হস্তমৈথুন পুরোপুরি ছেড়ে দিলে শরীরের ভেতর কী হয়?

কল্পনা করুন, গভীর রাত। আপনি বিছানায় শুয়ে ফোনে স্ক্রল করছেন। ভাবছেন আর মাত্র একটা ভিডিও দেখে ঘুমিয়ে পড়বেন। কিন্তু ঠিক তখনই মনের ভেতর একটা তীব্র ইচ্ছা বা ‘আবেগ’ কাজ করতে শুরু করল। আপনি ভাবলেন, একটু মাস্টারবেশন করলে হয়তো শরীরের উত্তেজনা কমবে, ঘুমটা ভালো হবে। কিন্তু কাজটা করার পর পরদিন সকালে আপনার কেমন যেন একটু অন্যরকম লাগে। কেউ কেউ বেশ ক্লান্ত বা লক্ষ্যহীন বোধ করেন, আবার কেউ কেউ অপরাধবোধে ভোগেন।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনি যদি এই অভ্যাসটি চিরতরে ছেড়ে দেন তবে আপনার শরীরে এবং মনে কী কী পরিবর্তন ঘটবে? ইন্টারনেটে ‘NoFap’ বা এই ধরনের অনেক আন্দোলন নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। কিন্তু বিজ্ঞান আসলে কী বলে? চলুন আজ এ বিষয়ে জেনে নিই।
১. হস্তমৈথুন ছাড়ে দিলে আপনার শরীর যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে
মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুনকে আমরা কেবল মনের ব্যাপার মনে করলেও, আমাদের শরীরও এতে সমানভাবে অংশ নেয়। আপনি যদি এটি বন্ধ করে দেন, তবে আপনার শরীর তার নিজস্ব নিয়মে চলবে।
- পুরুষদের ক্ষেত্রে: অনেকে ভাবেন বীর্য বা স্পার্ম বের না করলে তা হয়তো ভেতরে জমে থেকে ক্ষতি করবে। আসলে ব্যাপারটা তেমন নয়। শরীর অনেকটা ‘ক্লিনআপ ক্রু’ বা পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মতো বাড়তি স্পার্মগুলো আবার শুষে নেয়। তবে মাঝে মাঝে শরীর তার নিজস্ব পথে চলে, যাকে আমরা ‘স্বপ্নদোষ’ বা Wet Dream বলি। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিন বীর্যপাত করেন না, তাদের স্বপ্নদোষ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এটা শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
- নারীদের ক্ষেত্রে: নিয়মিত যৌন উত্তেজনা বা মাস্টারবেশন জরায়ু ও এর আশপাশের অঞ্চলে রক্ত চলাচল বাড়ায়, যা শরীরকে রিল্যাক্স বা শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এটি ছেড়ে দিলে কেউ কেউ কিছুটা মানসিক খিটখিটে ভাব বা কোমরের দিকে হালকা টান অনুভব করতে পারেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এটি শারীরিক ক্ষতির কারণ নয়। শরীর সচল রাখার আরও অনেক উপায় (যেমন ব্যায়াম) আছে।
২. মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন
মাস্টারবেশন করলে মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের সাময়িক আনন্দ দেয়। আপনি যখন এটি ছেড়ে দেবেন, তখন আপনার মস্তিষ্কে দুই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে:
- ভালো দিক: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যৌন তৃপ্তি থেকে সাময়িক বিরতি নিলে মানুষের কাজে মনোযোগ, অনুপ্রেরণা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ বিরতি দিলে শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়, যা আত্মবিশ্বাস ও এনার্জি বাড়িয়ে দিতে পারে।
- চ্যালেঞ্জিং দিক: উল্টো দিকে, দীর্ঘ বিরতির ফলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা স্ট্রেস বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। ২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা জোর করে এটি বন্ধ করার চেষ্টা করেন, তাদের মনে যৌন চিন্তা আরও বেশি করে ভিড় জমায়। অর্থাৎ আপনি যত বেশি আটকানোর চেষ্টা করবেন, মস্তিষ্ক তত বেশি ওই জিনিসের কথা মনে করিয়ে দেবে।
৩. সম্পর্কের ওপর প্রভাব
মাস্টারবেশন ছেড়ে দিলে কি আপনার রোমান্টিক জীবন ভালো হবে? এর উত্তর ব্যক্তিভেদে ভিন্ন।
- অনেকে মনে করেন, হস্তমৈথুন বন্ধ করলে তারা তাদের সঙ্গীর প্রতি বেশি মনোযোগী হতে পারেন এবং শারীরিক মিলন আরও আনন্দদায়ক হয়।
- অন্যদিকে, গবেষণার আরেকটি দিক বলছে, নিজের শরীর সম্পর্কে জানা (যা মাস্টারবেশনের মাধ্যমে হতে পারে) যৌন জীবনকে আরও সহজ ও সুন্দর করে তোলে। এটি পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।
৪. ইচ্ছাশক্তি বনাম মানসিক অস্থিরতা
ইন্টারনেটে অনেকে দাবি করেন যে মাস্টারবেশন ছেড়ে দিলে আপনি ‘সুপারম্যান’-এর মতো মনোযোগ পাবেন। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, জোর করে কোনো চিন্তা দমন করার চেষ্টা করলে উল্টো ফল হতে পারে। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খুব কড়াকড়িভাবে এই অভ্যাস বন্ধ করতে চেয়েছেন, তারা ওই চিন্তা নিয়েই বেশি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন।
মনে রাখবেন: আত্মনিয়ন্ত্রণ একটি দারুণ গুণ। তবে শুধু আনন্দ বর্জন করলেই আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়বে এমন নয়। ফোনের নোটিফিকেশন চেক না করে ৫ মিনিট বসে থাকতে পারাটাও কিন্তু বড় মাপের আত্মনিয়ন্ত্রণ!
সিদ্ধান্ত আপনার
মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুন পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া বা না দেওয়া—এটি সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
- যদি আপনি মনে করেন এই অভ্যাসের কারণে আপনার দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে বা আপনি সব সময় ক্লান্ত থাকছেন, তবে বিরতি নেওয়া আপনার জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
- কিন্তু যদি আপনি ভয়, লজ্জা বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নিজেকে কষ্ট দিয়ে এটি বন্ধ করতে চান, তবে তা মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো নিজের শরীরকে বোঝা এবং সুস্থ থাকা। আপনার লক্ষ্য যদি হয় নিজের উন্নতি, তবে যে পথটি আপনার মন ও শরীরের জন্য ভালো মনে হয়, সেটিই বেছে নিন।
আপনি কি কখনো ‘NoFap’ বা হস্তমৈথুন থেকে বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আমরা আপনার মতামত শুনতে আগ্রহী!
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।








