বেসরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় আসার পদ্ধতি ২০২৩-২৪ (ওয়েল্ডিং কাজে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা)

আজকের এই ভিডিওতে আমরা আলোচনা করব—কীভাবে বেসরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়াতে আসা যায়। আমরা এতদিন জানতাম যে শুধুমাত্র সরকারিভাবে কোরিয়ায় আসা যায়, কিন্তু এখন বেসরকারিভাবেও আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কত টাকা খরচ হবে, বেতন কত পাবেন এবং আসার প্রক্রিয়া কী—এই বিষয়গুলো নিয়েই আজকের ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব।
২০২৩ ও ২০২৪ সাথে বেশি কিছু ওয়েল্ডিং কর্মূ বাংলাদেশ থেকে বেসরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় ওয়েল্ডিং কাজে ওয়ার্ক পারমিটে এসেছে। যার প্রথম গ্রুপ ছিল ৩১ জন এর স্যামসাং শিপইয়ার্ডে। পরবর্তীতে হুন্ডাই শিপইয়ার্ডে ধামে ধাপে আরও বেশ কয়েকটা গ্রুপ দক্ষি কোরয়িাতে ওয়েল্ডিং কাজে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যায়।
কাজের ধরণ ও যোগ্যতা
১. কাজের ধরণ: মূলত আপনাদেরকে জাহাজের ওয়েল্ডিং (Welding) কাজের জন্য আনা হবে। বাংলাদেশ থেকে আসার সময় আপনাকে ১২ মিলিমিটার ওয়েল্ডিং করার সক্ষমতা রাখতে হবে। কোরিয়াতে আসার পর আপনাদের ২০ মিলি এবং ২৫ মিলিমিটারের কাজ শেখানো হবে।
২. অভিজ্ঞতা: আপনি যদি ওয়েল্ডিং এক্সপার্ট হন, তবে আপনার জন্য সুবিধা বেশি এবং আপনি সহজেই ইন্টারভিউতে পাশ করতে পারবেন। তবে আপনি যদি এক্সপার্ট না হন, তাতেও সমস্যা নেই; তারা আপনাকে কাজ শিখিয়ে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত করবে। এখানে কোনো আলাদা ওয়েল্ডিং সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।
৩. বয়সসীমা: আবেদন করার জন্য আপনার বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
৪. অভিজ্ঞতার সনদ: কাজের জন্য কোনো প্রকার অভিজ্ঞতার সনদের প্রয়োজন হবে না।
ইন্টারভিউ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া
এই ইন্টারভিউগুলো প্রতি দুই মাস পর পর অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে আপনাদের দুই মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর কোরিয়া থেকে একটি প্রতিনিধি দল (Delegates) বাংলাদেশে গিয়ে ইন্টারভিউ নিয়ে লোক সিলেক্ট করবেন। আপনি যদি ইন্টারভিউতে উত্তীর্ণ হন, তবেই আসতে পারবেন; অন্যথায় নয়।
















ভিসা ক্যাটাগরি ও মেয়াদ
এই পদ্ধতিতে যারা আসবেন, তারা প্রাথমিকভাবে ২ বছর কোরিয়াতে থাকতে পারবেন। তবে কোম্পানি যদি মনে করে আপনি দক্ষ এবং আপনাকে রাখা প্রয়োজন, তবে আপনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে (Extend) আরও বেশি সময় থাকার সুযোগ রয়েছে। এই ভিসার ক্যাটাগরি হলো E-7-3। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে একে সরাসরি E-7 ভিসা বলছেন, তবে E-7 এবং E-7-3 এর মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। এটি মূলত প্রাইভেট এজেন্সির মাধ্যমে বিএমইটি (BMET)-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।
সুযোগ-সুবিধা ও বীমা (Insurance)
কোরিয়াতে আসার পর আপনার থাকা এবং খাওয়ার যাবতীয় খরচ কোম্পানি বহন করবে। তবে প্রত্যেক শ্রমিককে বাধ্যতামূলকভাবে ৫টি বীমা বা ইন্সুরেন্সের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে-
১. মেডিকেল ইন্সুরেন্স: চিকিৎসার জন্য বাধ্যতামূলক।
২. দুর্ঘটনা বীমা: কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার সুরক্ষায়।
৩. বেকারত্ব বীমা: যদি কোম্পানিতে কাজ না থাকে, তবে সেই বসে থাকার দিনগুলোর বেসিক বেতন পাওয়ার জন্য এই বীমা।
৪. জীবন বীমা: যদি কেউ কোম্পানির বাইরে দুর্ঘটনায় মারা যান, তবে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর খরচ এবং ১০,০০০ ডলার প্রদানের জন্য এই বীমা।
৫. ফেরতযোগ্য জমা: শ্রমিককে প্রতি মাসে ১০০ ডলার করে জমা দিতে হবে। যদি কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তবে দেশে ফেরার সময় জমার ৬৫ শতাংশ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে এবং বাকি ৪৫ শতাংশ বীমা কোম্পানি তাদের সেবার জন্য কেটে রাখবে।
আইনি সহায়তা
এই প্রক্রিয়ার সাথে ‘ঘান নিয়ন্ত্রণ’ (Ghan Niyontron) নামক একটি ল-ফার্ম জড়িত। তারা পরবর্তী দুই বছর আপনাদের বেতন বা অন্য কোনো সমস্যা হলে তা তদারকি করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সেবা প্রদান করবে।
বেতন ও ওভারটাইম
সবার প্রধান লক্ষ্য থাকে বেতন। এই পদ্ধতিতে বেতন অনেক বেশি-
- বেসিক বেতন: মাসিক ২,২৩৫ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা)।
- কাজের সময়: সপ্তাহে ৫ দিন, প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা।
- ওভারটাইম: শনি ও রবিবার কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হবে। সব মিলিয়ে মাসে প্রায় ৩ লক্ষ থেকে ৩.৫ লক্ষ টাকা ইনকাম করা সম্ভব, যা ইপিএস-এর প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনায় অনেক বেশি।
খরচের বিবরণ
এই পদ্ধতিতে আসতে খরচ হবে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা। যেখানে সরকারিভাবে (EPS) আসতে ২-২.৫ লক্ষ টাকা লাগে, সেখানে এখানে খরচ অনেক বেশি। টাকাটি দুইবারে দিতে হবে-
১. প্রথম ধাপ: ১ লক্ষ টাকা (এটি ২ মাসের ট্রেনিং এবং বেসিক কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার খরচ)।
২. দ্বিতীয় ধাপ: ইন্টারভিউতে টিকে যাওয়ার পর এবং ভিসা হওয়ার পূর্বে বাকি ১২-১৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনি যদি প্রথম ইন্টারভিউতে ফেল করেন, তবে আবারও ৩০,০০০ টাকা ফি দিয়ে পুনরায় ট্রেনিং নিয়ে পরবর্তী ইন্টারভিউতে অংশ নিতে পারবেন। তবে ট্রেনিং চলাকালীন থাকা-খাওয়ার খরচ নিজেকে বহন করতে হবে।
শেষ কথা
আমি আপনাদের সকল তথ্য দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। তবে আমি আবার বলছি, আমি এর সাথে কোনোভাবে জড়িত নই। আপনারা যারা আসতে ইচ্ছুক, তারা অবশ্যই সরাসরি অফিসে গিয়ে সবকিছু ভালোভাবে বুঝে শুনে তারপর টাকা লেনদেন করবেন। আমার বড় ভাই সেখানে কাজ করেন বলেই আমি তথ্যগুলো আপনাদের জানাতে পেরেছি।
আশা করি বেসরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় আসার ব্যাপারে আপনাদের কৌতুহল মিটেছে। আরও কিছু জানার থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। সবাই ভালো থাকবেন।
তথ্যসূত্র: রাকিব, দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী। ইউটিউব এবং ফেসবুক পেইজ ‘লার্ন উইথ রাকিব’ (Learn with Rakib)।


ভাই ২০২৩-২০২৪ সালে লোক গেলেও ২০২৫ সালে তো তো তেমল লোক আর যায়নি কেরিয়ানরা লোক নিচ্ছেনা তেমন। আমার এক বছর নষ্ট হয়েছে সময়।