ধানের বিভিন্ন রোগ ও পোকা চিহ্নিতকরণ ও সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা

ধান বাংলাদেশ ও ভারতসহ এশিয়ার প্রধান খাদ্যশস্য। বিশ্বের অর্ধেক মানুষের প্রধান খাদ্য হওয়া সত্ত্বেও ধানের উৎপাদন প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই রোগ ও পোকামাকড়ের প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে কৃষকদের জন্য। ধানের ৬৪ ধরনের রোগ হতে পারে, যার মধ্যে সাতটি প্রধান রোগ ধানের উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এই নিবন্ধে ধানের প্রধান রোগ ও পোকামাকড় সঠিকভাবে চিহ্নিতকরণ এবং তাদের কার্যকর দমন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, যা কৃষকদের জন্য একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।
(১) ধানের রোগসমূহের শ্রেণীবিভাগ
ধানের রোগগুলো প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত-
১. জীবাণুজনিত রোগ (ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত)
২. ছত্রাকজনিত রোগ
৩. ভাইরাসজনিত রোগ
এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকামাকড় যা ধানের উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
(২) ধানের জীবাণুজনিত রোগ
ক) ধানের পাতাপোড়া রোগ (Bacterial Leaf Blight)
কারণ: জ্যান্থোমোনাস ওরাইজি পিভি. ওরাইজি (Xanthomonas oryzae pv. oryzae) ব্যাকটেরিয়া।
লক্ষণ:
- প্রথমে পাতায় ছোট, কালো-সবুজ, জলসিক্ত আঁচরের মত দাগ দেখা যায়
- দাগগুলি ধীরে ধীরে হলুদ-ধূসর বর্ণ ধারণ করে
- আর্দ্র অবস্থায় পাতার ক্ষতস্থান থেকে হলুদ ব্যাকটেরিয়ার স্ত্রাব নির্গত হয়
- রোগের মাত্রা বেশি হলে ক্ষতগুলি বাদামী থেকে পাণ্ডুর সাদা বর্ণ ধারণ করে
- রোগসংবেদনশীল প্রজাতির পাতায় দাগের চারপাশে হলুদ বর্ণ বলয় সৃষ্টি হয়
- মারাত্মক পর্যায়ে সমগ্র পাতা ম্লান হয়ে শুকিয়ে মারা যায়
দমন ব্যবস্থাপনা:
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা
- রোগগ্রস্ত জমি থেকে অন্য জমিতে সেচের পানি স্থানান্তর এড়িয়ে চলা
- জমি থেকে অতিরিক্ত জল নিকাশের ব্যবস্থা করা
- নাইট্রোজেন সারের পরিমিত ব্যবহার (৮০ কেজি/হেক্টরকে তিন ভাগে ভাগ করে প্রয়োগ)
- চারা রোপণের সময় চারার আগা না কাটা
- ছায়াময় স্থানে ফসল চাষ এড়িয়ে চলা
- রোগ প্রতিরোধী ধানের জাত চাষ করা
রাসায়নিক দমন:
- ১০ কেজি বীজ ২০ লিটার জলে ১.৫ গ্রাম স্ট্রেপ্টোসাইক্লিন ও ২০ গ্রাম ক্যাপটান মিশিয়ে ৮-১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে বীজ শোধন
- চারার শিকড় প্লান্টোমাইসিন (০.০১%) বা স্ট্রেপ্টোসাইক্লিন (০.০১%) দ্রবণে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখা
- ক্ষেতে প্লান্টোমাইসিন ১ গ্রাম/লিটার বা স্ট্রেপ্টোসাইসিন (১৫০ গ্রাম) + কপার অক্সিক্লোরাইড (১ গ্রাম)/লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করা (৫০০ লিটার জল/হেক্টর)
খ) ধানের পাতার রেখা রোগ (Bacterial Leaf Streak)
কারণ: জ্যান্থোমোনাস ওরাইজি পিভি. ওরিজিকোলা (Xanthomonas oryzae pv. oryzicola) ব্যাকটেরিয়া।
লক্ষণ:
- পাতার শিরা বরাবর জলসিক্ত দাগ সৃষ্টি হয়
- দাগগুলি ধীরে ধীরে হলুদ রং ধারণ করে এবং পাতার কিনারায় টেউ খেলানো হলুদ দাগ দেখা যায়
- ভোরে আর্দ্র অবস্থায় হলুদ ব্যাকটেরিয়ার স্ত্রাব দেখা যায়
- মারাত্মক আক্রমণে পাতা সম্পূর্ণভাবে মুড়ে যায়, নেতিয়ে পড়ে এবং গাছ মারা যায়
(৩) ধানের ছত্রাকজনিত রোগ
ক) ধানের ব্লাস্ট রোগ (Blast Disease)
কারণ: পাইরিকুলারিয়া ওরাইজি (Pyricularia oryzae) ছত্রাক।
লক্ষণ:
- টাকুর আকৃতির দাগ যার কিনারা বাদামী ও মধ্যভাগ ধূসর বর্ণের
- দাগের দুই প্রান্ত ক্রমশ সরু হয়ে যায়
- গাছের গাঁটে আক্রমণ করলে গাঁট কালো হয়ে পচে যায়
- শীষ বের হওয়ার সময় আক্রমণ হলে শীষ পচে যায় এবং অপুষ্ট শস্য দানা গঠিত হয়
দমন ব্যবস্থাপনা:
- রোগমুক্ত ফসল থেকে স্বাস্থ্যবান বীজ সংগ্রহ
- উঁচু জমিতে চারা রোপণ করা
- নাইট্রোজেন সার ৩-৪ ভাগে বিভক্ত করে প্রয়োগ
- জমি থেকে আগাছা নিয়মিত নিড়ানো
- প্রতিরোধী বা সহনশীল ধানের জাত চাষ
জৈবিক দমন:
- বেল পাতার নির্যাস (২৫ গ্রাম তাজা পাতা/লিটার জল)
- তুলসী পাতার নির্যাস (২৫ গ্রাম তাজা কচি পাতা/লিটার জল)
- নিম পাতার নির্যাস (২০০ গ্রাম তাজা পাতা/লিটার জল)
রাসায়নিক দমন:
- ট্রাইসাইক্লোজল ৭৫ ডব্লিউপি (০.৬ গ্রাম/লিটার জল)
- কার্বেন্ডাজিম ৫০ ডব্লিউপি (২.৫ গ্রাম/লিটার জল)
খ) ধানের খোলাপোড়া রোগ (Sheath Blight)
কারণ: রাইজোকটোনিয়া সোলানি (Rhizoctonia solani) ছত্রাক।
লক্ষণ:
- জলের স্তরের কাছাকাছি কাণ্ডের গোড়ায় অনিয়মিত বাদামী দাগ
- দাগগুলি একসাথে বেড়ে পাতার ফলক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়
- মারাত্মক আক্রমণে শীষ ঠিকমতো বের হতে পারে না
- সাদা ছত্রাক মাইসেলিয়াম দেখা যায়
দমন ব্যবস্থাপনা:
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার
- গরমকালে গভীরভাবে চাষ করা
- জমির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বজায় রাখা
- ধৈঞ্চে (সেসবানিয়া প্রজাতি) সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার
- অতিরিক্ত ঘন করে চারা রোপণ না করা
রাসায়নিক দমন:
- হেক্সাকোনাজল (কনটাফ ৫ ইসি ২ মিলি/লিটার)
- থিফ্লুজামাইড ২৪% এসসি (১ মিলি/লিটার)
- কার্বেন্ডাজিম ৫০ ডব্লিউপি (২.৫ গ্রাম/লিটার)
গ) ধানের খোলাপচা রোগ (Sheath Rot)
কারণ: সারোক্লেডিয়াম ওরাইজি (Sarocladium oryzae) ছত্রাক।
লক্ষণ:
- আয়তকার অনিয়মিত দাগ যার কেন্দ্র পাণ্ডুর ও প্রান্ত বাদামী বর্ণের
- মারাত্মক আক্রমণে শীষ সম্পূর্ণ বের হতে পারে না
- অপুষ্ট ধানের দানা বেশি তৈরি হয়
দমন ব্যবস্থাপনা:
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার
- প্রতি কেজি বীজ ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম দিয়ে শোধন
- প্রতিরোধী জাত চাষ
রাসায়নিক দমন:
- ০.১৫% বেনোমাইল/কার্বেন্ডাজিম বা ০.২৫% ম্যানকোজেব গর্ভাধানের সময় থেকে ৮ দিন পর পর ২ বার স্প্রে
ঘ) ধানের হলুদ শীষ রোগ (False Smut)
কারণ: ইউস্টিলাজিনয়ডিয়া ভাইরেন্স (Ustilaginoidea virens) ছত্রাক।
লক্ষণ:
- শীষের отдельных শস্যদানা সবুজ কোমল গুটিতে পরিণত হয়
- পরে গুটি কালো বর্ণ ধারণ করে
দমন ব্যবস্থাপনা:
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার
- বীজ শোধন (২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম/কেজি বীজ)
- সহনশীল জাত চাষ
- শীষ বের হওয়ার ২ সপ্তাহ আগে থেকে কার্যকর ছত্রাকনাশক প্রয়োগ
- শস্যদানা গঠনের পর জমি থেকে জল নিকাশ
ঙ) ধানের বাদামি দাগ রোগ (Brown Spot)
কারণ: হেলমিনথোস্পোরিয়াম ওরাইজি (Helminthosporium oryzae) ছত্রাক।
লক্ষণ:
- উপবৃত্তাকার, ত্রিকোণাকার বা বৃত্তাকার বাদামী দাগ
- পাতার ফলক, পাতার খোল ও শস্যের ভুসিতে দাগ দেখা যায়
দমন ব্যবস্থাপনা:
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার
- গ্রীষ্মকালে গভীর চাষ
- সুষম সার প্রয়োগ (NPK ৬০:৩০:৩০ কেজি/হেক্টর)
- প্রতিরোধী জাত চাষ
- বীজ শোধন (ক্যাপটান বা থিরাম ৩ গ্রাম/কেজি বীজ)
(৪) ধানের ভাইরাসজনিত রোগ
ক) ধানের রাইস টুংরো রোগ (Rice Tungro)
কারণ: রাইস টুংরো স্পherical আরএনএ ভাইরাস এবং রাইস টুংরো ব্যাসিলিফর্ম ডিএনএ ভাইরাস।
লক্ষণ:
- তরুণ পাতার মধ্যশিরা বরাবর হলুদ থেকে কমলা রঙের দাগ
- ধীরে ধীরে পাতা ফ্যাকাসে হলুদ থেকে লালচে কমলা বর্ণ ধারণ করে
- গাছের বৃদ্ধি থেমে যায় এবং কুশির সংখ্যা কমে
- পূর্ণবয়স্ক পর্যায়ে শীষ সম্পূর্ণ বের হতে পারে না
- সংক্রমিত গাছের মূলের বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়
দমন ব্যবস্থাপনা:
- নাড়া রয়েছে এমন জমির কাছে নার্সারি তৈরি এড়িয়ে চলা
- দেরিতে রোপণ না করা (আগস্টের দুই সপ্তাহের পর)
- ধানজমি ও আশেপাশের আগাছা তুলে ফেলা
- বাহক পোকা নিয়ন্ত্রণ
- প্রতিরোধী ধানের জাত চাষ
রাসায়নিক দমন:
- মনোক্রোটোফস ৩৬ ইসি (৩ মিলি/লিটার জল)
- ইমিডাক্লোপ্রিড ২০০ এসএল (১ মিলি/লিটার জল)
(৫) ধানের প্রধান ক্ষতিকর পোকামাকড় ও তাদের দমন
ক) ধানের হলুদ কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা (Yellow Stem Borer)
ক্ষতিসীমা স্তর: প্রতি বর্গমিটারে ১-২টি মথ বা একটি ডিমের গুচ্ছ
লক্ষণ:
- পোকার শূককীট কুশির মধ্যে প্রবেশ করে ভেতরের অংশ খায়
- “ডেড হার্ট” সৃষ্টি করে
- প্রজননের সময় সাদা শীষ তৈরি করে
দমন ব্যবস্থাপনা:
- একটানা জমিতে চাষ এড়িয়ে চলা
- জমি থেকে নাড়া সম্পূর্ণরূপে অপসারণ
- ক্ষতিগ্রস্ত কুশি তুলে ধ্বংস করা
- ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার
- ফসল কাটা মাটির ঠিক উপরে থেকে যাতে নাড়া কম থাকে
- ট্রাইকোডার্মা জাপোনিকাম ব্যবহার (১ লাখ/হেক্টর, ৬ জায়গায়)
খ) ধানের পাতা মোড়ক পোকা (Leaf Folder)
দমন পদ্ধতি:
- ট্রায়জোফস ৪০ইসি (৬২৫ মিলি/হেক্টর)
- থায়ামেথোক্সাম ২৫ডব্লিউজি (১০০ গ্রাম/হেক্টর)
- নিম তেল (৫ মিলি/লিটার জলের সাথে ০.২% ডিটারজেন্ট)
গ) ধানের বালামী শোষক পোকা/শাপলা পোকা (BPH/Whitebacked Planthopper)
দমন পদ্ধতি:
- ইমিডাক্লোপ্রিড ১৭.৮ এসএল (১২৫ মিলি/হেক্টর)
- থায়ামেথোক্সাম ২৫ডব্লিউজি (১০০ গ্রাম/হেক্টর)
- ইথোফেনপ্রক্স ১০ইসি (৫০০ মিলি/হেক্টর)
জৈবিক দমন:
- তাজা গোবর (১ কেজি গোবর ৫ লিটার জলে মিশিয়ে ছেঁকে স্প্রে)
ঘ) ধানের গান্ধী পোকা (Gundhi Bug)
দমন পদ্ধতি:
- এথোফেনপ্রক্স ১০ইসি (৫০০ মিলি/৫০০ লিটার জল/হেক্টর)
- ম্যালাথিয়ন চূর্ণ ৫% ডাস্ট (২৫ কেজি/হেক্টর)
(৬) সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM)
ক) প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
- রোগমুক্ত ও উন্নত মানের বীজ ব্যবহার
- বীজ শোধন
- জমি প্রস্তুতির সময় গভীর চাষ
- সুষম সার প্রয়োগ
- উপযুক্ত সময়ে রোপণ
- সঠিক ব্যবধানে চারা রোপণ
- জমিতে সঠিক জল ব্যবস্থাপনা
- আগাছা নিয়ন্ত্রণ
- শস্য পর্যায় অনুসরণ
খ) জৈবিক দমন পদ্ধতি
অমৃতজল প্রস্তুত প্রণালী:
১ লিটার তাজা গোমূত্র + ১ কেজি তাজা গোবর + ২৫০ গ্রাম গুড় ১০ লিটার জলে মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা গাঁজানো। ১:১০ অনুপাতে জলের সাথে মিশিয়ে ছেঁকে স্প্রে করা। এই দ্রবণ ছোট পোকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং নাইট্রোজেন সরবরাহ করে।
পাঁচ পাতা সার প্রস্তুত প্রণালী:
১ লিটার গোমূত্র + ১ কেজি গোবর + ৫০ গ্রাম গুড় ১০ লিটার জলে মিশিয়ে ১ কেজি কাটা নিম, আকন্দ ও করঞ্জা পাতা যোগ করা। ৮ দিন গাঁজিয়ে ১:৫০ অনুপাতে জলের সাথে মিশিয়ে ছেঁকে স্প্রে করা।
গ) যান্ত্রিক দমন পদ্ধতি
- হাত দ্বারা পোকা সংগ্রহ
- ফাঁদ ব্যবহার
- আলোর ফাঁদ
- ফেরোমন ফাঁদ
- ক্ষতিগ্রস্ত গাছ অপসারণ
ঘ) স্প্রে করার সাধারণ নির্দেশিকা
- হাত চালিত স্প্রে মেশিন: ২০০ লিটার জল/একর
- মোটর চালিত স্প্রেয়ার: ৮০ লিটার জল/একর
- সাধারণত ৫০০ লিটার জল/হেক্টর ব্যবহার করা হয়
- স্প্রে করার পর ভালো করে হাত-মুখ ধোয়া
- কীটনাশক শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা
(৭) জলবায়ু পরিবর্তন ও রোগ-পোকার প্রাদুর্ভাব
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ধানের রোগ ও পোকার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন রোগ ও পোকার জীবনচক্রকে প্রভাবিত করছে। এই পরিবর্তিত অবস্থায় কৃষকদের জন্য প্রয়োজন-
- জলবায়ু সহিষ্ণু জাত নির্বাচন
- সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন
- জল ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন
- আবহাওয়া ভিত্তিক পরামর্শ সেবা গ্রহণ
- সম্প্রদায়ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা
ধানের রোগ ও পোকামাকড় সনাক্তকরণ এবং তাদের কার্যকর দমন উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসায়নিক দমন পদ্ধতির পাশাপাশি জৈবিক ও যান্ত্রিক পদ্ধতির সমন্বয়ে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এতে পরিবেশের ক্ষতি কম হবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ধানের গুণগত মান বজায় থাকবে। কৃষকদের নিয়মিতভাবে ক্ষেত পরিদর্শন করা, সমস্যা শনাক্ত করা এবং সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।
তথ্যসূত্র:
১. প্রযুক্তিবিদ্যার জ্ঞাপনপত্র সংখ্যা-১১৫, NICRA প্রকল্প, জাতীয় চাউল গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এনআরআরআই), ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ
২. বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)
৩. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ
৪. আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই)









