১৪টি ইসলামিক পরিভাষার অর্থঃ কাফের, শির্ক, মুশরিক, মুনাফেক, যিন্দীক, মুরতাদ, ফাসেক, মুমিন ইত্যাদির অর্থ কি?

আপনি অনেক সময় মুসলিমদের মুখ এই ধরণের শব্দের বা ইসলামিক পরিভাষার ব্যবহার বা সম্বোধন করতে শুনে থাকবেন। যেমন: কাফের, শির্ক, মুশরিক, মুনাফেক, যিন্দীক, মুরতাদ, ফাসেক, মুমিন ইত্যাদি।
আসলে এই পরিভাষাগুলো অর্থ কি? এগুলো কাদেরকে বলা হয়? চলুন অতি সংক্ষিপ্ত ভাবে খুব দ্রুত জেনে নিই।
(১) ‘ঈমান’ কাকে বলে?
‘ঈমান’ শব্দের শাব্দিক অর্থ- বিশ্বাস করা, স্বীকার করা, ভরসা করা, নিরাপত্তা প্রদান করা ইত্যাদি।
শরী’আতের পরিভাষায় ঈমান বলা হয় রাসূল (সাঃ) কর্তৃক আনীত ঐ সকল বিষয়াদি যা স্পষ্ট ভাবে এবং অবধারিত রূপে প্রমাণিত, সে সমুদয়কে রাসূল (সাঃ)-এর প্রতি আস্থাশীল হয়ে বিশ্বাস করা এবং মুখে তা স্বীকার করা (যদি স্বীকার করতে বলা হয়) আর কুরআন হাদীস এবং সাহাবায়ে কেরাম ও উম্মতের সর্বসম্মত ব্যাখ্যা অনুযায়ী ধর্মের অবধারিত (বদীহী) বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা।
সংক্ষেপে ও সাধারণভাবে ইসলামের ধর্মীয় বিশ্বাসকে ঈমান বলা হয়।
(২) ‘মুমিন’ কাদের বলা হয়?
যার মধ্যে ঈমান আছে তাকে ‘মুমিন’ বলা হয়।
(৩) ‘ইসলাম’ কাকে বলে?
‘ইসলাম’ শব্দের শাব্দিক অর্থ- মেনে নেয়া, আনুগত্য করা।
শরীআতের পরিভাষায় ইসলাম বলা হয় (ঈমান সহ) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যকে মেনে নেয়া।
সংক্ষেপে ও সাধারণ ভাবে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কর্তৃক আনীত, আল্লাহ রব্বুল আলামিন কর্তৃক একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা ও ধর্মকে ইসলাম বলা হয়।
বিঃদ্রঃ ‘ঈমান’ ও ‘ইসলাম’ শব্দ দুটো সমার্থবোধক ভাবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
(৪) ‘মুসলমান’ বা ‘মুসলিম’ কাদের বলা হয়?
‘ইসলাম’ ধর্ম অনুসারীকে ‘মুসলমান’ বা ‘মুসলিম’ বলা হয়।
(৫) ‘কুফর’ কাকে বলে?
যে সব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস রাখাকে ঈমান বলা হয়, প্রকাশ্যে তার কোন কিছুকে মুখে অস্বীকার করা বা তার প্রতি অন্তরে বিশ্বাস না রাখা হলো ‘কুফর’।
(৬) ‘কাফের’ কাদেরকে বরা হয়?
যার মধ্যে ‘কুফর’ থাকে সে হলো ‘কাফের’।
(৭) ‘শির্ক’ কি/কাকে বলে?
আল্লাহর জাত (সত্তা), তাঁর ছিফাত (গুণাবলী) এবং তাঁর ইবাদতে কাউকে শরীক বা অংশীদার বানানো হলো ‘শির্ক’।
(৮) ‘মুশরিক’ কাদের বলা হয়?
যে শির্ক করে তাকে বলা হয় মুরিক।
(৯) ‘নেফাক’ বা ‘মুনাফেকী’ কাকে বলে?
মুখে ঈমান প্রকাশ করা, প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করা অথচ অন্তরে কুফর প্রচ্ছন্ন রাখা-এরূপ কপটতাকে বলা হয় নেফাক বা মুনাফেকী।
(১০) ‘মুনাফেক’ কাদের বলা হয়?
যে ‘মুনাফেকী’ করে তাকে বলা হয় ‘মুনাফেক’।
(১১) ‘মুলহিদ’ বা ‘যিন্দীক’ কাদের বলা হয়?
যে মৌলিক ভাবে ও প্রকাশ্যে ইসলাম এবং ঈমান-এর অনুসারী কিন্তু নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি বদীহী ও অবধারিত বিষয়গুলোর এমন ব্যাখ্যা দেয়, যা কুরআন-হাদীসের স্পষ্ট বিরুদ্ধ, এরূপ লোক প্রকৃত মু’মিন মুসলমান নয়, কুরআনের পরিভাষায় তাকে বলা হয় মুল্হিদ আর হাদীসের পরিভাষায় তাকে বলা হয় যিন্দীক।
কারও কারও ব্যাখ্যা মতে সব ধরনের ধর্ম বিরোধী বা মুরিকদেরকেও যিন্দীক বলা হয়। যারা দারিয়্যা বা নাস্তিক, তাদেরকেও যিন্দীক বলা হয়ে থাকে।
(১২) ‘মুরতাদ’ কাদের বলা হয়?
সংক্ষেপে মুরতাদ অর্থ- ধর্মত্যাগী।
ইসলাম ধর্মের অনুসারী কোন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করলে কিংবা ঈমান পরিপন্থী কোন কথা বললে বা ঈমান পরিপন্থী কোন কাজ করলে তাকে মুরতাদ বলে।
(১৩) ‘ফাসেক’ কাদের বলা হয়?
প্রকাশ্যে যে ব্যক্তি গোনাহে কবীরা করে বেড়ায় তাকে বলা হয় ‘ফাসেক’।
আবার ব্যাপক অর্থে সব ধরনের অবাধ্যকে ‘ফাসেক’ বলা হয়। এ হিসেবে একজন কাফেরকেও ‘ফাসেক’ বলা হতে পারে, যেহেতু সেও অবাধ্য।
(১৪) ‘আকীদা’ কি/কাকে বলে?
‘আকীদা’-এর শাব্দিক অর্থ কোন বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।
ইসলামের পরিভাষায় আকীদা অর্থ দৃঢ় ও মজবৃত ঈমান, অকাট্য প্রমাণ ভিত্তিক খবরাখবর ও বিষয়াবলীর প্রতি মনের অটল বিশ্বাস।
‘আকীদা’ শব্দের বহুবচন হলো ‘আকাইদ’। ‘এতেকাদ’ শব্দটিও ‘আকীদা’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এতেকাদ শব্দের বহুবচন এতেকাদাত।
[তথ্য সূত্র: মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন]


