লিরিক্সঃ সত্যের সংগ্রামে আমরা চিরদিন মুক্তির আলো হয়ে জ্বলবো (বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের থিম সং ২০২৪)

আমরা আমাদের জীবনে চলার পথে কত গানই তো শুনি। কিন্তু কিছু গান আছে যা শুধু কানে নয়, সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করে। যে গানগুলো আমাদের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলে, দেশের প্রতি ভালোবাসা বাড়ায় এবং পরকালের পাথেয় সংগ্রহে উৎসাহ দেয়। তেমনই একটি অসাধারণ গান হলো— “সত্যের সংগ্রামে আমরা চিরদিন মুক্তির আলো হয়ে জ্বলবো”।
এটি বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কর্মী সম্মেলন ২০২৪ এর থিম সং।
আজকের ব্লগে আমরা এই গানটির কথা, এর গভীর অর্থ এবং বিশেষ করেবাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের মতো একটি সুশৃঙ্খল সংগঠনের সাথে এর ইতিবাচক যোগসূত্র নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করবো।






গানের লিরিক্স বা কথাগুলো একনজরে
আজ সময় এসেছে সাজাতে হবে এই দ্বীনের বাগান
শুধু হেলায় খেলায় যেন কেটে না যায় সম্ভাবনার ক্ষণ
আজ সময় এসেছে সাজাতে হবে এই দ্বীনের বাগান
শুধু হেলায় খেলায় যেন কেটে না যায় সম্ভাবনার ক্ষণ
কত ফুল গুলো ঝরে গেছে শাহাদাতে; তবু মূল গুলো মরেনি তো অপঘাতে
কত ফুল গুলো ঝরে গেছে শাহাদাতে; তবু মূল গুলো মরেনি তো অপঘাতে
মোরা আসহাবে রাসুলের জিন্দেগানির সাজে গড়ে তুলি শহীদ সোপান
গড়ে তুলি শহীদ সোপান
গড়ে তুলি শহীদ সোপান
আজ সময় এসেছে সাজাতে হবে এই দ্বীনের বাগানশুধু হেলায় খেলায় যেন কেটে না যায় সম্ভাবনার ক্ষণ
সত্যের সংগ্রামে আমরা চিরদিন মুক্তির আলো হয়ে জ্বলবো
আশাহত এ জাতির আশার প্রাসাদ হয়ে সাম্য ন্যায়ের কথা বলবো
সত্যের সংগ্রামে আমরা চিরদিন মুক্তির আলো হয়ে জ্বলবো
আশাহত এ জাতির আশার প্রাসাদ হয়ে সাম্য ন্যায়ের কথা বলবো
শত জুলুম দহনে পোড়া এ আগুনে মোরা জান্নাতি ফুল গুনি সে বাগানে
শত জুলুম দহনে পোড়া এ আগুনে মোরা জান্নাতি ফুল গুনি সে বাগানে
ছুটি জীবনের বিনিময়ে করতে খরিদ শুধু রাশেদার দীপ্ত ঈমান
রাশেদার দীপ্ত ঈমান
রাশেদার দীপ্ত ঈমান
আজ সময় এসেছে সাজাতে হবে এই দ্বীনের বাগানশুধু হেলায় খেলায় যেন কেটে না যায় সম্ভাবনার ক্ষণ
পূণ্যভূমি এই স্বাধীন সোনার দেশ সম্প্রীতির এক উপমা
করবো নতুন করে জঞ্জাল দূর করে ব্যর্থ বিফল হতে দেব না
পূণ্যভূমি এই স্বাধীন সোনার দেশ সম্প্রীতির এক উপমা
করবো নতুন করে জঞ্জাল দূর করে ব্যর্থ বিফল হতে দেব না
শত ষড়যন্ত্রের বাঁধা পায়ে দোলে এই বুকের জমিনে রণসুর তুলে
এসো দেশপ্রেম প্রানগুলো এই কাফেলার সাথে গড়ে তুলি সংগঠন
গড়ে তুলি সংগঠন
গড়ে তুলি সংগঠন
আজ সময় এসেছে সাজাতে হবে এই দ্বীনের বাগান
শুধু হেলায় খেলায় যেন কেটে না যায় সম্ভাবনার ক্ষণ
আজ সময় এসেছে সাজাতে হবে এই দ্বীনের বাগান
শুধু হেলায় খেলায় যেন কেটে না যায় সম্ভাবনার ক্ষণ
কত ফুল গুলো ঝরে গেছে শাহাদাতে; তবু মূল গুলো মরেনি তো অপঘাতে
কত ফুল গুলো ঝরে গেছে শাহাদাতে; তবু মূল গুলো মরেনি তো অপঘাতে
মোরা আসহাবে রাসুলের জিন্দেগানির সাজে
গড়ে তুলি শহীদ সোপান
গড়ে তুলি শহীদ সোপান
গড়ে তুলি শহীদ সোপান
লিরিক্সের সহজ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ
এই গানটি মূলত একটি সংকল্পের গান। চলুন এর প্রতিটি স্তবক একটু সহজ করে বুঝে নিই-
১. দ্বীনের বাগান সাজানো ও সময়ের গুরুত্ব
গানের শুরুতেই বলা হয়েছে, অলসভাবে বসে থাকার সময় আর নেই। আমাদের জীবনটা একটা ‘সম্ভাবনার ক্ষণ’। আমরা যদি অবহেলায় সময় কাটিয়ে দেই, তবে সমাজের কোনো পরিবর্তন আসবে না। ইসলামের সৌন্দর্য বা ‘দ্বীনের বাগান’ সাজাতে হলে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে ‘শাহাদাত’ বা আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সত্যের পথে চলতে গিয়ে অনেকে জীবন দিয়েছেন, কিন্তু তাদের আদর্শ বা ‘মূল’ কখনো মরে যায় না।
২. আশার আলো ও ন্যায়ের সমাজ
আমাদের সমাজ যখন হতাশায় ডুবে যায়, তখন এই গানের সুর আমাদের আশাবাদী হতে শেখায়। আমরা শুধু নিজের ভালো চাইবো না, বরং একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার কথা বলবো। শত জুলুম-নির্যাতন আসলেও একজন বিশ্বাসী মানুষ পিছপা হয় না, বরং সে জান্নাতের আশায় ধৈর্য ধরে। লক্ষ্য হলো সেই সোনালী যুগের (খোলাফায়ে রাশেদীন) মতো মজবুত ঈমান নিজের ভেতর ধারণ করা।
৩. দেশপ্রেম ও সম্প্রীতি
গানটির সবচেয়ে সুন্দর অংশ হলো এর দেশপ্রেম। বাংলাদেশকে ‘পূণ্যভূমি’ ও ‘সোনার দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। দেশের সব জঞ্জাল বা দুর্নীতি দূর করে একটি সুন্দর সম্প্রীতির দেশ গড়ার শপথ নেওয়া হয়েছে এখানে। দেশপ্রেম যে ঈমানের অঙ্গ, সেই ভাবনাই এখানে ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রেক্ষাপটে এই গানের গুরুত্ব
আমরা যখন এই গানটি শুনি, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের চোখের সামনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মীদের মুখ ভেসে ওঠে। কেন এই গানটি তাদের সাথে এতোটা প্রাসঙ্গিক?
- শহীদী প্রেরণা: এই গানে বলা হয়েছে “মূল গুলো মরেনি তো অপঘাতে”। শিবিরের ইতিহাসে অনেক মেধাবী ছাত্রের আত্মত্যাগের গল্প আছে। তারা বিশ্বাস করে মৃত্যু মানেই শেষ নয়, বরং সত্যের পথে জীবন দেওয়া একটি গৌরবের বিষয়।
- চরিত্র গঠন: গানে “আসহাবে রাসুলের জিন্দেগানি” বা নবীর সাহাবীদের জীবন অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। শিবির তার কর্মীদের ঠিক এই শিক্ষাটাই দেয়— যেন তারা ব্যক্তিগত জীবনে সৎ, নামাজি এবং আদর্শবান মানুষ হয়।
- দেশ গড়ার প্রত্যয়: অনেকে মনে করেন ধর্মীয় সংগঠন মানেই বুঝি দেশ নিয়ে চিন্তা নেই। কিন্তু এই গানের প্রতিটি লাইনে দেশপ্রেম মিশে আছে। শিবির তার কর্মীদের শেখায় যে, একজন ভালো মুসলিম হওয়ার পূর্বশর্ত হলো একজন ভালো দেশপ্রেমিক নাগরিক হওয়া।
- সংগঠন ও ঐক্য: গানের শেষ লাইনে বলা হয়েছে “গড়ে তুলি সংগঠন”। একতাই বল—এই নীতিতে বিশ্বাস করে একটি সুন্দর সুশৃঙ্খল কাফেলা বা সংগঠন তৈরি করার ডাক দেওয়া হয়েছে, যা শিবিরের মূল কাঠামোর সাথে হুবহু মিলে যায়।
শেষ কথা
“সত্যের সংগ্রামে আমরা চিরদিন মুক্তির আলো হয়ে জ্বলবো”—এই লাইনটি কেবল একটি গানের কলি নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। আপনি যদি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে চিন্তা করেন, তবে দেখবেন আমাদের সমাজ ও দেশের জন্য এমন একদল তরুণ দরকার যারা ন্যায়ের কথা বলবে, যারা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বে এবং যারা ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল থাকবে।
এই গানটি আমাদের সেই সাহসই দেয়। আসুন, আমরাও আমাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সত্যের আলো হয়ে জ্বলে উঠি।
তথ্য সূত্র: https://www.youtube.com/@FourGbdT

