ছাগলের ভিটামিন ঔষধের নাম

আজকের এই পোষ্টটিতে আমরা আলোচনা করব ছাগলের ভিটামিন ঔষধের নাম ও ভিটামিন এ, ডি, ই এবং ভিটামিন বি টুয়েলভ নিয়ে। এই চারটা ভিটামিন ছাগলের শরীরের কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমরা কিভাবে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং ভিটামিন বি টুয়েলভ ঘাটতি পূরণ করতে পারি। বিস্তারিত আলোচনা থাকবে আমাদের আজকের এই আলোচনাতে। চলুন শুরু করা যাক আমাদের আজকের এই পর্বের আলোচনাটি।

(১) Rena-Breeder Premix
এই ভিটামিন ঔষধে যে সকল ভিটামিন রয়েছে-
ভিটামিন এ = ১৫০০০০০০ আইইউ
ভিটামিন ডি ৩ = ৩০০০০০০ আইইউ
ভিটামিন ই = ২৫ গ্রাম
ভিটামিন কে ৩ = ৪ গ্রাম
ভিটামিন বি-১ = ২.৫ গ্রাম
ভিটামিন বি-২ = ৮ গ্রাম
ভিটামিন বি-৬ = ৪ গ্রাম
ভিটামিন বি-১২ = ১২ মিলিগ্রাম
নিকোটিনিক অ্যাসিড = ৩৫ গ্রাম
ক্যালসিয়াম-ডি প্যান্টোথিনেট = ১৫ গ্রাম
ফলিক এসিড = ৮০০ মিলিগ্রাম
বায়োটিন = ১৫০ মিলিগ্রাম
কোবাল্ট = ৫০০ মিলিগ্রাম
তামা = ১০ গ্রাম
আয়রন = ৪০ গ্রাম
আয়োডিন = ৪০০ মিলিগ্রাম
ম্যাঙ্গানিজ = ৬০ গ্রাম
দস্তা = ৬০ গ্রাম
সেলেনিয়াম = ১৫০ মিলিগ্রাম
ডিএল-মেথিওনিন = ৫০ গ্রাম
এল-লাইসাইন = ৩০ গ্রাম
ক্যালসিয়াম = ৭২৩.৬৬ গ্রাম
(২) Becevit-Vet Powder
স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস এর এটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন পাউডারটিতে Vitamin B-Complex & Vitamin C রয়েছে। অর্থ্যাৎ, এতে ভিটামিন বি এর B1, B2, B6, B12 এই চারটি উপাদানই রয়েছে। এর সাথে রয়েছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভিটামিন সি।

(৩) Vimeral
হলো ছাগলের ভিটামিন প্রিমিক্স। যেটি ভারতের ভারব্যাক কম্পানির তৈরি করা। এর মধ্যে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি টুয়েলভ থাকে।

ছাগলের ভিটামিন “এ” শরীরের কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
- ভিটামিন এ শরীরের বৃদ্ধি করে উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে।
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- ভিটামিন এ প্রজনন ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।
- ভিটামিন এ ছাগলের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়ক।
- চোখের দৃষ্টিকে বাড়িয়ে তোলে।
এর জন্য নিয়মিত অনুসারে একটা মা ছাগল ভিটামিন এ দেওয়া উচিত। যেমন গাভীন অবস্থায় ভিটামিন এ দিলে বাচ্চা সুস্থ থাকে এবং বাচ্চা হওয়ার পরেই ভিটামিন প্রয়োগ করতে পারলে দুধ বৃদ্ধি করবে এবং ছাগল খুব তাড়াতাড়ি তার শরীরের ডেফিসিয়েন্সি সেটাকে রিকভার করে নেবে।
ছাগলের ভিটামিন “ডি” শরীরে এর গুরুত্ব কি?
- ভিটামিন ডি হারকে শক্ত করে।
- শরীরকে বৃদ্ধি করে।
- ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস কে সংরক্ষণ করে রাখে।
আর এইজন্যই ছাগল গাভীন অবস্থায় থাকলে ভিটামিন-ডি দেওয়া খুবই জরুরি। গাভীন অবস্থায় ভিটামিন ডি প্রয়োগে বাচ্চার বৃদ্ধি হয়, বাচ্চার শক্ত হয় এবং মায়ের শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস সংরক্ষণ থাকে।
ছাগলের ভিটামিন “ই” শরীরের কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে?
- ভিটামিন এ পায়েন খুরকে বৃদ্ধি করে।
- প্রজনন ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
- শরীরের মাংসপেশি কে মজবুত করে তোলে।
ছাগলের ভিটামিন “বি টুয়েলভ” এর ভূমিকা কি?
- ভিটামিন বি টুয়েলভ পাচনতন্ত্রের শক্তি বৃদ্ধিতি সহায়ক।
- শরীরের নার্ভ মাংসগুলোকে মজবুত করে তোলে।
- শরীরে রক্ত কণিকা তৈরিতে সহায়ক।
এই সমস্ত ভিটামিন আমরা একসঙ্গে দিতে পারি “ভিমেরাল” নামক ছাগলের ভিটামিন ঔষধ এর মাধ্যমে। একটা ছাগলকে আমরা 5ml প্রতিদিন খাওয়াতে পারিঃ
● মনে রাখবেন যে কোন ভিটামিন যখন ছাগলকে দেবেন বা কোন গরুকে দেবেন সেটা যেন রাত্রেবেলা দেওয়া হয়। রাত্রে দিলে খুবই ভাল কাজ করে। ছাগল বা গরুকে যে কোন ভিটামিন প্রয়োগের আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখতে হবে আর সেটা হচ্ছে যে কোন ভিটামিন প্রয়োগ এর আগে তাকে ডিওয়ার্মিং এবং লিভার টনিক দেওয়া উচিত। এর পরে কিন্তু যে কোন ভিটামিন আপনারা করতে পারেন।
● আমরা যারা ছাগল পালন করি আমরা প্রত্যেকেই চিন্তাভাবনা করে ছাগল পালন করে আমরা কিছু ইনকাম করব কিন্তু ছাগলের ফার্ম থেকে ইনকাম করতে হলে আমাদেরকে ছাগল সব সময় সুস্থ রাখতে হবে এবং সুস্থ রাখতে হলে আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ক্যালসিয়াম লিভার টনিক এবং ভালো খাবার ছাগলকে খাওয়াতে হবে।
● যদি আমরা সঠিক সময়ে ছাগলকে লিভার টনিক ভিটামিন ক্যালসিয়াম না খাওয়াই তাহলে ছাগোল বিভিন্ন ধরনের পড়বে এবং ছাগল অসুস্থ হবে ছাগল যদি ফার্মে ঘনঘন অসুস্থ হয় ছাগলের যদি ঠিক না থাকে তাহলে আজ থেকে ইনকাম করা খুবই মুস্কিল এর জন্য আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ক্যালসিয়াম খাবার খাওয়াতে হবে।
● সর্ব প্রথমে আমাদেরকে ছাগলকে কৃমির ঔষধ খাওয়াতে হবে। সেটি প্রত্যেক মাসে দুই মাস অন্তর খাওয়াতে হবে। যদি আমরা সঠিক সময়ে ছাগলের কৃমির ঔষধ না খাওয়াই তাহলে ছাগলের শরীর ভালো থাকবে না। ছাগলের খাওয়ার রুচি কমে যাবে এবং ছাগল ঘনঘন করবে এর জন্য সকলকে সঠিক নিয়ম মত কৃমিমুক্ত করাতে হবে।
● তারপর দিতে হবে লিভার টনিক আপনারা যে কোন লিভার টনিক দিতে পারেন যেমন হিমালায়ান কোম্পানির তারপর হচ্ছে এ ধরনের লিভার টনিক গুলো আপনারা ছাগলের কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর পর ব্যবহার করতে পারবেন বা যে কোন সময় ছাগলকে লিভার টনিক খাওয়াতে পারবেন কোন অসুবিধা নেই।
● লিভার টনিক খাওয়ানোর সময় যে কোন একটা ক্যালসিয়াম দিতে হবে এবং লিভার টনিক দিতে হবে কন্টিনিউ ৮ দিন। লিভার টনিক কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার পর দিতে হবে ভিটামিন খাওতে পারেন। আপনি অবশ্যই পশু ডাক্তারে পর্মার্শ মত পরিমাণে বা ওষুধে গায়ে লেখা প্রয়োগ পরিমাণ দেখে খাওয়াবেন।
● ভিটামিন বি কমপ্লেক্স কখন দিবেন? আপনারা সব সময় দিতে পারেন এবং যেকোন ট্রিটমেন্ট চলাকালীন ভিটামিন বি কমপ্লেক্স খাওয়াতে হবে বা ইনজেকশন দিতে হবে। ধরুন ছাগলের জ্বর হয়েছে ও ছয় থেকে সাত দিন ছাগলের ট্রিটমেন্ট করতে হবে। এই ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যে আপনাদেরকে ইঞ্জেকশন ফরমে বা লিকুইড ফর্মে ছাগলকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স খাওয়াতে হবে। ছাগলের ট্রিটমেন্ট করার সময় ছাগলের শরীর দুর্বল হয়ে যায়। ছাগলের শরীর দুর্বল না হয় এর জন্য ছাগলকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স দিতে হবে।
● ছাগলকে নিয়মিত ডিওয়ার্মি করাতে হবে। ছাগল ছোট হোক বড় হোক বা প্রেগন্যান্ট সবার জন্য আলাদা আলাদা ওষুধ পাওয়া যায়, সেটিই আপনারা ব্যবহার করতে পারেন।
● যদি ছাগলকে দিয়ে ডিওয়ার্মি করা না হয় তাহলে ছাগলের কোন খাওয়াই শরীরে কিভাবে লাগবে না, কোন ভিটামিনের ছাগলের শরীরে ঠিকঠাকভাবে লাগবে না। এজন্য সর্বপ্রথমে ছাগলকে ডিওয়ার্মি করাতে হবে, ছাগলের শরীরের যে কৃমি দূর করতে হবে তারপরে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, লিভার টনিক দিতে হবে।
● যদি সঠিক সময়ে সঠিক সময়ে ডিওয়ার্মি না করা হয় ছাগল প্রেগনেন্ট হবে না এবং বাচ্চা হবে না। যদি ফার্মের বাচ্চা না হলে কিন্তু লাভ করা মুশকিল। বন্ধুরা ফার্ম থেকে ইনকাম পেতে হলে ছাগল পরিচর্যা খুব ভালো করে করতে হবে। সঠিক সময়ে লিভার টনিক, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম এবং সঠিক পরিমাণে ছাগলকে খাবার দিতে হবে। তবেই থেকে ইনকাম করা সম্ভব হবে এবং সবসময় ছাগল সুস্থ রাখার চেষ্টা করতে হবে। ছাগল যেন অসুখে না পড়ে সেদিকে লক্ষ রাখতে।
প্রিয় দর্শক কেমন লাগলো আমাদের আজকের এই আলোচনা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন। পোষ্টটি পড়ার পর যদি ভালো লাগে শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দেবেন। আজকের আলেঅচনা এখানেই শেষ করে দিচ্ছে। পরবর্তীতে নতুন কোন টপিক নিয়ে হাজির হবে সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন খামারিয়ান এর সাথেই থাকুন।
[তথ্য সূত্র: Krisna Dakua, West Bengal, India]
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।









