৩০+ সাধারন কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর

জ্ঞানার্জনের প্রথম ধাপ হলো প্রশ্ন করা। এই ব্লগ পোষ্টে আমরা এমনই ৩০টিরও বেশি সাধারণ অথচ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরেছি।
১. বাংলাদেশের আয়তন কত? ২০২৫
উত্তর:
২০২৫ সাল অবধি, বাংলাদেশের আয়তন হিসেবে ১,৪৮,৪৬০ বর্গ কিলোমিটার।
দ্রষ্টব্য: কিছু উৎসে বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা পুরোনো তথ্য বা ভিন্ন পরিমাপের উপর ভিত্তি করে হতে পারে। তবে ১,৪৮,৪৬০ বর্গ কিলোমিটার সাম্প্রতিক এবং বহুল গৃহীত তথ্য, বিশেষ করে সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক এবং উইকিপিডিয়ার মতো নির্ভরযোগ্য উৎসে।
বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার থেকে পরিবর্তন হয়ে ১,৪৮,৪৬০ বর্গ কিলোমিটার হবার কারণ হলো ভারতের ছিটমহল বিনিময় এবং নদীবাহিত পলি দ্বারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বসবাসযোগ্য দ্বীপের সৃষ্টি।
বাংলাদেশের আয়তন হিসেবে ১,৪৮,৪৬০ বর্গ কিলোমিটার উল্লেখ করা হয়েছে নিম্নলিখিত উৎসগুলোতে-
- ইংরেজি উইকিপিডিয়া (Bangladesh – Wikipedia): এই পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৮,৪৬০ বর্গ কিলোমিটার (৫৭,৩২০ বর্গ মাইল)।
- Club Ordinary: এই ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৮,৪৬০ বর্গ কিলোমিটার উল্লেখ করা হয়েছে।
- Vromon Tips: এই সাইটে সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক ২০২১-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৮,৪৬০ বর্গ কিলোমিটার বলা হয়েছে।
২. ওয়ারিশ সনদ আবেদন পত্র কোথায় গেলে পাব?
উত্তর:
ওয়ারিশ সনদ আবেদন পত্র আপনার নিজের পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদে পাবেন, আপনার এলাকার কাউন্সিলর/মেম্বার বা চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করবেন।
◆ ওয়ারিশ সনদ কি?
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারদের মধ্যে তার ব্যক্তিগত আইন অনুসারে বণ্টন করা হয়। কিন্তু এ জন্য ঐ ব্যক্তির উত্তরাধিকার কারা বা ওয়ারিশ কারা তা জানার প্রয়োজন হয়। আর এই বিষয়টি নির্ধারণ করার জন্য স্থানীয় পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন অথবা আদালত এই ওয়ারিশ সনদ প্রদান করে থাকে।
◆ ওয়ারিশ সনদ কোথায় দরকার হয়?
- জমি-জমা বা সম্পত্তি বাটোয়ারায়
- নামজারি করতে
- আইনগত অধিকার আদায়ে
- ঘোষণামূলক মোকদ্দমায়
- ব্যাংক- বীমায় মৃত ব্যক্তির অর্থ থাকলে
- পেনশন তুলতে।
◆ ওয়ারিশ সনদ কিভাবে পাবেন?
ওয়ারিশ সনদ সাধারণত স্থানীয় পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্র, যা একজন মৃত ব্যক্তির আইনি উত্তরাধিকার/ওয়ারিশদের স্বীকৃতি দেয়। আবার ওয়ারিশ সনদ দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমেও পাওয়া যায়। সাধারণত অর্থ ও অস্থাবর সম্পত্তির দেনা – পাওনা, ব্যাংক-বিমা ইত্যাদির সুষ্ঠু হিসাব পাওয়ার জন্য ও যাতে করে ভবিষ্যতে কোন ধরনের ঝামেলা না হয় সেজন্য দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদ নেওয়া হয়।
◆ ওয়ারিশ সনদ পেতে কি কি কাগজ লাগবে?
- ওয়ারিশগণের ১ কপি ছবি (সত্যায়িত)
- মৃত্যু সনদ ১ কপি (সত্যায়িত)
- মেয়র/সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান এর তদন্ত প্রতিবেদন
- ওয়ারিশানদের জাতীয় পরিচয়পত্র।
◆ ওয়ারিশ সনদ আবেদন পত্রের খরচ কিরকম হয়?
সাধারণত ৫০-১০০ টাকা প্রয়োজন হয়, এটা পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিশোধ ভেদে আলাদা হয়ে থাকে তবে এটা খুব বেশি হয় না।
মনে রাখবে, স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিশোধ থেকে সনদ নিলেই হয় আর অর্থ সংক্রান্ত ও অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে আদালত থেকে এই সনদ গ্রহণ করতে হয়।
৩. জিন্নাহ কি সত্যিই বাংলা ভাষার বিরোধী ছিলেন?
উত্তর:
আমাদের বাংলাদেশে ১৯৪৮ সালে কার্জন হলে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ভাষণ নিয়ে আজও বিতর্ক থামেনি। সেই ভাষণের একটি অংশ প্রায়ই উদ্ধৃত হয়ঃ “উর্দু, একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।” এই কথার পর শ্রোতারা নাকি “না, না” বলে চিৎকার করে উঠেছিলেন। কিন্তু এই উদ্ধৃতিটি কি পুরো সত্যটি প্রকাশ করে? নাকি এটি একটি অর্ধসত্য, যা জিন্নাহর বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
জিন্নাহর পূর্ণ বক্তব্য কী ছিল?
কার্জন হলের সেই ভাষণের বাকি অংশটি অনেকের কাছে অজানা বা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছে। জিন্নাহ স্পষ্টভাবে বলেছিলেনঃ
“Whether Bengali shall be the official language is a matter of the elected representatives of the people of this province to decide. I have no doubt that this question shall be decided solely in accordance with the wishes of the inhabitants of this province at the appropriate time.”
অর্থাৎ, বাংলা প্রদেশে বাংলাই হবে অফিসিয়াল ভাষা, বাংলায় পড়াশোনা হবে, এবং প্রাদেশিক কাজকর্মে বাংলার প্রাধান্য থাকবে। এই কথার পর আর কোনো “না, না” চিৎকার ছিল না, ছিল শুধু হাততালির শব্দ। ইউটিউবে পুরো বক্তৃতাটি শুনলে এই সত্যটি স্পষ্ট হয়।
কেন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করা হয়েছিল?
প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি ৫৬% মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলত, তাহলে মাত্র ৪% মানুষের মাতৃভাষা উর্দুকে কেন রাষ্ট্রভাষা করা হলো? উত্তরটি পাকিস্তানের বহুজাতিক ও বহুভাষিক কাঠামোর মধ্যে খুঁজতে হবে। সে সময় পাকিস্তানে পাঁচটি প্রদেশ ছিলঃ সিন্ধ, পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান এবং বাংলা। এই প্রদেশগুলোর ভাষা পরস্পরের কাছে দুর্বোধ্য ছিল। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করলে অন্য প্রদেশের মানুষ দাপ্তরিক কাজে অচল হয়ে পড়ত।
জিন্নাহর প্রস্তাব ছিল, উর্দু হবে আন্তঃপ্রদেশ যোগাযোগের মাধ্যম, যা সে সময় মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। কিন্তু প্রাদেশিক পর্যায়ে সবাই নিজ নিজ ভাষা ব্যবহার করবে। বাংলায় বাংলা, পাঞ্জাবে পাঞ্জাবি, সিন্ধে সিন্ধ— এটাই ছিল তার দৃষ্টিভঙ্গি। অথচ, তার বক্তব্যের একটি অংশকে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে যে, তিনি নাকি বাংলা ভাষাকে অসম্মান করেছেন বা বাঙালিদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
জিন্নাহর বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা:
জিন্নাহর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে আরেকটি জনপ্রিয় দাবি হলো, তিনি বাঙালিদের ওপর উর্দু চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সত্যটি হলো-
১. জিন্নাহর মাতৃভাষা ছিল গুজরাটি, উর্দু নয়।
২. পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বেশিরভাগের মাতৃভাষা ছিল পাঞ্জাবি, উর্দু নয়।
৩. জিন্নাহ স্পষ্টভাবে বাংলাকে প্রাদেশিক অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে সমর্থন করেছিলেন।
তবু, জিন্নাহ বিরোধী প্রোপাগান্ডায় এই সত্যগুলো গোপন রাখা হয়। এমনকি তার কবরে এখনো বাংলা বর্ণমালা খোদাই করা আছে, যা তার বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধার প্রমাণ।
বাংলাদেশের জন্য জিন্নাহর অবদান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ শুধু পাকিস্তানের স্রষ্টাই নন, তার দূরদর্শিতার কারণে বাংলাদেশের অস্তিত্বের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান না হলে পূর্ব বাংলার (বাংলাদেশের) মুসলমানরা ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসনের অধীনে শোষিত হতেন। সে সময় পূর্ব বাংলার (বাংলাদেশের) মুসলমানদের অবস্থা ছিল করুণ-
- স্বাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ৫% এর নিচে।
- ৯৫% মানুষ ছিল ভূমিহীন, কলকাতার জমিদারদের প্রজা।
- উচ্চপদে থাকা সরকারি কর্মকর্তা, উকিল বা জর্জদারদের ৯৫% ছিল হিন্দু।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার মুসলমানরা ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থানে উন্নতি করতে শুরু করে। তুলনা করলে, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা দেখে এই পার্থক্য স্পষ্ট হয়।
২০০৬ সালের সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ৮০% দারিদ্র্যসীমার নিচে, ৬২% এর কৃষিজমি নেই, এবং মাত্র ২% সরকারি চাকরিতে আছেন। আসাম ও ত্রিপুরার মুসলমানদের অবস্থা আরও শোচনীয়।
২০১৬ সালে আনন্দবাজার ‘সাচার কমিটি রিপোর্টের দশ বছর পরে’ নামে একটি রিপোর্ট করে। তাতে আনন্দবাজার দেখায় ১০ বছর পরেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। আর আমাদের আরেক প্রতিবেশী আসাম এবং ত্রিপুরার মুসলমানদের কথা কিছু বললামই না। চিকিৎসা!? শিক্ষা?! সরকারি চাকুরি!! তাদেরকে বাড়িঘর, জায়গা জমি, মসজিদ-মাদ্রাসা দখল করে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে আটকে রাখছে।
একজন মানুষে যেটা করেনি বা বলেনি, আমি কেন সেটা বলব, আমি মিথ্যা বলতে পারিনা, সত্য ও বাস্তবতার দিকে তাকালে বলতেই হয়, জিন্নাহর ভাষণের একটি অংশকে বিকৃত করে তাকে বাংলা-বিদ্বেষী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। কিন্তু পুরো সত্যটি জানলে বোঝা যায়, তিনি বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং বাঙালিদের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তার দূরদর্শিতা না থাকলে আজকের বাংলাদেশের অস্তিত্বই হয়তো থাকত না। তবু, বাংলাদেশের জনমানসে জিন্নাহ নিয়ে আলোচনা প্রায় নেই। এটি কি আমাদের অকৃতজ্ঞতা নয়?
ইউটিউবে জিন্নাহর পূর্ণ বক্তৃতা শুনে নিজের জন্য সত্যটি যাচাই করুন।
৪. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর:
আবহাওয়া ও জলবায়ু একে অপরের পরিপূরক। এরা হলো জলবায়ু বিদ্যার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। কিন্তু এই আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো–
| বিষয়বস্তু | আবহাওয়া | জলবায়ু |
| সংজ্ঞা | কোনো স্থানের স্বল্প সময়ের গড় তাপমাত্রা ও গড় বৃষ্টিপাতকে আবহাওয়া বলে। | সাধারণত ৩০-৪০ বছরের বেশি সময়ের আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে। |
| পরিবর্তনশীলতা | আবহাওয়া প্রতিদিন, এমনকি প্রতি ঘন্টায় পরিবর্তন হয়। | অপরদিকে কোনো স্থানের জলবায়ু পরিবর্তন হতে দীর্ঘ সময় লাগে। |
| বিস্তার | এটি স্বল্প পরিসরে বিস্তার লাভ করে। | এটি বিশাল পরিসরে বিস্তার লাভ করে। |
| উপাদান | প্রধান উপাদান হলো উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, বায়ুরচাপ, বায়ু প্রবাহ ইত্যাদি। | এর প্রধান দুটি উপাদান হলো তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত। |
| প্রভাব | দৈনন্দিন জীবনের উপর প্রভাব ফেলে। | মানুষের জীবন প্রণালী, কৃষিকাজ, অর্থনীতি, মানুষের স্বাস্থ্য ইত্যাদির উপর প্রভাব ফেলে। |
| অধ্যয়ন | আবহাওয়া সম্পর্কে অধ্যয়নকে আবহাওয়া বিদ্যা (Meteorology) বলে। | অপরদিকে জলবায়ু সম্পর্কে অধ্যয়নকে জলবায়ু বিদ্যা (Climatology) বলে। |
এগুলো ছাড়াও আরও অনেক পার্থক্য রয়েছে।
৫. কৃষি কি বা কাকে বলে?
উত্তর: বিশ্বের যেকোনো দেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অতুলনীয়। অর্থাৎ, উন্নত, অনুন্নত, উন্নয়নশীল নির্বিশেষে সকল দেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান, শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বেশিরভাগই কৃষি থেকে আসে। চলুন তাহলে কৃষি কি বা কাকে বলে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।
কৃষি কি বা কাকে বলে?
জীবনধারণের তাগিদে মানুষ জমি চাষ করে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে। সাধারণভাবে জমি চাষের এই কাজকে কৃষি বলে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ব্যবহার করে ফসলাদি উৎপাদন করা যায়।
আবার, অর্থশাস্ত্রে কৃষি বলতে কেবল ফসল উৎপাদন করাকেই বোঝায় না, বরং উৎপাদন লাভের উদ্দেশ্যে পশুপাখি পালনের মতো কাজও কৃষির অন্তর্ভুক্ত। তাই প্রকৃত অর্থে উৎপাদন লাভের উদ্দেশ্যে কোনো নির্দিষ্ট ভূমিক্ষেত্রে ও তদুপরিস্থ ঘর বা দালান ব্যবহার করে ফসলাদি উৎপাদন ও পশুপালনের প্রয়াস ও কৌশলকে কৃষি বলে।
- Oxford Advanced Learner’s Dictionary অনুসারে, “Agriculture is the science or practice of farming.” (7th edition)
- আসাদুজ্জামানের মতে, “ব্যাপকভাবে কৃষি বলতে শস্য উৎপাদন, পশুপালন, মৎস্য চাষ এবং বনজ সম্পদ সংরক্ষণের মত নানা বিষয়কে বোঝানো হয়।”
সুতরাং বলা যায়, কৃষি ব্যতীত কোন দেশের অর্থনীতির কথা কল্পনাও করা যায় না।
৬. গ্রহ কি বা কাকে বলে? গ্রহ কয়টি ও কি কি?
উত্তর:
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বসবাস করি তার নাম হলো ছায়াপথ। আর এই ছায়াপথে রয়েছে সূর্য ও এর পরিবার যাকে সৌরজগৎ বলে। সৌরজগতে রয়েছে সূর্য আর একে ঘিরে রয়েছে আবর্তনশীল গ্রহ। চলুন তাহলে গ্রহ সম্পর্কে জেনে নেই।
গ্রহ কি বা কাকে বলে?
যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো নেই, তাদের গ্রহ বলে। যেমন- পৃথিবী, বুধ, শুক্র ইত্যাদি।
এক কথায় যেসব বস্তু সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাদেরকে গ্রহ বলা হয়।
গ্রহ কয়টি ও কি কি?
সূর্যকে ঘিরে আবর্তনশীল গ্রহ ৮টি। অর্থাৎ গ্রহ ৮টি। এগুলো হলো-
- বুধ
- শুক্র
- পৃথিবী
- মঙ্গল
- বৃহস্পতি
- শনি
- ইউরেনাস ও
- নেপচুন
এসব গ্রহের মধ্যে কোনটার আবার একাধিক উপগ্রহও আছে। যেমন- পৃথিবীকে কেন্দ্র করে চাঁদ ঘুরছে। তাই চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ। গ্রহ ও উপগ্রহের কোন আলো ও উত্তাপ নেই।
পৃথিবীর ১ টি, মঙ্গলের ২ টি, বৃহস্পতির ৬৭ টি, শনির ৬২ টি, ইউরেনাসের ২৭ টি এবং নেপচুনের ১৪ টি প্রাকৃতিক উপগ্রহ আছে। এরা এদের গ্রহের মধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে গ্রহের চারদিকে ঘুরে।
৭. জনপ্রিয় কয়েকটি ইসলামিক ফেসবুক আইডির নাম জানতে চাই।
উত্তর:
সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। বর্তমানে প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করে। ফেসবুক একাউন্ট খুলতে হলে এর একটি নাম প্রয়োজন। কারণ আইডির নাম দেখেই অন্যান্য ফেসবুক ব্যবহারকারীরা প্রোফাইল ভিজিট করতে আগ্রহী হয়ে উঠে। এ নাম এখন সৃজনশীলতার প্রতীক।
মুসলিম জাতি হিসেবে আমাদের ফেসবুক আইডির নাম ইসলামিক শরিয়া অনুযায়ী থাকা ভালো। তাহলে সকলে বুঝতে পারবে আমরা মুসলিম পরিবারের সন্তান।
তাই আজ আমি আপনাদের সামনে ইসলামিক ফেসবুক আইডির নাম নিয়ে আলোচনা করব। নিম্নে কয়েকটি ইসলামিক ফেসবুক আইডির নামের তালিকা উল্লেখ করা হলো। এখান থেকে আপনারা যেকোনো সুন্দর নাম নিয়ে আইডিতে দিতে পারবেন।
ছেলে ও মেয়েদের ইসলামিক ফেসবুক আইডির নামের তালিকা:
| ছেলেদের নাম | মেয়েদের নাম |
| আলোর দিশারী | মেঘলা তাসনি |
| আলোর পথিক | ঐশী |
| বিশ্বাসী | মৌটুসী |
| সত্যের সন্ধানে | অবুঝ মন |
| এসো আলোর পথে | স্মৃতি আক্তার |
| এসো আল্লাহর পথে | পারুল |
| এসো ইসলামের পথে | নামাজী মেয়ে |
| এসো শান্তির পথে | ইসলামী কন্যা |
| মুহাম্মদ | হিজাব কুইন |
| সত্য ইসলাম | নামাজ বেহেস্তের চাবি |
| পবিত্র হৃদয় | নুহা ফারবিন |
| আযহার | তাসনিয়া সুলতানা |
| লতিফ ইসলাম | মীম আক্তার |
| কাজল ইসলাম | তানিয়া পারভীন |
| ইসলামের পতাকা | আইরিন সুলতানা |
| সুলতান ইসলাম | সুরাইয়া আক্তার |
| আলোর পতাকা | নাসিমা আক্তার |
| আলি ইসলাম | পর্দাশীল কন্যা |
| আবু বকর | মুনিয়া সুলতানা নুহা |
| আবরার গালিব | |
| আবরার ইসলাম | |
| আজমাইন ইসলাম | |
| নজরুল ইসলাম | |
| আহনাফ মুত্তাকী | |
| লাজিম খলিল | |
| রাদ শাহামাত | |
| হাসিন রাইহান | |
| তালাল ওয়াসিম | |
| বখতিয়ার | |
| মোস্তফা | |
| তওকীর | |
| ফরিদ হামিদ | |
| সিনথিয়া জামান |
৮. জনসংখ্যা কি? প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব
উত্তর:
জনসংখ্যা কি?
মানবিক ভূগোলের একটি প্রধান উপজীব্য বিষয় হচ্ছে জনসংখ্যা। কোন দেশের ছোট বড় ছেলে মেয়ে ও পুরুষ মহিলা মিলে যে মোট জনসমষ্টি হয় তাই জনসংখ্যা। অর্থাৎ কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকার একক জনগোষ্ঠীকে জনসংখ্যা বলে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব:
প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির কয়েকটি প্রভাব হলো-
- অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
- বেশি জনসংখ্যার জন্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি তৈরির জন্য অধিক জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
- অধিক জনসংখ্যার বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিক, পলিথিন ইত্যাদি মাটির সাথে মিশে মাটি দূষিত হচ্ছে।
- বাড়তি শস্য উৎপাদন ও পশু পালনের জন্য মানুষ বন উজাড় করছে।
- জীবের আবাসস্থল ধ্বংস হয় এবং জীব ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়।
- কৃষি ক্ষেত্রে ফসলের ভালো বৃদ্ধি এবং অধিক খাদ্য উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাটি ও পানি দূষিত হচ্ছে।
- মানুষের যাতায়াতের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে ফলে পরিবেশে বিভিন্ন ক্ষতিকারক গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অ্যাসিড বৃষ্টি হচ্ছে। ইত্যাদি।
জনসংখ্যা সমস্যা নিরসনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদান:
জনসংখ্যা সমস্যা নিরসনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কয়েকটি অবদান হলো-
- বিভিন্ন ধরণের কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে কম সময়ে অধিক ফসল ফলানো।
- জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক পুষ্টিসম্পন্ন, রোগ প্রতিরোধী এবং অধিক উৎপাদনশীল ফসল উদ্ভাবন করা।
- জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার কমাতে বিদ্যুৎ ও তেল উভয় জ্বালানি ব্যবহৃত হাইব্রিড গাড়ি উদ্ভাবন করা।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প হিসেবে সৌর প্যানেলের মত শক্তি উদ্ভাবন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। ইত্যাদি।
৯. জলবায়ু কাকে বলে? জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
উত্তর:
জলবায়ু কাকে বলে?
কোন স্থানের আবহাওয়া পরিবর্তনের নির্দিষ্ট ধারাই জলবায়ু। এটি হলো কোন স্থানের বহু বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা। অর্থাৎ, কোন নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের (সাধারণত ৩০-৪০ বছরের বেশি সময়ের) আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে। মূলত বৃহৎ এলাকা নিয়ে জলবায়ু নির্ণীত হয়ে থাকে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
বর্তমানে বিভিন্ন কারণে বিশ্বের জলবায়ু পাল্টে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে মানবসৃষ্ট দূষণ, শিল্প কলকারখানা, যানবাহনের ধোঁয়া ইত্যাদি। এর ফলে তাপমাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর অতিরিক্ত তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে একদিকে বরফ গলে যাচ্ছে আর অন্যদিকে জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে নানারকম সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর কয়েকটি হলো-
- গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।
- অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি হচ্ছে।
- ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বাড়ছে।
- ভয়াবহ বন্যা হচ্ছে।
- কৃষিজমির ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
- গাছপালা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
- পশু-পাখির ক্ষতি হচ্ছে।
- ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে ইত্যাদি।
১০. তেভাগা আন্দোলন বলতে কি বুঝ?
উত্তর:
পূর্বে বর্গাচাষে জমির সব ফসল মালিকের গোলায় উঠত আর ভূমিহীন কৃষক ও ভাগ চাষীদের জন্য ফসলের অর্ধেক বা আরও কম বরাদ্দ থাকত। ফসল ফলানোর জন্য বীজ, শ্রম সবই কৃষক দিত। এতে কৃষকরা তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে। আর এ থেকেই তেভাগা আন্দোলন শুরু হয়।
১৯৪৬ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হয়ে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তেভাগা আন্দোলন চলে। বর্গাচাষীরা এতে অংশগ্রহণ করে। মোট উৎপন্ন ফসলের তিনভাগের ২ ভাগ পাবে চাষী আর এক ভাগ জমির মালিকেরা পাবে – এই দাবি থেকেই তেভাগা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
ইলা মিত্র, হাজী মোহাম্মদ দানেশ ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ এ তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। হাজী মোহাম্মদ দানেশকে এ আন্দোলনের জনক বলা হয়।
বাংলার প্রায় ১৯ টি জেলায় তেভাগা আন্দোলন নামে কৃষক আন্দোলন শুরু হয়। রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় এই আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করে।
১১. ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের অ্যালগরিদম ও সি প্রোগ্রাম?
উত্তর:
ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল বের করার জন্য প্রথমে ত্রিভুজের ভূমি ও উচ্চতা নিতে হবে। তারপর ক্ষেত্রফলের সূত্র = (0.5 × ভূমি × উচ্চতা) নির্ণয় করতে হবে। তাহলে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেই-
ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করার অ্যালগরিদম:
Algorithm
- Step – 01: Start
- Step – 02: Input b,h
- Step – 03: Area = 21 * b * h
- Step – 04: Print Area
- Step – 05: End
ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করার সি প্রোগ্রাম:
C-Program
C
#include <stdio.h>
void main()
{
float b, h, Area;
scanf("%f%f", &b, &h);
Area = 0.5 * b * h; // অথবা Area = (float)1/2 * b * h;
printf("%f", Area);
}
১২. ফ্রিজে কোন খাবার কতদিন ভালো থাকে?
উত্তর:
ফ্রিজের একটা অংশে আমরা বলি রেফ্রিজারেটর (নরমাল), যেখানে তাপমাত্রা থাকে ০-৪°C, খাবার রাখলে তা বরফ হয় না। অপরদিকে, ফ্রিজের আরেকটা অংশে আমরা বলি ফ্রিজার (ডিপ), যেখানে তাপমাত্রা থাকে -১৮°C, খাবার রাখলে তা বরফ হয়ে যায়।
চলুন জেনে নিই, ফ্রিজে (রেফ্রিজারেটর বা নরমাল) কোন খাবার/সবজি কতদিন ভালো থাকে?
১। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য
- তরল দুধ: ৫-৭ দিন (খোলা হলে ২-৩ দিন)
- দই: ১৪-২১ দিন (খোলা হলে ৭-১০ দিন)
- পনির: ১-২ মাস (নরম পনির ২-৩ সপ্তাহ)
- মাখন: ১-৩ মাস
২। মাংস ও মাছ
- কাঁচা মুরগি/মাংস: ১-২ দিন
- কাঁচা মাছ: ১-২ দিন
- রান্না করা মাংস/মাছ: ৩-৪ দিন
- কিমা মাংস: ১-২ দিন
৩। সবজি ও ফল
- শাকসবজি (পালং শাক, লাউ শাক): ৩-৫ দিন
- গাজর, মুলা: ২-৪ সপ্তাহ
- টমেটো: ২-৩ সপ্তাহ
- আপেল: ১-২ মাস
- কলা: ২-৩ সপ্তাহ (পাকলে দ্রুত খেতে হবে)
৪। রান্না করা খাবার
- ভাত: ৪-৬ দিন
- তরকারি (মাছ/মাংস): ৩-৪ দিন
- স্যুপ/ঝোল: ৩-৪ দিন
- রুটি/পরোটা: ২-৩ দিন
৫। ডিম
- কাঁচা ডিম: ৩-৫ সপ্তাহ
- সেদ্ধ ডিম: ১ সপ্তাহ
৬। কেক/পেস্ট্রি
- ক্রিম ছাড়া: ৫-৭ দিন
- ক্রিম সহ: ২-৩ দিন
এবার জেনে নিই, ফ্রিজে (ফ্রিজার বা ডিপ) কোন খাবার/সবজি কতদিন ভালো থাকে?
১। মাংস ও মাছ
- কাঁচা মুরগি/মাংস: ৯-১২ মাস
- কাঁচা মাছ: ৩-৬ মাস
- রান্না করা মাংস/মাছ: ২-৩ মাস
- কিমা মাংস: ৩-৪ মাস
২। সবজি ও ফল
- হিমায়িত সবজি (ব্লাঞ্চ করে): ৮-১২ মাস
- ফল (কেটে বা পুরো): ৬-১২ মাস
৩। রান্না করা খাবার
- ভাত: ১-২ মাস
- তরকারি: ১-৩ মাস
- রুটি/নান: ২-৩ মাস
৪। আইসক্রিম
- ১-২ মাস (খোলা হলে ২-৪ সপ্তাহ)
৫। মাংসের তৈরি খাবার
- কাবাব, কোর্মা: ২-৩ মাস
প্রিয় বন্ধু, আশা করি ফ্রিজে কোন খাবার কতদিন ভালো থাকে, তা জানতে পেরেছেন।
১৩. মুজিবের বাকশাল মানে কি ভাই, একটু বুঝিয়ে দেন তো?
উত্তর:
“মুজিবের বাকশাল” বলতে সাধারণত বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৫ সালে গঠিত “বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ” (বাকশাল) বোঝানো হয়। এটি ছিল একটি রাজনৈতিক দল এবং একই সঙ্গে একটি শাসন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে শেখ মুজিব একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন।
আসুন একটু সহজভাবে বুঝিয়ে বলি-
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর দেশে অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি, দুর্ভিক্ষ আর রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুজিব ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র বাতিল করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়। এই নতুন দলের নাম হয় বাকশাল।
বাকশালের মূল উদ্দেশ্য ছিল-
- দেশে “দ্বিতীয় বিপ্লব” ঘটানো, যার মাধ্যমে সমাজতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সমতা আনা হবে।
- সব রাজনৈতিক দলকে এক ছাতার নিচে এনে কেন্দ্রীভূত শাসন কায়েম করা।
- দুর্নীতি ও অরাজকতা কমানো।
কিন্তু বাস্তবে এটি অনেকের কাছে স্বৈরাচারী শাসন হিসেবে দেখা হয়। বিরোধী দলগুলো নিষিদ্ধ হয়ে যায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কমে যায়, আর বাকশালই একমাত্র বৈধ দল হয়ে ওঠে। মুজিব নিজে এর প্রধান হন এবং দেশের সব ক্ষমতা কার্যত তার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, এই ব্যবস্থা বেশিদিন টেকেনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য নিহত হন, এবং বাকশালের পতন হয়।
সুতরাং, “মুজিবের বাকশাল” মানে শেখ মুজিবের একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার একটি স্বল্পস্থায়ী প্রয়াস, যা তার সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ফসল হলেও বিতর্কিত এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল। আশা করি বোঝাতে পেরেছি, ভাই!
১৪. যৌথ পরিবার কাকে বলে?
উত্তর:
যৌথ পরিবার কাকে বলে: যে পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, মাতা-পিতা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, ভাইয়ের সন্তান- সন্ততি এমনকি স্ত্রীর ভাই-বোন, পিতা – মাতা সহ একত্রে বসবাস করে তাকে যৌথ পরিবার বলে।
অর্থাৎ, যৌথ পরিবারে মা-বাবা, দাদা-দাদি, চাচা-চাচি ও অন্যান্য পরিজন একসাথে বাস করে। একে বড় পরিবারও বলা হয়। আমাদের দেশে এ ধরণের পরিবার রয়েছে। যৌথ পরিবার মূলত কয়েকটি একক পরিবারের সমষ্টি।
১৫. মডারেটর কি?
উত্তর:
মডারেটর শব্দটি বিভিন্ন প্রসঙ্গে ভিন্ন অর্থ হতে পারে। তবে সাধারণভাবে মডারেটর বলতে এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি কোনো আলোচনা, সভা, ফোরাম বা অনলাইন কমিউনিটির তত্ত্বাবধান করেন।
এখানে মডারেটরের কিছু সাধারণ কাজ উল্লেখ করা হলো-
- আলোচনা বা সভার পরিচালনা: মডারেটর কোনো আলোচনা বা সভার পরিচালনা করে থাকেন। তিনি আলোচনা বা সভার নিয়মকানুন বজায় রাখেন, বক্তাদের সময় নিয়ন্ত্রণ করেন এবং আলোচনাকে নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন।
- অনলাইন কমিউনিটির তত্ত্বাবধান: অনলাইন ফোরাম, চ্যাটরুম বা সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের মডারেটররা কমিউনিটির নিয়মকানুন বজায় রাখেন, অবাঞ্ছিত পোস্ট বা কমেন্ট মুছে দেন এবং সদস্যদের মধ্যে সুষ্ঠু যোগাযোগ নিশ্চিত করেন।
- বিতর্ক বা আলোচনা নিয়ন্ত্রণ: কোনো বিতর্ক বা আলোচনার মডারেটর নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সমান সুযোগ নিশ্চিত করেন এবং বিতর্ক বা আলোচনাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন।
অন্যভাবে বলতে গেলে, মডারেটর হল এমন একজন ব্যক্তি যিনি কোনো গোষ্ঠী, আলোচনা বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন।
উদাহরণস্বরূপ যদি বলি, কোনো ফেসবুক পেজ বা গ্রুপের মডারেটররা সাধারণত নিম্নলিখিত কাজগুলো করেন-
- পেজ বা গ্রুপের নিয়মকানুন মেনে চলা এবং অন্যদের মেনে চলতে উৎসাহিত করা। স্প্যাম, অপ্রাসঙ্গিক বা ক্ষতিকর পোস্ট ও কমেন্ট মুছে ফেলা।
- সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং তাদের সমস্যা সমাধান করা। সদস্যদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
- আলোচনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং বিতর্ক নিয়ন্ত্রণ করা। সদস্যদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা উৎসাহিত করা।
- পেজ বা গ্রুপের জন্য উপযুক্ত কন্টেন্ট পোস্ট করা। কপিরাইট লঙ্ঘন করে এমন কন্টেন্ট মুছে ফেলা।
- অনাকাঙ্ক্ষিত মেম্বারদের গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া। গ্রুপে যেন সবাই নিরাপদ থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা।
একজন ফেসবুক পেজ মডারেটর সাধারণত পেজের মেসেজ এবং কমেন্টের উত্তর দেওয়া; পেজের বিজ্ঞাপন তৈরি এবং ইনসাইট দেখার কাজ করা; ফেসবুক পেজের হয়ে মেসেজের উত্তরও দিতে পারেন; ইত্যাদি।
অপরদিকে একজন ফেসবুক গ্রুপ মডারেটর গ্রুপের পোস্ট এবং কমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা; গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা পরিচালনা করা; গ্রুপের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা; ইত্যাদি কাজ করে থাকেন।
মডারেটরদের মূল লক্ষ্য হলো পেজ বা গ্রুপকে একটি নিরাপদ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে গড়ে তোলা।
১৬. MTFE মানে কি?
উত্তর:
MTFE-এর পূর্ণরূপ হলো ‘মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ’ (Metaverse Foreign Exchange Group)। এটি একটি অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যবহারকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সি, বৈদেশিক মুদ্রা এবং অন্যান্য আর্থিক উপকরণে বিনিয়োগ করতে পারত।
MTFE নিজেকে একটি কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করত, কিন্তু বাস্তবে এর কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছিল না। তারা বেশি বেশি ইনকামের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল, যা অনেক বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করে।
সম্প্রতি, MTFE তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে গেছে। এটি একটি পঞ্জি স্কিম বা পিরামিড স্কিম ছিল বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে নতুন বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়ে পুরনো বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ পরিশোধ করা হতো।
MTFE-এর মতো স্কিমগুলো থেকে সাবধান থাকা জরুরি। বিনিয়োগের আগে, প্রতিষ্ঠানের বৈধতা এবং নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা উচিত। অতিরিক্ত লাভের লোভ থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
১৭. ও টি সি মার্কেট কি?
উত্তর:
আমরা জানি, বাইনারি অপশন ট্রেডিং এবং ফরেক্স ট্রেডিং দুটোই ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট এর উপর নির্ভর করে চলে। সারা বিশ্বের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত ট্রেডাররা এই বাজারে লেনদেন করে। এই ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট সপ্তাহে পাঁচ দিন চালু থাকে, ২ দিন বন্ধ থাকে।
সপ্তাহে যেই দুই দিন ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট বন্ধ থাকে, তখন বাইনারি অপশন ট্রেডিং ব্রোকারগুলো নিজেরাই নিজেদের সফটওয়্যার ও প্রোগ্রাম ব্যবহার করে নিজেরা নিজেদের মত মার্কেট পরিচালনা করে। যেটাকে ওটিসি মার্কেট বা ওভার-দ্য-কাউন্টার বলা হয়।
১৮. BBS এর পূর্ণরূপ কি? BBS full meaning
উত্তর:
BBS এর full meaning বা পূর্ণরূপ হলো- Bachelor of Business Studies।
এটি একটি স্নাতক ডিগ্রি। সাধারণত ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করে Bachelor of Business Studies-এ পড়াশোনা করার সুযোগ পায়। এই ডিগ্রি করতে ৩-৪ বছর সময় লেগে যায়।
BBS এর সিলেবাসে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো রয়েছে-
- Financial Accounting
- Macroeconomics
- Principles of Marketing
- International Business
- Operations Management
- Organizational Behaviour
- ইত্যাদি।
এছাড়াও BBS এর আরো কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণরূপ নিম্নে দেওয়া হলো-
- Bangladesh Bureau of Statistics
- Bulletin Board System
- Bulletin Board Service
- Body Building Supplement
- Be back soon
- Battery backup system
- Bachelor of Business Science
- Blue baby syndrome
- Baptist Bible Seminary
- Best before sale
- Box bark strips
১৯. নাস্তিকদের বিরুদ্ধে লেখা ভালো কিছু বইয়ের নাম ও pdf লিংক দিতে পারবেন কেউ?
উত্তর:
এখানে নাস্তিকতার বিরুদ্ধে কিছু জনপ্রিয় বই এর নাম তালিকা (PDF লিংক সহ) দেওয়া হলো-
- প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ
- লেখক: আরিফ আজাদ
- পৃষ্ঠা: ১৬৪
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1WxMXPbrHVNrwqvz26Vt38RSClFfUWn6J/view
- প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২
- লেখক: আরিফ আজাদ
- পৃষ্ঠা: ২৩৫
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1WBYUTDLzqHvGULso413rUBvJRsJuvBj6/view
- আরজ আলী সমীপে
- লেখক: আরিফ আজাদ
- পৃষ্ঠা: ১৪৮
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1VnPI5LrI808IKkOGvLJKRUuYSGGucn1u/view
- ডাবল স্ট্যান্ডার্ড
- লেখক: শামসুল আরেফিন শক্তি
- পৃষ্ঠা: ১৬৩
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1DyZJMWlpvk5DecN8X71yAbKiuEu0oJ_M/view
- ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ২
- লেখক: শামসুল আরেফিন
- পৃষ্ঠা: ২৯৭
- পিডিএফ: https://goonok.com/downloading-page/?pack=b13c180ba3b4c0afdd38ed2cb91fc498
- ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ৩
- লেখক: শামসুল আরেফিন
- পৃষ্ঠা: ১৭১
- পিডিএফ: https://goonok.com/downloading-page/?pack=99794ade09cc058d0249ae0c41cb4971
- কষ্টিপাথর
- লেখক: শামসুল আরেফিন
- পৃষ্ঠা: ১৭৮
- পিডিএফ: https://quraneralo.net/book-kostipathor/
- মানসাঙ্ক (কষ্টিপাথর ২)
- লেখক: শামসুল আরেফিন
- পৃষ্ঠা: ১৬৩
- পিডিএফ: https://goonok.com/downloading-page/?pack=11f4d2b4cdfa5e9835ef754c2d022c2
- কাঠগড়া (কষ্টিপাথর ৩)
- লেখক: শামসুল আরেফিন
- পৃষ্ঠা: ১৬৬
- পিডিএফ: https://goonok.com/downloading-page/?pack=5c4fb86c9678dc75983a2448567cce20
- চিন্তাপরাধ
- লেখক: আসিফ আদনান
- পৃষ্ঠা: ১৮৮
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1D5FCevpdDgAMmjlbXtdHDWu0PnMDuLTl/view
- সংশয়বাদী
- লেখক: আসিফ আদনান
- পৃষ্ঠা: ২৬৪
- পিডিএফ: https://goonok.com/downloading-page/?pack=8d04d2b1fa2f17cb798054a944297d91
- সংবিৎ
- লেখক: জাকারিয়া মাসুদ
- পৃষ্ঠা: ২১৬
- পিডিএফ: https://quraneralo.net/songbito/
- ভ্রান্তিবিলাস
- লেখক: জাকারিয়া মাসুদ
- পৃষ্ঠা: ১৪৪
- পিডিএফ: https://goonok.com/downloading-page/?pack=ef239417f3ff79261005a11fe4b25651
- উল্টো নির্ণয়
- লেখক: মুহাম্মদ তোহা আকবর
- পৃষ্ঠা: ২৩৮
- পিডিএফ: https://goonok.com/downloading-page/?pack=b57f7b3c691e9086caa881b52de2a661
- অভিশপ্ত রংধনু
- লেখক: আসিফ আদনান
- পৃষ্ঠা: ২৪২
- পিডিএফ: [সন্দেহজনক লিঙ্ক সরানো হয়েছে]
- শিকড়ের সন্ধানে
- লেখক: হামিদা মুবাশ্বেরা
- পৃষ্ঠা: ২৮৯
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1j19FtD5yF7Z3b1DSPFz3CsCpfQrfKX3c/view
- বিশ্বাসের যুক্তিকতা
- লেখক: রাহাত আহমেদ
- পৃষ্ঠা: ৮১
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/18DfON5msrLi5bKx-eeQ744yyWO10Mb78/view
- ইউনিভার্সিটির ক্যানটিনে
- লেখক: ডা. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী
- পৃষ্ঠা: ১৩২
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1lAiPF11lO_KhT_LzE58tJlHB3AJehl1-/view
- অ্যান্টিডোট
- লেখক: আশরাফুল আলম সাকিফ
- পৃষ্ঠা: ২১৭
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1XXoGL7rQ5i_wdjgFGEe-ct0IJwhOadd1/view
- সিক্রেটস অব জায়োনিজম
- লেখক: ফুয়াদ আল আজাদ
- পৃষ্ঠা: ২৯৪
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1FeRkLcDdrCmiPGQwq_o2c7JHsa–EU9-/view
- সত্যকথন (১-১০০ পর্ব)
- লেখক: আরিফ আজাদ, আসিফ আদনান, শামসুল আরেফিন, তানভীর আহমেদ, জাকারিয়া মাসুদ এবং আরো অনেকেই
- পৃষ্ঠা: ৫৬০
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/14SI7XBVu_wmPEVnOK_d6hEFb_EL9TMi2/view
- সত্যকথন (১০১-২০০ পর্ব)
- লেখক: আরিফ আজাদ, আসিফ আদনান, শামসুল আরেফিন, তানভীর আহমেদ, জাকারিয়া মাসুদ এবং আরো অনেকেই
- পৃষ্ঠা: ৬২০
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1GxsXXI1qddx3t9vBpt4nH5QJ1RKVNKFK/view
- সত্যকথন (২০১-৩০০ পর্ব)
- লেখক: আরিফ আজাদ, আসিফ আদনান, শামসুল আরেফিন, তানভীর আহমেদ, জাকারিয়া মাসুদ এবং আরো অনেকেই
- পৃষ্ঠা: ৫০৯
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1z3rLDPOo5h6dM-K_gXIpYsLzqTE53Gqy/view
- সত্যকথন (৩০১-৪০০ পর্ব)
- লেখক: আরিফ আজাদ, আসিফ আদনান, শামসুল আরেফিন, তানভীর আহমেদ, জাকারিয়া মাসুদ এবং আরো অনেকেই
- পৃষ্ঠা: ৫৬৪
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1kT26-EoTZIz_Y37fhS_RBOEKrSRF-GWC/view
- সত্যকথন (১-৪০০ পর্ব একত্রে)
- লেখক: আরিফ আজাদ, আসিফ আদনান, শামসুল আরেফিন, তানভীর আহমেদ, জাকারিয়া মাসুদ এবং আরো অনেকেই
- পৃষ্ঠা: ২১৯২
- পিডিএফ: https://drive.google.com/file/d/1ewEQ31SPFZHTiGp3PeF4aRr6QgjtBxxd/view
(বি:দ্র:সবগুলোর পিডিএফ ফাইল গুগল ড্রাইভে দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিছু ফাইল ডাউনলোড করতে ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট সময় লাগতে পারে।)
আমি আপনার নির্দেশ অনুসারে প্রতিটি প্রশ্নের শুরুতে নম্বর এবং “প্রশ্ন:” শব্দটি যোগ করে সেগুলোকে <h3> হেডিং ফরম্যাটে সাজিয়ে দিচ্ছি।
২০. প্রশ্ন: কাকে বাংলা ভাষার রক্ষাকর্তা বলা হয়?
উত্তর:
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজিকে বাংলা ভাষার রক্ষাকর্তা বলা হয়।
হাজার বছর আগে বাঙালি জাতির মুখের ভাষা ‘বাংলা’কে কেড়ে নিয়েছিল দক্ষিণ ভারত থেকে আগত সেন রাজারা। সেন রাজাদের হিন্দু পণ্ডিতরা নির্দেশ জারি করেছিল, ‘যারা বাংলা ভাষা বলবে ও শুনবে তারা রৌরব নামক নরকে যাবে।’ ওই সময় তুর্কি বংশোদ্ভূত ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি নির্যাতিত বাঙালিদের মুক্ত করতে এগিয়ে আসেন এবং ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১৮ জন ঘোড়সওয়ার নিয়ে সেন রাজাকে পরাজিত করে বাংলাকে স্বাধীন করেন। বক্তারা বলেন, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে সেই দিন শুধু ভূমির বিজয় হয়নি, সঙ্গে মুক্ত হয়েছিল বাঙালিদের মুখের ভাষা ‘বাংলা’।
ভাষাবিদ দীনেশ চন্দ্র সেন বলেন, “মুসলমান সম্রাটরা বর্তমান বঙ্গ-সাহিত্যের জন্মদাতা বললে অত্যুক্তি হয় না। বঙ্গ-সাহিত্য মুসলমানদেরই সৃষ্ট, বঙ্গ-ভাষা বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা।”
অধ্যাপক ও গবেষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “যদি বাংলায় মুসলিম বিজয় ত্বরান্বিত না হতো এবং এ দেশে আরও কয়েক শতকের জন্য পূর্বের শাসন অব্যাহত থাকত, তবে বাংলা ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং অবহেলিত ও বিস্মৃত-প্রায় হয়ে অতীতের গর্ভে নিমজ্জিত হতো।”
মধ্যযুগে মুসলিম শাসকদের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষার যে সাহিত্যচর্চা শুরু হয়, তার মাধ্যমে বাংলা ভাষা একটি পরিপূর্ণ ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশের যোগ্যতা অর্জন করে।
বাংলা ভাষাকে কলুষিত করার চেষ্টা যুগে যুগে আরও হয়। ১৮০০ সনে ব্রিটিশরা কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করে বাংলা ভাষার আরবি ও ফারসি শব্দ বাদ দিয়ে সংস্কৃত শব্দ প্রবেশের উদ্দেশ্যে সাহিত্যচর্চা শুরু করে। তারা দেখাতে চায়—বাংলা ভাষার সঙ্গে মুসলমানদের কোনো সম্পর্ক নেই।
মুসলিমদের হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রচার করা হয়, বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন মাজিদ অনুবাদ নাকি গিরিশ চন্দ্র সেন করেছেন। অথচ ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে গিরিশ চন্দ্র সেনের অনুবাদের বহু আগে ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলা ভাষায় কুরআন মাজিদের আংশিক অনুবাদ করেন মাওলানা আমিরুদ্দিন বসুনিয়া। এরপর ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে মৌলবি নাঈমুদ্দিন পুরো কুরআনের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন। অথচ এ ইতিহাস প্রচার করা হয় না।
(রেফারেন্স: খন্দকার কামরুল হুদা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও শেখ মুজিব, ১৯৯৫, পৃ. ৩২, বাংলাপিডিয়া।)
২১. প্রশ্ন: একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য আপনি আমাকে কী কী পরামর্শ দিতে চান?
উত্তর:
সফল ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য আপনাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো বিজ্ঞ আমি এখনো হয়ে উঠিনি। বই পড়ে, পডকাস্ট শুনে, ব্লগ পড়ে, অনলাইন কোর্স করে, ইউটিউবে লেকচার দেখে আমি যা শিখেছি তাই কেবল ভাগাভাগি করতে পারি।
১। পড়ার ও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
এটাই সবথেকে বেশি দরকার। আগে শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তারপর প্রচুর পরিমাণে পড়ুন। আমাদের একরকম ধারণা থাকে, গ্রাজুয়েশন শেষ মানে পড়াও শেষ। এরপর আমরা চাকরি বা ব্যবসা, যাই করি না কেন, কেউই আর পড়তে চাই না। লাইব্রেরির পথ ভুলে বসি।
কিন্তু আরেকটু পড়লে দু-একটা স্কিল বাড়ালে যে আমরা চাকরিতে একটা প্রমোশন পেতে পারি বা ব্যবসায় আরেকটু লাভ করতে বা ব্যবসাটা বড় করতে পারি, সেটা একবার ভাবতেও চায় না।
পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন। শুধু পড়লেই হবে না, যা পড়বেন তার থেকে শিখতে হবে। আপনার আগ্রহের বিষয়ের উপর-
- বই পড়ুন
- পডকাস্ট শুনুন
- ব্লগ, ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন
- অনলাইন কোর্স করুন
- ইউটিউবে লেকচার দেখুন
- সেমিনারে অংশ নিন
- স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করুন।
২। শেখা বিষয়গুলো কাজে লাগান।
আপনি কতটা জানেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- জ্ঞান কতটা কাজে লাগাচ্ছেন, কি অ্যাকশন নিচ্ছেন।
সারাদিন বই পড়েই যাচ্ছেন, সেমিনার থেকে সেমিনারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ইউটিউবে মোটিভেশনাল ভিডিও দেখতে দেখতে মাথা খারাপ করে ফেলছেন অথচ একটাও স্টেপ নিচ্ছেন না, তাহলে ফলাফল কিন্তু যেই লাউ সেই কদু। আপনি যেই মক্কেল ছিলেন, সেই মক্কেলই রয়ে যাবেন।
নিজের মাইন্ড সেটআপ করে নিন, এক ঘণ্টা যা পড়বেন, পরের তিন ঘণ্টা তার উপর অনেক অ্যাকশন নিবেন।
৩। ভ্যালু দিতে শিখুন।
আপনার ফলের দোকান আছে। ক্রেতা এসে আপনাকে টাকা দিচ্ছে আর আপনি ফল দিচ্ছেন।
আপনাকে ক্রেতা কেন টাকা দিচ্ছে?
আপনি তাকে ফল দিচ্ছেন বলে?
একদমই না। ক্রেতা আপনাকে টাকা দিচ্ছে, কারণ আপনি তাকে ভ্যালু দিচ্ছেন। ফলটা খেয়ে ক্রেতা যতটা উপকার পাবে, সেটাই আপনি তাকে ভ্যালু হিসেবে দিচ্ছেন।
জিম রন বলেছিলেন, “আমরা টাকা পায়, অপরকে ভ্যালু দেয়ার জন্য”।
আপনি স্কুল শিক্ষক হলে, পড়ানোর মাধ্যমে ভ্যালু দিচ্ছেন, আপনার মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা হলে—আপনি ১৫ হাজার টাকার ভ্যালু দিচ্ছেন। আমরা যে যাই করি না কেন, অপরকে যে ভ্যালু দিবো, তার বিনিময়ে আমরা টাকা পাবো।
অপরকে ভ্যালু দিতে শিখুন। কিভাবে আরো বেশি ভ্যালু দিতে পারেন তা খুঁজে বের করুন। কোটিপতি হতে চাইলে, কোটি টাকার কোনো সমস্যা সমাধান করুন, কোটি টাকার ভ্যালু দিন।
যত বেশি ভ্যালু, তত বেশি অর্থ। আরো সুন্দর করে বললে, যত বেশি ভ্যালু, তত বেশি সফলতা।
৪। নিজের পিছনে বিনিয়োগ করুন।
“আপনার সেরা বিনিয়োগটা হচ্ছে আপনার নিজের উপর বিনিয়োগ” বলেছেন ওয়ারেন্ট বাফেট।
সফল হতে হলে আগে নিজের উপর বিনিয়োগ করতে শিখতে হবে।
নিজের স্বাস্থ্যের উপর খরচ করুন। স্বাস্থ্যবান হওয়ার জন্য যা যা করা দরকার করুন, জিমে যান, পুষ্টিকর খাবার খান, প্রশিক্ষক রাখুন।
নিজের জ্ঞান বাড়াতে বই কিনুন (আশেপাশে লাইব্রেরী থাকলে, একটা কার্ড করে নিতে পারেন), সেমিনারে যান, অনলাইন কোর্স করুন, ভালো ভালো ব্লগে সাবস্ক্রাইব করুন।
সম্পর্ক ঠিক রাখতে পরিবার, বন্ধুদের সাথে নিয়মিত কিছু সময় কাটান, আত্মীয়স্বজনদের খোঁজ খবর রাখুন, নতুন নতুন মানুষের সাথে মিশুন।
বিনিয়োগ শব্দটা শুনেই আবার ভাববেন না, খুব খরচা করতে হবে। ইন্টারনেটের এই যুগে ফ্রী ম্যাটেরিয়ালসের সৎব্যবহার করেই অনেক দূর আগাইতে পারবেন।
৫। মেন্টর।
আপনি কার থেকে শিখছেন সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার সফল হতে এক বছর লাগবে নাকি দশ বছর লাগবে, তা নির্ধারণ করে দেয় আপনাকে কে মেন্টরিং করছে।
“অল গ্রেট পিপল ওয়্যার গ্রেট ফলোয়ার” অর্থাৎ আগে ফলোয়ার হতে হবে। আপনার কর্মক্ষেত্রে যাকে সফল মনে করেন, যার মতো হতে চান, তাকে মেন্টর করে নিন (এতো বড় সফল ব্যক্তি আপনাকে মেন্টরিং করবে কিনা, এই নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করবেন না। ভয় না করে তাকে গিয়ে বলে ফেলুন। সফল ব্যক্তিরা অন্যকে শেখানোর মানসিকতা রাখে, আপনি বললেই হয়তো দেখবেন লোকটা আপনাকে শেখাতে রাজী হবে)।
তার প্রতিটা স্টেপ অনুসরণ করতে থাকুন, একদিন আপনিও তার মতো সফল হয়ে উঠবেন (একজন ভালো মেন্টর চাইবে আপনি তাকেও ছাড়িয়ে যান, আপনাকে সেভাবেই শেখাবে)।
২২. প্রশ্ন: অনুকরণ ও অনুসরণ এর মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য আছে কি?
উত্তর:
অনেক ক্ষেত্রে ‘অনুসরণ’ ও ‘অনুকরণ’ শব্দ দুটিকে সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে শব্দ দুটির বিশদ ব্যবহারে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
অনুকরণ হচ্ছে ‘অনুরূপ-করণ’। সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে রকম কাজ করে, ঠিক একই রকম কাজ করাই হচ্ছে অনুকরণ।
অর্থাৎ, ‘নকল’ বা ‘সদৃশীকরণ’ অর্থে ‘অনুকরণ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। অনুকরণ করা ভালো নয়। এটি নেতিবাচকভাবে দেখা হয়।
পরীক্ষার হলে কারও খাতা দেখে অবিকল বা প্রায় অবিকল লেখা অনুকরণের পর্যায়ে পড়ে।
আবার, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে চিন্তা-চেতনা নিয়ে কাজ করে, সেই চিন্তা-চেতনা অনুকরণ করাই হচ্ছে ‘অনুসরণ’।
অনুসরণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক দিয়েও কিছুটা ব্যাখ্যা করা যায়। ‘অনুগমন’ অর্থে ‘অনুসরণ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
অনুসরণ, চিন্তার সঙ্গে নতুন চিন্তা যুক্ত করে। তাই এটি ইতিবাচক।
২৩. প্রশ্ন: অর্থনীতি কাকে বলে?
উত্তর:
অর্থনীতি হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান যা মানুষের আয়, ব্যয়, কর্মসংস্থান, কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অসীম অভাব ও বিকল্প ব্যবহার উপযোগী সীমিত সম্পদের মাঝে সমন্বয় সাধন করে।
অর্থনীতিবিদ বাবার এর মতে, “Economics can briefly defined as the study of it administration of scarce resources and determinations of employment and income.” অর্থাৎ, স্বল্প উপকরণসমূহের বিতরণ, কর্মসংস্থান, ও আয়ের নির্ধারকসমূহের আলোচনায় হলো অর্থনীতি।
অর্থনীতিবিদ Samuelson & Norfhaus এর মতে, “কীভাবে মানুষ ও সমাজ অর্থ দ্বারা ও অর্থ ব্যতীত দুষ্প্রাপ্য সম্পদকে বিভিন্ন উৎপাদন কাজে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করে এবং সমাজ ও জনসাধারণ বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভোগের নিমিত্তে বন্টন করে তার আলোচনাই হলো অর্থনীতির বিষয়বস্তু।”
অর্থনীতিবিদ জন স্টুয়ার্ডমিল এর মতে, “Economics is the science which traces the laws of such of the phenomena of society as arise from the combined operations of mankind for the production of wealth, in so far as those phenomena are not modified by the pursuit of any other object.”
আধুনিক অর্থনীতিবিদ Prof. A.C. Cairncross বলেন, “অর্থনীতি এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান, যা মানুষ কীভাবে বিনিয়মের মাধ্যমে তাদের অভাবের সাথে দুষ্প্রাপ্যতার সমন্বয় সাধন করার চেষ্টা করে তা আলোচনা করে।”
অ্যাডাম স্মিথ তার Wealth of Nation গ্রন্থে বলেন, “অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা জাতিসমূহের সম্পদের প্রকৃতি ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।”
অধ্যাপক এল রবিন্স বলেন, “অর্থনীতি মানুষের অভাব ও বিকল্প ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদের সম্পর্ক বিষয়ক মানব আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।”
অধ্যাপক মার্শালের মতে, “Economics is the study of mankind in the ordinary business of life.”
উত্তরটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট ও শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।
২৪. প্রশ্ন: একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য আপনি আমাকে কী কী পরামর্শ দিতে চান?
উত্তর:
সফল ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য আপনাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো বিজ্ঞ আমি এখনো হয়ে উঠিনি। বই পড়ে, পডকাস্ট শুনে, ব্লগ পড়ে, অনলাইন কোর্স করে, ইউটিউবে লেকচার দেখে আমি যা শিখেছি তাই কেবল ভাগাভাগি করতে পারি।
১। পড়ার ও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
এটাই সবথেকে বেশি দরকার। আগে শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তারপর প্রচুর পরিমাণে পড়ুন। আমাদের একরকম ধারণা থাকে, গ্রাজুয়েশন শেষ মানে পড়াও শেষ। এরপর আমরা চাকরি বা ব্যবসা, যাই করি না কেন, কেউই আর পড়তে চাই না। লাইব্রেরির পথ ভুলে বসি।
কিন্তু আরেকটু পড়লে দু-একটা স্কিল বাড়ালে যে আমরা চাকরিতে একটা প্রমোশন পেতে পারি বা ব্যবসায় আরেকটু লাভ করতে বা ব্যবসাটা বড় করতে পারি, সেটা একবার ভাবতেও চায় না।
পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন। শুধু পড়লেই হবে না, যা পড়বেন তার থেকে শিখতে হবে। আপনার আগ্রহের বিষয়ের উপর-
- বই পড়ুন
- পডকাস্ট শুনুন
- ব্লগ, ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন
- অনলাইন কোর্স করুন
- ইউটিউবে লেকচার দেখুন
- সেমিনারে অংশ নিন
- স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করুন।
২। শেখা বিষয়গুলো কাজে লাগান।
আপনি কতটা জানেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- জ্ঞান কতটা কাজে লাগাচ্ছেন, কি অ্যাকশন নিচ্ছেন।
সারাদিন বই পড়েই যাচ্ছেন, সেমিনার থেকে সেমিনারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ইউটিউবে মোটিভেশনাল ভিডিও দেখতে দেখতে মাথা খারাপ করে ফেলছেন অথচ একটাও স্টেপ নিচ্ছেন না, তাহলে ফলাফল কিন্তু যেই লাউ সেই কদু। আপনি যেই মক্কেল ছিলেন, সেই মক্কেলই রয়ে যাবেন।
নিজের মাইন্ড সেটআপ করে নিন, এক ঘণ্টা যা পড়বেন, পরের তিন ঘণ্টা তার উপর অনেক অ্যাকশন নিবেন।
৩। ভ্যালু দিতে শিখুন।
আপনার ফলের দোকান আছে। ক্রেতা এসে আপনাকে টাকা দিচ্ছে আর আপনি ফল দিচ্ছেন।
আপনাকে ক্রেতা কেন টাকা দিচ্ছে?
আপনি তাকে ফল দিচ্ছেন বলে?
একদমই না। ক্রেতা আপনাকে টাকা দিচ্ছে, কারণ আপনি তাকে ভ্যালু দিচ্ছেন। ফলটা খেয়ে ক্রেতা যতটা উপকার পাবে, সেটাই আপনি তাকে ভ্যালু হিসেবে দিচ্ছেন।
জিম রন বলেছিলেন, “আমরা টাকা পায়, অপরকে ভ্যালু দেয়ার জন্য”।
আপনি স্কুল শিক্ষক হলে, পড়ানোর মাধ্যমে ভ্যালু দিচ্ছেন, আপনার মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা হলে—আপনি ১৫ হাজার টাকার ভ্যালু দিচ্ছেন। আমরা যে যাই করি না কেন, অপরকে যে ভ্যালু দিবো, তার বিনিময়ে আমরা টাকা পাবো।
অপরকে ভ্যালু দিতে শিখুন। কিভাবে আরো বেশি ভ্যালু দিতে পারেন তা খুঁজে বের করুন। কোটিপতি হতে চাইলে, কোটি টাকার কোনো সমস্যা সমাধান করুন, কোটি টাকার ভ্যালু দিন।
যত বেশি ভ্যালু, তত বেশি অর্থ। আরো সুন্দর করে বললে, যত বেশি ভ্যালু, তত বেশি সফলতা।
৪। নিজের পিছনে বিনিয়োগ করুন।
“আপনার সেরা বিনিয়োগটা হচ্ছে আপনার নিজের উপর বিনিয়োগ” বলেছেন ওয়ারেন্ট বাফেট।
সফল হতে হলে আগে নিজের উপর বিনিয়োগ করতে শিখতে হবে।
নিজের স্বাস্থ্যের উপর খরচ করুন। স্বাস্থ্যবান হওয়ার জন্য যা যা করা দরকার করুন, জিমে যান, পুষ্টিকর খাবার খান, প্রশিক্ষক রাখুন।
নিজের জ্ঞান বাড়াতে বই কিনুন (আশেপাশে লাইব্রেরী থাকলে, একটা কার্ড করে নিতে পারেন), সেমিনারে যান, অনলাইন কোর্স করুন, ভালো ভালো ব্লগে সাবস্ক্রাইব করুন।
সম্পর্ক ঠিক রাখতে পরিবার, বন্ধুদের সাথে নিয়মিত কিছু সময় কাটান, আত্মীয়স্বজনদের খোঁজ খবর রাখুন, নতুন নতুন মানুষের সাথে মিশুন।
বিনিয়োগ শব্দটা শুনেই আবার ভাববেন না, খুব খরচা করতে হবে। ইন্টারনেটের এই যুগে ফ্রী ম্যাটেরিয়ালসের সৎব্যবহার করেই অনেক দূর আগাইতে পারবেন।
৫। মেন্টর।
আপনি কার থেকে শিখছেন সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার সফল হতে এক বছর লাগবে নাকি দশ বছর লাগবে, তা নির্ধারণ করে দেয় আপনাকে কে মেন্টরিং করছে।
“অল গ্রেট পিপল ওয়্যার গ্রেট ফলোয়ার” অর্থাৎ আগে ফলোয়ার হতে হবে। আপনার কর্মক্ষেত্রে যাকে সফল মনে করেন, যার মতো হতে চান, তাকে মেন্টর করে নিন (এতো বড় সফল ব্যক্তি আপনাকে মেন্টরিং করবে কিনা, এই নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করবেন না। ভয় না করে তাকে গিয়ে বলে ফেলুন। সফল ব্যক্তিরা অন্যকে শেখানোর মানসিকতা রাখে, আপনি বললেই হয়তো দেখবেন লোকটা আপনাকে শেখাতে রাজী হবে)।
তার প্রতিটা স্টেপ অনুসরণ করতে থাকুন, একদিন আপনিও তার মতো সফল হয়ে উঠবেন (একজন ভালো মেন্টর চাইবে আপনি তাকেও ছাড়িয়ে যান, আপনাকে সেভাবেই শেখাবে)।
২৫. প্রশ্ন: অনুকরণ ও অনুসরণ এর মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য আছে কি?
উত্তর:
অনেক ক্ষেত্রে ‘অনুসরণ’ ও ‘অনুকরণ’ শব্দ দুটিকে সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে শব্দ দুটির বিশদ ব্যবহারে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
অনুকরণ হচ্ছে ‘অনুরূপ-করণ’। সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে রকম কাজ করে, ঠিক একই রকম কাজ করাই হচ্ছে অনুকরণ।
অর্থাৎ, ‘নকল’ বা ‘সদৃশীকরণ’ অর্থে ‘অনুকরণ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। অনুকরণ করা ভালো নয়। এটি নেতিবাচকভাবে দেখা হয়।
পরীক্ষার হলে কারও খাতা দেখে অবিকল বা প্রায় অবিকল লেখা অনুকরণের পর্যায়ে পড়ে।
আবার, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে চিন্তা-চেতনা নিয়ে কাজ করে, সেই চিন্তা-চেতনা অনুকরণ করাই হচ্ছে ‘অনুসরণ’।
অনুসরণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক দিয়েও কিছুটা ব্যাখ্যা করা যায়। ‘অনুগমন’ অর্থে ‘অনুসরণ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
অনুসরণ, চিন্তার সঙ্গে নতুন চিন্তা যুক্ত করে। তাই এটি ইতিবাচক।
২৬. প্রশ্ন: অক্ষর কাকে বলে?
উত্তর:
অক্ষর বলতে বর্ণ বা হরফকে বুঝায়। তবে প্রকৃত অর্থে অক্ষর ও বর্ণ পরস্পরের প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ নয়। ইংরেজিতে যাকে Syllable বলে আমরা জানি, তাই অক্ষর। যেমন – ইংরেজি Incident শব্দে “In-ci-de-nt” এ চারটি সিলেবল আছে। এগুলোই হলো অক্ষর। তবে আলাদাভাবে “I-n-c-i-d-e-n-t” এগুলো অক্ষর নয়। এগুলো বর্ণ বা হরফ। তেমনি বাংলাতে বন্ধন শব্দের বন্ + ধন্ এ দুটি অক্ষর।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে, “কোন শব্দে যখন যে ধ্বনিসমষ্টি এক সময়ে একত্রে উচ্চারিত হয়, তাহাকে অক্ষর বলে।”
মুহম্মদ আব্দুল হাই এর মতে, “নিঃশ্বাসের স্বল্পতম প্রয়াস একই বক্ষঃস্পন্দনের ফলে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একেবারে উচ্চারিত হয়, তাকেই সিলেবল বা অক্ষর বলে।”
শ্রী অমূল্যধন মুখোপাধ্যায় এর মতে, “বাগযন্ত্রের স্বল্পতম প্রচেষ্টায় উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকেই অক্ষর বলে।”
২৭. প্রশ্ন: মাছ কিভাবে অক্সিজেন গ্রহণ করে?
উত্তর:
মাছেরা অক্সিজেন দুই ভাবে নিয়ে থাকে। যথা- প্রথমত মাছ তার নিজের ফুল্কোর (gills) সাহায্যে জলের ভিতর থেকে জলের দ্রবীভূত অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে থাকে। দ্বিতীয়ত, জলের উপরের বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নিয়ে থাকে।
২৮. প্রশ্ন: বাংলাদেশে এখন কোন ধরনের ব্যবসা সবচেয়ে উপযোগী এবং কেন?
উত্তর:
ব্যবসা শব্দটির প্রেক্ষিত সব সময়ই বড়! বাংলাদেশে এখনও অনেক ব্যবসার সুযোগ বড় মাত্রায় দেখা যায় নি। গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজের ব্যবসায় সম্ভাব্য সাফল্যের সুযোগ আছে। যে কোনো পণ্য নির্ভর ব্যবসায় বাংলাদেশ বা ভারত-চীনের মত জনবহুল দেশগুলোতে দারুণ সম্ভবনা আগামী ২০/৩০ বছর থাকবেই। বিলিয়ন কাস্টমারের বাজার এখানে!
খুব সরল অংকে আমি যে ব্যবসাগুলোকে সময়োপযোগী ভাবছি-
- স্বাস্থ্যখাতে, যে কোনো হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকের ব্যবসার সুযোগ এখনও অবারিত। দারুণ সেবা দিতে পারলেই গ্রাহক পাওয়া যায়। মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় গত ৪/৫ বছরে ১০/১২টা হাসপাতালের শাখা চালু হয়েছে, কেউ বন্ধই হয় নি!
- ফিটনেস বা শরীরচর্চায়, জিমনেশিয়াম বা ফিটনেস সেন্টারের ব্যবসার সুযোগ সামনে বাড়বে। বাংলাদেশের মানুষ এখন মৌলিক চাহিদার পরের পর্ব বিনোদন, ফিটনেস নিয়ে বেশ খরচা করছে।
- পণ্যসেবা, দৈনন্দিন জীবনের যে কোনো পণ্যের বড় ব্যবসা সব সময়ই বাংলাদেশে আছে।
- শিশু পণ্য, ডায়াপার, ওয়েট টিস্যুসহ শিশুদের পণ্যের বাজার এখনও বাংলাদেশে এক্সপ্লোর হয়নি।
২৯. প্রশ্ন: সিটিসেল কোম্পানির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ কি?

উত্তর:
সিটিসেলের অধঃপতনের কারণ প্রযুক্তিগত। এছাড়া থ্রিজি এবং ফোরজি তরঙ্গ না নেওয়ায় আরও অধঃপতন হয়। সিটিসেল বাংলাদেশের পুরনো ফোন কোম্পানির একটি ছিল। ৬টি কোম্পানির মধ্যে ৫টি কোম্পানি যখন GSM প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, সিটিসেল তখনও CDMA নেটওয়ার্কে সেবা দিচ্ছিল।
সব কোম্পানি SIM সংযোগ দিলেও সিটিসেলের ছিল R-UIM সংযোগ যাকে আমরা বলি RIM সংযোগ।
GSM সংযোগের সুবিধা হলো যে কোন সেটে যে কোন কোম্পানির SIM ইউজ করা যেত। যার ফলে GSM প্রযুক্তির মোবাইল ফোন জনপ্রিয়তা পায়।
সিটিসেল যেহেতু CDMA প্রযুক্তির ছিল তাই CDMA প্রযুক্তির মোবাইল ব্যতীত R-UIM বা RIM কানেক্টেড হতো না। সিটিসেলের নির্দিষ্ট কিছু মোবাইল ব্যতীত বাংলাদেশে CDMA মোবাইল ইউজ করা যেত না।
এসকল সমস্যার কারণে সিটিসেল ধীরে ধীরে লোকসান দিয়ে মার্কেটে টিকেছিল। সরকারের কাছে তাদের বকেয়া হয়ে পড়ে ৪৭৭ কোটি টাকা। হাইকোর্টের আদেশের ১৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করতে পারলেও বাকি ১০০ কোটি টাকা দিতে না পারায় তরঙ্গ বাতিল করা হয়।
নোট:
- SIM – Subscriber Identity Module
- R-UIM – Removable User Identity Module
- RIM – Removable User Identity Module (according to Citycell)
- GSM – Global System for Mobile Communications, (originally Groupe Spécial Mobile)
- CDMA – Code Division Multiple Access
৩০. প্রশ্ন: বাংলাদেশের সাথে ভারতের কী কী ব্যবসা আছে?
উত্তর:
বাংলাদেশের বাজারে কিছু ভারতীয় পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা-
প্রতিষ্ঠান:
- কিংফিশার
- এয়ারটেল
- এয়ার ইন্ডিয়া
- জেট এয়ারওয়েজ
প্রসাধনী:
- লেকমে
- হিমালয়া
অটোমোবাইল:
- বাজাজ
- টাটা
- মাহিন্দ্রা
- হিরো
- মারুতি
জীবন-যাপন:
- টাইটান
- এপোলো গ্রুপ
- তাজ গ্রুপ
- গোদরেজ সামগ্রী
- সিনথল
- প্যারাসুট (মারিকো গ্রুপ)
খাবার:
- কিসান
- বারিস্তা
- কোয়ালিটি
- ব্রিটানিয়া
- ডাবরউপরোক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একাধিক পণ্য জীবন-যাপনের নানা ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে, তাই একাধিক পণ্য উৎপাদনকারী কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম সরাসরি দেওয়া হলো, আলাদা আলাদা ভাবে পণ্যগুলোর নাম উল্লেখ না করে।
ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের কিছু শক্তিশালী পণ্য উৎপাদনকারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান-
- প্রাণ
- কেয়া
- জিএমজি এয়ারলাইনস
- ইউনাইটেড এয়ারলাইনস
- রিজেন্ট এয়ারলাইনস
- বেক্সিমকো
- নাভানা
- স্কয়ার
- গ্রামীণ
- রহিম-আফরোজ
- আড়ং
- একমি
- ইনসেপটা
- প্রাইড
- ওয়ালটনপ্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
৩১. প্রশ্ন: বাংলাদেশকে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ বলা হয় কেন?
উত্তর:
বাংলাদেশকে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ বলার প্রধান কারণগুলো হলো-
- আয়তন: বাংলাদেশের অধিকাংশ ভূমি গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী এবং তাদের শাখা-প্রশাখা দ্বারা গঠিত ব-দ্বীপ। এই ব-দ্বীপের আয়তন প্রায় ৭৭,০০০ বর্গকিলোমিটার, যা পৃথিবীর বৃহত্তম।
- গঠন প্রক্রিয়া: হিমালয় পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে পলিমাটি বহন করে বঙ্গোপসাগরে নিয়ে আসে। এই পলিমাটি ধীরে ধীরে জমা হয়ে বিশাল ব-দ্বীপের সৃষ্টি করেছে।
- উর্বর ভূমি: নদীবাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত হওয়ায় এই ব-দ্বীপের ভূমি অত্যন্ত উর্বর। এই উর্বর ভূমি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- নদীর প্রভাব: বাংলাদেশের ভৌগোলিক গঠন এবং জীবনযাত্রার ওপর নদীগুলোর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নদীগুলো দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এই কারণগুলোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ হিসেবে পরিচিত।
৩২. প্রশ্ন: পড়তে বসলে ঘুম আসে কেন?
উত্তর:
প্রথমত, বই পড়তে গেলে চোখ সবসময় বইয়ের পাতার দিকে নিবদ্ধ রাখতে হয়, এবং প্রতি মুহূর্তে চোখকে বাম থেকে ডান দিকে, আবার ডান থেকে বাম দিকে ঘোরাতে হয়। শুধু তা-ই না, চোখ যেসব দেখে, সেগুলোর মাধ্যমে মস্তিষ্ককে অর্থবোধক শব্দ, বাক্য ও অনুচ্ছেদও তৈরি করে নিতে হয়, এবং সেগুলো দ্বারা কী বোঝানো হচ্ছে, তা-ও অনুধাবন করতে হয়। আবার পাঠ্যপুস্তক পড়ার সময় বাড়তি চাপ হিসেবে যোগ হয় পঠিত বিষয়বস্তুকে ভবিষ্যতের জন্য মনে রাখার চ্যালেঞ্জ। এভাবে পড়ার সময় ক্রমাগত নাড়াচাড়ায় চোখের পেশি যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তেমনই একসাথে অনেকগুলো কার্য সম্পাদন করতে গিয়ে মস্তিষ্কও ওঠে হাঁপিয়ে। তখন চোখ ও মস্তিষ্ক উভয়েরই বিশ্রামের প্রয়োজন পড়ে। আর ঘুমের চেয়ে শ্রেয়তর বিশ্রাম কী হতে পারে! তাই তো ধীরে ধীরে চোখের পাতা ভারি হয়ে আসে, এবং মস্তিষ্কে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধ হতে থাকে।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পড়ার সময় অনেকেই নিজের জন্য একটি আরামদায়ক অবস্থা তৈরি করে নিতে চায়। অনেকেই হয়তো শুয়ে শুয়ে পড়ে, আবার অনেকে বিশ্রামের ভঙ্গিতে শরীর এলিয়ে দিয়ে পড়ে। তাদের কাছে মনে হয় এভাবে পড়লে পড়া সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। শরীরকে যখন আরামদায়ক অনুভূতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, তখন মস্তিষ্ক ধরেই নেয় যে এখন সময় কেবল বিশ্রামের। অথচ তখন যদি পড়ার মতো মানসিক পরিশ্রমের একটি কাজ করতে যাওয়া হয়, তখন মস্তিষ্ক বিদ্রোহ করে বসে। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ঘুম ঘুম ভাব অনুভূত হয়।
৩৩. প্রশ্ন: পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি কী?
উত্তর:
যে সংখ্যা পদ্ধতিতে কোন সংখ্যার মান, সংখ্যায় ব্যবহৃত অংকসমূহের পজিশন বা অবস্থানের উপর নির্ভর করে তাকে পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি বলে।
৩৪. প্রশ্ন: ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কাকে বলে?
উত্তর:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, ভৌগলিক দিক দিয়ে ছোট, অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত, সামরিক শক্তিতে দুর্বল, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল রাষ্ট্রকে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র বলে।
৩৫. প্রশ্ন: বাংলাদেশে কোন চাকরিতে কত ঘুষ লাগে?
উত্তর:
সত্যি বলতে, আপনার এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দেওয়া সম্ভব না। বাংলাদেশে অনেক চাকরিতে ঘুষ নেওয়ার কথা আমরা প্রায়ই শুনি। তবে ঘুষ ছাড়াও অনেক চাকরি হয়।
বাংলাদেশে ৩ ধরনের সরকারি চাকরি আছে-
- বিসিএস (ক্যাডার)
- বিসিএস (নন-ক্যাডার)
- ৩য়-৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী
প্রথম দুই ক্ষেত্রে আসলে ঘুষের সুযোগ নাই। কারণ তিন ধাপে পরীক্ষার পর মেধাক্রম অনুসারে এদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে, তৃতীয় ক্ষেত্রে অর্থাৎ ৩য়-৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আছে।
ঘুষ নেওয়ার পরিমাণটা সাধারণত চাকরির ধরণ, চাকরির বেতন, চাকরির স্থান ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। তাই সঠিক পরিমাণ বলা সম্ভব না।
৩৬. প্রশ্ন: কন্টুর বা সীমারেখ চিত্র কি?
উত্তর:
কোন ফাংশনের লেভেল বক্ররেখা সমূহের সেটকে কন্টুর চিত্র বা সীমারেখ চিত্র বলে।
তো আজকের মত এখানেই শেষ করছি। শিক্ষার প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে জানার আগ্রহে, আর সেই আগ্রহকে মেটাতে এমন তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো পাঠকদের জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ করবে এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে উৎসাহিত করবে। ‘ইনফরমেশন বাংলা’ এর সাথেই থাকুন।

