২৩০টি কবিরা গুনাহের তালিকা

কবিরা গুনাহ কাকে বলে? কিংবা কবিরা গুনাহ কী?
মানুষ চলার পথে এমন কিছু পাপ করে যা তাওবা না করলে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ক্ষমা করবেন না। মূলত তাওবা না করে ক্ষমা পাওয়া যায় না এমন পাপগুলোকে কবিরা গুনাহ বলে।
মূলত কবিরা গুনাহ বলা হয় ওই সব বড় বড় পাপকর্মকে যেগুলোতে— নিন্মোক্ত কোনো একটি বিষয় পাওয়া যাবে। যথা-
- যেসব গুনাহের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়তে জাহান্নামের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
- যেসব গুনাহের ব্যাপারে দুনিয়াতে নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগের কথা রয়েছে।
- যেসব গুনাহের ব্যাপারে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা রাগ করেন।
- যেসব কাজে আল্লাহ তায়ালা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ফেরেশতা মণ্ডলী লানত দেন।
- যে কাজের ব্যাপারে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি এমনটি করবে— সে মুসলমানদের দলভুক্ত নয়।
- কিংবা যে কাজের ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- যেসব বিষয়কে মুনাফেকির আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- যে কাজে ‘দ্বীন নাই’ ও ‘ঈমান নাই’ ইত্যাদি বলা হয়েছে।
- অথবা যে কাজকে আল্লাহ তায়ালা সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয় করা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কবিরা গুনাহের তালিকা (১-২০)
১) শির্ক।
২) মা-বাপের নাফরমানী করা অর্থাৎ, তাদের হক আদায় না করা।
৩) যে সব আত্মীয়দের সাথে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে তাদের সাথে অসদ্ব্যবহার করা ও তাদের হক নষ্ট করা।
৪) যেনা করা অর্থাৎ, নারীর সতীত্ব নষ্ট করা এবং পুরুষের চরিত্র নষ্ট করা।
৫) বালকদের সাথে কুকর্ম করা।
৬) হস্ত মৈথুন করা।
৭) প্রাণীর সাথে কুকর্ম করা।
৮) আমানতের খেয়ানত করা।
৯) মানুষ খুন করা।
১০) মিথ্যা তোমত বা অপবাদ লাগানো, বিশেষভাবে যেনার অপবাদ লাগানো।
১১) মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।
১২) সাক্ষ্য গোপন করা, যখন অন্য কেউ সাক্ষ্য দেয়ার না থাকে।
১৩) যাদু দ্বারা কারও ক্ষতি সাধনের চেষ্ট করা।
১৪) যাদু শিক্ষা করা এবং শিক্ষা দেয়া।
১৫) অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, ওয়াদা খেলাফ করা, কথা দিয়ে তা ঠিক না রাখা।
১৬) গীবত করা।
১৭) .স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে, মনীবের বিরুদ্ধে চাকরকে, উস্তাদের বিরুদ্ধে শাগরেদকে, রাজার বিরুদ্ধে প্রজাকে, কর্তার বিরুদ্ধে কর্মচারীকে ক্ষেপিয়ে তোলা।
১৮) নেশা করা।
১৯) জুয়া খেলা।
২০) সূদ অনেক প্রকারের আছে- সরল সূদ, চক্রবৃদ্ধি সূদ ইত্যাদি সর্বপ্রকারের সূদই মহাপাপ। সূদ দাতা, সূদ গ্রহীতা, সূদের লেন-দেনে সাক্ষদাতা ও সূদ বিষয়ক লেন-দেনের দলীল লেখক সকলের প্রতি রাসূল (সাঃ) লা’নত করেছেন ৷ সকলেরই কবীরা গোনাহ হয়।
কবিরা গুনাহের তালিকা (২১-৪০)
২১) ঘুষ বা রেশওয়াত প্রদান ও গ্রহণের কারণে আল্লাহর অভিশাপ অবতীর্ণ হয়, এটা মহাপাপ। তবে জালেমের জুলুমের কারণে নিজের হক আদায় করার জন্য ঠেকায় পড়ে ঘুষ দিলে তা পাপ নয়। কিন্তু ঘুষ দিয়ে কার্য উদ্ধার করার মনোবৃত্তি ভাল নয়। যাদের বেতন ধার্য আছে তারা কর্তব্য কাজ করে দিয়ে অতিরিক্ত যা কিছু নিবে সবই ঘুষ, চাই একটা সিগারেট হোক বা এক কাপ চা বা একটা পানই হোক।
২২) অন্যায়ভাবে কারও স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হরণ বা ভোগ দখল করা।
২৩) অনাথ, এতীম, নিরাশ্রয় বা বিধবার মাল গ্রাস করা।
২৪) খোদার ঘর জিয়ারতকারী তথা হজ্জযাত্রীদের প্রতি দুর্ব্যবহার করা ৷
২৫) মিথ্যা কছম করা।
২৬) গালি দেয়া।
২৭) অশ্লীল কথা বলা।
২৮) জেহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা।
২৯) ধোকা দেয়া।
৩০) অহংকার করা।
৩১) চুরি করা।
৩২) ডাকাতি ও লুটতরাজ করা, এমনিভাবে পকেট মারা, ছিনতাই করা।
৩৩) নাচ, গান-বাদ্য সিনেমা ইত্যাদি।
৩৪) স্বামীর নাফরমানী করা, অর্থাৎ, স্বামীর হক আদায় না করা।
৩৫) জায়গা যমীর আইল (সীমানা) নষ্ট করা।
৩৬) শ্রমিক থেকে কাজ পূর্ণ নিয়ে তার পূর্ণ মজুরী না দেয়া বা পূর্ণ মজুরী দিতে টাল-বাহানা করা।
৩৭) .মাপে কম দেয়া।
৩৮) মালে মিশাল দেয়া।
৩৯) খরীদ্দারকে ধোকা দেয়া।
৪০) দাইয়্যূছিয়াত অর্থাৎ, নিজের বিবিকে বা অধীনস্থ কোন নারীকে পর পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে দেয়া, পর পুরুষের বিছানায় যেতে দেয়া, এসবের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।
কবিরা গুনাহের তালিকা (৪১-৬০)
৪১) চোগলখুরী করা।
৪২) গণকের কাছে যাওয়া।
৪৩) মানুষ বা অন্য কোন জীবের ফটো আদর করে ঘরে রাখা।
৪৪) পুরুষের জন্য সোনার আংটি পরিধান করা।
৪৫) পুরুষের জন্য রেশমী পোষাক পরিধান করা।
৪৬) শরীরের রূপ ঝলকে- মেয়েলোকদের জন্য এমন পাতলা পোশাক পরিধান করা।
৪৭) মহিলাদের জন্য পুরুষের এবং পুরুষের জন্য মহিলার পোশাক পরিধান করা।
৪৮) গর্বভরে লুঙ্গি, পায়জামা, জামা ও প্যান্ট পায়ের নীচে ঝুলিয়ে চলা।
৪৯) বংশ বদলানো অর্থাৎ, পিতৃ পরিচয় বদলে দেয়া।
৫০) মিথ্যা মোকাদ্দমা করা, মিথ্যা মোকাদ্দমার পরামর্শ প্রদান, তদবীর ও পায়রবী করাও কবীরা গোনাহ।
৫১) মৃত ব্যক্তির শরীয়ত সম্মত ওছিয়াত পালন না করা।
৫২) কোন মুসলমানকে ধোকা দেয়া।
৫৩) গুপ্তচরবৃত্তি করা, অর্থাৎ, মুসলমান সমাজের এবং মুসলমান রাষ্ট্রের গুপ্ত ভেদ ও দুর্বল পয়েন্টের কথা অন্য সমাজের লোকের কাছে, অন্য রাষ্ট্রের কাছে প্রকাশ করা।
৫৪) .কাউকে মেপে দিতে কম দেয়া এবং মেপে নিতে বেশী নেয়া।
৫৫) টাকা বা নোট জাল করা।
৫৬) ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরায় ত্রুটি করা।
৫৭) দেশের জরুরী রসদ, খাদ্য বা হাতিয়ার চোরাচালান বা পাচার করা।
৫৮) রাস্তা-ঘাটে, ছায়াদার কিম্বা ফলদার বৃক্ষের নীচে মল-মূত্র ত্যাগ করা।
৫৯) বাড়ি-ঘর, আনাচ-কানাচ, থালা-বাসন, কাপড়-চোপড় নোংরা ও গন্ধ করে রাখা।
৬০) হায়েয বা নেফাছ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা।
কবিরা গুনাহের তালিকা (৬১-৮০)
৬১) মলদ্বারে স্ত্রী সহবাস করা।
৬২) যাকাত না দেয়া।
৬৩) ইচ্ছা পূর্বক ওয়াক্তিয়া নামায কাযা করা।
৬৪) জুমুআর নামায না পড়া।
৬৫) বিনা ওজরে রোযা ভাঙ্গা।
৬৬) রিয়া তথা লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করা।
৬৭) জনগণের কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও দাম বাড়ানোর জন্য জীবিকা নির্বাহোপযোগী খাদ্য-দ্রব্য, জিনিসপত্র গোলাজাত করে রাখা।
৬৮) মানুষের কষ্ট হয় এমন খাদ্য-দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি দেখে খুশী হওয়া।
৬৯) ষাঁড় বা পাঠার দ্বারা গাভী বা ছাগী পাল দিতে না দেয়া। পাল দেয়ার জন্য বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয নয়।
৭০) প্রতিবেশীকে (ভিন্ন জাতির হলোেও) কষ্ট দেয়া।
৭১) পাড়া প্রতিবেশীর ঝী-বৌকে কু-নযরে দেখা।
৭২) মাল থাকা বা মাল উপার্জনের শক্তি থাকা সত্ত্বেও লোভের বশবর্তী হয়ে সওয়াল করা।
৭৩) জনগণ চায় না তা সত্ত্বেও তাদের নেতৃত্ব দেয়া।
৭৪) কারণ ছাড়াই স্ত্রীর স্বামী সহবাসে অসম্মত হওয়া।
৭৫) পরের দোষ দেখে বেড়ানো।
৭৬) কারও জান, মাল বা ইজ্জতের হানি করা।
৭৭) নিজের প্রশংসা করা।
৭৮) বিনা দলীলে কারও প্রতি বদগোমানী করা।
৭৯) ইল্মে দ্বীনকে তুচ্ছ মনে করে ইল্মে দ্বীন হাছিল না করা বা হাছিল করে আমল না করা।
৮০) এমন কথা যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি বা এমন কোন কাজ যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি- সে সম্পর্কে এরূপ বলা যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন।
কবিরা গুনাহের তালিকা (৮১-১০০)
৮১) হজ্জ ফরয হওয়া সত্ত্বেও হজ্জ করা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করা। তবে মৃত্যুর সময় হজ্জের ওছিয়াত বা ব্যবস্থা সম্পন্ন করে গেলে পাপমুক্ত হতে পারবে।
৮২) কোন সাহাবীকে মন্দ বলা, সাহাবীদের সমালোচনা করা।
৮৩) হযরত আলী (রাঃ)-কে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে শ্রেষ্ঠ বলা।
৮৪) কোন নারীকে তার স্বামীর কাছে গমন ও স্বামীর হক আদায়ে বাধা দেয়া।
৮৫) কোন অন্ধকে ভুল পথ দেখিয়ে দেয়া।
৮৬) পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করা ও অশান্তি ছড়ানো, ফ্যাসাদ করা।
৮৭) কাউকে কোন পাপ কাজে উদ্বুদ্ধ করা ও পাপ কাজে সহযোগিতা করা।
৮৮) কোন গোনাহে সগীরার উপর হটকারিতা করা।
৮৯) পেশাবের ছিটা থেকে সাবধান সতর্ক না থাকা।
৯০) কোন দান-সদকা করে বা হাদিয়া-উপঢৌকন দিয়ে খোঁটা দেয়া।
৯১) অনুগ্রহকারীর না-শুকরী করা।
৯২) কোন মুসলমান ভাইকে ছুরি, চাকু, তলোয়ার ইত্যাদি লৌহ অস্ত্র দ্বারা ইশারা করে ভয় দেখানো।
৯৩) দাবা ও ছক্কা পাঞ্জা খেলা। আরও কতিপয় খেলা রয়েছে যা হারাম ও কবীরা গোনাহ।
৯৪) বিনা জরুরতে লোকের সামনে সতর খোলা।
৯৫) মেহমানের খাতির ও আদর যত্ন না করা।
৯৬) হাসি-ঠাট্টা করে কাউকে অপমানিত করা।
৯৭) স্বজন প্রীতি করা।
৯৮) অন্যায় বিচার করা।
৯৯) নিজে ইচ্ছা করে, দাবী করে পদপ্রার্থী হওয়া বা পদ গ্রহণ করা। তবে কোন ক্ষেত্রে যদি এমন হয় যে, তিনিই একমাত্র উক্ত পদের যোগ্য, তিনি উক্ত পদ গ্রহণ না করলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠির স্বার্থ নষ্ট হবে, তাহলে সে ক্ষেত্রে পদ চাওয়া হলোে তা ভিন্ন কথা।
১০০) ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদ্রোহিতা করা।
কবিরা গুনাহের তালিকা (১০০-১২০)
১০১) নামায পরিত্যাগ করা।
১০২) অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা।
১০৩) পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা।
১০৪) যাদু-টোনা করা।
১০৫) এতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা।
১০৬) জিহাদের ময়দান থেকে থেকে পলায়ন।
১০৭) সতী-সাধ্বী মু‘মিন নারীর প্রতি অপবাদ।
১০৮) রোযা না রাখা ও যাকাত আদায় না করা।
১০৯) ক্ষমতা থাকা সত্যেও হজ্জ আদায় না করা।
১১০) যাদুর বৈধতায় বিশ্বাস করা।
১১১) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া।
১১২) অহংকার করা।
১১৩) চুগলখোরি করা (ঝগড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে একজনের কথা আরেকজনের নিকট লাগোনো)।
১১৪) আত্মহত্যা করা।
১১৫) অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা।
১১৬) উপকার করে খোটা দান করা।
১১৭) মদ বা নেশা দ্রব্য গ্রহণ করা।
১১৮) মদ প্রস্তুত ও প্রচারে অংশ গ্রহণ করা।
১১৯) জুয়া খেলা।
১২০) তকদীর অস্বীকার করা।
কবিরা গুনাহের তালিকা (১২১-১৪০)
১২১) অদৃশ্যের খবর জানার দাবী করা।
১২২) গণকের কাছে ধর্না দেয়া বা গণকের কাছে অদৃশ্যের খবর জানতে চাওয়া।
১২৩) পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা।
১২৪) রাসূল (সা:)এর নামে মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করা।
১২৫) মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা।
১২৬) মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা।
১২৭) জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।
১২৮) সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।
১২৯) মিথ্যা কসম খাওয়া।
১৩০) মানুষের গোপন কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টা করা।
১৩১) হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে করা।
১৩২) মানুষের বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা।
১৩৩) মৃতের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করা।
১৩৪) মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা।
১৩৫) মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার সাথে লড়ায়ে লিপ্ত হওয়া।
১৩৬) খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপ যোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্য বস্তু বানানো।
১৩৭) কোন অপরাধীকে আশ্রয় দান করা।
১৩৮) আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবেহ করা।
১৩৯) ওজনে কম দেয়া।
১৪০) ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা।
কবিরা গুনাহের তালিকা (১৪১-১৬০)
১৪১) ইসলামী আইনানুসারে বিচার বা শাসনকার্য পরিচালনা না করা।
১৪২) জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা বা পরের জমি জবর দখল করা।
১৪৩) গীবত তথা অসাক্ষাতে কারো দোষ চর্চা করা।
১৪৪) দাঁত চিকন করা।
১৪৫) সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে মুখ মণ্ডলের চুল তুলে ফেলা বা চুল উঠিয়ে ভ্রু চিকন করা।
১৪৬) অতিরিক্ত চুল সংযোগ করা।
১৪৭) পুরুষের নারী বেশ ধারণ করা।
১৪৮) নারীর পুরুষ বেশ ধারণ করা।
১৪৯) বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকানো।
১৫০) কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা।
১৫১) পথিককে নিজের কাছে অতিরিক্ত পানি থাকার পরেও না দেয়া।
১৫২) পুরুষের টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করা।
১৫৩) মুসলিম শাসকের সাথে কৃত বাইআত বা আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা।
১৫৪) ডাকাতি করা।
১৫৫) গনিমত তথা জিহাদের মাধ্যমে কাফেরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বণ্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করা।
১৫৬) স্ত্রীর পায়ু পথে যৌন ক্রিয়া করা।
১৫৭) জুলুম-অত্যাচার করা।
১৫৮) অস্ত্র দ্বারা ভয় দেখানো বা তা দ্বারা কাউকে ইঙ্গিত করা।
১৫৯) প্রতারণা বা ঠগ বাজী করা।
১৬০) রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ আমল করা।
কবিরা গুনাহের তালিকা (১৬১-১৮০)
১৬১) স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি পাত্র ব্যবহার করা।
১৬২) পুরুষের রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য পরিধান করা।
১৬৩) সাহাবীদের গালি দেয়া।
১৬৪) নামাযরত অবস্থায় মুসল্লির সামনে দিয়ে গমন করা।
১৬৫) মনিবের নিকট থেকে কৃতদাসের পলায়ন।
১৬৬) ভ্রান্ত মতবাদ জাহেলী রীতিনীতি অথবা বিদআতের প্রতি আহবান করা।
১৬৭) পবিত্র মক্কা ও মদীনায় কোন অপকর্ম বা দুষ্কৃতি করা।
১৬৮) কোন দুষ্কৃতিকারীকে প্রশ্রয় দেয়া।
১৬৯) আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা।
১৭০) বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া।
১৭১) যে নারীর প্রতি তার স্বামী অসন্তুষ্ট।
১৭২) স্বামীর অবাধ্য হওয়া।
১৭৩) স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অবদান অস্বীকার করা।
১৭৪) স্বামী-স্ত্রীর মিলনের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
১৭৫) স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করা।
১৭৬) বেশী বেশী অভিশাপ দেয়া।
১৭৭) বিশ্বাস ঘাতকতা করা।
১৭৮) অঙ্গীকার পূরণ না করা।
১৭৯) আমানতের খিয়ানত করা।
১৮০) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া।
কবিরা গুনাহের তালিকা (১৮১-২০০)
১৮১) ঋণ পরিশোধ না করা।
১৮২) বদ মেজাজি ও এমন অহংকারী যে উপদেশ গ্রহণ করে না।
১৮৩) তাবিজ-কবজ, রিং, সুতা ইত্যাদি ঝুলানো।
১৮৪) পরীক্ষায় নকল করা।
১৮৫) ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা।
১৮৬) ইচ্ছাকৃত ভাবে জেনে শুনে অন্যায় বিচার করা।
১৮৭) আল্লাহ বিধান ব্যতিরেকে বিচার- ফয়সালা করা।
১৮৮) দুনিয়া কামানোর উদ্দেশ্যে দীনী ইলম অর্জন করা।
১৮৯) কোন ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলোে জানা সত্যেও তা গোপন করা।
১৯০) নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা।
১৯১) আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয়া।
১৯২) নিজের বিবি-বাচ্চার খবর-বার্তা না নিয়ে তাদেরকে নষ্ট হয়ে যেতে দেয়া।
১৯৩) খতনা না করা মহাপাপ। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন নং পৃষ্ঠা)।
১৯৪) অসৎ ও অন্যায় কাজ দেখে পারতপক্ষে তাতে বাধা না দেয়া।
১৯৫) জালেমের প্রশংসা বা তোষামোদ করা।
১৯৬) অন্যায়ের সমর্থন করা।
১৯৭) আত্মহত্যা করা।
১৯৮) স্বেচ্ছায় নিজের কোন অঙ্গ নষ্ট করা।
১৯৯) স্ত্রী সহবাস করে গোসল না করা।
২০০) প্রিয়জন বিয়োগে সিনা পিটিয়ে বা চিৎকার করে কাঁদা।
কবিরা গুনাহের তালিকা (২০১-২২০)
২০১) স্ত্রী পুরুষের নাভীর নীচের পশম, বগলের পশম বর্ধিত করে রাখা।
২০২) উস্তাদ ও পীরের সঙ্গে বেয়াদবী করা, হাফেজ ও আলেমের অমর্যাদা করা, তাদের সাথে বেয়াদবী করা।
২০৩) প্রাণীর ছবি তৈরি করা বা ব্যবহার করা।
২০৪), শুকরের গোস্ত খাওয়া।
২০৫) কোন হারাম দ্রব্য ভক্ষণ করা।
২০৬) ষাঢ়, কবুতর বা মোরগ ইত্যাদির লড়াই দেয়া।
২০৭) কুরআন শরীফ পড়ে ভুলে যাওয়া। (কোন রোগের কারণে হলোে তা ভিন্ন কথা) কেউ কেউ বলেছেন ভুলে যাওয়ার অর্থ এমন হয়ে যাওয়া যে, দেখেও আর পড়তে পারে না।
২০৮) কোন জীবকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে হত্যা করা কবীরা গোনাহ। তবে সাপ, বিচ্ছু, ভীমরুল ইত্যাদি কষ্টদায়ক জীব থেকে বাঁচার আর কোন উপায় না থাকলে ভিন্ন কথা।
২০৯) আল্লাহর রত থেকে নিরাশ হওয়া।
২১০) আল্লাহর আযাব থেকে নির্ভীক হওয়া।
২১১) মৃত প্রাণী খাওয়া।
২১২) হালাল জীবকে আল্লাহর নামে জবাই না করে অন্য কারও নামে জবাই
২১৩) করে বা অন্য কোন উপায়ে মেরে খাওয়া।
২১৪) অপব্যয় করা।
২১৫) বখীলী বা কৃপণতা করা।
২১৬) রাজকীয় ক্ষমতা হাতে থাকা সত্ত্বেও ইসলামী আইন সমর্থন না করে অনৈসলানির ‘গাইন সমর্থন করা।
২১৭) ইসলামী আইন হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী আইন অমান্য করা বা রাষ্ট্রদ্রোহীতা করা।
২১৮) .ছোট জাত, ছোট পেশাদার বলে বা জোলা, তেলি, কুমার, কামার, বান্দীর বাচ্চা ইত্যাদি নামে কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা খোঁটা দেয়া।
২১৯) বিনা অনুমতিতে বাড়ির ভেতরে বা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করা বা গোপেনে তাকানো।
২২০) লুকিয়ে কারও কথা শোনা।
কবিরা গুনাহের তালিকা (২২১-২৩০)
২২১) ছুরত শেকেলের কারণে বা গরীব হওয়ার কারণে কোন মুসলমানকে টিকারি বা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা।
২২২) কোন মুসলমানকে কাফের বলা।
২২৩) কোন মুসলমানের সাথে উপহাস করা।
২২৪) একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে সমতা রক্ষা না করা।
২২৫) কোন খাদ্যকে মন্দ বলা। (তবে রান্নার ত্রুটি বর্ণনা করা হলোে তা খাদ্যকে মন্দ বলার অন্তর্ভুক্ত নয়।)
২২৬) দুনিয়ার মহব্বত। অর্থাৎ, দ্বীনের মোকাবেলায় দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয়া।
২২৭) দাড়ি বিহীন বালকের প্রতি খাহেশাতের নজরে তাকানো।
২২৮) গায়রে মাহরাম স্ত্রী লোকের নিকট একা একা বসা।
২২৯) কাফেরদের রীতিনীতি পছন্দ করা।
২৩০) কোনো ছোট পাপকে হালকা মনে করাও একটি কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ।
[তথ্যসূত্র: আহকামে যিন্দেগী by মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন]


