দ্রুত গর্ভধারণের কিছু সহজ উপায়

লেখাঃ মাকসুদা খানম, কন্ট্রিবিউটর, ইনফরমেশন বাংলা ডট কম।
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করা একটি দম্পতির জীবনের অনেক বড় এবং আনন্দের বিষয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় সব কিছু ঠিক থাকলেও সন্তান আসতে দেরি হচ্ছে। এই আর্টিকেলটিতে সহজ কিছু টিপস দেওয়া হয়েছে যা আপনাকে দ্রুত মা হতে সাহায্য করবে।
১. সঠিক সময়টি চিনে নেওয়া (Fertile Window)

পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হওয়ার ১০ দিন পর থেকে ১৬ দিনের মধ্যে বাচ্চা হবার সম্ভবনা বেশি।
আপনার পিরিয়ড যদি ২৩ তারিখ হয় তার দশ দিন পর হচ্ছে ১৩ তারিখ ও পরবর্তী ছয় দিন।
আপনার পিরিয়ড যদি ৫ তারিখ হয় তার দশ দিন পর হচ্ছে ১৫ তারিখ ও পরবর্তী ছয় দিন।
আপনার যদি ১ তারিখে আপনার মাসিক বা পিরিয়ড শুরু হয় তাহলে পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হওয়ার দশ দিন পর হচ্ছে ১০ তারিখ। এই দশ দিন পর থেকে ষোল দিনের মধ্যে অর্থ্যাৎ ১০ তারিখ থেকে ১৬ তারিখের মধ্য বাচ্চা হবার সম্ভবনা বেশি।
এভাবে আপনারপিরিয়ড শুরু হবার তারিখ থেকে দশ দির পর থেকে ষোড় তারিখ পর্যন্ত কত তারিখ তা হয় তা মাথায় রেখে হিসেব করে নিবেন।
মেয়েদের মাসে এমন কিছু দিন থাকে যখন গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি থাকে। এটাকে বলা হয় ‘ফারটাইল উইন্ডো’।
সাধারণত পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হওয়ার ১০ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) ঘটে। এই সময়ের ডিম্বাণু মাত্র ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকে, কিন্তু পুরুষের শুক্রাণু ভেতরে ৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তাই পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকে মাঝামাঝি সময়ে নিয়মিত মেলামেশা করলে গর্ভবতী হওয়ার সুযোগ বেড়ে যায়।
২. মেলামেশার নিয়ম ও সঠিক সময়
অনেকে মনে করেন অনেকদিন পর মেলামেশা করলে শুক্রাণু শক্তিশালী হয়, কিন্তু এটা ভুল। আসলে নিয়মিত (এক দিন পর পর বা প্রতিদিন) মেলামেশা করলে শুক্রাণু সুস্থ ও সচল থাকে। বিশেষ করে আপনার পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকে মাঝামাঝি সময়ে বেশি গুরুত্ব দিন।
৩. শারীরিক পজিশন নিয়ে ভুল ধারণা
অনেকে ভাবেন বিশেষ কোনো পজিশনে থাকলে তাড়াতাড়ি বাচ্চা হয় বা মেলামেশার পর পা উঁচিয়ে রাখতে হয়। আসল কথা হলো, এগুলোর বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। যেকোনো স্বাভাবিক পজিশনেই শুক্রাণু খুব দ্রুত জরায়ুর দিকে চলে যায়। মেলামেশার পর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করলে গর্ভধারণে কোনো বাধা আসে না।
৪. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
- খাবার-দাবার: মেয়েদের জন্য ফলিক এসিড (যেমন শাকসবজি, ডাল) খুব জরুরি। আর ছেলেদের উচিত ভিটামিন-সি ও ই যুক্ত খাবার খাওয়া।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: ওজন খুব বেশি বা খুব কম হলে মা হতে সমস্যা হতে পারে। তাই শরীর ঠিক রাখতে হালকা ব্যায়াম ও পুষ্টিকর খাবার খান।
- বর্জনীয় অভ্যাস: ধুমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা আজই ছেড়ে দিন। এগুলো সন্তান হওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
- গরম থেকে সাবধান: ছেলেদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমে থাকা (যেমন দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ কোলে রাখা বা খুব গরম পানিতে গোসল) শুক্রাণুর ক্ষতি করতে পারে।
৫. লুব্রিকেন্ট বা পিচ্ছিলকারক ব্যবহার
যদি মেলামেশার সময় কোনো জেল বা লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করেন, তবে খেয়াল রাখবেন সেটি যেন ‘ফার্টিলিটি ফ্রেন্ডলি’ হয়। সাধারণ অনেক জেল শুক্রাণুর ক্ষতি করতে পারে। প্রয়োজনে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করাই ভালো।
৬. মানসিক চাপমুক্ত থাকুন
বাচ্চা হচ্ছে না ভেবে খুব বেশি চিন্তা করবেন না। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শরীরের হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে, যা গর্ভধারণে দেরি করতে পারে। তাই হাসিখুশি থাকুন এবং নিজেদের সম্পর্ককে উপভোগ করুন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
- যদি আপনার বয়স ৩৫ বছরের কম হয় এবং ১ বছর চেষ্টা করার পরও বাচ্চা না হয়।
- যদি বয়স ৩৫ বছরের বেশি হয় এবং ৬ মাস চেষ্টা করেও ফল না পান।
- পিরিয়ড অনিয়মিত হলে বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে দেরি না করে দ্রুত গাইনি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
পরিশেষে বলব, সন্তান হওয়া একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, এতে সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক নিয়ম মেনে চলুন, পুষ্টিকর খাবার খান আর নিশ্চিন্ত থাকুন। সব ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই আপনি সুখবর পাবেন।
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।









