১৫+ স্বাস্থ্য বিষয়ক সাধারন কিছু প্রশ্নের উত্তর

স্বাস্থ্য আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, এবং সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে পারি। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত খাদ্য, ভেষজ উদ্ভিদ এবং জীবনযাত্রার অভ্যাস সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন আমাদের মনে উঁকি দেয়। এই ব্লগে আমরা বেশি কিছু স্বাস্থ্য বিষয়ক সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব, যেমন সরিষার তেল, লালশাক, তুলসী পাতা, ব্রোকলির উপকারিতা এবং ঘুমের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। এই প্রশ্নোত্তরগুলো আপনার স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এবং সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করবে।
১. প্রশ্ন: কোন কোন ডালে এলার্জি আছে?
উত্তর:
ডাল আমাদের দৈনন্দিন খাবারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ডালে এলার্জি দেখা দিতে পারে। এটি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অনেকেই এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন না।
ডালে এলার্জি কেন হয়?
ডালে এলার্জি হওয়ার মূল কারণ হলো শরীরের ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। যখন কোনো ব্যক্তি ডাল খায়, তখন তার শরীর ডালে থাকা কিছু প্রোটিনকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডিগুলোই এলার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
কোন কোন ডালে এলার্জি বেশি হয়?
সব ধরনের ডালেই এলার্জি হতে পারে, তবে কিছু ডালে এলার্জি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সাধারণত এলার্জি হয়-
- মসুর ডাল: মসুর ডালে এলার্জি হওয়ার ঘটনা বেশি দেখা যায়।
- ছোলা ডাল: ছোলা ডালেও অনেকের এলার্জি থাকে।
- মুগ ডাল: মুগ ডালে এলার্জি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
- কালো মসুর: কালো মসুরেও কিছু মানুষের এলার্জি থাকে।
২. প্রশ্ন: সরিষার তেলের উপকারিতা কী?
উত্তর:
ওমেগা আলফা-৩ ও ওমেগা আলফা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস হওয়ায় সরিষার তেলকে স্বাস্থ্যকর তেল বলা হয়।
সরিষার তেলের কিছু উপকারিতা বা গুণাগুণ হলো-
- ত্বকের তামাটে ভাব দূর করে: সরিষার তেল ত্বকের তামাটে ভাব ও দাগ দূর করে এবং ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করতে পারে। এ জন্য বেসন, দই, সরিষার তেল ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মিশ্রণটি আপনার ত্বকে লাগান।
- প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন: সরিষার তেল খুব ঘন হয় এবং এতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই থাকে। এই তেল ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থ থেকে ত্বককে সুরক্ষা করে। তাই এটি ত্বকের ক্যানসারও প্রতিরোধ করতে পারে।
- চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক: সরিষার তেলে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ থাকে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন থাকে এতে। বিটা ক্যারোটিন ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত হয়ে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা চুলের বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে। এছাড়াও প্রতি রাতে চুলে সরিষার তেল মালিশ করে লাগালে চুল কালো হয়।
৩. প্রশ্ন: লালশাকের গুনাগুন কি?
উত্তর:
সবুজ শাক-সবজি খেতে চিকিৎসকেরা সব সময় বলেন। লাল শাকের মধ্যে কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে যা শরীরের পক্ষে উপকারী। ৩০ বছর বয়সের পর আমাদের শরীরে নানান সমস্যা দেখা যায়। সেই সব দূরে রাখতে লাল শাক খুবই উপযোগী।
নিয়মিত লাল শাক খেলে কী কী উপকার পাওয়া যায় তা দেখে নেওয়া যাক-
- দাঁতের যত্নে: লাল শাকের মূল দিয়ে দাঁত মেজে, লবণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে দাঁতের মধ্যে থাকা হলুদ ভাব কেটে যাবে। এছাড়াও দাঁত জনিত অন্যান্য সমস্যাগুলোও আর হবে না।
- দৃষ্টিশক্তি উন্নতিতে: লাল শাকে ভিটামিন সি থাকায় চোখের রেটিনার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা দৃষ্টি শক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে। যারা গ্লুকোমার সমস্যায় ভুগছেন, তারা প্রতিদিন এই শাক খান।
- চুল পড়া কমাতে: লাল শাক ভালো করে বেটে তার মধ্যে এক চামচ লবণ বেটে মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন এভাবে খেলে চুল পড়া কমে যাবে অনেকটাই।
- কিডনি ও রক্তের স্বাস্থ্যে: নিয়মিত লাল শাক খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়। এছাড়াও রক্ত পরিশুদ্ধ হয়। লাল শাক শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়ায়। তাই কেউ যদি অ্যানিমিয়াতে ভোগেন তাহলে আজ থেকেই খাওয়া শুরু করুন লাল শাক।
৪. প্রশ্ন: বেগুনের গুনাগুন ও স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো কী?
উত্তর:
বেগুন একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। বেগুনের গুণাগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হলো-
- হৃদপিণ্ডের জন্য স্বাস্থ্যকর: বেগুন ফাইবার, ভিটামিন বি১, বি৬, বি৩, সি, কে তে ভরপুর থাকে। এছাড়াও এতে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে বলে বেগুন হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী একটি খাবার। এছাড়াও হৃদপিণ্ডের জন্য অপরিহার্য ফ্ল্যাভোনয়েড যা বেগুনেই বিদ্যমান থাকে।
- ক্যান্সার প্রতিহত করতে: বেগুনে পলিফেনল যেমন- ডেলফিনিডিন থাকে। যা ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতির হাত থেকে কোষকে রক্ষা করে। এমনকি টিউমারের বৃদ্ধি প্রতিহত করে এবং ক্যান্সার কোষের বিস্তার বন্ধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও যেকোনো ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে বেগুন।
- খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে: মনে রাখবেন আপনার শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর শক্তি আছে বেগুনের মধ্যেই। অবশ্য তেলে ভাঁজা বেগুন থেকে আপনি খুব বেশি উপকৃত হতে পারবেন না।
- মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটাতে: বেগুনের ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট জ্ঞানীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং সর্বদা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী। ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ছাড়াও এই উপাদানটি মস্তিষ্ককে রোগ ও টক্সিন থেকে মুক্ত থাকতেও সহায়ক এবং মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
- হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে: হজম শক্তির ক্ষেত্রে বেগুন অনেক সহায়ক একটি সবজি। কারণ ফাইবারে সমৃদ্ধ বেগুন পরিপাক প্রক্রিয়ার জন্য উপকারী। এর ফাইবার শরীরের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সাহায্য করে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে: বেগুনে উচ্চ মাত্রার ফাইবার ও কম দ্রবণীয় কার্বোহাইড্রেট থাকে বলে রক্তের গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রার সমস্যা আছে যাদের তাদের জন্য উপকারী খাবার।
- রক্ত বাড়াতে সাহায্য করতে: বেগুনে আয়রনও রয়েছে অনেক মাত্রায়, যা রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে। তাই রক্তশূন্যতার রোগীরাও খেতে পারে এই সবজি। এতে চিনির পরিমাণ খুবই সামান্য।
- মুখ ও ঠোঁটের কোণের ঘা সারাতে: বেগুনে রয়েছে রিবোফ্ল্যাভিন নামক উপাদান। এই উপাদান জ্বর হওয়ার পরে মুখ ও ঠোঁটের কোণের ঘা, জিহ্বার ঘা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৫. প্রশ্ন: পেঁয়াজ মানব শরীরের কী কী উপকার করে?
উত্তর:
মুখরোচক খাদ্য ছাড়াও পেঁয়াজের রয়েছে বিভিন্ন ঔষধি গুণ। অতি পরিচিত পেঁয়াজের হরেকরকম গুণের কথা আমরা অনেকে জানি না। কিন্তু এই পেঁয়াজের আছে নানা গুণ এবং এর স্বাস্থ্য উপকারিতা। মানব শরীরের পেঁয়াজের এমনই কিছু উপকার এখানে তুলে ধরা হলো-
- ডায়াবেটিস রোধ: পেঁয়াজ শরীরের ইনসুলিন বৃদ্ধি করে ডায়াবেটিস রোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্তে চিনির স্তর ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
- কোলেস্টেরল কমাতে: পেঁয়াজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সালফার, তন্তু, পটাসিয়াম, ভিটামিন-বি এবং ভিটামিন-সি। এতে চর্বি, কোলেস্টেরল এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম।
- জ্বর, সর্দি-কাশি দূর করতে: জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, গলা ব্যথা, এলার্জি ইত্যাদি খুব দ্রুত পেঁয়াজের দ্বারা দূর করা সম্ভব। পেঁয়াজের রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তাৎক্ষণিকভাবেই রোগ নিরাময় হয়।
- পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দূরীকরণে: এক টুকরা পেঁয়াজ অর্ধেক করে কপালে দিয়ে রাখলে জ্বরের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দূর হয়।
- রক্তপাত বন্ধ করতে: নাক দিয়ে রক্ত পড়লে, এক টুকরা পেঁয়াজ নাকের সামনে নিয়ে নিঃশ্বাস নিলে, রক্তপাত মন্দীভূত অর্থাৎ থেমে যাবে।
- ঘুমের সমস্যা দূর করতে: যাদের ঘুমে সমস্যা রয়েছে তারা প্রতিদিন পেঁয়াজ খাবার অভ্যাস করলে, তাদের ঘুমের সমস্যা অবশ্যই দূর হবে।
- হজমের সমস্যা সমাধানে: পেঁয়াজ পাচনতন্ত্র উন্নত করতে পারে। যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে, পেঁয়াজ খাবার ফলে হজম রস বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি নিরাময় হয়।
- ক্ষত স্থান পূরণ করতে: পেঁয়াজের রস পোড়া স্থানে, পোকা-মাকড়ের কামড় দেওয়া স্থানে এবং মৌমাছির কামড় দেওয়া স্থানে লাগালে তাড়াতাড়ি তা হতে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। যদিও ক্ষত স্থানে পেঁয়াজ লাগানোর ফলে জ্বালাতন আরও বৃদ্ধি পায়।
৬. প্রশ্ন: তুলসী পাতার রসের এতো কদর কেন? এর উপকারিতা কী?
উত্তর:
গবেষণায় দেখা গেছে তুলসীগাছ একমাত্র উদ্ভিদ যা দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করে বায়ু বিশুদ্ধ রাখে যেখানে অন্য যেকোন গাছ রাত্রিতে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে। তাই রাতের বেলাতে তুলসীতলায় শয়ন করাও ব্যক্তির জন্য উপকারী। এছাড়া তুলসী গাছ লাগালে তা মশা কীটপতঙ্গ ও সাপ থেকে দূরে রাখে। আর এইজন্য তুলসীকে বলা হয় ভেষজের রানী।
নিচে তুলসী পাতার রসের এতো কদরের কারণ বা এর উপকারিতার কথা তুলে ধরা হলো-
- ক্যান্সার নিরাময়ে: তুলসীর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি কারসিনোজেনিক উপাদান ব্রেস্ট ক্যান্সার ও ওরাল ক্যান্সার এর বৃদ্ধিকে বন্ধ করতে পারে। কারণ এর উপাদানগুলো টিউমারের মধ্যে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। উপকার পেতে প্রতিদিন তুলসীর রস খান।
- দাঁতের রোগে: দাঁতের সুরক্ষায় তুলসীপাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে দাঁত মাজলে দাঁত ভালো থাকে। এছাড়া সরিষার তেলের সাথে তুলসীপাতার গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে দাঁত মাজলেও দাঁত শক্ত থাকে। মুখের দুর্গন্ধ রোধে তুলসীপাতার মাজন ভালো ফল দিয়ে থাকে।
- ডায়াবেটিস রোগে: তুলসী পাতায় প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও এসেনশিয়াল অয়েল আছে যা ইউজেনল, মিথাইল ইউজেনল ও ক্যারিওফাইলিন উৎপন্ন করে। এই উপাদানগুলো অগ্নাশয়ের বিটা সেলকে কাজ করতে সাহায্য করে। যার ফলে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এতে ব্লাড সুগার কমে এবং ডায়াবেটিস ভালো হয়।
- কিডনি পাথর দূর করতে: তুলসীর অ্যাসেটিক এসিড এবং এসেনশিয়াল অয়েল এর উপাদানগুলো কিডনির পাথর ভাঙতে সাহায্য করে ও ব্যথা কমায়। কিডনির পাথর দূর করার জন্য প্রতিদিন তুলসীপাতার রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেতে হবে।
- নিরাময় ক্ষমতা: তুলসী পাতা নার্ভ টনিক ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি কারী। এটা শ্বাসনালী থেকে সর্দি–কাশি দূর করে। তুলসীর ক্ষত সারানোর ক্ষমতা আছে।
- মানসিক চাপ কমায়: সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক অবসাদ প্রশমনে এমনকি প্রতিরোধে তুলসী চমৎকার কাজ করে। কোনো সুস্থ ব্যক্তি যদি প্রতিদিন অন্তত ১২টি তুলসীপাতা দিনে দু’বার নিয়মিত চিবাতে পারেন তাহলে সেই ব্যক্তি কখনো মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হবেন না বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
৭. প্রশ্ন: জামরুল এর উপকারিতা কি?
উত্তর:
জামরুলকে অনেকেই সাদা জাম বলে। হালকা মিষ্টি স্বাদের রসভরা এই ফলটি লাল রঙেরও হয়ে থাকে। প্রকৃতি যত বেশি রোদে তপ্ত থাকে জামরুল তত বেশি মিষ্টি হয়। অপরদিকে বৃষ্টিবহুল বছরে জামরুলের স্বাদ হয় পানসে। তবে হালকা লাল রঙের জামরুল খেতে অনেকটা আপেলের মতো মিষ্টি হয়।
জামরুলের উপকারিতা:
জামরুল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। জেনে নেওয়া যাক, জামরুল খেলে আপনি কী কী উপকার পেতে পারেন-
- ক্যান্সার প্রতিরোধের উপাদান সমৃদ্ধ জামরুল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
- জামরুলে আছে ভিটামিন সি এবং ফাইবার, যা হজমশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।
- কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে জামরুল খুবই উপকারী একটি ফল।
- জামরুল ভেষজগুণ সমৃদ্ধ ফল। বাত নিরাময়ে এটি ব্যবহার করা হয়।
- চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতেও জামরুলের ভূমিকা অনন্য।
- প্রতিদিন একটি তাজা জামরুল খেলে আপনার পুষ্টিহীনতা কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব।
- জামরুল ডায়াবেটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- জামরুল মস্তিষ্ক ও লিভারের যত্নে টনিক হিসাবে কাজ করে।
৮. প্রশ্ন: ঘৃতকুমারীর উপকারিতা কী?
উত্তর:
ঘৃতকুমারীর উপকারিতা হলো, এটি-
- ত্বকের জন্য বেশ ভাল একটি উপাদান।
- ত্বকের সুরক্ষায় বিশেষভাবে কার্যকর।
- মানসিক অবসাদজনিত রোগেও মূলের চূর্ণ ব্যবহার করা হয়।
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ মাত্রা বৃদ্ধি করে।
৯. প্রশ্ন: ঘুম থেকে উঠার পর মুখের ত্বক তেলতেলে এবং ফোলাফোলা হয় কেন?
উত্তর:
মুখ তেলতেলে: তেল গ্রন্থিগুলো মানে সিবেসিয়াস গ্রন্থি সক্রিয় হলে সেবাম উৎপন্ন হয়। সেবাম একটি তৈলাক্ত উপাদান যা এই গ্রন্থিতে উৎপন্ন হয়। এর কাজ মূলত আমাদের ত্বকে ময়েশ্চারাইজিং করা এবং আমাদের ত্বককে বাইরের শুষ্ক আবহাওয়া থেকে বাঁচানো। কিন্তু অতিরিক্ত সেবাম ত্বককে তৈলাক্ত করে। এটা শুধু রাতে না দিনেও হতে পারে।
মুখে ফোলাভাব: মূলত আমরা যখন ঘুমাই তখন শরীর হেলানো অবস্থায় থাকে বা প্রসারিত থাকে না, যাতে করে শরীরের নিচের অংশের পানিগুলোর উপরের দিকে প্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি হয়। আবার মুখের পানিগুলো নিচের দিকে যাওয়ার সময় বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে পানিগুলো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রয়ে যাওয়ার কারণে ওই অংশটুকু ফুলে যায়।
তাছাড়া ঘুমের পর চোখ মুখ অনেক কারণেই ফুলে যেতে পারে। যেমন-
- হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে চোখের আশেপাশে পানি জমে গেলে চোখ মুখ ফুলে যেতে পারে।
- ডিহাইড্রেশন, ভিটামিনের অভাব, আনহেলদি লাইফস্টাইলের কারণেও এমনটা হতে পারে।
- ঘুমানোর আগে আপনার খাবারে যদি সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে তাহলে তার কারণে পানি জমে যেতে পারে। ফলে চোখ মুখ ফুলে যায়।
- কান্না করলে আমাদের মস্তিষ্ক শরীরে সংকেত প্রেরণ করে এবং শরীরের রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়।
- আমাদের চোখের আশেপাশের চামড়া খুবই পাতলা যার কারণে রক্তপ্রবাহ বেড়ে গেলে মুখের রক্তনালীর মধ্যে এক প্রকার চাপ পড়ে। এতে মুখের পেশী, টিস্যুতে তরল জমে যায় যার কারণে মুখমণ্ডল এবং চোখ কান্নার পরে ফুলে থাকে।
- ঘুমের মধ্যে শরীর যখন বিশ্রাম পায়, তখন এইসব প্রতিক্রিয়ার মাত্রা বেড়ে যায়।
১০. প্রশ্ন: ঘুমন্ত অবস্থায় অনেকে কথা বলে কেন?
উত্তর:
ঘুমন্ত অবস্থায় অনেকে কথা বলে, এটা এক ধরনের ঘুমের ত্রুটি। বিজ্ঞানের ভাষায় একে প্যারাসমনিয়া (Parasomnia) বলে। আধো ঘুম আধো জাগরণে এই ব্যাপারটা ঘটে। সাধারণ অবস্থায় যে বা যারা ঘুমে বকবক করে, পরেরদিন সকালে এর কিছুই মনে থাকে না। অনেকে আবার বিছানা থেকে নেমে হাঁটাচলাও করে। এটাকে কোনো মানসিক সমস্যা ভাবা ঠিক নয়। বাচ্চাদের মাঝেই এর প্রবণতা বেশি। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়। তেমন কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ স্লিপ মেডিসিন-এর মতে, যারা অবসাদে ভোগেন, বা জ্বরবিকারগ্রস্ত বা কোনো কিছু থেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে করেন, তাঁদেরই ঘুমের মধ্যে কথা বলার প্রবণতা থাকে। আবার জিনগত ভাবেও অনেকে ঘুমিয়ে কথা বলেন। পুরুষ এবং শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
১১. প্রশ্ন: কাঁঠাল স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু উপকারী?
উত্তর:
স্বাস্থ্যগত দিক থেকে কাঁঠালের উপকারিতা হলো-
- ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ অত্যন্ত কম। তাই এই ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি একদম কমে যায়।
- উচ্চ রক্তচাপ কমাতে: কাঁঠাল পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। যাদের উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা আছে, তাদের জন্য উচ্চ রক্ত চাপের প্রধান উপশম হবে এই কাঁঠাল।
- রাতকানা রোগ প্রতিরোধ: কাঁঠালে প্রচুর ভিটামিন এ বিদ্যমান আছে, যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
- ভিটামিন সি এর উৎস: কাঁঠালের অন্যতম উপযোগিতা হল ভিটামিন সি। প্রাকৃতিকভাবে মানবদেহে ভিটামিন “সি” তৈরি হয় না।
- ক্যান্সার ও বার্ধক্য প্রতিরোধ: কাঁঠালে বিদ্যমান ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: কাঁঠালে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও আমাদেরকে সর্দি-কাশি রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এই কাঁঠাল।
- মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ উপকারী ফল।
- হজম শক্তি বৃদ্ধি: অনেকের হজমের সমস্যা থাকে। তাদের জন্য কাঁঠাল অনেক উপকারী। কারণ বদহজম রোধ করতে কাঁঠালের ভূমিকা অনেক।
- হাঁপানী রোগ উপশম: কাঁঠাল গাছের শেকড় হাঁপানী রোগের উপশম করে থাকে। এই কাঁঠালের শেকড় সেদ্ধ করলে যে উৎকৃষ্ট পুষ্টি উপাদান বের হয় তা হাঁপানীর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।
- চর্মরোগ ও জ্বরের চিকিৎসা: চর্মরোগের সমস্যা সমাধানেও কাঁঠালের শেকড় কার্যকরী। আবার জ্বর এবং ডায়রিয়া নিরাময় করে কাঁঠালের শেকড়।
১২. প্রশ্ন: কম ঘুমালে চেহারা নষ্ট হয়, কথাটি কতটুক সত্য?
উত্তর:
কম ঘুমালে চেহারা নষ্ট হয় – কথাটি সত্য।
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুসারে একজন মানুষের বয়স অনুপাতে ঘুমানোর ঘন্টা নির্ধারণ ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে (১৮-৬৫) বছর বয়স পর্যন্তদের ঘুমের সময়সীমা প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ধরা হয়। তবে একদম সঠিক মান ধরা হয় ৮ ঘণ্টা সময়কে।
সেই ৮ ঘণ্টাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়-
- প্রথম ৩ ঘণ্টা: মানব শরীর বৃদ্ধিকারক হরমোন (HGH) কাজ করে। যা আপনার দেহকে প্রাণবন্ত এবং উজ্জ্বল ত্বক ধরে রাখার কাজ করে। এই হরমোন নিঃসরণ না হলে আপনার ত্বকের ক্ষতি আবার পুনরায় ঠিক হবে না। এতে করে চেহারার পাশাপাশি পুরো শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- মাঝের ২ ঘণ্টা: আপনার মেলাটোনিন বাড়ায়। এটা একটা হরমোন যা আপনাকে সতেজ রেখে প্রতিদিনের কাজে উৎসাহিত করে। এবং সেটা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস হিসেবে কাজ করে যা মৌলের ক্ষতিকর দিক থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে।
- শেষ ৩ ঘণ্টা: REM (Rapid Eye Movement) বা দ্রুত চোখের চলাচলের ঘুমের স্তর। এ সময় কর্টিসল (মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার হরমোন) কমায়। এবং তার সাথে শরীরের তাপমাত্রা অনেক কমে আসে এবং শরীরের পেশিগুলো শান্ত আর নিস্তেজ হয়ে আসে। এতে করে আপনার ত্বকের গভীরতম পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, কর্টিসল বেড়ে গেলে, আপনার চুল পড়া সমস্যা তৈরি হতে পারে। এবং তার সাথে আপনার ত্বকের সে প্রোটিনগুলো নষ্ট করে দিবে যেগুলো আপনার ত্বক মসৃণ রাখার কাজ করে।
তাছাড়া, যখন আপনি ঘুমান তখন আপনার শরীর দিয়ে অনেক ঘাম বেরিয়ে আসে। আর এ ঘুমের সময় শরীরের প্রাকৃতিক হাইড্রেশনের মাধ্যমে পুনরায় ভারসাম্যে ফিরে আসে এবং বাড়তি আদ্রতা দূর করে। তাই আপনি ঘুম ছেড়ে দিলে আপনার ত্বকের আদ্রতায় সমস্যা দেখা দিবে এবং তা শুষ্ক হয়ে যাবে।
১৩. প্রশ্ন: আমরা সবাই কম-বেশি নিমপাতা খায়। এর উপকারিতা কী?
উত্তর:
নিমগাছের বাকল ও শিকড় ঔষধি গুণসম্পন্ন। নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। চামড়ার ইনফেকশন রোধে এছাড়া ব্রন, চুলকানি ও এলার্জি রোধে নিমপাতা অনেক উপকারী। এছাড়া শরীরের ব্যথা, কেটে গেলে, পুড়ে গেলে, কান ব্যথা, মচকানো, মাথা ব্যথা, জ্বর কমাতে নিমপাতা ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
চলুন তাহলে জেনে নেই নিমপাতার অসাধারণ গুণাগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে। যথা-
- ম্যালেরিয়া দূর করতে: নিম পাতা ম্যালেরিয়ার জন্য অনেক উপকারী। নিম পাতার নির্যাস ব্যবহারে ম্যালেরিয়া ভালো হয়। পানি বা অ্যালকোহল মিশ্রিত নিম পাতার নির্যাস ব্যবহারে একই ধরনের ফল পাওয়া যায়।
- মানসিক চাপ ও অশান্তি দূর করতে: যাদের বেশি মানসিক চাপ ও অশান্তি তাদের নিমপাতার রস নিয়মিত পান করা উচিত। কারণ অল্প পরিমাণ নিম পাতার নির্যাস খেলে মানসিক চাপ ও মানসিক অশান্তি কমে যায়।
- এইডসের মহা ঔষধ হিসেবে: নিম গাছের বাকল হতে আহরিত রস এইডস ভাইরাসকে মারতে সক্ষম। নিম পাতার রস অথবা পুরু পাতা অথবা নিম পাতার চা পান করলে এইডস রোগের কোন ঝুঁকি থাকে না।
- আলসার নিরাময়ে: নিম পাতার রস ও নিম বীজ হতে আসা রস খেলে পেপটিক ও ডিওডেনাল আলসার ভালো হয়।
- জন্ডিসের রোগ প্রতিকারে: ২৫-৩০ ফোঁটা নিম পাতার রস একটু মধুর সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে জন্ডিস রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- লাল মেহরোগ দূর করতে: নিম মূলের ছালের রস ও কাঁচা দুধ মিশিয়ে কিছুদিন খেলে লাল মেহরোগ ভালো হয়।
১৪. প্রশ্ন: অর্জুন গাছের ছালের রসের উপকারিতা কী?
উত্তর:
অর্জুন গাছের ছালের রসের উপকারিতা হলো, এটি-
- বুক ধড়ফড় করা দূর করে।
- হৃদপিণ্ডের পেশী শক্তিশালী করে এবং কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
- মুখ, জিহ্বা ও মাড়ির প্রদাহের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
- ঋতুস্রাব জনিত সমস্যা ও ব্যথা, প্রদর কমাতে সাহায্য করে।
- অর্জুনের ছালের রস যৌন উদ্দীপনা বাড়ায়।
১৫. প্রশ্ন: অনেকেই বলে গ্যাস্ট্রিক-আলসারের মহৌষধ ব্রোকলি। এটি কতটুকু সত্য?
উত্তর:
আমেরিকান ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তালিকায় ক্যান্সার প্রতিরোধী দশম খাবার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ব্রোকলি। এতে উচ্চমাত্রায় বিভিন্ন রকমের পুষ্টি, আঁশ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, আয়রন ও পটাশিয়াম রয়েছে। অন্যান্য সবজির চেয়ে ব্রোকলিতে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
ব্রোকলির পুষ্টি উপাদান: কাঁচা ব্রোকলিতে ৯০ ভাগই পানি থাকে। এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ ৭ শতাংশ, প্রোটিন ৩ শতাংশ এবং চর্বি নেই বললেই চলে। এতে ক্যালরির পরিমাণও কম। ৯১ গ্রাম ব্রোকলির মধ্যে ৩১ ক্যালরি থাকে।
ব্রোকলিতে রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। যেমন-
- ক্যান্সার প্রতিরোধ: ব্রোকলির বিটা ক্যারোটিন ও সেলিনিয়াম যৌথ ও ভিটামিন সি প্রোস্টেট, কোলন, ফুসফুস, যকৃৎ, স্তন ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করে।
- ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রোধ: ব্রোকলিতে প্রচুর ভিটামিন এ রয়েছে। ত্বকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে বাধা দেয়। সর্দি-কাশিও ঠেকাতেও কার্যকরী ব্রোকলি।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি বৃদ্ধি: ব্রোকলিতে চর্বি ও ক্যালরি কম কিন্তু আঁশ বেশি। বেশি লৌহ থাকায় ডায়েটের সময় ব্রোকলি থেকে ঝিম ধরা ভাব দূর হয়।
- ত্বকের স্বাস্থ্য ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ: ব্রোকলিতে লেবুর দ্বিগুণ ও আলুর সাত গুণ ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে ডায়াটারি আঁশ থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
- গ্যাস্ট্রিক আলসার ও গ্যাস্ট্রাইটিস প্রতিরোধ: ব্রোকলি গ্যাসট্রিক আলসার ও গ্যাসট্রাইটিস প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। বাঁধাকপির চেয়ে এতে অনেক বেশি ভিটামিন ইউ (মেথিওনাইনের উপজাত) থাকে। এতে সালফরাফেন নামের উপাদান থাকে যা গ্যাসট্রিক আলসার ও ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞান আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ব্লগে আলোচিত বিষয়গুলো, যেমন নিমপাতা, অর্জুন গাছের ছাল, বা ঘুমের প্রভাব, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। আশা করি, এই প্রশ্নোত্তরগুলো আপনার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে। সুস্থ থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস চর্চা করুন এবং জ্ঞান অর্জনের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখুন।
