশন নষ্ট হলে বা যন্ত্রপাতির ধাতব অংশে বিদ্যুৎ চলে এলে) নিরাপদে মাটিতে প্রেরণ করার জন্য আর্থিং অপরিহার্য। এটি যন্ত্রপাতিকে ত্রুটিপূর্ণ সার্কিট থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সাহায্য করে।
  2. ভোল্টেজ স্থিতিশীলতা: ভোল্টেজ সিস্টেমের যেকোনো অংশে মাটির তুলনায় যেন নির্দিষ্ট একটি নিরাপদ ভোল্টেজে থাকে, তা নিশ্চিত করতে আর্থিং করা হয়।
  3. বৈদ্যুতিক শক থেকে সুরক্ষা: ত্রুটি বা সিস্টেমে সমস্যার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ধাতব আবরণে ভোল্টেজ যেন মাটির তুলনায় বিপজ্জনক পর্যায়ে না যায়, তা আর্থিং নিশ্চিত করে। যদি আর্থিং না থাকে এবং কোনো যন্ত্রপাতির বডিতে বিদ্যুৎ চলে আসে, তাহলে তা স্পর্শ করলে মারাত্মক বৈদ্যুতিক শক লাগতে পারে। আর্থিং থাকলে, এই লিকেজ কারেন্ট সরাসরি মাটির দিকে চলে যায়, ফলে ফিউজ বা সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করে এবং বিপদ এড়ানো যায়।
  4. সরঞ্জাম সুরক্ষা: আর্থিং সরঞ্জামগুলোকে অতিরিক্ত কারেন্ট এবং ভোল্টেজ সার্জ (voltage surge) থেকে রক্ষা করে, যা সরঞ্জাম নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচায় এবং তাদের আয়ু বাড়ায়।

সংক্ষেপে, আর্থিং একটি লাইফ-সেভিং মেকানিজম যা মানুষ এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উভয়কেই সুরক্ষিত রাখে।

২৭. প্রশ্ন: বয়লার কী?

উত্তর:
বয়লার হলো একটি আবদ্ধ পাত্র যা নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা সহকারে ডিজাইন করা হয়, যেখানে পানিকে তাপ প্রয়োগ করে স্টিম (বাষ্প) উৎপাদন করা হয়। এই উৎপাদিত স্টিম বিভিন্ন শিল্প-কারখানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবং অন্যান্য তাপ-সম্পর্কিত কাজে শক্তি উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বয়লার প্রধানত ২ ধরনের হয়ে থাকে-

  1. ফায়ার টিউব বয়লার (Fire Tube Boiler): এই ধরনের বয়লারে আগুন বা গরম গ্যাস টিউবের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং পানি টিউবের বাইরে থাকে। ফায়ার টিউব বয়লারের গঠনপ্রণালী তুলনামূলকভাবে জটিল এবং এটি ব্যয়বহুল। এতে খুব কম গতিতে স্টিম উৎপাদন হয় এবং বিস্ফোরণ হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হতে পারে।
  2. ওয়াটার টিউব বয়লার (Water Tube Boiler): এই বয়লারে পানি টিউবের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং আগুন বা গরম গ্যাস টিউবের বাইরে থাকে। বাংলাদেশে সাধারণত ওয়াটার টিউব বয়লারই বেশি ব্যবহৃত হয় কারণ এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো, দ্রুত স্টিম উৎপাদন হয় এবং এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।

২৮. প্রশ্ন: ফেজ, নিউট্রাল ও আর্থ তারের স্টান্ডার্ড কালার কি?

উত্তর:
বৈদ্যুতিক কাজে তারের সঠিক শনাক্তকরণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে কিছু স্ট্যান্ডার্ড কালার কোড অনুসরণ করা হয়। যদিও ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো রঙের তার ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে নিরাপত্তা ও অন্যদের বোঝার সুবিধার জন্য এই মানগুলো মেনে চলা অত্যাবশ্যক।

সাধারণত, কাজের সুবিধার্থে অতীতে লাল তারকে ফেজ (লাইভ) এবং কালো তারকে নিউট্রাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

তবে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক নিয়মে (যেমন IEC 60446 স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী) ফেজ, নিউট্রাল ও আর্থ তারের জন্য নির্ধারিত রঙগুলো হলো-

  • ফেজ বা লাইভ তার (Phase/Live Wire): বাদামী (Brown)
  • নিউট্রাল তার (Neutral Wire): হালকা নীল (Light Blue)
  • আর্থ তার (Earth Wire): সবুজ বা হলুদ স্ট্রিপযুক্ত সবুজ (Green or Green/Yellow Striped)

এই রঙের কোডগুলো মেনে চললে বৈদ্যুতিক কাজ আরও নিরাপদ ও ত্রুটিমুক্ত হয় এবং বৈদ্যুতিক কর্মীরা সহজেই তারের ফাংশন বুঝতে পারেন।

২৯. প্রশ্ন: ফিউজের কাট অফ কারেন্ট কি?

উত্তর:
ফিউজের কাট অফ কারেন্ট হলো শর্ট সার্কিট কারেন্টের সর্বোচ্চ মান, যে মানে পৌঁছানোর আগেই ফিউজের তার গলে গিয়ে সার্কিটকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অর্থাৎ, এটি সেই বিন্দু যেখানে ফিউজ তার প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করে। যখন একটি সার্কিটে অস্বাভাবিক বা অত্যধিক কারেন্ট প্রবাহিত হয় (যেমন শর্ট সার্কিটের কারণে), তখন ফিউজ সেই কারেন্টের মান একটি নির্দিষ্ট সীমার (কাট অফ কারেন্ট) নিচে রেখে সার্কিটের অন্যান্য সরঞ্জামকে রক্ষা করে। ফিউজটি সম্পূর্ণরূপে গলে যাওয়ার আগে যে কারেন্ট পিক হয়, সেটাই এর কাট অফ কারেন্ট।

৩০. প্রশ্ন: প্রাইমারি ট্রান্সমিশন কি?

উত্তর:
প্রাইমারি ট্রান্সমিশন হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (জেনারেটিং স্টেশন) থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ কেন্দ্র (রিসিভিং এন্ড) পর্যন্ত দীর্ঘ অতি উচ্চ ভোল্টেজের লাইন। এই লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিপুল দূরত্বে পরিবহন করা হয়। প্রাইমারি ট্রান্সমিশন ভোল্টেজ সাধারণত ১১০KV, ১৩২KV, ২৩০KV, ৪০০KV বা তারও বেশি হতে পারে। এই উচ্চ ভোল্টেজে বিদ্যুৎ পরিবহন করলে পাওয়ার লস (ক্ষতি) কম হয় এবং বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ দক্ষতার সাথে বিতরণ করা যায়।

৩১. প্রশ্ন: পাওয়ার সিস্টেমে SAS কী?

উত্তর:
SAS এর পূর্ণ রূপ হলো Substation Automation System (সাবস্টেশন অটোমেশন সিস্টেম)। এটি মূলত একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যা পাওয়ার সিস্টেমে নিয়ন্ত্রণ, পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। SAS, Intelligent Electronic Devices (IEDs) এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই কাজগুলো সম্পাদন করে।

SAS এর মাধ্যমে পুরো সাবস্টেশনকে একটি কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের আওতায় আনা হয়। এর ফলে-

  • কম্পিউটার থেকে সার্কিট ব্রেকার, আইসোলেটর, ট্রান্সফরমার সহ সকল সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণ করা যায় (চালু বা বন্ধ করা)।
  • কম্পিউটার মনিটরে যন্ত্রপাতিগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
  • রিলে ফল্ট, প্রোটেকশন ফল্ট, ওভারকারেন্ট ফল্ট সহ যেকোনো ধরনের ফল্ট সহজেই মনিটরে দেখা যায় এবং কোন প্যানেলে ফল্ট দেখা দিয়েছে তাও চিহ্নিত করা যায়।
  • কোন লাইনে বা ট্রান্সফরমারে বা কোন ফিডারে কত ভোল্টেজ, কারেন্ট, ফ্রিকোয়েন্সি সহ আরও অনেক তথ্য মনিটরেই রিয়েল-টাইমে দেখা যায়।
  • নির্দিষ্ট সময়ের ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজনে কয়েক বছর আগের ডেটাও কার্ভের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যে বের করে আনা সম্ভব।
  • এটি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করার সুবিধা প্রদান করে, যেমন বাংলাদেশের NLDC (National Load Despatch Center) ঢাকা থেকে দেশের যেকোনো সাবস্টেশনের অপারেশন নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
  • এটি কমিউনিকেশন সিস্টেমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সংক্ষেপে, SAS বিদ্যুৎ বিতরণের দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে আধুনিক প্রযুক্তির একটি অপরিহার্য অংশ।

৩২. প্রশ্ন: পাওয়ার ত্রিভুজ বা Power Triangle কি?

উত্তর:
পাওয়ার ত্রিভুজ (Power Triangle) হলো একটি সমকোণী ত্রিভুজ যার সাহায্যে সক্রিয় পাওয়ার (Active Power), প্রতিক্রিয়াশীল পাওয়ার (Reactive Power) এবং আপাত পাওয়ার (Apparent Power) এর মধ্যে জ্যামিতিক সম্পর্ক প্রকাশ করা হয়। এটি AC সার্কিটে পাওয়ার বিশ্লেষণের জন্য একটি মৌলিক ধারণা।

  • সক্রিয় পাওয়ার (P): এটি প্রকৃত বা কার্যক্ষম পাওয়ার যা লোড দ্বারা ব্যবহৃত হয় এবং ওয়াটে (Watt) পরিমাপ করা হয়। ত্রিভুজের ভূমি বরাবর এটি উপস্থাপিত হয়।
  • প্রতিক্রিয়াশীল পাওয়ার (Q): এটি সেই পাওয়ার যা চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং কোনো কাজ করে না। এটি ভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার রিয়াক্টিভ (VAR) এ পরিমাপ করা হয় এবং ত্রিভুজের উচ্চতা বরাবর উপস্থাপিত হয়।
  • আপাত পাওয়ার (S): এটি সার্কিটের মোট পাওয়ার, যা ভোল্টেজ এবং কারেন্টের গুণফল। এটি ভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার (VA) এ পরিমাপ করা হয় এবং ত্রিভুজের অতিভুজ বরাবর উপস্থাপিত হয়।

পাওয়ার ত্রিভুজ থেকে পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুযায়ী, S2=P2+Q2 সূত্রটি পাওয়া যায়, যা AC সার্কিটে পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নত করতে এবং সিস্টেমে পাওয়ার লস কমাতে সাহায্য করে।

৩৩. প্রশ্ন: নিউট্রাল লাইনে শক করে না কেন?

উত্তর:
নিউট্রাল লাইনে সাধারণত শক করে না এর মূল কারণ হলো নিউট্রাল লাইনের ভোল্টেজ শূন্য (বা শূন্যের কাছাকাছি) থাকে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিউট্রালকে আর্থের সাথে গ্রাউন্ডিং করা হয়। বৈদ্যুতিক শকের তীব্রতা সরাসরি বৈদ্যুতিক চাপ বা ভোল্টেজের উপর নির্ভরশীল। যেহেতু নিউট্রাল লাইনে কোনো উল্লেখযোগ্য ভোল্টেজ পার্থক্য থাকে না, তাই এটি স্পর্শ করলে আমাদের শরীরে কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ভোল্টেজ ড্রপ হয় না, ফলে শক লাগে না।

তবে, এই বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা করা বা নিউট্রাল তার খালি হাতে ধরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, সিস্টেমে ত্রুটি থাকলে, যেমন ফল্ট কারেন্ট অথবা অসম্পূর্ণ লোড বন্টন এর কারণে নিউট্রাল লাইনে কিছু লিকেজ ভোল্টেজ প্রবাহিত হতে পারে। এই লিকেজ ভোল্টেজ বিপজ্জনক হতে পারে এবং শক লাগাতে পারে। তাই, যেকোনো বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ করার আগে সর্বদা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং নিশ্চিত হতে হবে যে লাইনটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন আছে।

৩৪. প্রশ্ন: নিউট্রাল এবং আর্থিং কী?

উত্তর:
নিউট্রাল এবং আর্থিং উভয়ই বৈদ্যুতিক সিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে তাদের কাজ ও উদ্দেশ্য ভিন্ন।

নিউট্রাল (Neutral):
নিউট্রাল তার হলো সেই পথ যার মধ্য দিয়ে কারেন্ট লোড থেকে উৎস বা জেনারেটরের দিকে ফিরে আসে। এটি সার্কিটকে সম্পূর্ণ বা “ক্লোজ” করতে সাহায্য করে। যদি নিউট্রাল না থাকে, তাহলে সার্কিট ক্লোজ হবে না এবং কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারবে না, ফলে লোড কাজ করবে না। নিউট্রাল তার সাধারণত শূন্য ভোল্টেজে থাকে (বা রেফারেন্স পটেনশিয়াল)। এটি কারেন্টের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট পথ প্রদান করে এবং সিস্টেমকে সচল রাখে।

আর্থিং (Earthing/Grounding):
আর্থিং হলো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম এবং মানুষকে অনাকাঙ্খিত বিদ্যুৎ প্রবাহ থেকে রক্ষা করার জন্য একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যখন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ধাতব বডিতে (বাহিরাবরণে) ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ চলে আসে (যেমন তারের ইনসুলেশন নষ্ট হলে), তখন সেই কারেন্টকে একটি পরিবাহী তারের মাধ্যমে নিরাপদে মাটিতে প্রেরণ করার ব্যবস্থাকে আর্থিং বলে। এর ফলে যদি কেউ যন্ত্রপাতির বডি স্পর্শ করে, তাহলে কারেন্ট তার শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে আর্থ তারের মাধ্যমে মাটিতে চলে যায়, যা বৈদ্যুতিক শক থেকে জীবন রক্ষা করে। আর্থিং সাধারণত সবুজ বা সবুজ-হলুদ স্ট্রাইপযুক্ত তার দ্বারা করা হয় এবং এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

৩৫. প্রশ্ন: ডেল্টা এবং স্টার সিস্টেমের তুলনামূলক সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো কী?

উত্তর:
থ্রি-ফেজ সিস্টেমে ডেল্টা (Δ) এবং স্টার (Y) সংযোগ দুটি প্রধান কনফিগারেশন, যাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে।

ডেল্টা (Δ) সংযোগের সুবিধা:

  1. অধিক পাওয়ার ও কারেন্ট সম্পন্ন লোড: অধিক পাওয়ার এবং উচ্চ কারেন্ট সম্পন্ন লোড পরিচালনার জন্য ডেল্টা সংযোগ বেশি উপযোগী।
  2. উচ্চ টর্ক: ডেল্টায় সংযুক্ত মোটর অধিক পাওয়ার গ্রহণ করে অধিক টর্ক (ঘূর্ণন শক্তি) উৎপন্ন করে চলতে পারে।
  3. কম পাওয়ার গ্রহণ: একই লোডে স্টারের পরিবর্তে ডেল্টায় যুক্ত করলে তুলনামূলকভাবে কম পাওয়ার গ্রহণ করে।
  4. পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নতি: পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নয়নের জন্য ডেল্টায় সংযুক্ত ক্যাপাসিটর ব্যাংকের প্রতি ফেজের ক্যাপাসিটেন্সের মান কম হয়, ফলে খরচ কম হয়।

ডেল্টা (Δ) সংযোগের অসুবিধা:

  1. নিউট্রাল পয়েন্টের অভাব: ডেল্টা সংযোগে কোনো নিউট্রাল পয়েন্ট থাকে না, যা সিঙ্গেল ফেজ লোডের জন্য অসুবিধা তৈরি করে।
  2. মোটা তারের প্রয়োজন: ডেল্টায় কারেন্ট বেশি প্রবাহিত হয়, তাই অল্টারনেটরের কয়েল মোটা তারের হতে হয়।
  3. বেশি তামার প্রয়োজন: ডেল্টা সংযোগে অল্টারনেটর এবং ট্রান্সফরমারের ওয়াইন্ডিংয়ে তামার পরিমাণ বেশি লাগে, ফলে উৎপাদন খরচ বেশি হয়।

স্টার (Y) সংযোগের সুবিধা:

  1. নিউট্রাল পয়েন্টের সুবিধা: স্টার সংযুক্ত সার্কিটে নিউট্রাল পয়েন্ট থাকে, যা সিঙ্গেল ফেজ লোড সংযোগের জন্য সুবিধাজনক।
  2. উচ্চ ভোল্টেজ: স্টার সংযুক্ত সার্কিটের আউটপুটে লাইন ভোল্টেজ ফেজ ভোল্টেজের sqrt৩ গুণ বেশি পাওয়া যায় (VL = sqrt৩ VP)।
  3. চিকন তারের ব্যবহার: স্টার সংযুক্ত অল্টারনেটরের তার চিকন হলেই চলে, কারণ ফেজ কারেন্ট লাইন কারেন্টের সমান থাকে (IL = IP)।
  4. কম্প্যাক্ট ডিজাইন: এতে তামার পরিমাণ কম লাগে, ফলে খরচও কম হয়।

স্টার (Y) সংযোগের অসুবিধা:

  1. কম পাওয়ার ও কারেন্ট: অধিক পাওয়ার এবং কারেন্ট সম্পন্ন লোড পরিচালনার জন্য স্টার সংযোগ ততটা উপযোগী নয়।
  2. কম কারেন্ট সরবরাহ: এর মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে কম কারেন্ট পাওয়া যায়।

নির্বাচন নির্ভর করে লোডের ধরন, প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ, কারেন্ট এবং খরচের মতো বিষয়গুলোর উপর।

৩৬. প্রশ্ন: ডিস্ট্রিবিউটর ও ফিডার এর মাঝে পার্থক্য কি?

উত্তর:
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় ফিডার (Feeder) এবং ডিস্ট্রিবিউটর (Distributor) দুটি ভিন্ন কাজ করে এবং তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে-

ফিডার (Feeder):

  • সংজ্ঞা: ফিডার হলো জেনারেটিং স্টেশন বা সাবস্টেশনের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী মোটা পরিবাহী তার, যা বিতরণ ট্রান্সফরমার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বহন করে।
  • ট্যাঁপিং: ফিডার থেকে কোনো ধরনের ট্যাঁপিং (শাখা সংযোগ) নেওয়া হয় না। এর প্রধান কাজ হলো বিদ্যুৎকে একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে অন্য স্থানে দক্ষতার সাথে পরিবহন করা, কোনো লোড সরাসরি সংযোগ করা নয়।
  • কারেন্ট প্রবাহ: ফিডারের সমস্ত দৈর্ঘ্য বরাবর কারেন্টের মান প্রায় একই থাকে, কারণ এতে কোনো লোড সরাসরি সংযুক্ত থাকে না।
  • উদ্দেশ্য: বিদ্যুৎকে বিতরণ ব্যবস্থার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত (যেমন, বিতরণ ট্রান্সফরমার) সর্বনিম্ন ভোল্টেজ ড্রপ সহকারে পৌঁছে দেওয়া।

ডিস্ট্রিবিউটর (Distributor):

  • সংজ্ঞা: ডিস্ট্রিবিউটর হলো ফিডার থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণকারী এবং গ্রাহকদের সার্ভিস মেইনের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী ট্যাঁপিং যুক্ত পরিবাহী
  • ট্যাঁপিং: ডিস্ট্রিবিউটর থেকে অনেকগুলো ট্যাঁপিং বা শাখা সংযোগ নেওয়া হয়, যার মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহক বা লোড সংযুক্ত হয়।
  • কারেন্ট প্রবাহ: ডিস্ট্রিবিউটরের সমস্ত দৈর্ঘ্য বরাবর কারেন্টের মান বিভিন্ন হয়, কারণ বিভিন্ন ট্যাঁপিং পয়েন্ট থেকে লোড কারেন্ট নেওয়া হয়। উৎস থেকে দূরত্বের সাথে সাথে কারেন্টের মান কমতে থাকে।
  • উদ্দেশ্য: গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিতরণ করা এবং প্রতিটি গ্রাহকের জন্য পর্যাপ্ত ভোল্টেজ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

সংক্ষেপে, ফিডার বিদ্যুৎকে পরিবহন করে, আর ডিস্ট্রিবিউটর সেই বিদ্যুৎকে গ্রাহকদের কাছে বিতরণ করে

৩৭. প্রশ্ন: ডিফারেনশিয়াল রীলে কি?

উত্তর:
ডিফারেনশিয়াল রিলে (Differential Relay) হলো এক ধরনের দিকনির্দেশক প্রতিরক্ষামূলক রিলে যা দুই বা ততোধিক ইলেকট্রিক্যাল মান (যেমন কারেন্ট বা ভোল্টেজ) এর ভেক্টর পার্থক্যকে শনাক্ত করে কাজ করে। যখন এই ভেক্টর পার্থক্য একটি পূর্বনির্ধারিত (সেট করা) মানের চেয়ে বেশি বা কম হয়, তখন রিলেটি সক্রিয় হয়ে সিস্টেম বা ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

এই রিলে সাধারণত ট্রান্সফরমার, জেনারেটর, বাসবার ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির অভ্যন্তরীণ ফল্ট থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হয়। এটি যন্ত্রপাতির ইনপুট ও আউটপুট কারেন্টের মধ্যেকার পার্থক্য পরিমাপ করে। যদি এই পার্থক্য একটি নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে যায়, যা যন্ত্রপাতির অভ্যন্তরে ফল্ট নির্দেশ করে, তখন রিলেটি সার্কিট ব্রেকারকে ট্রিপ করার সংকেত দেয়, ফলে যন্ত্রপাতিটি সিস্টে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ফল্ট কারেন্টের শুধুমাত্র প্রতিরক্ষাধীন অঞ্চলের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখানো এবং বাইরের ফল্টের জন্য সাড়া না দেওয়া।

৩৮. প্রশ্ন: ডায়োড কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর:
ডায়োড (Diode) হলো একটি দুই টার্মিনাল বিশিষ্ট সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস যা তড়িৎ প্রবাহকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত দিকের প্রবাহকে বাধা প্রদান করে। এর নামকরণ করা হয়েছে “ডাই” (দুই) এবং “ইলেকট্রোড” এর সমন্বয়ে। আরও স্পষ্ট ভাষায়, একটি ডায়োড মূলত একটি পিএন জংশন নিয়ে গঠিত যা একমুখী কারেন্ট প্রবাহ (রেক্ট্রিফিকেশন) সৃষ্টি করতে সক্ষম।

ডায়োডের প্রকারভেদ:
ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে বহুল ব্যবহৃত ডায়োডগুলো বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে, তাদের কার্যকারিতা এবং প্রয়োগের উপর ভিত্তি করে। প্রধান প্রকারগুলো হলো-

  1. জেনার ডায়োড (Zener Diode): এটি রিভার্স বায়াসে একটি নির্দিষ্ট ভোল্টেজ (জেনার ভোল্টেজ) অতিক্রম করলে কারেন্ট প্রবাহিত হতে দেয় এবং ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
  2. লাইট ইমিটিং ডায়োড (LED – Light Emitting Diode): ফরওয়ার্ড বায়াসে চালিত হলে এটি আলো উৎপন্ন করে।
  3. সেভেন সেগমেন্ট ডায়োড (LED Display): এটি বিভিন্ন এলইডি ডায়োডের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিসপ্লে যা সংখ্যা বা অক্ষর প্রদর্শনে ব্যবহৃত হয়।
  4. ফটো ডায়োড (Photo Diode): এটি আলোর প্রতিফলনে কাজ করে; আলো পড়লে এটি কারেন্ট উৎপন্ন করে। এটি আলোক শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়।
  5. টানেল ডায়োড (Tunnel Diode): এটি একটি উচ্চ গতি সম্পন্ন ডায়োড যা নেগেটিভ রেজিস্ট্যান্স বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে এবং হাই-ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে ব্যবহৃত হয়।
  6. ভ্যারাক্টর ডায়োড (Varactor Diode): এটি ভোল্টেজের সাথে তার ক্যাপাসিট্যান্স পরিবর্তন করে এবং টিউনিং সার্কিটগুলিতে ব্যবহৃত হয়।
  7. স্কটকি ডায়োড (Schottky Diode): এর ফরওয়ার্ড ভোল্টেজ ড্রপ কম এবং সুইচিং গতি খুব দ্রুত, যা হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেক্ট্রিফায়ারগুলিতে ব্যবহৃত হয়।
  8. ভ্যারিস্টার ডায়োড (Varistor Diode): এটি ভোল্টেজের উপর নির্ভরশীল রোধক যা ভোল্টেজ সার্জ থেকে সার্কিটকে রক্ষা করে।

ব্যবহারের দিক থেকে ডায়োড প্রধানত দুই প্রকার: অন গেইট (On Gate) এবং নট গেইট (Not Gate)। একটি ডায়োডের এক প্রান্ত অন গেইট এবং অপর প্রান্ত নট গেইট হিসেবে কাজ করে, যা কারেন্টকে একদিকে প্রবাহিত হতে বা না হতে দেয়।

৩৯. প্রশ্ন: ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের জন্য কপার অপেক্ষা A.C.S.R তার ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর:
ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের জন্য কপার (Copper) তারের পরিবর্তে A.C.S.R (Aluminum Conductor Steel Reinforced) তার ব্যবহার করার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে-

  1. ওজনে হালকা: সমান রোধ সম্পন্ন কপারের তুলনায় A.C.S.R কন্ডাকটরের ব্যাস বেশি হলেও এটি ওজনে অনেক হালকা। এর ফলে টাওয়ার বা পোল নির্মাণের খরচ কমে যায় এবং লাইনের উপর চাপ কম পড়ে।
  2. উচ্চ টান সহন ক্ষমতা: A.C.S.R তারের মাঝখানে স্টিলের কোর (Steel Core) থাকার কারণে এর সর্বোচ্চ টান সহন ক্ষমতা (tensile strength) কপারের তুলনায় অনেক বেশি। এটি তারকে লম্বা স্প্যান জুড়ে টান টান করে স্থাপন করতে এবং ঝড়ো হাওয়া বা বরফ পড়ার মতো প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করতে সাহায্য করে।
  3. খরচ কার্যকর: যদিও A.C.S.R তার কপারের চেয়ে আয়তনে বড় হয়, এর ওজন কম এবং অ্যালুমিনিয়ামের দাম তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়ায় এটি অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভজনক
  4. করোশন রেজিস্ট্যান্স: অ্যালুমিনিয়ামের করোশন রেজিস্ট্যান্স (ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা) ভালো হওয়ায় এটি বহিরাঙ্গনের ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।

এই কারণগুলোর জন্য, দীর্ঘ দূরত্বের বিদ্যুৎ পরিবহন এবং বিতরণের ক্ষেত্রে A.C.S.R তার কপারের চেয়ে বেশি ব্যবহার উপযোগী এবং কার্যকর প্রমাণিত হয়।

৪০. প্রশ্ন: ট্রান্সফরমারের বৈশিষ্ট্যগুলো কী?

উত্তর:
ট্রান্সফরমার (Transformer) হলো একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা ফ্রিকোয়েন্সি না পরিবর্তন করে এক এসি সার্কিট থেকে অন্য এসি সার্কিটে বৈদ্যুতিক শক্তি স্থানান্তর করে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ-

  1. বৈদ্যুতিক সংযোগবিহীন শক্তি স্থানান্তর: ট্রান্সফরমার তার উভয় কয়েলের (প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি) মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই বৈদ্যুতিক এনার্জি এক বর্তনী হতে অন্য বর্তনীতে স্থানান্তর করে।
  2. ফ্রিকোয়েন্সি অপরিবর্তিত থাকে: এই শক্তি স্থানান্তরের সময় উভয় কয়েলের ফ্রিকোয়েন্সি সবসময় সমান থাকে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যা একে অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে আলাদা করে।
  3. ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন নীতি: ট্রান্সফরমার ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন (তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ) নীতিতে কাজ করে, যেখানে পরিবর্তিত চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা ভোল্টেজ আবিষ্ট হয়।
  4. অভিন্ন আয়রন কোর: এর কয়েলদ্বয় একটি অভিন্ন আয়রন কোর দ্বারা চুম্বকীয়ভাবে সংযুক্ত থাকে, যা চৌম্বক প্রবাহের পথ তৈরি করে।
  5. কেভিএ পাওয়ার সমান থাকে: আদর্শ ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে উভয় কয়েলের কেভিএ (kVA) পাওয়ার সবসময় সমান থাকে, যা ইনপুট পাওয়ার এবং আউটপুট পাওয়ারের প্রায় সমানুপাতিক।
  6. প্যাঁচ সংখ্যা ও সাইজের উপর নির্ভরশীলতা: কয়েলদ্বয়ের ভোল্টেজ এবং কারেন্টের পরিমাণ তাদের প্যাঁচ সংখ্যার (turns ratio) এবং তারের সাইজের উপর নির্ভর করে। উচ্চ ভোল্টেজের জন্য বেশি প্যাঁচ এবং কম কারেন্ট, আর কম ভোল্টেজের জন্য কম প্যাঁচ এবং বেশি কারেন্ট প্রয়োজন হয়।

৪১. প্রশ্ন: টরোয়েড বা টরয়েড ট্রান্সফর্মার কি?

উত্তর:
টরোয়েড (Toroid) শব্দটি ইংরেজি “Torus” থেকে এসেছে, যার অর্থ গোলাকার রিং বিশেষ। এই নামটি থেকেই টরোয়েড ট্রান্সফর্মার (Toroidal Transformer) শব্দটি এসেছে। এই ধরনের ট্রান্সফর্মার মূলত সাধারণ ট্রান্সফর্মারের মতোই একই ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন নীতিতে কাজ করে থাকে। তবে, এর বিশেষত্ব হলো এর গোল বা রিং আকৃতির কোর ডিজাইন

টরোয়েড ট্রান্সফর্মার তার এই রিং আকৃতির কোরের কারণে কিছু সুবিধা প্রদান করে, যেমন- উচ্চ দক্ষতা, কম চৌম্বকীয় বিকিরণ (electromagnetic interference – EMI) এবং কম্প্যাক্ট ডিজাইন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো এটিকে অডিও অ্যামপ্লিফায়ার, মেডিকেল সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে জনপ্রিয় করে তোলে, যেখানে শব্দ কমানো এবং স্থানের ব্যবহার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।

৪২. প্রশ্ন: চিকন জি-আই পাইপ দিয়ে আর্থিং করলে কেমন হবে?

উত্তর:
চিকন জি-আই (গ্যালভানাইজড আয়রন) পাইপ দিয়ে আর্থিং করা খুব একটা আদর্শ পদ্ধতি নয়, কারণ এর আর্থ রেজিস্ট্যান্সের মান নিরাপদ সীমার বাইরে চলে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। আর্থিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো অতিরিক্ত বা লিকেজ কারেন্টকে নিরাপদে মাটিতে প্রবাহিত করে বৈদ্যুতিক শক থেকে মানুষ ও সরঞ্জামকে রক্ষা করা।

একটি ভালো আর্থিং সিস্টেমের জন্য আর্থ রেজিস্ট্যান্সের মান অত্যন্ত কম (৫ ওহম এর নিচে) হওয়া আবশ্যক, বিশেষ করে বাসা-বাড়ি, দোকান বা অন্যান্য লো-ভোল্টেজ (২২০/৪৪০ ভোল্ট) গ্রাহকদের জন্য। চিকন পাইপ পর্যাপ্ত সংযোগ এলাকা সরবরাহ করতে পারে না, যার ফলে মাটির সাথে এর যোগাযোগ কম হয় এবং রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায়। এছাড়াও, জি-আই পাইপ সময়ের সাথে সাথে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে, যা আর্থিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা হ্রাস করে।

আর্থিংয়ের কাজটি অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ ইলেক্ট্রিশিয়ানের মাধ্যমে করানো উচিত, যিনি সঠিক মাপের পাইপ (যেমন, মোটা জি-আই পাইপ বা কপার রড), পর্যাপ্ত গভীরতা এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করবেন যাতে প্রয়োজনীয় আর্থ রেজিস্ট্যান্স নিশ্চিত হয়। যেসব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বহিরাবরণ ধাতুর তৈরি, সেগুলোর জন্য বডি আর্থিং করা বাধ্যতামূলক।

৪৩. প্রশ্ন: কেন উচ্চ ভোল্টেজে AC সরবরাহ করা হয়?

উত্তর:
বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় AC (অল্টারনেটিং কারেন্ট) উচ্চ ভোল্টেজে সরবরাহ করার প্রধান কারণ হলো পাওয়ার লস কমানো এবং সংক্রমণ খরচ কমানো। এর মূল ব্যাখ্যাটি পাওয়ারের সূত্র থেকে আসে-

আমরা জানি, পাওয়ার (P) = ভোল্টেজ (V) x কারেন্ট (I)। এই সূত্র অনুযায়ী, একই পরিমাণ পাওয়ার (P) বজায় রাখতে চাইলে যদি ভোল্টেজ (V) বাড়ানো হয়, তাহলে কারেন্টের (I) পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে।

উচ্চ ভোল্টেজে AC সরবরাহের সুবিধাগুলো নিম্নরূপ-

  1. পাওয়ার লস হ্রাস (Reduced Power Loss): বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় তারের মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হলে তাপ উৎপন্ন হয়, যা পাওয়ার লস (ক্ষতি) হিসেবে পরিচিত। এই লস কপার লস বা I2R লস নামে পরিচিত, যেখানে I হলো কারেন্ট এবং R হলো তারের রোধ। যেহেতু উচ্চ ভোল্টেজে কারেন্টের পরিমাণ কমে যায়, তাই I2R লসও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে জেনারেটিং স্টেশন থেকে গ্রাহক পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিবহনে শক্তির অপচয় কম হয়।
  2. ক্যাবল খরচ কমানো (Reduced Cable Cost): কারেন্টের পরিমাণ কম হলে পরিবাহী তারের ক্ষেত্রফল (পুরুত্ব) কম ব্যবহার করা যায়। চিকন তারের দাম মোটা তারের চেয়ে কম হয়। সুতরাং, ট্রান্সমিশন ভোল্টেজ বৃদ্ধি করে কারেন্ট কমিয়ে দিলে সামগ্রিক ট্রান্সমিশন ক্যাবলের খরচ অনেক কমে আসে।
  3. ভোল্টেজ ড্রপ কমানো (Reduced Voltage Drop): কারেন্ট প্রবাহ কম হলে ট্রান্সমিশন লাইনের আড়াআড়িতে ভোল্টেজ ড্রপও কম হয়। এটি নিশ্চিত করে যে গ্রাহক প্রান্তে পর্যাপ্ত ভোল্টেজ পাওয়া যায়।
  4. দক্ষতা বৃদ্ধি (Increased Efficiency): সামগ্রিকভাবে, উচ্চ ভোল্টেজে বিদ্যুৎ পরিবহন করলে সিস্টেমের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিকভাবেও এটি বেশি কার্যকর হয়।

এই সকল বিষয় বিবেচনা করে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে দূরবর্তী স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উচ্চ ভোল্টেজে AC ব্যবহার করা হয়। ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে সহজেই AC ভোল্টেজকে স্টেপ-আপ (বৃদ্ধি) বা স্টেপ-ডাউন (হ্রাস) করা যায়, যা DC এর ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

৪৪. প্রশ্ন: কৃষিখাতে একজন তড়িৎ প্রকৌশলীর ভূমিকা কি?

উত্তর:
কৃষিখাতে একজন তড়িৎ প্রকৌশলীর অবদান বেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অনেকের কাছে অজানা। বাংলাদেশে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরগুলোতে তড়িৎ প্রকৌশলী নিয়োগ করা হয়। কৃষিখাতে একজন তড়িৎ প্রকৌশলীর প্রধান কাজগুলো হলো-

  1. সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন: ইরিগেশন সিস্টেমের জন্য সোলার প্যানেল ডিজাইন করা এবং এতে ব্যবহৃত মোটরের বিভিন্ন প্রকার ট্রাবলশুটিং ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা।
  2. বীজ ও পণ্য সংরক্ষণ: বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
  3. কৃষিতে অটোমেশন: কৃষিক্ষেত্রে অটোমেশন টেকনোলজির ব্যবহার নিশ্চিত করা, যেমন – স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থা (অটো ইরিগেশন) এবং অটোমেটিক বীজতলা তৈরি (অটো সীড বেড প্রিপারেশন) সিস্টেম স্থাপন ও পরিচালনা।
  4. বিদ্যুতায়ন নকশা: কৃষি অফিসের বিভিন্ন ভবনের বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থার নকশাচিত্র তৈরি করা এবং তার বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধান করা।

এগুলো ছাড়াও, কৃষিখাতে আরও অনেক প্রযুক্তিগত কাজ রয়েছে যেখানে একজন তড়িৎ প্রকৌশলী তার দক্ষতা প্রয়োগ করে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে সহায়তা করেন।

৪৫. প্রশ্ন: ওভার হেড লাইনের জন্য সাধারণত কি কি কন্ডাক্টর ব্যবহার করা হয়?

উত্তর:
ওভারহেড (overhead) বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের জন্য সাধারণত বেশ কিছু প্রকারের কন্ডাক্টর (পরিবাহী) ব্যবহার করা হয়, যা তাদের বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। প্রধানত ব্যবহৃত কন্ডাক্টরগুলো হলো-

  • স্টিল কোরড অ্যালুমিনিয়াম (Steel Cored Aluminium – ACSR): এটি সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত কন্ডাক্টর। এর কেন্দ্রে ইস্পাতের তার থাকে যা উচ্চ টান সহন ক্ষমতা প্রদান করে, এবং এর চারপাশে অ্যালুমিনিয়ামের তার থাকে যা বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিশ্চিত করে। এটি হালকা ও শক্তিশালী হওয়ায় দীর্ঘ স্প্যান এবং উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের জন্য আদর্শ।
  • কপার (Copper): এটি একটি excelente পরিবাহী হলেও এর উচ্চ দাম এবং বেশি ওজনের কারণে বর্তমানে ওভারহেড লাইনে এর ব্যবহার কমে গেছে।
  • অ্যালুমিনিয়াম (All-Aluminum Conductor – AAC): এটি শুধুমাত্র অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি, যা হালকা এবং সাশ্রয়ী। তবে এর টান সহন ক্ষমতা ACSR এর চেয়ে কম।
  • গ্যালভানাইজড স্টিল কন্ডাক্টর (Galvanized Steel Conductor): এটি মূলত গ্যালভানাইজড ইস্পাত দিয়ে তৈরি, যা উচ্চ টান সহন ক্ষমতা প্রদান করে এবং সাধারণত আর্থ ওয়্যার বা স্টে ওয়্যার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কম।

এছাড়া কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন – যেখানে উচ্চ যান্ত্রিক শক্তি বা বিশেষ পরিবাহিতা প্রয়োজন, সেখানে ফসফর ব্রোঞ্জ, কপার ক্ল্যাড, ক্যাডমিয়াম কপার ইত্যাদি তারও ব্যবহার করা হয়।

৪৬. প্রশ্ন: IPS কাকে বলে?

উত্তর:
IPS এর পূর্ণ নাম হলো Instant Power Supply অর্থাৎ তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ। এটি এমন একটি ইলেকট্রিক্যাল ডিভাইস যা বিদ্যুৎশক্তি সঞ্চয় করে রাখতে পারে এবং বিদ্যুৎ না থাকা অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন প্রকার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে পারে।

IPS সাধারণত ৮ থেকে ১০ মিলিসেকেন্ডের ভিতরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে, যা এটিকে লোড শেডিং বা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সময় খুবই কার্যকর করে তোলে। এই ডিভাইসের সাহায্যে আমরা সাধারণত লাইট, ফ্যান, টেলিভিশন এবং অন্যান্য ছোটখাটো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালাতে পারি। এটি বাসা-বাড়ি এবং ছোট অফিসের জন্য একটি সুবিধাজনক ব্যাকআপ পাওয়ার সোর্স হিসেবে কাজ করে।

৪৭. প্রশ্ন: এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে কোনটা বেশি বিপদজনক?

উত্তর:
সাধারণ ধারণার বিপরীতে, একই মানের ভোল্টেজে AC (অল্টারনেটিং কারেন্ট) ডিসি (ডাইরেক্ট কারেন্ট) এর চেয়ে বেশি বিপজ্জনক এবং প্রাণঘাতী। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, বিশেষ করে ৫০/৬০ Hz ফ্রিকোয়েন্সির ক্ষেত্রে-

  1. শারীরিক প্রভাব: ইলেকট্রিক শক হলো এক ধরনের অনুভূতি যা আমাদের দেহের ভেতর দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার কারণে ঘটে। শকের তীব্রতা কারেন্টের ধরন (এসি/ডিসি), ফ্রিকোয়েন্সি, ভোল্টেজের মাত্রা, দেহের মধ্য দিয়ে প্রবাহের পথ এবং প্রবাহের সময়কালের উপর নির্ভর করে। ৫০/৬০ Hz ফ্রিকোয়েন্সির AC শকের অনুভূতি ডিসি এর তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বেশি। এই ফ্রিকোয়েন্সি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের সিগন্যালিং এবং হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন (৬০-১০০ Hz) এর সাথে মিলে যায়, ফলে এটি সরাসরি পেশী নিয়ন্ত্রণকে ব্যাহত করে।
  2. পেশীর নিয়ন্ত্রণ হারানো: AC কারেন্টের প্রবাহে একজন ব্যক্তি তার পেশীর উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে, যার ফলে ইচ্ছা থাকলেও বিদ্যুতায়িত বস্তু থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে না। ডিসি কারেন্টের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।
  3. কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট: ৫০-৬০ Hz AC কারেন্টের নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রবাহ হৃৎপিণ্ডের নিয়মিত স্পন্দনকে নষ্ট করে দিতে পারে, যার ফলস্বরূপ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এবং মৃত্যু ঘটতে পারে।
  4. ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা: মানবদেহের ত্বক এবং গ্রাউন্ড ক্যাপাসিট্যান্সের মতো কাজ করে। এই গুণের কারণে AC কারেন্ট ত্বক থেকে গ্রাউন্ডে সহজে প্রবাহিত হতে পারে, কিন্তু ডিসি কারেন্ট এক্ষেত্রে বেশি বাধাপ্রাপ্ত হয়। দেহের মোট রেজিস্ট্যান্সের প্রায় ৯৯%ই থাকে ত্বকে (ড্রাই অবস্থায় ১০০,০০০ ওহম, যেখানে দেহের ভেতরের রেজিস্ট্যান্স প্রায় ৩০০ ওহম)। ত্বকে কোনো ক্ষত থাকলে কারেন্ট সরাসরি দেহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
  5. RMS বনাম পিক ভ্যালু: AC ভোল্টেজ/কারেন্ট সাধারণত RMS (Root Mean Square) মান হিসাবে পরিমাপ করা হয়, যেখানে ডিসি পিক বা ম্যাক্সিমাম ভ্যালুতে পরিমাপ করা হয়। আমরা জানি, V(peak) = ১.৪১৪২ x V(rms)। এর মানে হলো, যদি একজন ব্যক্তি ২২০V ডিসি-তে শক খায়, তাহলে সে ২২০V অনুভব করবে। কিন্তু যদি সে ২২০V AC-তে শক খায়, তাহলে সে সর্বোচ্চ ১.৪১৪২ x ২২০V = ৩১১V পর্যন্ত অনুভব করতে পারে। এই উচ্চতর পিক ভোল্টেজের কারণেই AC বেশি বিপজ্জনক।

উপরের চার্ট দেখলেও বোঝা যায় যে, একই পরিমাণে AC কারেন্ট (যেমন ৯mA) ডিসি কারেন্টের (৬২mA) চেয়ে অনেক বেশি বেদনাদায়ক এবং বিপজ্জনক হতে পারে। তাই, ৫০-৬০Hz AC কারেন্ট থেকে সর্বদা সাবধান থাকা উচিত।

অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইন্ডাকশন মোটর কি, প্রকারভেদ,সুবিধা ও অসুবিধা এবং ইন্ডাকশন মোটর টেস্ট

ইন্ডাকশন মোটর কি, প্রকারভেদ,সুবিধা ও অসুবিধা এবং ইন্ডাকশন মোটর টেস্ট

আলোচ্য বিষয়: (১) ইন্ডাকশন মোটর কি? (২) ইন্ডাকশন মোটরের প্রকারভেদ (৩) ইন্ডাকশন মোটর টেস্ট (৪) ইন্ডাকশন মোটরের সুবিধা ও অসুবিধা Read
সেমিকন্ডাক্টর কি, সেমিকন্ডাক্টর সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সেমিকন্ডাক্টর কি? সেমিকন্ডাক্টর সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

আলোচ্য বিষয়: (১) সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী কি? (২) সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইসসমূহ (৩) সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানসমূহ (৪) সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য (৫) ডোপিং কি ও কেন? (৫) সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহীর প্রকারভেদ (৭) ইনট্রিনসিক এবং এক্সট্রিনসিক সেমিকন্ডাক্টরের মধ্যে পার্থক্য (৯) p-type এবং n-type সেমিকন্ডাক্টরের মধ্যে পার্থক্য Read
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা আইসি এর প্রকারভেদ এবং সুবিধা-অসুবিধা

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা আইসি এর প্রকারভেদ এবং সুবিধা-অসুবিধা

আলোচ্য বিষয়: (১) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) কী? (২) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের (IC) ইতিহাস (৩) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের প্রকারভেদ (৪) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের সুবিধা ও অসুবিধা Read
ডায়োড কি এবং ডায়োড কিভাবে কাজ করে

ডায়োড কি এবং ডায়োড কিভাবে কাজ করে?

আলোচ্য বিষয়: (১) ডায়োড কি? (২) ডায়োডের প্রতীক (৩) ডায়োড যেভাবে কাজ করে (৪) ডায়োডের প্রকারভেদ (৫) ডায়োডের বৈশিষ্ট্য (৬) ডায়োডের ব্যবহার Read
সেমিকন্ডাক্টর কি, সেমিকন্ডাক্টর সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সেমিকন্ডাক্টর কি? সেমিকন্ডাক্টর সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

আলোচ্য বিষয়: (১) সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী কি? (২) সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইসসমূহ (৩) সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানসমূহ (৪) সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য (৫) ডোপিং কি ও কেন করা হয়? (৬) সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহীর প্রকারভেদ (৭) ইনট্রিনসিক এবং এক্সট্রিনসিক সেমিকন্ডাক্টরের মধ্যে পার্থক্য (৮) p-type এবং n-type সেমিকন্ডাক্টরের মধ্যে পার্থক্য Read
কোন কারেন্ট বেশি বিপজ্জনক, এসি না ডিসি

কোন কারেন্ট বেশি বিপজ্জনক, এসি না ডিসি?

আলোচ্য বিষয়: (১) কারেন্ট সম্পর্কে কিছু বেসিক নলেজ (২) মানুষ কেন কারেন্ট শক খায়? (৩) এসি এবং ডিসির মধ্যে কোনটি বেশি বিপজ্জনক? Read
ইলেকট্রিক সার্কিট কি, সার্কিট সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

ইলেকট্রিক সার্কিট কি? সার্কিট সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

আলোচ্য বিষয়: (১) ইলেকট্রিক সার্কিট কি? (২) ইলেকট্রিক সার্কিটের উপাদান সমূহ (৩) ইলেকট্রিক সার্কিটের প্রকারভেদ Read
ট্রান্সফরমার কি, ট্রান্সফরমারের গঠন এবং প্রকারভেদ

ট্রান্সফরমার কি? ট্রান্সফরমারের গঠন এবং প্রকারভেদ

আলোচ্য বিষয়: (১) ট্রান্সফরমার কি? (২) ট্রান্সফরমার এর গঠন (৩) ট্রান্সফরমারের প্রকারভেদ Read
৪৫+ সাধারন ইলেকট্রিক্যাল প্রশ্নের উত্তর

৪৫+ সাধারন ইলেকট্রিক্যাল প্রশ্নের উত্তর

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এর মৌলিক ধারণাগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। বিদ্যুৎ, সার্কিট, ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষার্থী, টেকনিশিয়ান এবং সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগে। এই ব্লগে আমরা ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ের উপর ৪৫টিরও বেশি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব, যা শিক্ষানবিস থেকে পেশাদার সকলের জন্য সহজবোধ্য এবং ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করবে। এই প্রশ্নোত্তরগুলো আপনার ইলেকট্রিক্যাল জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ১. প্রশ্ন: একটি ডিসি জেনারেটর পূর্ণ স্পিডে ঘুরছে, কিন্তু কোন ভোল্টেজ উৎপন্ন হচ্ছে না – কারণ কি? উত্তর: একটি ডিসি জেনারেটর পূর্ণ গতিতে ঘোরার পরেও ভোল্টেজ উৎপন্ন না হওয়ার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর প্রধান কারণগুলো হলো: ফিল্ডে রেসিডুয়াল ম্যাগনেটিজমের অভাব, ফিল্ড বা আর্মেচার কয়েলে ওপেন সার্কিট, কার্বন ব্রাশের কম্যুটেটরের সাথে সংযোগ না থাকা, অথবা Read
১০+ বেসিক কিছু মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশ্নোত্তর

১০+ বেসিক কিছু মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশ্নোত্তর

নিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং একটি বিস্তৃত এবং গতিশীল ক্ষেত্র যা যন্ত্র, শক্তি এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। নতুন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পেশাদার ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য মৌলিক ধারণাগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্লগে আমরা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব, যেমন হাইড্রোস্ট্যাটিক লক, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প, বিয়ারিং, সুপার চার্জার এবং ইঞ্জিনের পাওয়ারের মতো বিষয়। এই প্রশ্নোত্তরগুলো শিক্ষানবিস এবং আগ্রহী পাঠকদের জন্য সহজে বোধগম্য এবং তথ্যবহুল হবে। ১. প্রশ্ন: হাইড্রোস্ট্যাটিক লক কি? উত্তর: একটি ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিনে চারটি স্ট্রোক থাকে যথা সাকশন, কম্প্রেশন, পাওয়ার এবং এক্সহস্ট। সাকশন স্ট্রোকে কম্প্রেশন চেম্বারে বাতাস নির্গত হওয়ার সাথে অথবা শুধু লিকুইড প্রবেশ করলে হাইড্রোস্ট্যাটিক লক হয়। কারণ লিকুইড কমপ্রেসড হয় না। হাইড্রোস্ট্যাটিক লক হওয়ার কারণে যে সকল যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তা হলো- পিস্টন, কানেকটিং রড, Read