সোনাঃ সোনার বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহার

informationbangla.com default featured image compressed

সোনা বা স্বর্ণ (Gold) একটি রাসায়নিক উপাদান। এটি প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাই প্রাচীনকালে মানুষ এটিকে সহজে খুঁজে পায় আর নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে থাকে। আগেকার মানুষ সোনা দিয়ে গহনা বানানোর পাশাপাশি ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করত। সোনা যাতে মূল্যবান ধাতু তা তখন থেকেই মানুষ বোঝা শুরু করেছিল। তখন তারা সোনাকে টাকার পরিবর্তে ব্যবহার করত।

Au হলো সোনার রাসায়নিক প্রতীক। এটি ল্যাটিন শব্দ Aurum থেকে এসেছে, যার অর্থ “উজ্জ্বল ভোর” বা “উজ্জ্বল আলো”।

(১) যেখানে সোনার সন্ধান পাওয়া যায়

পৃথিবীতে শোনা সাধারণত শিলা আকারে পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিলাতে সোনার পরিমাণ এত কম যে এটি খালি চোখে দেখা যায় না। যেসব শিলাতে সোনা পাওয়া যায় সেসব শীলাতে আবার তামা এবং সিসা ও পাওয়া যায়। তাই তামা বা সিসা আহরণের পদ্ধতি অনুসারেই আহরণ করা হয়।

কোন কোন জায়গায় আবার সোনার খনি ও পাওয়া যায়। খুনি তখনই পাওয়া যায় যখন অনেক অনেক বছর ধরে একই জায়গায় শিলা জমা হতে থাকে। প্রাচীনকালে সোনা নদীতে ভেসে যেতে দেখা যেত। এক বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে সাউথ আফ্রিকা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, চীন এবং পেরো হচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ সোনা উৎপাদনকারী দেশ।

(২) সোনার বৈশিষ্ট্য

সোনা খুব নরম। তাই এটিকে সহজেই বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। সোনা খুব ভাল বিদ্যুৎ পরিবাহী হিসেবেও কাজ করে।

পারমাণবিক সংখ্যা:79
পারমাণবিক ভর:196.96657
গলনাঙ্ক:1,063° C (1,945° F)
স্ফুটনাঙ্ক:2,966° C (5,371° F)
আপেক্ষিক গুরুত্ব:19.3 (20 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা 68 ডিগ্রি ফারেনহাইট এ)
জারণ অবস্থা:+1, +3
ইলেকট্রনের গঠন:[Xe] 4f145d106s1

(৩) সোনার ব্যবহার

প্রাচীন কাল থেকেই সোনা সুন্দর সুন্দর জিনিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রাচীনকালে তৈরিকৃত অনেক জিনিসপত্র বর্তমানেও টিকে আছে। পৃথিবীর বিভিন্ন জাদুঘরে আপনি সেগুলো দেখতে পাবেন। বর্তমান সময়ে সোনার সহজলভ্যতা কমে যাওয়ায় এখন শুধু দামি দামি গহনা তৈরি কেবল এটি ব্যবহার করা হয়।

সোনা খুব নরম হয় এটি দিয়ে গহনা তৈরির সময় অন্য ধাতুর সাথে মিশ্রিত করা হয়। সোনা, অন্য ধাতুর সাথে মিশ্রিত হয়েছে সংমিশ্রন তৈরি করে তাকে Alloy বলে। সোনার Alloy তৈরি করতে সোনার সাথে রূপা (Silver), তামা (Copper), দস্তা বা জিংক (Zinc) ইত্যাদি মেশানো হয়। এই মিশ্রণের পরিমাণকে ক্যারেট বলা হয়। মিশ্রণকে ২৪ ভাগে ভাগ করা হয়। তাই ২৪ ক্যারেট সোনা হচ্ছে খাঁটি সোনা

২২ ক্যারেট সোনা বলতে বুঝায়, সোনার ২২ ভাগ খাঁটি সোনা এবং বাকি ২ ভাগ অন্য ধাতু।

১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রে, ৭৫ পার্সেন্ট হচ্ছে খাঁটি সোনা বাকি ২৫ ভাগ অন্য কোন ধাতু যেমন রূপা বা তামা।

ইলেকট্রনিক শিল্পেও স্বর্ণের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এর কারণ হচ্ছে সোনার সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী। সোনার পাতলা চীড় সূর্য থেকে আসা রেডিয়েশন প্রতিফলিত করতে পারে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য স্যাটেলাইটের সোনার ব্যবহার হয়ে থাকে।

অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পদ কাকে বলে, পদ কত প্রকার ও কি কি, উদাহরণসহ পদের শ্রেণীবিভাগ

পদ কাকে বলে? পদ কত প্রকার ও কি কি? উদাহরণসহ পদের শ্রেণীবিভাগ

আলোচ্য বিষয়: (১) পদ কাকে বলে? (২) পদ কত প্রকার ও কি কি? (৩) বিশেষ্য পদ (৪) বিশেষণ পদ (৫) সর্বনাম পদ (৬) ক্রিয়া পদ (৭) অব্যয় পদ Read
অর্থনীতি কাকে বলে

অর্থনীতি কাকে বলে?

আলোচ্য বিষয়: নিম্নে অর্থনীতি কাকে বলে, এর সংঙ্গাসমূহ তুলে ধরা হলো- Read
রেখা কাকে বলে

রেখা কাকে বলে?

আলোচ্য বিষয়: (১) রেখা কাকে বলে? (২) রেখার প্রকারভেদ (৩) সমান্তরাল রেখা কাকে বলে? (৪) রেখার ব্যবহার (৫) রেখা ও রেখাংশের মধ্যে পার্থক্য Read
সারাংশ ও সারমর্ম লেখার নিয়ম

সারাংশ ও সারমর্ম লেখার নিয়ম

আলোচ্য বিষয়: (১) সারাংশ ও সারমর্ম লেখতে বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হয় (২) সারাংশ ও সারমর্ম এর মধ্যে পার্থক্য Read
সিলোম কি, সিলোম কত প্রকার ও কি কি, উৎপত্তি সহ উদাহরণ

সিলোম কি? সিলোম কত প্রকার ও কি কি? উৎপত্তি সহ উদাহরণ

আলোচ্য বিষয়: (১) সিলোম কি? (২) সিলোম কত প্রকার ও কি কি? (৩) সিলোমের উপর ভিত্তি করে বহুকোষী প্রানীর শ্রেণিবিন্যাস (৪) সিলোমের উৎপত্তি Read
সন্ধি কাকে বলে, সন্ধি কত প্রকার ও কি কি

সন্ধি কাকে বলে? সন্ধি কত প্রকার ও কি কি?

আলোচ্য বিষয়: (১) সন্ধি কাকে বলে? (২) সন্ধির প্রয়োজনীয়তা (৩) সন্ধির প্রকারভেদ/শ্রেণীবিভাগ Read
Paragraph A Winter Morning in Bangladesh (class 5- 12)

Paragraph: A Winter Morning in Bangladesh

Topic: Paragraph: A Winter Morning in Bangladesh for Class 6, Class 7, Class 8, Class 9, Class 10, SSC, HSC Exams.  Different numbers of word paragraphs about Winter Morning are presented below. Like 50-word, 100-word, 150-word, 200-word, 250-word, 300-word, 350-word etc. From there, you can read whichever is convenient and suitable for you. Let’s begin- Read
শব্দ ও পদের গঠন কিভাবে হয় শব্দ ও পদের কিছু পার্থক্য

শব্দ ও পদের গঠন কি ভাবে হয়? শব্দ ও পদের মধ্যকার কয়েকটি পার্থক্য

আলোচ্য বিষয়: (১) শব্দ ও পদের গঠন কি ভাবে হয়? (২) শব্দ ও পদের মধ্যকার কয়েকটি পার্থক্য Read
জীবনীশক্তি কি কাকে বলে, ATP এর পূর্ণরূপ কি, ATP কি কাকে বলে, ATP এর কাজ বা ভূমিকা কি

জীবনীশক্তি কি, কাকে বলে? ATP এর পূর্ণরূপ কি? ATP কি কাকে বলে? ATP এর কাজ বা ভূমিকা কি?

আলোচ্য বিষয়: নিম্নে জীবনীশক্তি কি কাকে বলে, ATP এর পূর্ণরূপ কি, ATP কি কাকে বলে, ATP এর কাজ বা ভূমিকা কি প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করা হলো- (১) জীবনীশক্তি কি কাকে বলে? (২) ATP এর পূর্ণরূপ কি? ATP কি কাকে বলে? (৩) জীবনীশক্তি ও ATP এর কাজ বা ভূমিকা Read
হাইড্রোজেন কি

হাইড্রোজেন কি?

আলোচ্য বিষয়: (১) হাইড্রোজেন কি/কাকে বলে? (২) অর্থো ও প্যারা হাইড্রোজেন কি? Read