উপলব্ধি

তুমি আর তোমার রব—এই দুটোই পারমানেন্ট।
বাকি সবকিছুই টেম্পোরারি,
কখনো শর্তের, কখনো স্বার্থের।
শেষ পর্যন্ত রবই থাকেন—বাকিরা সবাই পথের সঙ্গী।
রবের নির্দেশে একাই এসেছো,
রবের নির্দেশেই একাই চলে যাবে।
মাঝের এই পথটুকুই দুনিয়ার জীবন।
জীবনে একাই এসেছি,
শেষ পর্যন্ত একাই যাব,
মাঝের পথটুকুই শুধু কিছু মানুষের সঙ্গে।
নিজের কী আছে—সেটাই মুখ্য।
মা-বাবার যা আছে, তা তাঁদের।
তাঁদের স্বার্থ তাঁদের, নিজের স্বার্থ নিজের।
মা-বাবার স্বার্থ আর নিজের স্বার্থকে এক করে ফেলা ভুল।
ভালোবাসা থাকবে, দায়িত্ব থাকবে—
কিন্তু প্রত্যেকের জীবন, স্বার্থ ও হিসাব আলাদা।
রক্তের সম্পর্ক মানেই সম্পদের যৌথ মালিকানা নয়।
মা-বাবার যা, তা তাঁদের।
আমার যা, তা আমার।
ভালোবাসা ও দায়িত্ব ভাগ করা যায়,
কিন্তু অন্যের সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করা যায় না।
ভালোবাসার পেছনেও শর্ত থাকে,
দায়িত্বের পেছনেও স্বার্থ থাকে,
প্রয়োজনের পেছনেও প্রত্যাশা থাকে।
সম্পর্ক যতই নিঃস্বার্থ মনে হোক,
কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো শর্ত, প্রত্যাশা বা স্বার্থ জড়িয়ে থাকে।
হয়তো পার্থক্য শুধু—স্বার্থটা কতটা প্রকাশ্য, আর কতটা অদৃশ্য।
মা-বাবা, ভাই-বোন—আপন ঠিকই,
কিন্তু তাঁদের সর্বদা নিজের মতো করে ভাবার কারণ নেই।
সম্পর্ক আপন হতে পারে,
কিন্তু প্রত্যেক মানুষের জীবন, স্বার্থ, সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব আলাদা।
তাই ভালোবাসা থাকবে, সম্মান থাকবে, দায়িত্ব থাকবে—
কিন্তু অন্ধ নির্ভরতা নয়।
সম্পর্ককে আপন মনে করো,
কিন্তু নিজের অস্তিত্ব ও স্বার্থকে আলাদা করে চিনতে শেখো।
মা-বাবার বাড়িকে নিজের বাড়ি ভাবা যাবে না।
মা-বাবার জমিকে নিজের জমি ভাবা যাবে না।
সম্পর্ক এক জিনিস,
মালিকানা আরেক জিনিস।
মা-বাবার সম্পদ তাঁদের,
নিজের সম্পদ নিজের।
একত্রে নয়—আলাদা করে দেখতে হবে।
ভালোবাসা ও সম্মান থাকবে,
দায়িত্বও থাকবে;
কিন্তু মা-বাবার সম্পদকে নিজের সম্পদের সাথে মিলিয়ে একক স্বার্থে ঠিক নয়।
মা বাবার স্বার্থ, আর নিজের স্বার্থ এক নয় ।







