এই ৫টি বিষয় যখন একসাথে মিলে যাবে, কেবল তখনই আপনি বিদেশ যেতে পারবেন

নিচের ৫টি বিষয়ের যেকোন একটিতেও যদি সমস্যা হয় আপনি ওয়ার্ক পারিমিট ভিসা সফলভাবে বিদেশে ফ্লাই করতে পারবেন না!
বিদেশে সফলভাবে পৌঁছাতে হলে আপনার ভাগ্য অনেক বড় ভূমিকা রাখে। যখন এই ৫টি বিষয় একসাথে মিলে যাবে, তখনই কেবল আপনি বিদেশ যেতে পারবেন-
১. সঠিক এজেন্ট
২. সৎ এজেন্সি
৩. দক্ষ ইমিগ্রেশন লয়ার
৪. সঠিক সময়
৫. এবং যে দেশে যাচ্ছেন সেই দেশের বর্তমান ভিসা রেশিও ও বর্তমান পরিস্থিতি
এর যেকোনো একটিতে সমস্যা হলে আপনার সময়, শ্রম এবং টাকা—সবই বিফলে যাবে। তাই বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খুব ভেবেচিন্তে পা বাড়ানো উচিত।
বিদেশ যাওয়ার লড়াই মানে স্বপ্ন যখন ভাগ্যের হাতে!

বাংলাদেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে বিদেশ যাওয়াটা এখন অনেকটা লটারির মতো হয়ে গেছে। প্রতি মাসেই হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর পেছনে যে কত মানুষের কান্না আর অনিশ্চয়তা লুকিয়ে আছে, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ জানে না।
১. এজেন্টের ধোঁকাবাজি ও সময়ের অপচয়: শুরুতেই আপনি হয়তো কারো মাধ্যমে পাসপোর্ট আর কিছু টাকা জমা দিলেন। এখন আপনার কপাল যদি খারাপ হয় আর ওই এজেন্ট যদি ধান্ধাবাজ হয়, তবে সে আপনার টাকা দিয়ে নিজের ব্যবসা করবে বা অন্য কোথাও খরচ করে ফেলবে। আপনাকে মাসের পর মাস ‘আজ হবে, কাল হবে’ বলে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘুরাবে। শেষমেশ যখন ধরা পড়বে যে কাজ হয়নি, তখন আপনার টাকা ফেরত দিতেও আরও কয়েক মাস সময় নষ্ট করবে। মাঝখান থেকে আপনার জীবনের মূল্যবান একটা বছর শেষ হয়ে যাবে। ৭-৮ মাস নষ্ট। কষ্ট করে টাকা উদ্ধার।
২. ভুয়া কাগজপত্র ও বিদেশি ল’য়ার এর প্রতারণার: অনেক সময় এজেন্ট সৎ হলেও সে যে বড় এজেন্সির কাছে ফাইল দেয়, তারও বড় এজন্সি তারও সৎ। হয়তো ৫-৬ মাস পর আপনার হাতে একটা ওয়ার্ক পারমিট এল, কিন্তু যাচাই করে দেখলেন সেটা জাল। তখন এজেন্সি দোষ চাপাবে বিদেশি লয়ারের ওপর। বলবে, ‘লয়ার আমাদের ঠকিয়েছে’। এই তদন্ত আর লয়ারের সাথে কথা বলার নামেই আরও কয়েক মাস পার করে দেবে। শেষে যখন টাকা ফেরত চাইবেন, তখন বলবে— ‘টাকা তো সব লয়ারকে দিয়ে দিয়েছি, এখন হাতে টাকা নেই। শুধু পাসপোর্ট নিয়ে যান, টাকা পরে দেব।’ এখানে একজন বিদেশি ল’য়ার এর প্রতারণার কারণে আপনার ও আপনারএজিন্স উভয়ের টাকা এবং সময় ধরা। অথবা এজেন্সি নিজেও কাজ করতে না পেরে আপনাকে ভুয়া কাগজ হাতে ধরিয়ে টাকা নিতে নিতে পারে। অনেক সময় বিদেশি এজন্ডে ভুয়া কাজ দেয় আবার অনেক সময় এজিন্সি নিজে থেকে ভুয়া কাজ তৈরি করে দেয়। দেখা গলে ২ বছরের টাকা উদ্ধার করা গেল না।
৩. ইন্টারভিউ আর ট্রেনিংয়ের নামে কালক্ষেপণ: সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও অনেক সময় নতুন নাটক শুরু হয়। কোম্পানি থেকে লোক এসে ডিমান্ড লেটার ও ভিজিট করে গেল বড় কোন এক লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সীতে, আপনি টাকা-পাসপোর্ট দিলেন। এরপর শুরু হলো ট্রেনিংয়ের নাম করে সময় নষ্ট। এক মাস ট্রেনিং করলেন, এরপর ইন্টারভিউয়ের ডেট আসে কিন্তু বারবার বাতিল হয়। কখনো বলে ভাষা শিখতে হবে, কখনো বলে নিয়োগকর্তা আসতে পারছে না। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে এক বছর পার হওয়ার পর আপনি বাধ্য হয়ে পাসপোর্ট আর টাকা ফেরত নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। দেখাগেল ট্রেনিং এর নামে এক-তৃতীয়াংশ টাকা কেটে নিয়ে রেখে বাকি টাকা ফেরত দিল, আর সময় তো এক বছর মাটি।
৪. কপাল খারাপ হলে ভিসা বন্ধ হয়তো কোনো একটা দেশে খুব ভালো ভিসা হচ্ছে দেখে আপনি ফাইল জমা দিলেন। কিন্তু আপনার ফাইল জমা দেওয়ার পরেই দেখা গেল ওই দেশের সরকার ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিল। আপনার এজেন্ট বলবে, ‘এটা সাময়িক সমস্যা, অল্পদিনেই ঠিক হয়ে যাবে’। এই আশায় বসে থাকতে থাকতে আরও কয়েকমাস শেষ। শেষে যখন পাসপোর্ট ফেরত চাবেন, তখন শুনবেন এজেন্সির মালিক অসুস্থ বা সে গ্রামে চলে গেছে। এভাবে টাকা আর পাসপোর্ট ফেরত পেতেই আপনার নাভিশ্বাস উঠে যাবে। ৬-৮ মাস নষ্ট আর এক বছরের টাকা উদ্ধার সম্ভব হলো না, টাকা উদ্ধারে মামলা করলের ন্তিু বাংলাদেশের মামলা নিষ্টত্তি হতে ২ বছর!
৫. ইউরোপের স্বপ্ন আর অন্তহীন অপেক্ষা ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে অনেকে লাখ লাখ টাকা আর পাসপোর্ট জমা দেন। ৬ মাসে ফ্লাইটের গ্যারান্টি থাকলেও দেখা যায় ৫ মাস শুধু কাগজপত্র গুছাতেই চলে গেছে। এরপর শীতের দোহাই দিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়। আপনি ফেসবুকে দেখছেন অন্য এজেন্সি ঠিকই লোক পাঠাচ্ছে, কিন্তু আপনার এজেন্সি কোনো না কোনো অজুহাতে আপনাকে আটকে রেখেছে। শেষে ধৈর্য হারিয়ে ফাইল ফেরত নিতেও আরও কয়েক মাস যুদ্ধ করতে হয়। শেষে অনুয়ন বিনয় টাকাটা কোন মত ২/৩ মাস ঘুরে ঘুরে টাকা উদ্ধার করতে পারেছন, কিন্তু সময় ৭-৮ মাস শেষ।
৬. ইন্ডিয়ান ভিসা ও এম্বাসি জটিলতা সব বাধা পার করে যখন আপনার কাজটা হওয়ার পথে, তখন শুরু হয় নতুন আপদ। অনেক দেশের ইন্টারভিউ দিতে ইন্ডিয়া বা নেপাল যেতে হয়। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অবস্থার কারণে বা অন্য কোনো কারণে ইন্ডিয়ান ভিসা বন্ধ থাকলে আপনি মহাবিপদে পড়বেন। অনেক বেশি টাকা দিয়ে ভিসা করিয়েও দেখা যায় আপনার এম্বাসির অ্যাপয়েন্টমেন্টের ডেট পার হয়ে গেছে। নতুন ডেট পেতে আবার ২-৩ মাসের অপেক্ষা! এদিকে দুই তিন কিস্তিতে প্রায় অর্ধেটা পেমেন্ট ক্লিয়ার ককরে দিয়েছেন সব দিক থেকে আপনি আটাকা।
এভাবেই বাংলাদেশের মানুষ ১/২/৩/৪/৫ বছর ধরে চেষ্টর পর ১/২/৩/৪/৫ লক্ষ টাকা প্রতারিত হবার পর দিন শেষে সফলতার মুখ দেখে। যার ভাগ্য ভালো অল্প সময়ে অল্প লসেই হয়, যার কমারেোড়া তার বেশি সময় আর অর্থ নষ্ট হয়।
কিনতু এ বিষয়ে সরকারের কোন নজর নেই তারা এসব ভোগান্তি সম্পর্কে কোন ধারণা রাখনে না। যা কিছু সাধারন যুবকদের সহ্য করেই প্রবাসে পাড়ি জমাতে হয়। শত বাঁধা ও অসুবিধার মাঝেও।
পৃথিবীর আর অন্য কোন দেশে এতটা জটিল আছে কিনা তা আমার জানা নেই। তাই কবির ভাষা বলি-
সকল দেশের রাণী সেজে আমার জন্মভূমি!
–মোঃ মুন্না হোসেন, বগুড়া, বাংলাদেশ










বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসায় বিদেশ যাওয়া মানেই এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ!