১০০টি BRTA পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য লিখিত পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পরীক্ষায় ট্রাফিক আইন, রাস্তার নিরাপত্তা, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের দায়িত্ব সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন থাকে। এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিআরটিএ লিখিত পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য ১০০টি প্রশ্ন ও তাদের সঠিক উত্তর নিয়ে আলোচনা করব, যা আপনাকে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে। এই BRTA পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বিভিন্ন ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বিআরটিএ সূত্র থেকে সংগৃহীত, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ গাইড হিসেবে কাজ করবে।
সম্ভাব্য ১০০টি BRTA পরীক্ষার প্রশ্নসমূহঃ
১. সুপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় যানবাহন পরিচালনার দায়িত্ব কোন কোন সংস্থার উপর ন্যস্ত?
উত্তর:
- যোগাযোগ মন্ত্রণালয়
- সড়ক ও জনপথ বিভাগ
- ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ
- সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)
- ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
২. রাস্তায় চলমান গাড়ির কাগজপত্র পরিদর্শন করার ক্ষমতা কারা রাখেন?
উত্তর:
- পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তা
- বিআরটিএ-এর কর্মকর্তা
- মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট
- শুধুমাত্র উল্লেখিত প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি
৩. দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তা ব্যবহারকারীকে কী করতে হবে?
উত্তর:
- ট্রাফিক আইন জানতে হবে
- ট্রাফিক আইন কার্যকর করতে হবে
- ট্রাফিক আইন পালনের সদিচ্ছা থাকতে হবে
৪. নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ইঞ্জিন স্টার্ট করে ৫-১০ গজের মধ্যে কী চেক করতে হয়?
উত্তর:
ব্রেক প্যাডেলে চাপ প্রয়োগ করে ব্রেকের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করতে হয়।
৫. নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার সাধারণ নিয়ম কী কী?
উত্তর:
- গতি যত মাইল, তত গজ দূরত্ব বজায় রাখা
- গতি যত কিলোমিটার, তত মিটারের অর্ধেক বা দুই সেকেন্ড সময়ের দূরত্ব বজায় রাখা
৬. গতি কিসের উপর নির্ভর করে?
উত্তর:
- দৃষ্টিগোচরতা
- আবহাওয়ার পরিস্থিতি
- যানবাহনের অবস্থা
- রাস্তার অবস্থা
- চালকের দক্ষতা
৭. গাড়ি দাঁড় করাতে চালক কীভাবে হাতের সংকেত দেবে?
উত্তর:
হাত বের করে এলবো জয়েন্ট থেকে ৯০ ডিগ্রি কোণে উপরের দিকে উঠাবে।
৮. ডান দিকের লেন সব সময় কারা ব্যবহার করবেন?
উত্তর:
ওভারটেক করা গাড়ি।
৯. রাস্তার মাঝখানে অখণ্ডিত ডাবল হলুদ লাইনের অর্থ কী?
উত্তর:
আইল্যান্ড (ট্রাফিক বিভাজক)।
১০. মাঝখানে অখণ্ডিত সাদা লাইনের অর্থ কী?
উত্তর:
ওভারটেক করা যাবে না।
১১. ছোট ছোট বিভক্ত সাদা লাইনের অর্থ কী?
উত্তর:
ওভারটেক করা যাবে।
১২. কোন কোন গাড়ি ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করতে পারে?
উত্তর:
জরুরি কাজে নিয়োজিত গাড়ি যেমন ভিআইপি গাড়ি, অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, এম্বুলেন্স।
১৩. জরুরি গাড়ি কী ধরনের সিগন্যাল ব্যবহার করে?
উত্তর:
- ভিআইপি গাড়ি: লাল বাতি ও সতর্ক সংকেত
- অগ্নিনির্বাপক গাড়ি: লাল-নীল বাতি ও বেল
- এম্বুলেন্স: লাল-নীল বাতি ও সাইরেন
১৪. জরুরি গাড়িকে অন্যান্য যানবাহন কীভাবে সুযোগ দেবে?
উত্তর:
রাস্তার বাম পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
১৫. ইন্টারসেকশন কাকে বলে?
উত্তর:
একাধিক রষ্টার মিলিত স্থান।
১৬. ইন্টারসেকশনে ঢোকার আগে চালকের করণীয় কী?
উত্তর:
- গতি কমানো
- নিম্ন গিয়ার ব্যবহার
- নিজের রাস্তায় থাকা
- প্রয়োজনে থামা এবং সতর্কতার সাথে অগ্রসর হওয়া
১৭. ইন্টারসেকশনে ঢোকার পরে করণীয় কী?
উত্তর:
সতর্কতার সাথে থামার জন্য প্রস্তুত থেকে অগ্রসর হওয়া।
১৮. ডান দিকে মোড় নিতে গেলে লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি কোন পাশে দাঁড় করাবেন?
উত্তর:
রাস্তার ডান পাশে।
১৯. লাল বাতি শেষে সবুজ বাতি জ্বলে গেলে কোন পথের গাড়ি আগে সুযোগ পাবে?
উত্তর:
সোজা যাওয়ার গাড়ি।
২০. অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং সাধারণত কোথায় থাকে?
উত্তর:
গ্রামাঞ্চলে, যেখানে দিনে ২-৩টি ট্রেন চলাচল করে।
২১. কোন কোন স্থানে হর্ন বাজানো নিষেধ?
উত্তর:
- হর্ন বাজানো নিষেধ বোর্ড থাকা স্থান
- হাসপাতাল এলাকা
- আবাসিক এলাকা
- আদালত/কোর্ট ভবন
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- উপাসনালয়
২২. ওভারটেকিংয়ের সময় দুর্ঘটনা এড়ানোর উপায় কী?
উত্তর:
দর্শন আয়নার সাহায্যে পিছনের গাড়ির গতিবিধি লক্ষ্য করা।
২৩. ওভারটেক করার পূর্বে চালকের কর্তব্য কী?
উত্তর:
- দর্শন আয়নায় ডান দিকের রাস্তা নিরাপদ কিনা দেখা
- সম্মুখ থেকে গাড়ি আসছে কিনা পরীক্ষা করা
- নিরাপদ মনে হলে ইন্ডিকেটর দিয়ে ওভারটেক করা
২৪. গাড়ির স্কিডিং সাধারণত কোথায় হয়?
উত্তর:
- ভিজা রাস্তায় অতি দ্রুত চালালে
- ব্রেক সিলিন্ডার সমানভাবে কাজ না করলে
- রাস্তা পিচ্ছিল বা কর্দমাক্ত হলে
- রাস্তায় বরফ বা ঘাস থাকলে
২৫. গাড়ি স্কিডিং করলে চালকের করণীয় কী?
উত্তর:
- এক্সিলারেটর থেকে পা সরিয়ে গতি কমানো
- যে দিকে স্কিড হচ্ছে, সে দিকে আস্তে স্টিয়ারিং ঘোরানো
- গাড়ির গতি সর্বনিম্ন হলে ব্রেক প্রয়োগ করে থামানো
২৬. একজন যাত্রীর শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হলে চালক/কন্ডাক্টরের দায়িত্ব কী?
উত্তর:
- মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দেওয়া
- বুকে মৃদু চাপ প্রয়োগ করা
- নিকটতম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া
২৭. ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখে কীভাবে?
উত্তর:
বাতাস বা পানির সাহায্যে।
২৮. গরম রেডিয়েটরে ঠান্ডা পানি ঢাললে ইঞ্জিনের কী ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর:
ইঞ্জিন ব্লক ক্র্যাক হওয়ার সম্ভাবনা।
২৯. রেডিয়েটরের সাথে কয়টি হোজ পাইপ সংযুক্ত থাকে?
উত্তর:
দুটি।
৩০. কী কী কারণে ইঞ্জিন বন্ধ হয় বা স্টার্ট হয় না?
উত্তর:
- ট্যাংকে জ্বালানি না থাকলে
- ডিজেল পাইপে বাতাস ঢুকলে
- পেট্রোল ইঞ্জিনের এইচটি/এলটি তার লুজ বা ছিঁড়ে গেলে
- ব্যাটারি চার্জ দুর্বল হলে
৩১. স্কিডিং সাধারণত কত প্রকার?
উত্তর:
তিন প্রকার:
- সামনের দুই চাকার স্কিডিং
- পিছনের দুই চাকার স্কিডিং
- চার চাকার স্কিডিং
৩২. রাস্তায় গাড়ি চলতে চলতে হঠাৎ বন্ধ হওয়ার কারণ কী?
উত্তর:
- জ্বালানি না থাকা
- স্পার্ক প্লাগ খারাপ হওয়া
৩৩. শক অ্যাবজর্বারের কাজ কী?
উত্তর:
গাড়ির ঝাঁকুনি কমানো।
৩৪. রাস্তায় গাড়ি বের করার পূর্বে কোন কোন অংশ পরিদর্শন করতে হয়?
উত্তর:
- জ্বালানি (পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন)
- লুব অয়েল
- রেডিয়েটরের পানি
- ব্রেক মাস্টার সিলিন্ডারের ব্রেক ফ্লুইড
- চাকার হাওয়া
- চাকার নাট-বোল্ট
- ব্রেকের কার্যকারিতা
৩৫. পেট্রোল ইঞ্জিনে ভেপার লক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:
ফুয়েল লাইনে অত্যধিক তাপের কারণে বাষ্প সৃষ্টি হয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়া।
৩৬. ডিজেল ইঞ্জিনে এয়ার লক কীভাবে হয়?
উত্তর:
জ্বালানি সরবরাহ লাইনে বাতাস প্রবেশ করলে। এয়ার লক দূর করতে পাম্পের সাহায্যে বাতাস বের করা যায়।
৩৭. কী কী লক্ষণ দেখা দিলে ইঞ্জিন ওভারহলিং প্রয়োজন?
উত্তর:
- জ্বালানি ও লুব অয়েল বেশি খরচ হলে
- অত্যধিক কালো ধোঁয়া নির্গত হলে
- বোঝা বহন ক্ষমতা কমে গেলে
- ইঞ্জিনের কম্প্রেশন দুর্বল হলে
৩৮. ডিজেল ইঞ্জিন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ কী?
উত্তর:
- ট্যাংকে জ্বালানি না থাকা
- ফুয়েল পাম্প অকেজো
- ইনটেক/এক্সজস্ট ভালভ কাজ না করা
- গভর্নর অকেজো
- পিস্টন ও বিয়ারিং জ্যাম
৩৯. মোটরযান কাকে বলে?
উত্তর:
যন্ত্রচালিত যান, যার চালিকাশক্তি বাইরের বা ভিতরের উৎস থেকে সরবরাহ হয়।
৪০. গাড়ি চালানোর আগে করণীয় কাজ কী কী?
উত্তর:
- বৈধ কাগজপত্র (রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইন্সুরেন্স, রুট পারমিট) রাখা
- জ্বালানি পরীক্ষা
- রেডিয়েটর ও ব্যাটারির পানি পরীক্ষা
- ব্যাটারি কানেকশন পরীক্ষা
- লুব অয়েলের লেভেল ও ঘনত্ব পরীক্ষা
- ব্রেক ফ্লুইড পরীক্ষা
- ইঞ্জিন, লাইট, স্টিয়ারিং, নাট-বোল্ট, টায়ার পরীক্ষা
- অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও ফাস্ট এইড বক্স রাখা
৪১. মোটরযানের মেইনটেনেন্স বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:
ত্রুটিমুক্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন সার্ভিস পাওয়ার জন্য গাড়ির নিয়মিত মেরামত ও পরিচর্যা।
৪২. প্রতিদিন কী কী মেইনটেনেন্স করতে হয়?
উত্তর:
৩৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর অনুযায়ী জ্বালানি, লুব অয়েল, রেডিয়েটর, ব্রেক ফ্লুইড, টায়ার, নাট-বোল্ট ও ব্রেক পরীক্ষা।
৪৩. সার্ভিসিং বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:
ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর করা কাজ।
৪৪. গাড়ি সার্ভিসিংয়ে কী কী কাজ করা হয়?
উত্তর:
- পুরাতন লুব অয়েল ফেলে নতুন দেওয়া
- রেডিয়েটর পরিষ্কার করে পানি ভর্তি করা
- গ্রিজিং পয়েন্টে গ্রিজ দেওয়া
- চাকায় হাওয়া দেওয়া
- ফিল্টার (লুব অয়েল, ফুয়েল, এয়ার ক্লিনার) পরিবর্তন
৪৫. গাড়ি চালনাকালে কী কী কাগজপত্র রাখতে হয়?
উত্তর:
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
- রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট
- ট্যাক্স টোকেন
- ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেট
- ফিটনেস সার্টিফিকেট (মোটরসাইকেল ব্যতীত)
- রুট পারমিট (ব্যক্তিগত ৭ আসনের গাড়ি ও মোটরসাইকেল ব্যতীত)
৪৬. রাস্তায় কাগজপত্র কারা চেক করতে পারে?
উত্তর:
- সার্জেন্ট বা সাব-ইন্সপেক্টরের নিচে নয় এমন পুলিশ কর্মকর্তা
- বিআরটিএ-এর মোটরযান পরিদর্শক ও কর্মকর্তা
- মোবাইল কোর্টের কর্মকর্তা
৪৭. মোটরসাইকেলে হেলমেট ও আরোহী সম্পর্কে আইন কী?
উত্তর:
চালকসহ একজন আরোহী বহন করা যাবে এবং উভয়কেই হেলমেট পরতে হবে (মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩, ধারা-১০০)।
৪৮. সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ কী?
উত্তর:
- অত্যধিক আত্মবিশ্বাস
- মাত্রাতিরিক্ত গতি
- অননুমোদিত ওভারটেকিং
- অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন
৪৯. দুর্ঘটনায় পতিত হলে চালকের করণীয় কী?
উত্তর:
- আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিশ্চিত করা
- প্রয়োজনে হাসপাতালে স্থানান্তর
- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে থানায় রিপোর্ট করা
৫০. আইন অনুযায়ী গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা কত?
উত্তর:
- হালকা মোটরযান ও মোটরসাইকেল: ৭০ মাইল/ঘণ্টা
- মাঝারি/ভারী যাত্রীবাহী: ৩৫ মাইল/ঘণ্টা
- মাঝারি/ভারী মালবাহী: ৩০ মাইল/ঘণ্টা
৫১. মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স কী?
উত্তর:
লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ দলিল, যা সর্বসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে মোটরযান চালানোর অনুমতি দেয়।
৫২. অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স কাকে বলে?
উত্তর:
যে লাইসেন্স দিয়ে কেউ বেতনভোগী কর্মচারী না হয়ে মোটরসাইকেল, হালকা মোটরযান বা পরিবহনযান ব্যতীত অন্যান্য যান চালাতে পারে।
৫৩. ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার সর্বনিম্ন বয়স কত?
উত্তর:
- পেশাদার চালক: ২০ বছর
- অপেশাদার চালক: ১৮ বছর
৫৪. কোন ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য?
উত্তর:
- মৃগীরোগী
- উন্মাদ বা পাগল
- রাতকানা রোগী
- কুষ্ঠরোগী
- হৃদরোগী
- অতিরিক্ত মদ্যপ
- বধির ব্যক্তি
- বাহু বা পা চলাচলে অসুবিধা আছে এমন ব্যক্তি
৫৫. হালকা মোটরযান কাকে বলে?
উত্তর:
যে মোটরযানের ওজন ৬,০০০ পাউন্ড বা ২,৭২৭ কেজির বেশি নয়।
৫৬. মাঝারি মোটরযান কাকে বলে?
উত্তর:
যে মোটরযানের ওজন ৬,০০০ পাউন্ডের বেশি কিন্তু ১৪,৫০০ পাউন্ডের বেশি নয়।
৫৭. ভারী মোটরযান কাকে বলে?
উত্তর:
যে মোটরযানের ওজন ১৪,৫০০ পাউন্ডের বেশি।
৫৮. প্রাইভেট সার্ভিস মোটরযান কাকে বলে?
উত্তর:
যে মোটরযান মালিকের ব্যবসায়িক কাজে বিনা ভাড়ায় ৮ জনের বেশি যাত্রী বহনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
৫৯. ট্রাফিক সাইন প্রধানত কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর:
তিন প্রকার:
- বাধ্যতামূলক (বৃত্তাকৃতি)
- সতর্কতামূলক (ত্রিভুজাকৃতি)
- তথ্যমূলক (আয়তক্ষেত্রাকার)
৬০. লাল বৃত্তাকার সাইন কী নির্দেশ করে?
উত্তর:
নিষেধ বা বর্জনীয় নির্দেশনা।
৬১. নীল বৃত্তাকার সাইন কী নির্দেশ করে?
উত্তর:
অবশ্য পালনীয় নির্দেশনা।
৬২. লাল ত্রিভুজাকৃতি সাইন কী নির্দেশ করে?
উত্তর:
সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা।
৬৩. নীল আয়তক্ষেত্র কোন ধরনের সাইন?
উত্তর:
সাধারণ তথ্যমূলক সাইন।
৬৪. সবুজ আয়তক্ষেত্র কোন ধরনের সাইন?
উত্তর:
পথনির্দেশক তথ্যমূলক সাইন (জাতীয় মহাসড়কে ব্যবহৃত)।
৬৫. কালো বর্ডারের সাদা আয়তক্ষেত্র কোন ধরনের সাইন?
উত্তর:
পথনির্দেশক তথ্যমূলক সাইন (মহাসড়ক ব্যতীত অন্যান্য সড়কে ব্যবহৃত)।
৬৬. ট্রাফিক সিগন্যাল কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর:
তিন প্রকার:
- বাহুর সংকেত
- আলোর সংকেত
- শব্দ সংকেত
৬৭. ট্রাফিক লাইট সিগন্যালের চক্র কী কী?
উত্তর:
লাল-সবুজ-হলুদ-পুনরায় লাল।
৬৮. লাল, সবুজ ও হলুদ বাতি কী নির্দেশ করে?
উত্তর:
- লাল: থামুন লাইনে থামা
- সবুজ: অগ্রসর হওয়া
- হলুদ: থামার প্রস্তুতি নেওয়া
৬৯. নিরাপদ দূরত্ব বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:
সামনের গাড়ির সাথে সংঘর্ষ এড়াতে পেছনের গাড়ি নিরাপদে থামানোর জন্য প্রয়োজনীয় দূরত্ব।
৭০. পাহাড়ি ও ঢালু রাস্তায় গাড়ি কোন গিয়ারে চালাতে হয়?
উত্তর:
ফার্স্ট গিয়ারে।
৭১. পাকা রাস্তায় ৫০ মাইল গতিতে নিরাপদ দূরত্ব কত?
উত্তর:
৫০ গজ বা ১৫০ ফুট।
৭২. লাল বৃত্তে ৫০ কি.মি. লেখা থাকলে কী বোঝায়?
উত্তর:
সর্বোচ্চ গতিসীমা ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।
৭৩. নীল বৃত্তে ৫০ কি.মি. লেখা থাকলে কী বোঝায়?
উত্তর:
সর্বনিম্ন গতিসীমা ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।
৭৪. লাল বৃত্তে হর্ন আঁকা থাকলে কী বোঝায়?
উত্তর:
হর্ন বাজানো নিষেধ।
৭৫. লাল বৃত্তে বড় বাসের ছবি থাকলে কী বোঝায়?
উত্তর:
বড় বাস প্রবেশ নিষেধ।
৭৬. লাল বৃত্তে চলমান মানুষের ছবি থাকলে কী বোঝায়?
উত্তর:
পথচারী পারাপার নিষেধ।
৭৭. লাল ত্রিভুজে চলমান মানুষের ছবি থাকলে কী বোঝায়?
উত্তর:
সামনে পথচারী পারাপার, সতর্ক হতে হবে।
৭৮. লাল বৃত্তে একটি লাল ও একটি কালো গাড়ির ছবি থাকলে কী বোঝায়?
উত্তর:
ওভারটেকিং নিষেধ।
৭৯. আয়তক্ষেত্রে ‘P’ লেখা থাকলে কী বোঝায়?
উত্তর:
পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান।
৮০. কোন কোন স্থানে হর্ন বাজানো নিষেধ?
উত্তর:
নীরব এলাকায় (হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, উপাসনালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যে)।
৮১. কোন কোন স্থানে ওভারটেক করা নিষেধ?
উত্তর:
- ওভারটেকিং নিষেধ সাইন থাকা স্থান
- জাংশন
- ব্রিজ/কালভার্ট ও তার আশেপাশে
- সরু রাস্তা
- হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকা
৮২. কোন কোন স্থানে গাড়ি পার্ক করা নিষেধ?
উত্তর:
- পার্কিং নিষেধ বোর্ড থাকা স্থান
- জাংশন
- ব্রিজ/কালভার্ট
- সরু রাস্তা
- হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকা
- পাহাড়ের ঢাল
- ফুটপাত, পথচারী পারাপার, বাস স্টপেজ, রেলক্রসিং এলাকা
৮৩. গাড়ি রাস্তার কোন পাশ দিয়ে চলাচল করবে?
উত্তর:
বাম পাশ দিয়ে। ধীরগতির গাড়ি বাম লেনে, দ্রুতগতির গাড়ি ডান লেনে।
৮৪. কখন বাম দিক দিয়ে ওভারটেক করা যায়?
উত্তর:
সামনের গাড়ি ডানদিকে মোড় নেওয়ার সংকেত দিয়ে মাঝখানে গেলে।
৮৫. সামনের গাড়ি অনুসরণের সময় কী কী লক্ষ্য রাখতে হবে?
উত্তর:
- গতি ও গতিবিধি
- থামার সংকেত
- ডান/বামে ঘুরার সংকেত
- নিরাপদ দূরত্ব
৮৬. ‘স্কুল/শিশু’ সাইন থাকলে চালকের করণীয় কী?
উত্তর:
- গতি কমিয়ে সতর্কতার সাথে অগ্রসর হওয়া
- পথচারী শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া
৮৭. গাড়ির গতি কমানোর জন্য হাতের সংকেত কীভাবে দেবে?
উত্তর:
ডান হাত জানালা দিয়ে বের করে ধীরে ধীরে উপর-নিচে নাড়ানো।
৮৮. লেভেল ক্রসিং কত প্রকার?
উত্তর:
দুই প্রকার:
- রক্ষিত (পাহারাদার নিয়ন্ত্রিত)
- অরক্ষিত (পাহারাদারবিহীন)
৮৯. রক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে চালকের কর্তব্য কী?
উত্তর:
- গতি কমিয়ে সতর্কতার সাথে অগ্রসর হওয়া
- রাস্তা বন্ধ থাকলে থামা
- খোলা থাকলে ডান-বাম দেখে অতিক্রম করা
৯০. অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে চালকের কর্তব্য কী?
উত্তর:
- গতি কমিয়ে প্রয়োজনে থামা
- ডান-বাম দেখে নিরাপদ মনে হলে অতিক্রম করা
৯১. বিমানবন্দরের কাছে চালককে সতর্ক থাকতে হবে কেন?
উত্তর:
- বিমানের শব্দে বিচলিত হওয়ার সম্ভাবনা
- শ্রবণ ক্ষমতার ব্যাঘাত
- ভিআইপি গাড়ির চলাচল
৯২. মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহার কেন প্রয়োজন?
উত্তর:
মাথা স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, দুর্ঘটনায় রক্ষার জন্য হেলমেট প্রয়োজন।
৯৩. পেছনের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য লুকিং গ্লাস কতক্ষণ পর পর দেখতে হবে?
উত্তর:
প্রতি মিনিটে ৬-৮ বার।
৯৪. পাহাড়ি রাস্তায় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়?
উত্তর:
- নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ফার্স্ট গিয়ারে ধীরে চালানো
- চূড়ায় দৃষ্টিসীমা সীমিত হওয়ায় আরও ধীরে চালানো
- ওভারটেকিং নিষেধ
৯৫. বৃষ্টিতে গাড়ি চালানোর সতর্কতা কী?
উত্তর:
- ধীর গতিতে (সাধারণ গতির অর্ধেক) চালানো
- ব্রেক সহজে কাজ করার জন্য সতর্ক থাকা
৯৬. ব্রিজে ওঠার পূর্বে চালকের করণীয় কী?
উত্তর:
- গতি কমিয়ে সতর্কতার সাথে ওঠা
- ওভারটেকিং নিষেধ
৯৭. পার্শ্বরাস্তা থেকে প্রধান রাস্তায় প্রবেশের সতর্কতা কী?
উত্তর:
- গতি কমিয়ে প্রয়োজনে থামা
- প্রধান রাস্তার গাড়িকে অগ্রাধিকার দেওয়া
- সতর্কতার সাথে প্রবেশ
৯৮. রাস্তায় কী কী রোডমার্কিং থাকে?
উত্তর:
- ভাঙা লাইন: অতিক্রম করা যায়
- একক অখণ্ড লাইন: অতিক্রম নিষেধ, প্রয়োজনে করা যায়
- দ্বৈত অখণ্ড লাইন: অতিক্রম নিষেধ, আইনত দণ্ডনীয়
৯৯. জেব্রা ক্রসিংয়ে চালকের কর্তব্য কী?
উত্তর:
- পথচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া
- জেব্রা ক্রসিংয়ে গাড়ি থামানো বা রাখা নিষেধ
১০০. কোন গাড়িকে ওভারটেক করার সুযোগ দিতে হবে?
উত্তর:
- দ্রুতগতির গাড়ি
- এম্বুলেন্স
- ফায়ার সার্ভিস
- ভিআইপি গাড়ি
১০১. হেড লাইট ফ্ল্যাশিং বা আপার ডিপার ব্যবহারের নিয়ম কী?
উত্তর:
শহরে সাধারণত লো-বিম বা ডিপার ব্যবহার করা হয়।
BRTA লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির কিছু টিপসঃ
- ট্রাফিক সাইন মুখস্থ করুন: লাল, নীল, ত্রিভুজাকৃতি, আয়তক্ষেত্রাকার সাইনগুলোর অর্থ ও ব্যবহার ভালোভাবে বুঝে নিন।
- গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ: ইঞ্জিন, ব্রেক, টায়ার, ফুয়েল সিস্টেম সম্পর্কিত প্রশ্নের জন্য গাড়ির মৌলিক যান্ত্রিক বিষয় জানুন।
- নিরাপদ দূরত্ব ও গতি: গতিসীমা, নিরাপদ দূরত্ব এবং ওভারটেকিং নিয়ম ভালোভাবে মনে রাখুন।
- আইনি জ্ঞান: মোটরযান অধ্যাদেশ এবং বিআরটিএ নিয়মাবলী সম্পর্কে ধারণা রাখুন।
- প্র্যাকটিস: বিগত বছরের প্রশ্নপত্র এবং মক টেস্টে অংশ নিয়ে প্রস্তুতি নিন।
বিআরটিএ লিখিত পরীক্ষায় সফলতার জন্য ট্রাফিক আইন, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। উপরে উল্লিখিত ১৩১টি প্রশ্ন ও উত্তর আপনাকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে। নিয়মিত অধ্যয়ন, প্র্যাকটিস এবং সতর্কতার সাথে এই প্রশ্নগুলো আয়ত্ত করুন। আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জনের পথে শুভকামনা!
এই প্রশ্নগুলো বিভিন্ন ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বিআরটিএ সূত্র থেকে সংগৃহীত। পরীক্ষার সময় সর্বশেষ নিয়মাবলী যাচাই করে নিন।
এই পোস্টটি কি আপনার প্রস্তুতিতে সহায়ক হলো? মন্তব্যে জানান এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন!

Helpfull