সূরা আল কাওসার অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ ও ফজিলত

পবিত্র কুরআনের ১০৮ নাম্বার সূরা হচ্ছে সূরা আল কাওসার। কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরা হচ্ছে এটি। এ সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয় বলে একে মাক্কী সূরা বলা হয়। সূরা কাওসারের অর্থ হচ্ছে প্রভূত কল্যাণ। এ সূরার অন্য নাম হচ্ছে সূরা নাহার। এর পূর্ববর্তী সূরা হচ্ছে সুরা আল মাউন এবং পরবর্তী সূরা হচ্ছে সুরা কাফিরূন।
নিম্নে সূরা আল কাওসারের অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ ও ফজিলত নিয়ে আলোচনা করা হলো-
(১) সূরা আল কাওয়ার সম্পর্কে সাধারন কিছু তথ্য
| সূরার নাম: | সূরা আল কাওয়ার |
| নামের অর্থ: | প্রভূত কল্যাণ |
| অন্য নাম: | সূরা নাহার |
| আয়াত সংখ্যা: | ০৩ |
| পারার ক্রম: | ৩০ |
| রুকুর সংখ্যা: | ০১ |
| শ্রেণী: | মাক্কী সূরা |
| শব্দ সংখ্যা: | ১০ টি |
| অক্ষর: | ৪২ টি |
(২) সূরা আল কাওসার বাংলা উচ্চারণ

(৩) সূরা আল কাওসার অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ ও আরবি আয়াত
| আরবি আয়াত | বাংলা উচ্চারণ | বাংলা অর্থ |
| إِنَّآ أَعْطَيْنَٰكَ ٱلْكَوْثَرَ | ইন্নাআ‘তাইনা-কাল কাওছার। | নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। |
| فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنْحَرْ | ফাসালিল লিরাব্বিকা ওয়ানহার। | অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। |
| إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ ٱلْأَبْتَرُ | ইন্না শা-নিআকা হুওয়াল আবতার। | যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ। |
(৪) সূরা আল কাওসার এর শানে নুযূল

মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন বলেন,
“যে ব্যক্তির পুত্রসন্তান মারা যায়, আরবে তাকে অবতার বা নির্বংশ বলা হয়। রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর পুত্র কাসেম আথবা ইবরাহীম যখন শৈশবেই মারা গেলেন, তখন কাফেররা তাকে নির্বংশ বলে উপহাস করতে লাগল। ওদের মধ্যে ‘আস ইবনে ওয়ায়েলের’ নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার সামনে রসূলুল্লাহ্ -এর কোন আলোচনা হলে সে বলতঃ আরে তার কথা বাদ দাও, সে তো কোন চিন্তারই বিষয় নয়। কারণ, সে নির্বংশ। তার মৃত্যু হয়ে গেলে তার নাম উচ্চাচরণ করারও কেউ থাকবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে সূরা আল কাওসার অবতীর্ণ হয়।”
(ইবনে কাসির মাযহারি)
(৫) সূরা আল কাওসার এর ফজিলত
সুরা কাওসার মুসলিম উম্মাহর জন্যে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এর কারণ হলো এ সূরা থেকে জান্নাতের হাউযে কাউসার এর কথা বলা হয়েছে যা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে প্রদান করা হবে।
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
“একদিন মসজিদে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে উপস্থিত হলেন। হঠাৎ মহানবীর (সা.) মাঝে তন্দ্রা অথবা একধরনের অচেতনতার ভাব দৃশ্যমান হলো। এরপর নবীজি (সা.) হাসিমুখে মস্তক উত্তোলন করলেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার হাসির কারণ কী?’ তিনি বললেন, ‘এই মুহূর্তে আমার নিকট একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে’। অতঃপর তিনি বিসমিল্লাহসহ সূরা কাউসার পাঠ করলেন এবং বললেন, ‘তোমরা জান, কাউসার কী?’ আমরা বললাম, ‘আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন’। তিনি বললেন, ‘এটা জান্নাতের একটি নহর। আমার পালনকর্তা আমাকে এটা দেবেন বলে ওয়াদা করেছেন। এতে অজস্র কল্যাণ আছে এবং এই হাউজে কেয়ামতের দিন আমার উম্মত পানি পান করতে যাবে। এর পানি পান করার পাত্র সংখ্যা আকাশের তারকাসম হবে। তখন কতক লোককে ফেরেশতাগণ হাউজ থেকে হটিয়ে দেবে। আমি বলবো, পরওয়ার-দেগার, সে তো আমার উম্মত। আল্লাহ তায়ালা বলবেন, আপনি জানেন না, আপনার পরে সে কী নতুন মত ও পথ অবলম্বন করেছিল?”
(হাদিসে সহিহ বোখারি, মুসলিম শরিফ, আবু দাউদ, নাসায়ী)
কাওসার সেই অজস্র কল্যাণ যা মহান আল্লাহ তা’আলা রাসূল (সাঃ) কে দান করেছেন। কাওসার জান্নাতের একটি প্রস্রবনের নাম। আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদেরকে হাওজে কাওসারের পান করার মত যোগ্যতা অর্জন করে জীবন চলার তৌফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।









