গাভী গরম না হওয়ার কারণ ১৬টিঃ বকনা গরু হিটে না আসার কারণ কি? গরু ডাকে না আসার কারন কি?

গাভী গরম না হওয়ার কারণকে Anestrum বলে। বকনা পশু বয়:প্রাপ্ত হওয়া সর্ত্বেও ও গাভী বাচ্চা দেওয়ার ৩ মাসের মধ্যে বকনা গরু হিটে না আসার কারণ এ্যানস্ট্রাম (Anestrum )বলা হয়।
বাংলাদেশের গরুর প্রায় ৮৬% গরু ডাকে না আসার কারন এ্যানস্ট্রাম (Anestrum) হওয়ার তথ্য আছে।
আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গরু হিটে না আসা এবং গর্ভধারণ না করার জন্য যতগুলো কারণ আছে এর মধ্যে ৮০%-ই পুষ্টি সংক্রান্ত।
গরু সাধারণত ১৭-২৪ মাস বয়সে প্রথম হিটে আসে। আর বাছুর প্রসবের ৪ সপ্তাহ পর থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যেই আবার হিটে আসার কথা। অবশ্য প্রথম বিয়ানের (বাছুর প্রসব) ক্ষেত্রে আরেকটু বেশি সময় নিতে পারে।
৬-৯ সপ্তাহের মধ্যে গরু গর্ভধারণ করাটা সবচেয়ে ভালো। সুস্বাস্থ্যে লক্ষণ এবং খামারির জন্যও আনন্দের বিষয়।
তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটু বিলম্ব হতে পারে। তাতে খুব চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ৯০-১০০ দিনের মধ্যেও যদি গাভী গরম না হওয়া বা হিটে আসার পর বীজ দিলেও গর্ভধারণ না করে তাহলে বুঝতে হবে গাভী গরম না হওয়ার কারণ আছে।
(১) বকনা গরু হিটে না আসার/গরু ডাকে না আসার কারন ১৬টি
গাভী হিটে না আসার কারণ অনেকগুলো বিষয়ের সাথে যুক্ত। সামগ্রিকভাবে নিম্নোক্ত তিনটি বিষয় যুক্ত থাকে।
গাভী হিটে না আসার রোগ ব্যাধি সংক্রান্ত কারণ ৩টি। যথা-
- গাভীর জরায়ুতে প্রদাহের ফলে।
- গাভীর ওভারীর সমস্যা হলে।
- গাভীর জরায়ুতে টিউমার থাকলে।
গাভী গরম না হওয়ার পরিবেশ সংক্রান্ত কারণ ৩টি। যথা-
- আলো-বাতাস কম পেলে গাভী হিটে আসেনা।
- একই ঘরে গাভী ও ষাঁড় পালন করলেও গরম হয় না।
- খামারের পরিবেশ নর্বদা নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন থাকা।
গরু ডাকে না আসার পুষ্টির অভাব সংক্রান্ত কারণ ১১টি। যথা-
- শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অনুপাত ঠিক না থাকলে।
- ভিটামিন এ, ডি, ই এর অভাব থাকলে।
- সেলেনিয়াম ও ম্যাক্রো মিনারেলস এর ঘাতটি থাকা।
- রক্তে নাইটোজেনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।
- কাঁচা ঘাসে আর্সেনিক বিষক্রিয়া হলে।
- কাঁচা ঘাসের অভাব এর কারণে।
- গাভীর শরীরে যাতে অতিরিক্ত ফ্যাট থাকলে।
- প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রোটিন বা আমিষ এর ঘাতটি থাকা।
- গরু প্রয়োজনীয় এনার্জি বা শক্তি সরবরাহ না পেলে।
- ফসফরাস এর ঘাতটি দেখা দিলে।
- গাভীর কিটোসিস হলে।
(২) গাভী গরম না হওয়ার রোগ ব্যাধি সংক্রান্ত কারণ
গাভী গরম না হওয়ার কারণ গুলোর মধ্যে এটি একটি অন্যতম কারণ। কেননা আমাদের দেশের অধীকাংশ গাভী প্রজনন স্বাস্থ্য সহ নানা প্রকার স্বাস্থ জটিলতায় ভোগে।
গাভী অধিকাংশ সময় রোগে আক্রান্ত থাকলে সে গাভী হিটে আসে না। কৃমি জনিত রোগ, ককসিডিওসিস বা আমাশয়, প্রোজনন অংগে ইনফেকশন ইত্যাদি রোগ গরু ডাকে না আসার কারণ।
ক) গাভীর জরায়ুতে প্রদাহের ফলে
বিভিন্ন ধরনের জীবানু দ্ধারা এ রােগ হয়।


খ) গাভীর ওভারীর সমস্যা হলে
ওভারীতে বিভিন্ন ধরনের সিস্ট বা পানির থলি হলে গাভী ডাকে আসে না বা গরু গরম হয় না।

গ) গাভীর ওভারিয়ান টিউমার
গাভীর জরায়ুতে টিউমার হলে সময়মত পশু গরম হয় না।

কুত্রিম প্রজনন কর্মীর দক্ষতার অভাব থাকলে এবং তাকে দিয়ে কৃত্রিম প্রজনন করালে গরুর নানা প্রকার প্রজনন স্বাস্থের অসুস্থতা, গাভী গরম না হওয়ার কারণ সৃষ্টি হয়। খাদ্যে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব থাকলে প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়।
গাভী গরম না হওয়ার কারণ গলো সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারনা থাকতে হবে। কৃমিতে অধীক পরিমানে আক্রান্ত হলে গরু হিটে আসে না বা আসলেও কনসেপ্ট করে না। আর তাই প্রজননক্ষম গরুকে কৃমি মুক্ত করুন আর কিছু ভিটামিন মিনারেল খায়িয়ে দিন দেখবেন গরুর তেমন সমস্যা না থকলে গাভী ঠিক হিটে এসে যাবে।
(৩) গাভী গরম না হওয়ার পরিবেশ সংক্রান্ত কারণ
গাভী গরম না হওয়ার কারণ গুলোর মধ্যে এটি একটি কারণ। গাভীর দুধের উৎপাদন ও প্রজনন দুটোতেই পরিবেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে।
ক) আলো-বাতাস কম পেলে গাভী হিটে আসেনা
গাভী গরুর আবাসস্থল আলো-বাতাসপূর্ণ ও আরামদায়ক হতে হবে। গাভীর হাটাচলার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
খ) একই ঘরে গাভী ও ষাঁড় পালন করলেও গরম হয় না
একই ঘরে গাভী ও ষাঁড় রাখা যাবে না, আলাদা স্থান নির্ধারণ করতে হবে।
গ) খামারের পরিবেশ নর্বদা নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন থাকা
খামারের আশেপাশের পরিবেশ জীবাণুমুক্ত ও নির্মল হতে হবে। নতুন গরুর আবাস্থল জীবাণুর আবাস্থলে পরিণত হলে গাভী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলেও তা গাভীর প্রজনন স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।
(৪) গাভী হিটে না আসার পুষ্টির অভাব সংক্রান্ত কারণ
গাভী হিটে না আসার কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম বা প্রধন কারণ এটি। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গাভী হিটে না আসা এবং বীজ না রাখার জন্য যত গুলো কারণ রয়েছে এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই হল নিউট্রেশনাল বা পুষ্টির অভাব জনিত কারণে।
আমরা খাবারের গুনগত মান পরিক্ষা করিনা বা খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সঠিক ধারনাও নেই। এবং আমরা আমাদের ইচ্ছা মাফিক খাবার প্রদান করি।
আমরা একবারও চিন্তা করিনা যে গাভীর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান হচ্ছে কিনা। গাভী বা বকনার শরীরে নিম্নোক্ত নিউট্রিয়েন্ট বা পুষ্টির অভাব এবং কখনো কখনো আধিক্য থাকলে গাভী হিটে আসবে না বা বীজ রাখবে না।
অনভিজ্ঞতা বা অজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশে খাবারের গুণগতমান কেউই পরীক্ষা করে না বা ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া সবাই ইচ্ছা মাফিক বা অনুমাননির্ভর খাবার দেন। অনেকেরেই ধারণা নেই যে কোন বয়সে কোন সময়ে একটি গরুর কোন কোন পুষ্টি উপাদান কতোখানি প্রয়োজন।
গরু/গাভীর খামার ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো সঠিক পরিমাণে না খাওয়ানো। ফলে গরুকে সুস্থ রাখতে এবং পাশাপাশি তার প্রজনন স্বাস্থ্যও ঠিক রাখতে রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ক) শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অনুপাত ঠিক না থাকলে
শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের প্রয়োজন অপরিসীম। কিন্তু এই দুটি উপাদান সঠিক অনুপাতে না থাকলে শরীরে সঠিক মাত্রায় শোষণ হবে না। এতে করে মিল্ক ফিভার সহ প্রজননে সমস্যা দেখা যায়।
খ) ভিটামিন এ, ডি, ই এর অভাব থাকলে
রেশনে সঠিক পরিমাণে এই তিনটি ভিটামিন না থাকলে শারীরিক ওজন বৃদ্ধি, দুধ উৎপাদন, দুধের ফ্যাট ও প্রজননের উপর মারাত্নক প্রভাব পড়ে।
গ) সেলেনিয়াম ও ম্যাক্রো মিনারেলস এর ঘাতটি থাকা
ভিটামিন ই শোষণ ও প্রজননের জন্য সেলেনিয়ামের প্রয়োজনীয়তা অনেক।
তাছাড়াও ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সোডিয়াম ছাড়া অন্য যে মাইক্রো মিনারেলগুলো যেমন প্রয়োজন তেমনি থাকতে হবে।
মিনারেল কম বা বেশি হলে প্রজনন সহ খাবার হজম, বৃদ্ধি ব্যহত হওয়া, খাবার গ্রহণ কমে যাওয়া এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তাই রেশনে প্রয়োজনমত ম্যাক্রো মিনারেল দিতে হবে যাতে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি না হয়।
ম্যাক্রো মিনারেল: যেসব খনিজ গরুর শরীরে বেশি পরিমানে থাকে। ফলে রেশনে সেসব মিনারেল বেশি পরিমানে দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে: ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং সালফার।
মাইক্রো মিনারেল: যা গরুর শরীরে সামান্য পরিমানে থাকে। কিন্তু এই সামান্য পরিমানই কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এসব মিনারেলের ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। মাইক্রো মিনারেল গুলো হলো: ক্রোমিয়াম, কোবাল্ট, কপার/তামা, আইয়োডিন, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, সেলেনিয়াম এবং জিঙ্ক বা দস্তা।
ঘ) রক্তে নাইটোজেনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া
গাভী গরম না হওয়ার কারণ রক্তে নাইটোজেনের পরিমাণ বেড়ে গেলে গর্ভধারণে সমস্যা হয়। তাই বর্ষাকালে কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর সময় সতর্কতার সঙ্গে খাওয়াতে হবে।
ঙ) কাঁচা ঘাসে আর্সেনিক বিষক্রিয়া হলে
প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত পাঁচ মিশালী ঘাসে কিছু বিষাক্ত ঘাস থাকে যা রক্তে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এতে প্রজননের সমস্যা সৃষ্টি করে ও গাভী গরম না হওয়ার কারণ হিসেবে কাজ করে।
তাছাড়া নতুন কুশি বের হওয়ার ঘাস বা ধান গাছ খাওয়ানো যাবে না।
প্রথম বৃষ্টির পর মাঠে গরু না চরানোই ভালো। কারণ ওই নতুন গজানো ঘাসে আর্সেনিক বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে।
একইভাবে চাষ করা ঘাসেও ইউরিয়া দেয়ার অন্তত ২১ দিন পর ঘাস কাটতে হবে।
চ) কাঁচা ঘাসের অভাব এর কারণে
অনেক খামারে কাঁচা ঘাসের অভাব থাকে। ফলে অধিক পরিমাণে শস্য দানা খাওয়াতে হয়। এর ফলেও ডাকে আসা ও গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।
এটা মনে রাখতে হবে, গরুকে স্টার্চ বা কার্বোহাইড্রেড জাতীয় খাবার বেশি দিলে রাজ্যের রোগবালাই বাসা বাঁধবে।
বসে বসে অতিরিক্ত ভাত বা শর্করা জাতীয় খাবার খেলে যেমন মানুষের সমস্যা হয় তেমনি বেশি বেশি কার্বোহাইড্রেড বা স্টার্চ গরুর স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
খাবারে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে প্রোটিন মিনারেল (গাভীর জন্য বিশেষ করে ক্যালসিয়াম) এবং ভিটামিনের ওপর।
ছ) গাভীর শরীরে যাতে অতিরিক্ত ফ্যাট থাকলে
শরীরে যাতে অতিরিক্ত ফ্যাট না থাকে আবার একেবারে কমও যেন না থাকে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে বডি কন্ডিশন স্কোর (বিসিএস স্কোর) ৪-৫ হওয়া ভালো। তবে ৬ হলেও সমস্যা নেই কিন্তু ৪ এর নিচে হওয়া উচিত নয়।
জ) প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রোটিন বা আমিষ এর ঘাতটি থাকা
গাভী গরম না হওয়ার কারণ রেশনে প্রয়োজনীয় পরিমাণে প্রোটিন না থাকলে যেকোনো প্রাণিরই প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যা সৃষ্টি হয়। দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের জন্য প্রোটিন আবশ্যক। ফলে গাভী হোক আর ষাঁড় হোক তাকে প্রচুর আমিষসমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে।
তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে যেন কমপক্ষে ৩৫-৪০% রুমেন আনডিগ্রেডেবল প্রোটিন (RUP) থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রজননে সমস্যা দেখা দিবে।
পশুর প্রয়োজনীয় প্রোটিন ২ প্রকার। যথা-
১। রুমেন আন-ডিগ্রেডেবল প্রোটিন বা আরইউপি
- আরইউপি হলো সেই ধরনের প্রোটিন যা গরুর রুমেনের মধ্যে হজম হয় না বা ভেঙে যায় না। এটি অক্ষত অবস্থায় রুমেন থেকে ক্ষুদ্রান্তে চলে যায় এবং সেখানে সরাসরি শোষিত হয়। এই প্রোটিনের শোষণমাত্রা ৮৫%!
- বুঝতেই পারছেন প্রোটিনের সবচেয়ে কাযকর ব্যবহার চাইলে আরইউপির ওপর গুরুত্ব দিতেই হবে। এই ধরনের প্রোটিন পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের খৈলের মধ্যে। যেমন: সূর্যমুখীর খৈল (মিল), সরিষার খৈল, সয়াবিনের খৈল, তুলাবীজের খৈল, ফিশ মিল ও বন মিল ইত্যাদি।
২। রুমেন ডিগ্রেডেবল প্রোটিন বা আরডিপি
- আরডিপি হজম হয় গরুর রুমেনেই। সেখানে বিদ্যমান মাইক্রোবগুলো (অণুজীব, বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া) এই প্রোটিন জাতীয় খাবার বিপাকের মাধ্যমে মাইক্রোবিয়াল প্রোটিন তৈরি করে।
- তবে এই কাজ করতে গিয়ে ব্যাকটেরিয়াগুলোকে কিন্তু অনেক শক্তি খরচ করতে হয়। সে কারণে এই প্রোটিনের সঙ্গে পরিমিত ননফাইবার কার্বোহাইড্রেড যেমন: স্টার্চ জাতীয় খাবার (গম, ভুট্টা ইত্যাদি) এবং সুগার (চিনি জাতীয় যেমন: ঝোলাগুড় বা চিটাগুড়) দিতে হবে।
- আরডিপির উৎসগুলো হাতের নাগালেই থাকে। যেমন: জার্মান, নেপিয়ার বা পাকচংয়ের মতো উন্নতজাতের ঘাসে প্রচুর পরিমানে আরডিপি পাওয়া যায়।
ঝ) গরু প্রয়োজনীয় এনার্জি বা শক্তি সরবরাহ না পেলে
আপনার গরুর প্রয়োজনীয় শক্তির সরবরাহ করতে হবে যেমন- মেইনটেন্যান্স শক্তি, দুধের জন্য শক্তি, শারীরিক বৃদ্ধির জন্য শক্তি।
প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান না দিলে গরুর শরীরে জমানো ফ্যাট ও ফ্যাটি এসিড ভেঙ্গে শক্তির চাহিদা পূরণ করে। এ অবস্থাকে নেগেটিভ এনার্জি ব্যালেন্স বলে।
এই অবস্থায় গরু ডাকে আসে না বা গর্ভধারণ করে না। এটির জন্য দিতে কার্বোহাইড্রেড জাতীয় খাবার। সেটি হতে পারে গম, ভুট্টা, ঘাস, চিটাগুড় ইত্যাদি।
ঞ) ফসফরাস এর ঘাতটি দেখা দিলে
গাভী গরম না হওয়ার কারণ খাদ্য সংক্রান্ত যতগুলো সমস্যা আছে এর মধ্যে ফসফরাসের ঘাটতি বা আধিক্য হলো অন্যতম। ফসফরাসের অভাবে গরুর চিরতরে গর্ভধারণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তেমনি শরীরে মাত্রাতিরিক্ত ফসফরাসের কারণে গরুর ডাকে আসা ও গর্ভধারণ বিলম্ব হতে পারে।
ট) গাভীর কিটোসিস হলে
গাভী গরম না হওয়ার কারণ গরুর গর্ভকালীন শেষ দুই মাস সবচেয়ে বেশি শক্তি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস সহ বিভিন্ন মিনারেল ও ভিটামিনের দরকার হয় এবং বাছুর প্রসবের ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দুধ দেয়া শুরু করে।
কিন্তু সর্বোচ্চ দুধ উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ খাদ্যগ্রহণ প্রয়োজন, গরুর শারীরিক অবস্থা সে পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছতে কমপক্ষে ১০-১২ সপ্তাহ সময় লাগে।
এই অবস্থায় গরু তার লিভারের মধ্যে শরীরে জমাকৃত ফ্যাটি এসিড ভেঙ্গে কিটোন বডি (Ketone Bodies) নামক তিন ধরনের কেমিক্যাল তৈরি হতে থাকে। যথা-
- অ্যাসিটোঅ্যাসিটেট (acetoacetate)
- বেটা-হাইড্রোক্সি বিউটারেট (beta-hydroxybutyrate)
- অ্যাসিটোঅ্যাসিটেট ক্রমাগম ভেঙ্গে অ্যাসিটোন (acetone)
এতে গরুর শরীরের শক্তি কমতে থাকে এবং প্রজননসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। কিটোসিস অবস্থাটি তৈরি হয় সাধারণত ৬-১০ সপ্তাহের মধ্যে যখন গরু নতুন করে ডাকে আসা এবং গর্ভধারণের সর্বোচ্চ সময়। এই সময়ে শরীরে কিটোন বডি তৈরি হলে রক্তে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতে এবং হলে প্রজননে সমস্যা দেখা দেয়।
আরও পড়ুনঃ
- informationbangla.com/১৫টি-গরু-গরম-হওয়ার-লক্ষণ-গরু-হিটে-আসার-লক্ষণ-গরু-ডাকে-আসার-লক্ষণ-ও-ধাপসমূহ/
- informationbangla.com/সঠিক-সময়ে-গরু-গরম-করার-উপায়-গরু-হিটে-আনার-চিকিৎসা-গরু-হিটে-না-আসলে-করনীয়/
- informationbangla.com/গরু-হিটে-আনার-ইনজেকশন-গরু-হিটে-আনার-চিকিৎসা/
- informationbangla.com/৩টি-গরু-হিটে-আসার-ঔষধ-গরু-হিটে-আনার-চিকিৎসা/









