৩টি সেরা উন্নত জাতের ঘাস চাষ পদ্ধতি

🐄 খামারের লাভ বাড়াতে চান? জেনে নিন ৩টি সেরা উন্নত জাতের ঘাস চাষ পদ্ধতি।
আপনি কি ডেইরি বা গরুর খামার করছেন? খামারের লাভেব বড় একটি অংশই কিন্তু চলে যায় পশুখাদ্য কিনতে। বাজারের কেনা খড় বা দানাদার খাদ্যের চড়া মূল্যের কারণে অনেক খামারি ভাই লাভের মুখ দেখতে হিমশিম খান।
কিন্তু এর একটি দারুণ সমাধান আছে! আর তা হলো উন্নত জাতের ঘাস চাষ।
সঠিক জাতের ঘাস চাষের মাধ্যমে আপনি আপনার গবাদিপশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারেন, পশুখাদ্যের খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারেন এবং খামারের লাভ নিশ্চিত করতে পারেন। আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে, চলুন আজ জেনে নিই বাংলাদেশে চাষের উপযোগী এমন তিনটি উচ্চ ফলনশীল ঘাসের জাত ও সেগুলোর চাষাবাদ পদ্ধতি।
(১) নেপিয়ার ঘাসঃ বহুবর্ষজীবী ও উচ্চ ফলনশীল

নেপিয়ার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুবর্ষজীবী ঘাস। একবার লাগালে এটি ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে পারে।
- চাষের সময়: বছরের যেকোনো সময় চাষ করা যায়, তবে ফাল্গুন-চৈত্র মাস হলো সর্বোত্তম সময়।
- পুষ্টিগুণ (প্রতি কেজি):
- শুকনো পদার্থ: ২১০ গ্রাম
- সহজপাচ্য পদার্থ: ১৪০ গ্রাম
- প্রোটিন: ১৬ গ্রাম
- বিপাকীয় শক্তি: ২.৩ মেগাক্যালরি
- চাষ পদ্ধতি:
- জমি ভালোভাবে চাষ করে প্রস্তুত করতে হবে।
- ২-৩ গিটযুক্ত কাটিং বা চারা রোপণ করতে হয়।
- লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ৭০ সে.মি. এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৫০ সে.মি. রাখতে হবে।
- সার ব্যবস্থাপনা:
- জমি তৈরির সময় প্রতি হেক্টরে টিএসপি ৬০ কেজি, জিপসাম ৩০ কেজি এবং এমপি ৩০ কেজি সার প্রয়োগ করতে হবে।
- চারা রোপণের ১ মাস পর প্রতি হেক্টরে ৩০ কেজি ইউরিয়া এবং প্রতিবার ঘাস কাটার পর ৩০ কেজি ইউরিয়া সার দিতে হবে।
- সেচ ও ফলন:
- গ্রীষ্মকালে ১০-১২ দিন পর পর এবং শীতকালে ৩০-৪৫ দিন পর পর সেচ দিতে হয়।
- শুকনো মৌসুমে বছরে ৫-৬ বার এবং বর্ষাকালে ৮-১০ বার ঘাস কাটা যায়।
- বার্ষিক ফলন: হেক্টরপ্রতি ১৫০-২০০ টন।
(২) জার্মান ঘাসঃ জলাবদ্ধ ও নিচু জমির জন্য আদর্শ

যেসব জমি নিচু, জলাবদ্ধ বা বন্যাপ্রবণ, যেখানে অন্য কোনো ফসল ভালো হয় না, সেসব জমিতে জার্মান ঘাস একটি আশীর্বাদস্বরূপ। এটি দেখতে অনেকটা পাতাওয়ালা ধান গাছের মতো।
বিশেষ সুবিধা: এই ঘাস পুকুরের পাড়ে বা মাছের ঘেরের বাঁধে লাগালে মাছের জন্যও উপকারী এবং সেক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত সারের প্রয়োজন হয় না।
- পুষ্টিগুণ (প্রতি কেজি):
- শুকনো পদার্থ: ২৪০ গ্রাম
- সহজপাচ্য পদার্থ: ১৪০ গ্রাম
- প্রোটিন: ১৬ গ্রাম
- বিপাকীয় শক্তি: ২.৫ মেগাক্যালরি
- চাষ পদ্ধতি:
- জমি প্রস্তুত করে ২-৩ গিটযুক্ত কাটিং রোপণ করতে হয়।
- লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ৭০ সে.মি. এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৫০ সে.মি.।
- সার ব্যবস্থাপনা: (নেপিয়ার ঘাসের মতোই)
- জমি তৈরির সময় প্রতি হেক্টরে টিএসপি ৬০ কেজি, জিপসাম ৩০ কেজি এবং এমপি ৩০ কেজি।
- চারা রোপণের ১ মাস পর প্রতি হেক্টরে ৩০ কেজি ইউরিয়া এবং প্রতিবার ঘাস কাটার পর ৩০ কেজি ইউরিয়া।
- সেচ ও ফলন:
- গ্রীষ্মকালে ১০-১২ দিন পর পর এবং শীতকালে ৩০-৪৫ দিন পর পর সেচ দিতে হয়।
- শুকনো মৌসুমে বছরে ৫-৬ বার এবং বর্ষাকালে ৮-১০ বার ঘাস কাটা যায়।
- বার্ষিক ফলন: হেক্টরপ্রতি ১৩০-১৫০ টন।
(৩) জাম্বু ঘাসঃ দ্রুত বর্ধনশীল ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত

জাম্বু ঘাস একটি একবর্ষজীবী ঘাস যা খুব দ্রুত বাড়ে। পলি, দো-আঁশ এমনকি পাহাড়ি ঢালের মাটিতেও এই ঘাস জন্মে। যাদের দ্রুততম সময়ে ঘাসের ফলন প্রয়োজন, তাদের জন্য এটি চমৎকার।
- বিশেষ বৈশিষ্ট্য: রোপণের মাত্র ১.৫ থেকে ২ মাসের মধ্যেই প্রথমবার কাটার উপযোগী হয়।
- পুষ্টিগুণ (প্রতি কেজি):
- শুকনো পদার্থ: ১৯০ গ্রাম
- সহজপাচ্য পদার্থ: ১৪০ গ্রাম
- প্রোটিন: ২১ গ্রাম (অন্যান্য ঘাসের চেয়ে বেশি)
- বিপাকীয় শক্তি: ২.৫ মেগাক্যালরি
- চাষ পদ্ধতি:
- এটি বীজ থেকে রোপণ করা হয়। ভালোভাবে জমি চাষ দিয়ে হেক্টরপ্রতি ১৫-২০ কেজি বীজ বপন করতে হয়।
- লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ৭০ সে.মি. এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৫০ সে.মি. রাখা ভালো।
- সার ব্যবস্থাপনা: (অন্যান্য ঘাসের মতোই)
- জমি তৈরির সময় প্রতি হেক্টরে টিএসপি ৬০ কেজি, জিপসাম ৩০ কেজি এবং এমপি ৩০ কেজি।
- চারা রোপণের ১ মাস পর প্রতি হেক্টরে ৩০ কেজি ইউরিয়া এবং প্রতিবার ঘাস কাটার পর ৩০ কেজি ইউরিয়া।
- সেচ ও ফলন:
- গ্রীষ্মকালে ১০-১২ দিন পর পর এবং শীতকালে ১০-১৫ দিন পর পর সেচ দিতে হয় (শীতকালে বেশি সেচ লাগে)।
- শুকনো মৌসুমে বছরে ৫-৬ বার এবং বর্ষাকালে ৮-১০ বার ঘাস কাটা যায়।
- বার্ষিক ফলন: হেক্টরপ্রতি ১৩০-১৫০ টন।
শেষ কথা হলো, একজন সফল খামারি হওয়ার জন্য পশুখাদ্যের খরচ কমানোর কোনো বিকল্প নেই। আপনার জমির ধরণ (উঁচু না নিচু), আপনার সময়ের চাহিদা (দ্রুত ফলন নাকি দীর্ঘমেয়াদী) ইত্যাদি বিবেচনা করে নেপিয়ার, জার্মান বা জাম্বু ঘাসের মধ্যে থেকে সঠিক জাতটি বেছে নিন।
সঠিক ব্যবস্থাপনায় ঘাস চাষ করলে তা শুধু আপনার খরচই বাঁচাবে না, বরং গরুর স্বাস্থ্য ভালো রাখবে এবং দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়িয়ে আপনার খামারকে লাভজনক করে তুলবে।
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।








