৩৫+ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশ্ন ও উত্তর

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আধুনিক বিশ্বের মেরুদণ্ড, যা আমাদের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, ব্যবসা এবং যোগাযোগের ধরণকে আমূল বদলে দিয়েছে। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার, এবং নেটওয়ার্কিংয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগে। এই ব্লগে আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্ন ও তাদের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব।
১. প্রশ্ন: ইউটিউব (YouTube) ডাউনলোড করব কীভাবে?
উত্তর:
ইউটিউব একটি অনলাইন ওয়েবসাইট যেখানে ভিডিও আপলোড ও শেয়ার করা হয়। এটি গুগল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং গুগলের মতোই একটি সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করে। ইউটিউব অ্যাপ ডাউনলোড করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন-

- ধাপ – ০১: প্রথমে আপনার মোবাইলের Google Play Store (অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারী হলে) অথবা App Store (আইফোন ব্যবহারকারী হলে) ওপেন করুন। সার্চ বারে “YouTube” লিখে সার্চ করুন।
- ধাপ – ০২: সার্চ রেজাল্টে ইউটিউব অ্যাপটি দেখতে পাবেন। সেটিতে ট্যাপ করে ডাউনলোড এবং ইনস্টল করুন।
- ধাপ – ০৩: ইনস্টল হয়ে গেলে, আপনার ফোনে ডাউনলোড করা ইউটিউব অ্যাপটি ওপেন করুন।
- ধাপ – ০৪: অ্যাপটি ওপেন করার পর আপনি ইউটিউবের হোমস্ক্রিন দেখতে পাবেন। সেখান থেকে সার্চ করে আপনার পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও দেখতে পারবেন।
এভাবেই আপনি খুব সহজে ইউটিউব অ্যাপ ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।
২. প্রশ্ন: পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (প্যান/PAN) কি? এর বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা?

উত্তর:
পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) হলো এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যেটি ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। PAN এর পূর্ণরূপ হলো – Personal Area Network।
এর ব্যাপ্তি সাধারণত ১০ মিটার বা তার থেকে সামান্য কিছু বেশি সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন – কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল, ডিজিটাল ক্যামেরা, ওয়েব ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম, PDA, স্ক্যানার ইত্যাদির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে একজনের ব্যবহার উপযোগী যে নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, তাকেই পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান (PAN) বলে।
এটি একটি একক নেটওয়ার্ক যা সাধারণত ওয়াইফাই বা ব্লুটুথের মাধ্যমে একটি বাড়ি বা রুমের মধ্যে স্থাপন করা হয়। এই নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে ওয়্যারলেস মিডিয়াম (Wi-Fi, Bluetooth) বা তারযুক্ত মিডিয়াম (USB, Firewire Bus) ব্যবহার করা হয়। এই নেটওয়ার্কের ডাটা আদান-প্রদানের গতি ০-১০ Mbps পর্যন্ত হতে পারে। তারবিহীন নেটওয়ার্ক হলে তাকে Wireless Personal Area Network (WPAN) বলে।
পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্কের (PAN) বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:
- পার্সোনাল কম্পিউটার ডিভাইসগুলোর মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- বাড়িতে বা অফিসে ব্যক্তিগত ছোট প্রয়োজনে এ নেটওয়ার্ক খুবই উপযোগী।
- খরচ কম।
- কম ঝামেলায় সহজেই যেকোনো জায়গায় তৈরি করা যায়।
- দ্রুত ডাটা আদান-প্রদানে বেশ সহায়ক।
- এর ব্যাপ্তি কয়েক মিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
- নয়েজের (Noise) প্রভাব পড়ে না।
- কম্পিউটার বাসসমূহ যেমন – USB বা ফায়ারওয়্যার এর মাধ্যমে তার দ্বারা যুক্ত থাকতে পারে।
- ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি দ্বারা একটি ওয়্যারলেস পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা WPAN তৈরি করা সম্ভব।
- অতি অল্প দূরত্বে এই নেটওয়ার্ক তৈরি করা যায়।
৩. প্রশ্ন: লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ল্যান/LAN) কি? এর বৈশিষ্ট্য/সুবিধা ও প্রকারভেদ?
উত্তর:
লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) এর পূর্ণরূপ হলো – Local Area Network। এটি একটি স্থানীয় অঞ্চলের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। একটি নির্দিষ্ট স্থানের কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেমন – কম্পিউটার, ফোন, বা প্রিন্টারকে একত্রিত করে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্ককে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলা হয়।
পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) ১/২ জন ব্যবহার করতে পারলেও, লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি আরও বেশি। এটি একটি একক নেটওয়ার্ক যা একই বিল্ডিংয়ের এক তলা থেকে অন্য তলায়, পাশাপাশি বিল্ডিংয়ে, বা একই এলাকার কম্পিউটারগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে একের অধিক লোকের কাজের সমন্বয় সাধন ও গতি বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়। ছোট বা মাঝারি অফিসের কম্পিউটার, প্রিন্টার, মডেম, স্ক্যানার ইত্যাদি ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। LAN-এর বিস্তৃতি PAN থেকে বড় হলেও, CAN (Campus Area Network) এবং WAN (Wide Area Network) এর তুলনায় অনেক ছোট। এর বিস্তৃতি কম হলেও রিপিটার ব্যবহার করে ১ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো যায়। এ নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল, কো-এক্সিয়াল ক্যাবল, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, রেডিও ওয়েভ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের (LAN) বৈশিষ্ট্য/সুবিধা:
- বর্তমানে এর মাধ্যমে সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ১ জিবি (Gigabit) পর্যন্ত গতিতে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়; তবে সাধারণ গতি ১০-১০০ Mbps পর্যন্ত হয়।
- এর কার্যক্রম সীমিত দূরত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- শ্রেণী সংযোগের মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো সংযুক্ত হয়।
- ছোট এলাকার মধ্যে এই নেটওয়ার্ক সহজেই তৈরি করা যায়।
- বিভিন্ন অফিসের কাজে নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য LAN সবচেয়ে ভালো।
- নেটওয়ার্ক স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ এবং খরচ কম।
- ব্যবহার করা সহজ।
- অনেক ডিভাইসে অ্যাকসেস পাওয়া যায়।
- রিপিটার, হাব, নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC) ব্যবহার করে নেটওয়ার্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো যায়।
- এ নেটওয়ার্কে কম্পিউটারসমূহ তার বা তারবিহীন সংযোগ প্রদান করা যায়।
লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের (LAN) প্রকারভেদ:
নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও সার্ভিস প্রদানের ধরণের উপর ভিত্তি করে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ককে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়-
- ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক (Client Server Network): একাধিক ডেডিকেটেড সার্ভারের সমন্বয়ে এ ধরনের নেটওয়ার্ক গঠিত হয়। এই ডেডিকেটেড সার্ভার ক্লায়েন্ট পিসির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস (যেমন – ফাইল, প্রিন্ট, মেসেজ, ডাটাবেজ, অ্যাপ্লিকেশন) প্রদান করে।
- পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক (Peer to Peer Network): এ ধরনের নেটওয়ার্কে প্রতিটি পিসি রিসোর্স শেয়ারিংয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এখানে কোনো ডেডিকেটেড সার্ভার থাকে না, ফলে পিসিগুলোর মধ্যে গুরুত্বের দিক থেকে কোনো শ্রেণীবিন্যাস নেই। প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা পিসি তার নিরাপত্তা বিধানে নিজেই দায়ী থাকে।
- মিশ্র বা হাইব্রিড নেটওয়ার্ক (Hybrid Network): মিশ্র বা হাইব্রিড নেটওয়ার্ক মূলত ক্লায়েন্ট সার্ভার ও পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত। সাধারণত এই নেটওয়ার্কে ক্লায়েন্ট সার্ভার অংশের প্রাধান্য বেশি থাকে, এবং এর পাশাপাশি অল্প পরিসরে পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের অংশও থাকে। এ প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার নোডগুলোকে সরাসরি কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের সাথে যুক্ত না করে বিশেষ স্থানে স্থাপন করা হয় এবং তারপর গতিশীল সংযোগ পথ দ্বারা সংযুক্ত করা হয়।
৪. প্রশ্ন: মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (ম্যান/MAN) কি? এর বৈশিষ্ট্য/সুবিধা?
উত্তর:
মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN) এর পূর্ণরূপ হলো – Metropolitan Area Network। এটি এমন একটি নেটওয়ার্ক যা কোনো বড় শহরের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বিস্তৃত কম্পিউটারসমূহের মধ্যে স্থাপিত হয়।
মেট্রোপলিটন এরিয়া বলতে একটি শহর বা ছোট অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়। এই ধরনের নেটওয়ার্ক ৫০-৭৫ মাইল বা ১০-৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এর ডাটা ট্রান্সফার স্পিড গিগাবিট পার সেকেন্ড। এই নেটওয়ার্কের জন্য মিডিয়া হিসেবে টেলিফোন লাইন, মডেম ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির দরকার হয়। সাধারণত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের শাখা অফিসগুলোর মধ্যে যোগাযোগের জন্য এ নেটওয়ার্ক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। একই শহরের মধ্যে অবস্থিত কয়েকটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের (LAN) সমন্বয়ে গঠিত ইন্টারফেসকে মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক বলা হয়। এ ধরনের নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো হলো রাউটার, সুইচ, মাইক্রোওয়েভ অ্যান্টেনা ইত্যাদি।
মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্কের (MAN) বৈশিষ্ট্য/সুবিধা:
- এর বিস্তৃতি ১০-৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- ল্যানের (LAN) চাইতে দ্রুত গতির।
- স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলকভাবে কম।
- বেশি পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।
- এর মালিকানা সাধারণত কোনো অর্গানাইজেশনের হয়ে থাকে।
৫. প্রশ্ন: ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (ওয়ান/WAN) কি? এর বৈশিষ্ট্য/সুবিধা?

উত্তর:
ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN) এর পূর্ণরূপ হলো – Wide Area Network।
ওয়ান বা ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক হচ্ছে কতগুলো কম্পিউটার বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের (LAN) একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা, যা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত হতে পারে। এর একটি প্রধান উদাহরণ হলো ইন্টারনেট, কারণ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) ব্যবহার করে এটি ছোট ছোট স্থানীয় নেটওয়ার্ক বা মেট্রো এলাকা নেটওয়ার্কের সংযোগ স্থাপন করে।
সহজ ভাষায়, WAN হলো এমন একটি নেটওয়ার্ক যা দুটি বা ততোধিক লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ককে (LAN) একটি বৃহত্তর ভৌগোলিক অঞ্চলে সংযুক্ত করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা দূরবর্তী স্থানে থেকেও একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে, ডেটা শেয়ার করতে এবং বিভিন্ন রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে। এটি একটি টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক যা একটি বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত, প্রায়শই শহর, দেশ বা এমনকি পুরো বিশ্ব জুড়ে বিস্তৃত হতে পারে।
এই নেটওয়ার্কের আওতায় কম্পিউটারগুলো কেবল একটি শহরে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে অথবা এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়েও থাকতে পারে। ওয়ানের পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে ফিজিক্যাল লাইন, ফাইবার অপটিক ক্যাবল, স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশন এবং মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশনের উপর। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ই-মেইল আদান-প্রদান করা, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা, ফাইল ডাউনলোড, অনলাইন শপিং ইত্যাদি করা যায়।
ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের (WAN) বৈশিষ্ট্য/সুবিধা:
- পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ইমেইল প্রেরণ করা যায়।
- অনলাইন শপিং করা যায়।
- ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধা পাওয়া যায়।
- বিভিন্ন তথ্য, পত্র-পত্রিকা, বই, চলচ্চিত্র প্রভৃতি সংগ্রহ ও ব্যবহার করা যায়।
- ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে বুলেটিন বোর্ড গঠন করা যায়।
- অল্প খরচে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে ভয়েস ও ভিডিও যোগাযোগ করা যায়।
- সমগ্র নেটওয়ার্ক বিশ্বকে টেবিলে বসে প্রত্যক্ষ করা যায় ইত্যাদি।
৬. প্রশ্ন: জিমেইল একাউন্ট/জিমেইল আইডি কিভাবে খুলবো?
উত্তর:
বর্তমানে প্রায় সব ক্ষেত্রেই জিমেইল একাউন্ট বা আইডির প্রয়োজন হয়, যেমন – ওয়েবসাইট তৈরি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, পিনটারেস্ট) খোলা ইত্যাদি। অনলাইনে কাজ করতে হলে আপনার অবশ্যই একটি ই-মেইল আইডি থাকা আবশ্যক। নিচে মোবাইল এবং ডেস্কটপ/কম্পিউটার উভয় দিয়েই জিমেইল একাউন্ট খোলার পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
মোবাইল দিয়ে জিমেইল একাউন্ট খুলবেন কীভাবে?
- জিমেইল অ্যাপ ইনস্টল: প্রথমে আপনার ফোনের অ্যাপ স্টোর (আইফোন) বা গুগল প্লে স্টোর (অ্যান্ড্রয়েড) থেকে জিমেইল অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিন, যদি না থাকে। এটি লাল রঙের ‘M’ অক্ষরের মতো দেখায়।
- অ্যাপ ওপেন ও সেটিংসে যান: জিমেইল অ্যাপটি ওপেন করে উপরের বামপাশের থ্রি ডট মেনুতে ট্যাপ করে ‘Settings’ এ যান।
- একাউন্ট যোগ করুন: ‘Add Account’ লেখায় প্রবেশ করুন।
- গুগল নির্বাচন: অনেকগুলো ই-মেইল প্রোভাইডারের নাম দেখতে পাবেন, সেখান থেকে ‘Google’ এ ট্যাপ করুন।
- একাউন্ট তৈরি: ‘Create account’ এ ট্যাপ করুন এবং ‘Next’ এ যান।
- ব্যবহারের উদ্দেশ্য: যদি ব্যক্তিগত একাউন্ট খুলতে চান, তাহলে ‘For Myself’ অপশনটি সিলেক্ট করে ‘Next’ এ চাপুন।
- নাম লিখুন: পরের পেইজে ‘First name’ অপশনে আপনার নামের ১ম অংশ এবং ‘Last name’ অপশনে নামের ২য় অংশ দিয়ে ‘Next’ করে দিন।
- জন্মতারিখ ও লিঙ্গ: আপনার জন্মতারিখ লিখুন এবং Gender (লিঙ্গ) পুরুষ হলে ‘Male’ এবং মহিলা হলে ‘Female’ সিলেক্ট করে ‘Next’ এ চাপুন।
- ইউজার নেম: এবার একটি ইউনিক জিমেইল ইউজার নেম সিলেক্ট করে ‘Next’ এ যান। এটি আপনার ই-মেইল ঠিকানার প্রথম অংশ হবে, যেমন – আপনার ইউজার নেম যদি হয়
isratreya07, তাহলে জিমেইল এড্রেস হবে[email protected]। - পাসওয়ার্ড দিন: জিমেইল আইডির জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিয়ে ‘Next’ এ চাপুন। পাসওয়ার্ডটি অবশ্যই সর্বনিম্ন ৮ অক্ষরের হতে হবে।
- ফোন নাম্বার যোগ (ঐচ্ছিক): ফোন নাম্বার যোগ করার অপশন আসবে। আপনি চাইলে ফোন নাম্বার যোগ করতে পারেন বা নাও করতে পারেন। তবে নাম্বার যোগ করলে জিমেইল পাসওয়ার্ড রিকভারি করতে সুবিধা হবে।
- ফোন নাম্বার ভেরিফাই: যদি ফোন নাম্বার যোগ করেন, তাহলে ‘Verify’ এ ট্যাপ করুন। গুগল থেকে একটি টেক্সট মেসেজ আসবে যার ৬ ডিজিটের কোডটি “Enter code” এ টাইপ করে ‘Next’ চাপুন। (যদি ফোন নাম্বার যোগ না করেন, এই ধাপটি এড়িয়ে যান)।
- শর্তাবলীতে সম্মতি: নিচে স্ক্রোল করে “I AGREE” এ ট্যাপ করুন।
- সম্পূর্ণ করুন: সবশেষে “Next” ট্যাপ করুন। এটি আপনার নতুন জিমেইল ইনবক্স খুলবে।
ডেস্কটপ/কম্পিউটারে জিমেইল আইডি খুলবেন কীভাবে?
- ধাপ ১: জিমেইল ওপেন করুন: আপনার ওয়েব ব্রাউজারে
https://mail.google.comলিখে ওপেন করুন। - ধাপ ২: একাউন্ট তৈরি: ‘Create account’ অপশনে ক্লিক করুন। এবার নতুন পেইজের “First Name” অপশনে আপনার নামের প্রথম অংশ এবং “Last Name” অপশনে আপনার নামের শেষ অংশ লিখুন।তারপর একটি Gmail ইউজার নেম তৈরি করুন। “Username” টেক্সট বক্সে, আপনি নিজের ই-মেইল ঠিকানাটির জন্য যে ব্যবহারকারীর নামটি ব্যবহার করতে চান তা টাইপ করুন। যেমন – isratreya07 (এই নামটি অবশ্যই ইউনিক হতে হবে) যা @gmail.com এর আগে থাকবে।এরপর পেইজের নিচের অংশে “Password” বক্সে আপনার ইচ্ছেমতো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড টাইপ করুন। “Confirm password” বক্সে পুনরায় পাসওয়ার্ডটি টাইপ করুন। পাসওয়ার্ডটি অবশ্যই ৮ ডিজিটের হতে হবে। এরপর ‘Next’ বাটনে ক্লিক করুন।
- ধাপ ৩: ফোন নম্বর ভেরিফিকেশন: (এই ধাপটি মোবাইল পদ্ধতির ১১-১২ ধাপের মতোই কাজ করে।)
- ধাপ ৪: রিকোভারি ইনফরমেশন: (এই ধাপে রিকভারি ইমেইল বা ফোন নাম্বার যোগ করার অপশন থাকে।)
৭. প্রশ্ন: জিমেইল পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করব কীভাবে?
উত্তর:
জিমেইল পাসওয়ার্ডটি আপনার কাছে দুর্বল মনে হলে বা অন্য কেউ জেনে গেলে তখন তা পরিবর্তনের (চেঞ্জ) প্রয়োজন হয়। জিমেইল পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো-
- ধাপ–০১: প্রথমে আপনার জিমেইল আইডি লগইন করুন। এবার হোম পেইজ থেকে আপনার ছবি বা নামের উপর ক্লিক করুন।
- ধাপ–০২: ছবি বা নামের উপর ক্লিক করার পর নতুন একটি পেইজ ওপেন হবে। সেখান থেকে “Manage your Google Account” এ ক্লিক করুন।
- ধাপ–০৩: এ ধাপে নতুন একটি পেইজ ওপেন হবে। সেখান থেকে “Security” তে ক্লিক করুন।
- ধাপ–০৪: এবার “Password” লিখাতে ক্লিক করুন।
- ধাপ–০৫: এবার আপনার ফোনের জিমেইল পাসওয়ার্ডটি দিয়ে ‘Next’ এ ক্লিক করুন।
- ধাপ–০৬: এ ধাপে প্রথম আপনার “New Password” টি দিন তারপর পুনরায় সে পাসওয়ার্ডটি “Confirm new password” এ দিয়ে “Change password” এ ক্লিক করুন। ক্লিক করার পর আপনার পাসওয়ার্ড চেঞ্জ হয়ে যাবে।
- ধাপ–০৭: এবার আপনার নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে পুনরায় আপনার জিমেইল আইডি লগইন করুন। ব্যাস হয়ে গেল।
৮. প্রশ্ন: টেলিকনফারেন্সিং কি? টেলিকনফারেন্সিং এর সুবিধা?
উত্তর:
টেলিকনফারেন্সিং: টেলি যোগাযোগের মাধ্যমে সভা করার প্রক্রিয়ায় হচ্ছে টেলিকনফারেন্সিং। টেলিফোন সংযোগ ব্যবহার করে কম্পিউটার, অডিও মডেম ও ভিডিও যন্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে কোনো সভায় অংশগ্রহণ করার পদ্ধতিই হলো টেলিকনফারেন্সিং।
অর্থাৎ, এর মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে সভা অনুষ্ঠান করে কার্যবিবরণী জানা, মতামত, রিপোর্ট পেশ করা, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ইত্যাদি কাজ করা যায়। মরি টারফ ১৯৭৫ সালে এ পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রেসিডেন্ট নিক্সনের আমলে প্রশাসকদের মধ্যে টেলিকনফারেন্স ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
টেলিকনফারেন্সিং এর সুবিধা:
টেলিকনফারেন্সিং এর কয়েকটি সুবিধা হলো-
- পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করা যায়।
- বাসায় বসেও মিটিং করা যায়।
- পাবলিক কনফারেন্স সকলের জন্য উন্মুক্ত।
- ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশি ব্যবহৃত হয়।
- কোনো জায়গায় গিয়ে মিটিং বা সভা করার ঝামেলা থাকে না।
৯. প্রশ্ন: টেলিমেডিসিন কি? টেলিমেডিসিনের সুবিধা?
উত্তর:
নিচে আমি আপনাকে টেলিমেডিসিন নিয়ে জানানোর চেষ্টা করব। টেলিমেডিসিন কি? টেলিমেডিসিনের সুবিধা সমূহ জানব।
টেলিমেডিসিন কি?
বর্তমানে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রচলনের ফলে চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পৃথিবীর যে কোনো স্থানে অবস্থান করেও টেলিফোন এবং ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
অর্থাৎ, তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে রোগীকে চাক্ষুষ না দেখেও ঔষধ দেওয়ার ব্যবস্থাই হলো টেলিমেডিসিন। এ সেবার মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত ডাক্তারদের মধ্যে মতবিনিময়, চিকিৎসা শিক্ষা আদান-প্রদান, রোগীর চিকিৎসা সেবার তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা যায়।
টেলিমেডিসিন এর সুবিধা:
টেলিমেডিসিনের কয়েকটি সুবিধা হলো-
- ডাক্তারের চেম্বার বা হাসপাতালে না গিয়ে ঘরে বসেই সেবা পাওয়া যায়।
- দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়।
- খরচ কম।
- ডাক্তাররা অন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারে।
- বিদেশে না গিয়েও বিদেশী ডাক্তারদের কাছ থেকে চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করা যায়।
- সহজে রোগ বিশ্লেষণ করা যায়।
- রোগীদের তথ্য সংরক্ষণ করা যায় ইত্যাদি।
১০. প্রশ্ন: ডিজিটাল টেলিফোন কি? ডিজিটাল টেলিফোনের সুবিধা?
উত্তর:
ডিজিটাল টেলিফোন হলো আধুনিক সব সুবিধা নিয়ে তৈরি করা এক ধরনের টেলিফোন। আর ডিজিটাল টেলিফোন থেকে সব সুবিধা পেতে হলে টেলিফোনের নেটওয়ার্কও ডিজিটাল হতে হয়। বর্তমানে অধিকাংশ ল্যান্ড ফোনের নেটওয়ার্ক ডিজিটাল সিস্টেমের, এ কারণে এ সেবা গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত ফোনগুলোও ডিজিটাল হয়ে থাকে।
ডিজিটাল টেলিফোন নেটওয়ার্কের একটি সাফল্যের ধারা হলো PSTN (Public Switched Telephone Network)। ডিজিটাল টেলিফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বর্তমানে একই ফোন লাইনে ভয়েস কলের পাশাপাশি ডাটাও পাঠানো যায়। এছাড়াও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ভিওআইপি (VoIP), এসএমএস (SMS) ইত্যাদি সেবা পাওয়া যায়।
ডিজিটাল টেলিফোনের সুবিধা:
ডিজিটাল টেলিফোনের কয়েকটি সুবিধা হলো-
- কর্মদক্ষতার দিক থেকে ডিজিটাল টেলিফোন অ্যানালগ ফোনের চেয়েও অনেক এগিয়ে।
- বাটনে চেপেই ফোন নম্বরে এন্ট্রি করা যায়।
- নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির সুবিধা রয়েছে।
- খরচ কম।
- আন্তর্জাতিক ও ওয়াই এরিয়ার রোমিং সুবিধা বেশি।
১১. প্রশ্ন: কেউ কি ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের Favicon এর কোড ও সাইজ গুলো দিতে পাবেন, যেই কোড থিমের header.php তে যুক্ত করতে হয়?
উত্তর:
আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের Favicon যুক্ত করার জন্য header.php ফাইলে যোগ করার HTML কোড এবং প্রয়োজনীয় সাইজগুলো নিচে দেওয়া হলো-
HTML
<meta name="application-name" content="inbanglanet">
<meta name="apple-mobile-web-app-title" content="inbanglanet">
<meta name="theme-color" content="#0000dc">
<meta name="msapplication-TileColor" content="#0000dc">
<link rel="manifest" href="/site.webmanifest">
<link rel="icon" type="image/svg+xml" href="/favicon.svg">
<link rel="icon" type="image/png" sizes="16x16" href="/favicon-16x16.png">
<link rel="icon" type="image/png" sizes="32x32" href="/favicon-32x32.png">
<link rel="icon" type="image/png" sizes="48x48" href="/favicon-48x48.png">
<link rel="icon" type="image/png" sizes="64x64" href="/favicon-64x64.png">
<link rel="icon" type="image/x-icon" href="/favicon.ico" sizes="any">
<link rel="apple-touch-icon" href="/apple-touch-icon-180x180.png">
<link rel="apple-touch-icon-precomposed" href="/apple-touch-icon-180x180.png">
<link rel="apple-touch-icon" sizes="120x120" href="/apple-touch-icon-120x120.png">
<link rel="apple-touch-icon" sizes="152x152" href="/apple-touch-icon-152x152.png">
<link rel="apple-touch-icon" sizes="180x180" href="/apple-touch-icon-180x180.png">
<link rel="icon" type="image/png" sizes="192x192" href="/android-chrome-192x192.png" purpose="any maskable">
<link rel="icon" type="image/png" sizes="512x512" href="/android-chrome-512x512.png" purpose="any maskable">
<meta name="msapplication-TileImage" content="/ms-icon-144x144.png">
<link rel="mask-icon" href="/safari-pinned-tab.svg" color="#0000dc">
<link rel="preload" href="/favicon.ico" as="image" type="image/x-icon">
<link rel="preload" href="/favicon.svg" as="image" type="image/svg+xml">
<link rel="preload" href="/favicon-32x32.png" as="image" type="image/png">
এছাড়া, প্রোগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ (PWA) সাপোর্টের জন্য site.webmanifest ফাইলে Favicon-এর JSON কোড নিচে দেওয়া হলো-
JSON
{
"name": "inbanglanet",
"short_name": "InBangla",
"description": "A blog in Bangla for insightful content and stories",
"start_url": "/",
"scope": "/",
"display": "standalone",
"background_color": "#ffffff",
"theme_color": "#0000dc",
"orientation": "portrait",
"icons": [
{
"src": "/favicon.svg",
"sizes": "any",
"type": "image/svg+xml"
},
{
"src": "/favicon-16x16.png",
"sizes": "16x16",
"type": "image/png"
},
{
"src": "/favicon-32x32.png",
"sizes": "32x32",
"type": "image/png"
},
{
"src": "/favicon-48x48.png",
"sizes": "48x48",
"type": "image/png"
},
{
"src": "/favicon-64x64.png",
"sizes": "64x64",
"type": "image/png"
},
{
"src": "/ms-icon-144x144.png",
"sizes": "144x144",
"type": "image/png"
},
{
"src": "/apple-touch-icon-180x180.png",
"sizes": "180x180",
"type": "image/png"
},
{
"src": "/android-chrome-192x192.png",
"sizes": "192x192",
"type": "image/png",
"purpose": "any maskable"
},
{
"src": "/android-chrome-512x512.png",
"sizes": "512x512",
"type": "image/png",
"purpose": "any maskable"
}
]
}
এখানে আপনার দেওয়া নতুন প্রশ্ন ও উত্তরগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১২. প্রশ্ন: বিশ্বগ্রামের ধারণা সংশ্লিষ্ট প্রধান উপাদান সমূহ কি?
উত্তর:
বিশ্বগ্রাম এমন একটি ধারণা যেখানে পুরো বিশ্বকে একটি গ্রাম হিসেবে মনে করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনেক উন্নয়ন এখন বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষকে পরস্পরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে, যার ফলে বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। গ্লোবাল ভিলেজ ধারণার সাথে অনেকগুলো উপাদান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
বিশ্বগ্রাম ধারণার সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রধান উপাদানগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
- যোগাযোগ
- কর্মসংস্থান
- শিক্ষা
- চিকিৎসা
- গবেষণা
- অফিস
- বাসস্থান
- ব্যবসা-বাণিজ্য
- সংবাদপত্র
- বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ
- সাংস্কৃতিক বিনিময়
১৩. প্রশ্ন: 4GL বলতে কি বুঝায়?
উত্তর:
4GL হলো চতুর্থ প্রজন্মের ভাষা (4th Generation Language)। কম্পিউটারে সহজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ভাষাকে চতুর্থ প্রজন্মের ভাষা বা অতি উচ্চস্তরের ভাষাও বলা হয়।
রিপোর্ট ও পর্দায় ফলাফলের গঠন, ডাটা রেকর্ড, ইনপুট, ডেটা নির্দিষ্টকরণে সরকারি নির্দেশ ব্যবহারের ক্ষমতা চতুর্থ প্রজন্মের ভাষার বৈশিষ্ট্য। প্রধানত বাণিজ্যিক প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত এসব ভাষাকে অনেক সময়ই অ্যাপ্লিকেশন জেনারেটর বলা হয়।
এ ভাষায় ইংরেজি ভাষার মতো নির্দেশ দিয়ে কম্পিউটার ব্যবহারকারী ডাটাবেজের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং ডাটা আদান-প্রদান করতে পারেন। চতুর্থ প্রজন্মের ভাষায় কথোপকথন রীতিতে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে ব্যবহারকারীর যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকে।
ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট এর সাথে সংশ্লিষ্ট কুয়েরি (Query) এবং রিপোর্ট জেনারেটর সঞ্চালনের জন্য ব্যবহৃত ভাষা সমূহ চতুর্থ প্রজন্মের ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন- Structured Query Language (SQL)।
১৪. প্রশ্ন: হাব কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর:
কার্যকারিতার দিক থেকে হাব প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
- সক্রিয় হাব (Active Hub): সক্রিয় হাব সংকেতের মানকে বৃদ্ধি করে এবং মূল সংকেত থেকে অপ্রয়োজনীয় সংকেত বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় সংকেত প্রেরণ করে।
- নিষ্ক্রিয় হাব (Passive Hub): নিষ্ক্রিয় হাব কেবলমাত্র কম্পিউটারসমূহের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে। এটি সংকেতের মানকে বৃদ্ধি করে না। এ কারণে এ সকল হাবকে Active device-এর সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়।
১৫. প্রশ্ন: হাফ অ্যাডার কি?
উত্তর:
যে অ্যাডার দুটো বিট যোগ করে যোগফল (Sum) ও হাতে থাকা সংখ্যা বা ক্যারি (Carry) বের করতে পারে তাকে হাফ অ্যাডার বলা হয়।
১৬. প্রশ্ন: সফটওয়্যার কি? কত প্রকার ও কি কি?
উত্তর:
সফটওয়্যার কি: সমস্যা সমাধান বা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কম্পিউটারের ভাষায় ধারাবাহিকভাবে সাজানো নির্দেশমালাকে প্রোগ্রাম বলে। প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম সমষ্টি যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে হার্ডওয়্যারকে কার্যক্ষম করে তাকেই সফটওয়্যার বলে।
সফটওয়্যার কত প্রকার ও কি কি: কম্পিউটারের সফটওয়্যারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- সিস্টেম সফটওয়্যার: সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে কাজের সমন্বয় রক্ষা করে ব্যবহারিক প্রোগ্রাম নির্বাহের জন্য কম্পিউটারের সামর্থ্যকে সার্থকভাবে নিয়োজিত রাখে।
- অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার: ব্যবহারিক সমস্যা সমাধান বা ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক রকম তৈরি প্রোগ্রাম বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে পাওয়া যায়, যাকে সাধারণত প্যাকেজ প্রোগ্রামও বলা হয়।
১৭. প্রশ্ন: বাইনারি অ্যাডার কাকে বলে?
উত্তর:
যে অ্যাডার দুটি বাইনারি সংখ্যা যোগ করতে পারে তাকে বাইনারি অ্যাডার বলে।
১৮. প্রশ্ন: বাংলাদেশে প্রথম কখন কোন কম্পিউটার স্থাপন করা হয়েছিল?
উত্তর:
বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবহারের সূচনা হয় ষাটের দশকে এবং নব্বইয়ের দশকে তা ব্যাপকতা লাভ করে। দশকের মধ্যভাগ থেকে এ দেশে তথ্য প্রযুক্তি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে। পাকিস্তান পরমাণু শক্তি কমিশনের পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, ঢাকা-তে ১৯৬৪ সালে স্থাপিত হয় বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) প্রথম কম্পিউটার।
১৯. প্রশ্ন: ফুল-অ্যাডার কি?
উত্তর:
যে অ্যাডার ক্যারিসহ দুটি বিট যোগ করতে পারে তাকে ফুল অ্যাডার বলে। ফুল অ্যাডারের দুটি বিটের যোগফলের সাথে পূর্বের উৎপন্ন ক্যারি যোগ করা যায়। অর্থাৎ, Full Adder এর কাজ হলো ৩টি বিট (দুটি বিট ও একটি পূর্ববর্তী পর্যায়ের ক্যারি) যোগ করা।
২০. প্রশ্ন: পিসির রিস্টার্ট সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায়?
উত্তর:
যদি ভোল্টেজের উঠানামার জন্য পিসি রিস্টার্ট দেয় তাহলে ইউপিএস (UPS) ব্যবহার ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।
আরেকটি সমস্যা অনেকসময় দেখা যায়। কম্পিউটারের উপর যখন বেশি চাপ পড়ে তখন সেটি রিস্টার্ট দিতে পারে। পিসি যখন হাইএন্ড গেম বা অ্যাপ্লিকেশন রান করতে যায় তখন পিসি রিস্টার্ট করে। এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে অপর্যাপ্ত পাওয়ার সাপ্লাই। অর্থাৎ কাজের সময় আপনার পাওয়ার সাপ্লাই মাদারবোর্ডে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে না। এক্ষেত্রে আপনাকে পাওয়ার সাপ্লাইটি পরিবর্তন করতে হবে।
২১. প্রশ্ন: ড্রাইল্যাব কী?
উত্তর:
ড্রাইল্যাব হলো যখন জৈব তত্ত্ব নিয়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে গবেষণা করা হয় তখন তাকে ড্রাইল্যাব বলে।
২২. প্রশ্ন: ডেটাবেজ কিভাবে গঠিত হয়?
উত্তর:
‘Data’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘উপাত্ত’ এবং ‘Base’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘ঘাটি’ বা ‘সমাবেশ’। তাই শাব্দিক অর্থে ‘Database’ হলো- বিভিন্ন সম্পর্কিত বিষয়ের উপর ব্যাপক উপাত্তের সমাবেশ। ডেটাবেজ হলো ইলেক্ট্রনিক ফাইলিং সিস্টেম। সহজ কথায়, পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এক বা একাধিক ফাইল নিয়ে ডেটাবেজ গঠিত হয়।
২৩. প্রশ্ন: কীবোর্ডে উল্টা পাল্টা শব্দ আসছে, কিভাবে ঠিক করা যায়?
উত্তর:
কীবোর্ডে এই উল্টাপাল্টা শব্দ আসার সমস্যার সমাধান করা জানা থাকলে খুবই সহজ। এর জন্য আপনাকে যা করতে হবে, তা হলো-
- কন্ট্রোল প্যানেল-এ গিয়ে Regional and Language অপশনে যান।
- Keyboard and Language ট্যাব থেকে Change Keyboard-এ ক্লিক করুন।
- সেখান থেকে English (United States International) সিলেক্ট করে Apply, Ok করুন।
২৪. প্রশ্ন: কম্পিউটার কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর:
কম্পিউটার অর্থ: গ্রিক শব্দ Compute অর্থ হিসাব বা গণনা করা। এই Compute শব্দ থেকে Computer শব্দটি এসেছে। Computer শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র।
কম্পিউটার কাকে বলে: কম্পিউটার এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে অনেক তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ করা যায়। কম্পিউটার এমন একটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র যার সাহায্য তথ্য প্রদান, প্রক্রিয়াকরণ, আউটপুট প্রদর্শন ও তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। কম্পিউটারের মাধ্যমে জটিল হিসাব-নিকাশ থেকে শুরু করে স্থির বা চলন্ত ছবি দেখা ও শব্দ শোনা, তথ্য আদান-প্রদান করা সহ নানা ধরনের কাজ করা যায়।
সহজ কথায়, যে ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে তাকে কম্পিউটার বলা যায়।
কম্পিউটার কে আবিষ্কার করেন: ব্রিটিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ ১৮৩৩ এবং ১৮৭১ সালের মধ্যে এ ডিভাইস ডিজাইন করেছিলেন।
কম্পিউটারের কাজ কি: বিশেষভাবে, কম্পিউটারের ৩টি মুখ্য কাজ রয়েছে। যথা-
- প্রথম কাজ হলো, ডাটা (data) গ্রহণ করা, যাকে আমরা ইনপুট বলেও বলতে পারি।
- দ্বিতীয় কাজ হলো, গ্রহণ করা ডাটা (data) প্রসেস (process) করাটা।
- তৃতীয় কাজ হলো, প্রসেস করা ডাটা আমাদের দেখানোটা, যাকে আমরা আউটপুট (output) বলি।
COMPUTER এর পূর্ণরূপ: Commonly Operated Machine Particularly Used for Technical Education and Research, যেখানে- C = Commonly, O = Operated, M = Machine, P = Particularly, U = Used for, T =Technical, E = Education, and R = Research.
কত প্রকার ও কী কী? কম্পিউটারের প্রকারভেদ: বর্তমান পৃথিবীর ব্যবহৃত কম্পিউটারগুলোকে অনেক ভাবে শ্রেণীবিন্যাসে ভাগ বা প্রকারভেদ করা যায়।
কাজের ধরন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের দুই প্রকার। যথা-
- কম্পিউটারটি বিশেষ কাজের জন্য ব্যবহার।
- কম্পিউটারটি সাধারণ কাজে ব্যবহারের জন্য।
গঠন ও কাজের ধরন বা প্রযুক্তি অনুসারে কম্পিউটার তিন প্রকার। যথা-
- অ্যানালগ কম্পিউটার (Analog computers)
- ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital computers)
- হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid computers)
আবার ডিজিটাল কম্পিউটার বা আকার, আয়তন ও কার্যকারিতা অনুসারে কম্পিউটার চার প্রকার। যথা-
- সুপার কম্পিউটার (Super computers)
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Main Frame computers)
- মিনি কম্পিউটার (Mini computers)
- মাইক্রো কম্পিউটার (Micro computers/PC)
আবার মাইক্রো কম্পিউটার পাঁচ প্রকার। যথা-
- ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop Computer)
- ল্যাপটপ কম্পিউটার (Laptop Computer)
- পামটপ কম্পিউটার (Palmtop computer)
- নোটবুক কম্পিউটার (Notebook Computer)
- পকেট কম্পিউটার (Pocket computer)
২৫. প্রশ্ন: কম্পিউটারে GUI শব্দটির পূর্নরুপ কী?
উত্তর:
GUI শব্দটির পূর্ণ রূপ হলো- Graphical User Interface।
২৬. প্রশ্ন: কম্পিউটারে বাংলা লেখা কখন কিভাবে শুরু হয়েছিল?
উত্তর:
কম্পিউটারে প্রথম বাংলা লেখা সম্ভব হয় ১৯৮৭ সালে এবং এ সাফল্যের কৃতিত্ব মাইনুল ইসলাম নামক একজন প্রকৌশলীর। তিনি নিজের উদ্ভাবিত বাংলা ফন্ট ‘মাইনুলিপি’ ব্যবহার করে অ্যাপল-ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারে বাংলা লেখার ব্যবস্থা করেন। এ ক্ষেত্রে বাংলার জন্য আলাদা কোনো কি-বোর্ড (Keyboard) ব্যবহার না করে ইংরেজি কি-বোর্ড দিয়েই কাজ চালানো হয়েছিল। ইংরেজি ও বাংলার আলাদা ধরনের বর্ণক্রম এবং বাংলার যুক্তাক্ষরজনিত সমস্যা সমাধান করা হয়েছিল ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারের চার স্তর কি-বোর্ড (Four layer keyboard) ব্যবহারের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে।
মাইনুলিপির পর পরই ‘শহীদলিপি’ ও ‘জববারলিপি’ নামে আরও দুটো বাংলা ফন্ট উদ্ভাবিত হয় এবং একই পদ্ধতিতে ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী বছরে অর্থাৎ ১৯৮৮ সালে আনন্দ কম্পিউটার্স নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে তৈরি হয় অ্যাপল-ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারে ব্যবহার উপযোগী প্রথম ইন্টারফেস ‘বিজয়’। এ সময়েই প্রথম বাংলা কি-বোর্ড লে-আউট তৈরি হয়। প্রথম পর্যায়ের বাংলা কি-বোর্ডগুলির মধ্যে ‘বিজয়’ এবং ‘মুনীর’ উল্লেখযোগ্য।
ইন্টারফেস পদ্ধতিতে বাংলা ফন্ট ও বাংলা কি-বোর্ডকে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের (Operating System or OS) সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় এবং এ কি-বোর্ডকে ক্রিয়াশীল করে ও ফন্ট নির্বাচন করে কম্পিউটারে বাংলা লেখা যায়। ‘বিজয়’ ইন্টারফেসটি ছিল ম্যাকিনটোশ ভিত্তিক এবং অ্যাপল-ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারের মূল্য অত্যধিক হওয়ায় এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো সীমিত, মূলত প্রকাশনার কাজেই তা ব্যবহার করা হতো।
আই.বি.এম কম্পিউটারের ব্যবহারকারী আগাগোড়াই বেশি এবং এ বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর কথা বিবেচনা করেই ১৯৯২ সালের প্রথম দিকে ‘বর্ণ’ নামে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলা ওয়ার্ডপ্রসেসিং সফটওয়্যার উদ্ভাবন করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের দুজন ছাত্র রেজা-ই আল আমিন আব্দুল্লাহ (অঙ্ক) ও মোঃ শহীদুল ইসলাম (সোহেল)। প্রতিভাবান দু কিশোর প্রোগ্রামারের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান সেইফওয়ার্কস-এর পক্ষ থেকে এ স্বয়ংসম্পূর্ণ ওয়ার্ডপ্রসেসরটির উদ্ভাবন ছিল বাংলা সফটওয়্যারের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। ওয়ার্ডপ্রসেসরটি ছিল ‘ডস’ (Disk Operating System or DOS) ভিত্তিক, কিন্তু প্রোগ্রামটির নিজস্ব আঙ্গিক ছিল উইন্ডোস (Windows) এর মতো।
বর্ণ-তে তিন ধরনের কি-বোর্ড ব্যবহার করা যেতো – ‘মুনীর’, ‘বিজয়’ এবং ‘ইজি কি-বোর্ড’। বর্ণ সফটওয়্যারটিতে কি-বোর্ড পুনর্গঠনের (Customize) সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্থাৎ, কেউ ইচ্ছা করলে নিজের পছন্দ বা সুবিধা অনুযায়ী নতুন কি-বোর্ড লে-আউট তৈরি করে নেওয়ার স্বাধীনতা ছিল।
পরবর্তীকালে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন ক্রমাগত উন্নত থেকে উন্নততর সংস্করণের ওয়ার্ড প্রসেসর বাজারে ছাড়তে থাকলে ১৯৯৩ সালে বাংলা ফন্ট ও বাংলা কি-বোর্ডকে আই.বি.এম কম্পিউটারের আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম ‘মাইক্রোসফট উইন্ডোজ’ (Microsoft Windows)-এর সঙ্গে ব্যবহারের জন্য ইন্টারফেস ‘বিজয়’ উদ্ভাবিত হয়। এর পর ১৯৯৪ সালে ‘লেখনী’ নামেও একটি ইন্টারফেস তৈরি হয়। যদিও ‘আবহ’ (১৯৯২-এর শেষে উদ্ভাবিত) আই.বি.এম কম্পিউটারে ব্যবহার উপযোগী প্রথম ইন্টারফেস, কিন্তু কিছু ত্রুটির কারণে এটি তেমন একটা ব্যবহার করা হয়নি।
২৭. প্রশ্ন: ওয়্যারলেস অপারেটর এর কাজ কি?
উত্তর:
ওয়্যারলেস (Wireless) মানে হচ্ছে তারবিহীন সংযোগ এবং অপারেটর (Operator) মানে হচ্ছে পরিচালনাকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী। অর্থাৎ ওয়্যারলেস অপারেটর হচ্ছেন একজন ব্যক্তি যিনি তারবিহীন সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।
জাহাজে ওয়্যারলেস অপারেটর এর কাজ হচ্ছে রেডিও ট্রান্সমিটার নিয়ন্ত্রণ করা। জাহাজ বিপদে পড়লে বন্দরে যোগাযোগ করে সাহায্য চাওয়া অথবা এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে যোগাযোগের জন্য রেডিও ট্রান্সমিটার ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ওয়্যারলেস অপারেটর ট্রান্সমিটার এর মাধ্যমে বার্তা পাঠায় এবং রিসিভার এর মাধ্যমে বার্তা গ্রহণ করে।
বিমানের ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রেও ওয়্যারলেস অপারেটর একই কাজ করে থাকেন। পুলিশ এবং সেনাবাহিনীতেও ওয়্যারলেস অপারেটর রয়েছে। তাদেরও কাজ বার্তা আদান-প্রদান করা।
২৮. প্রশ্ন: QBE বলতে কী বুঝায়?
উত্তর:
যে পদ্ধতিতে একটি Example এর মধ্যে ব্যবহারকারী কি করতে চায় তা বর্ণনা করা হয় এবং এই Example অনুসারে অন্যান্য Query করা হয়, তাকে QBE (Query By Example) বলে। QBE ডোমেইন রিলেশনাল ক্যালকুলাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
২৯. প্রশ্ন: QUEL বলতে কী বুঝায়?
উত্তর:
কতকগুলাে স্টেটমেন্টের সমষ্টিকে QUEL (Query Language) বলা হয়। QUEL এর সাহায্যে সেট অপারেশনের মাধ্যমে কুয়েরি করা হয়। QUEL এ যে সকল স্টেটমেন্ট ব্যবহার করা হয় তা হলো Create, Range, Index, Modify ইত্যাদি।
৩০. প্রশ্ন: SQL এর পূর্ণরূপ কি এবং SQL এর অংশ কি কি?
উত্তর:
SQL এর পূর্ণরূপ হলো- Structured Query Language।
SQL এর মূল সংগঠন তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত, যথা-
- Select:
Selectকমান্ড লিখে তার পর বিভিন্ন ফিল্ডের নামগুলাে উল্লেখ করতে হয়। - From: যে ফাইল হতে রেকর্ড উত্তোলন করতে হয় সে ফাইলের নাম
Fromএর পর উল্লেখ করতে হয়। - Where:
Whereকমান্ডের মাধ্যমে শর্ত উল্লেখ করতে হয়।
৩১. প্রশ্ন: ই-কমার্স ওয়েবসাইটে কী আছে?
উত্তর:
ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর গঠন অন্যান্য বিজনেস ওয়েবসাইট এর গঠন এর থেকে কিছুটা ভিন্ন। একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিসকে কাস্টমারের সামনে উপযুক্ত ভাবে তুলে ধরা, বর্ণনা করা এবং দৃশ্যমান করার মাধ্যমে বিক্রি করার যে প্রক্রিয়া রয়েছে, ই-কমার্স ওয়েবসাইট সেটাকে পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত করে।
ই-কমার্স ওয়েবসাইটের দুটি মূল অংশ:
১। Front-end features (কাস্টমার অংশ)
এই অংশে যা যা থাকে-
- Product listing page: এখানে সকল প্রোডাক্টের ক্যাটাগরি লিস্ট ও ফিল্টারিং অপশন থাকে।
- Individual product page: এখানে একটি প্রোডাক্টের বিস্তারিত সকল তথ্য থাকে ও কাস্টমারদের কেনাকাটার সুবিধা প্রদান করে।
- Shopping cart o checklist process: এই অংশে কাস্টমার কেনাকাটার জন্য পছন্দ করা সকল প্রোডাক্ট দেখার ও চূড়ান্ত ভাবে কেনাকাটা সম্পন্ন করার সুযোগ পায়।
- User account: কাস্টমারদের দেওয়া তথ্য জমা থাকে।
- Product recommendation: কাস্টমারদের রিলেটেড আরও প্রোডাক্ট এখানে দেখানো হয়।
- Recommendation based on history: অতীত কেনাকাটার তথ্যের উপর নির্ভর করে কাস্টমারদের প্রোডাক্ট দেখানো হয় যা ই-কমার্স ওয়েবসাইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে।
২। Back-end features (পরিচালনা অংশ)
এই অংশ বিজনেস পরিচালনাকারী ছাড়া কেউ দেখতে পায় না। আমরা সকলে Front-end features বা কাস্টমার অংশকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি কারণ আমাদের ধারণা এটি কাস্টমার দেখে, কিন্তু আমাদের প্রয়োজন Back-end features বা পরিচালনা অংশের দিকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করা। কারণ এই অংশ দ্বারা আপনি নির্ধারণ করে দিতে সক্ষম হন যে কাস্টমার কি দেখবে ও কিভাবে দেখবে।
এই অংশে কী থাকে-
- Product information and option: প্রোডাক্টের সকল তথ্য এই অংশে থাকে। আপনি কোন প্রোডাক্টগুলো প্রদর্শন করবেন ও কি ধরনের তথ্য প্রদান করবেন এই ফিচার দ্বারা সেটি সম্পন্ন করা হয়।
- Product database: ই-কমার্স ওয়েবসাইটের সকল প্রোডাক্টের তথ্য থাকে।
- Payment processing: কাস্টমারদের পেমেন্ট সুবিধা প্রদান করে।
- Inventory management: স্টকে কোন কোন প্রোডাক্ট কি পরিমাণে আছে সেটির ব্যবস্থাপনা।
- Privacy policy: বিজনেস পরিচালনা, কাস্টমার তথ্য সংরক্ষণ ও বিজনেসে কেনাকাটা ও লেনদেন সংক্রান্ত নিয়মাবলী প্রদান করার সুবিধা।
- Promotion or coupon code: মার্কেটিং অফার, ডিসকাউন্ট বা কুপন ব্যবস্থাপনা।
৩২. প্রশ্ন: ইউনারি অপারেটর কাকে বলে?
উত্তর:
ইউনারি অপারেটর: যে সকল অপারেটরে একটিমাত্র অপারেন্ড নিয়ে কাজ করে তাদেরকে ইউনারি অপারেটর বলে।
৩৩. প্রশ্ন: অ্যাডার কি?
উত্তর:
অ্যাডার হচ্ছে এমন একটি সমবায় সার্কিট (Combination Circuit), যা বাইনারি সংখ্যার যোগের কাজ করে। অর্থাৎ, যে সমবায় সার্কিট দ্বারা যোগের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে অ্যাডার বা যোগের বর্তনী বলে। কম্পিউটারের সকল গাণিতিক কাজ বাইনারি যোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
৩৪. প্রশ্ন: অ্যাডার কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর:
অ্যাডার হচ্ছে এমন একটি সমবায় সার্কিট (Combination Circuit), যা বাইনারি সংখ্যার যোগের কাজ করে। অর্থাৎ, যে সমবায় সার্কিট দ্বারা যোগের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে অ্যাডার বা যোগের বর্তনী বলে। কম্পিউটারের সকল গাণিতিক কাজ বাইনারি যোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
অ্যাডার ২ প্রকার। যথা-
- অর্ধ যোগের বর্তনী (Half Adder)
- পূর্ণ যোগের বর্তনী (Full Adder)
৩৫. প্রশ্ন: অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার ও কি কি?
উত্তর: আলোর প্রচারের পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে অপটিক্যাল ফাইবার ২ প্রকার। যথা-
- Single-mode optical fiber: এই ফাইবারগুলির মাধ্যমে সংকেতগুলি দূর-দূরান্তে সঞ্চালনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- Multimode optical fiber: এই ফাইবারগুলির মাধ্যমে সংকেতগুলি স্বল্প-দূরত্ব সঞ্চালনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
৩৬. প্রশ্ন: এক্সেল এর ২ টা কলাম কে ১টি রূপান্তরিত করার সূত্র কি?
উত্তর: এক্সেল এর ২টা কলামকে ১টি কলামে রূপান্তরিত করার সূত্র হলো: =CONCATENATE(A1," ",B1)।
তো আজকের মত এখানেই শেষ করছি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জগৎ অফুরন্ত সম্ভাবনায় ভরপুর। এই ব্লগে আলোচিত ৩৫টিরও বেশি প্রশ্নোত্তর আপনার প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আইসিটির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে বলে আশা করি। প্রযুক্তির এই দ্রুতগতির যুগে নিজেকে আপডেট রাখতে এবং নতুন নতুন বিষয় শিখতে এই জ্ঞানকে কাজে লাগান। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের জীবন ও সমাজকে আরও উন্নত করুন। ‘ইনফরমেশন বাংলা’ এর সাথেই থাকুন।
