পশুরা যেহেতু সমকামী হতে পারে সেহেতু এটা ন্যাচারাল, আর তাই মানুষের পক্ষেও সমকামিতা স্বাভাবিক! এমন স্বাভাবিক ঘটনাকে নিষেধ করায় প্রমাণ হয় ধর্ম বিজ্ঞান বুঝে না?

ইসলাম সমকামীতাকে কঠোর ভাবে নিষেধ করে। প্রেক্ষিতে কিছু কিছু অবিশ্বসীগণ বলেনঃ পশুরা যেহেতু সমকামী হতে পারে সেহেতু এটা ন্যাচারাল, আর তাই মানুষের পক্ষেও সমকামিতা স্বাভাবিক! এমন স্বাভাবিক ঘটনাকে নিষেধ করায় প্রমাণ হয় ধর্ম বিজ্ঞান বুঝে না।
🛑 পশুর স্বভাব কি মানুষের জন্য আদর্শ হতে পারে? বিজ্ঞান, যুক্তি ও বাস্তবতার আলোকে একটি বিশ্লেষণ
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বিভিন্ন আড্ডায় একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়। কথাটি হলো— “পশুপাখিদের মধ্যেও সমকামিতা দেখা যায়, তাই এটা ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক। পশুপাখি করলে মানুষের দোষ কোথায়?”
একদল মানুষ এই যুক্তিটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রমাণ করতে চান যে, মানুষের সমকামিতা একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এবং ধর্ম বা সমাজ যে এটাকে নিষেধ করে, তা নাকি বিজ্ঞানসম্মত নয়। তারা দাবি করেন, ধর্ম বিজ্ঞান বোঝে না বলেই এমন নিষেধাজ্ঞার কথা বলে।
কিন্তু আসুন, আবেগের বশবর্তী না হয়ে এবং শোনা কথায় কান না দিয়ে আমরা একটু ধীরস্থিরভাবে বিজ্ঞানের আলোকে এবং সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান ব্যবহার করে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি। পশুর আচরণ কি আসলেই মানুষের জন্য দলিল হতে পারে? বিজ্ঞান কি আসলেই পশুদের এই আচরণকে ‘সমকামিতা’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে?
আজকের এই লেখায় আমরা বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের গবেষণা এবং প্রকৃতির কিছু রূঢ় বাস্তবতাকে সামনে রেখে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজব।
১. গোড়াতেই গলদ: পশু আর মানুষের তুলনা
সবচেয়ে হাস্যকর এবং অযৌক্তিক বিষয়টি হলো মানুষের আচরণের বৈধতা খুঁজতে পশুর আচরণের দিকে তাকানো। যারা বলেন “পশুরা করে তাই আমরাও করতে পারি,” তারা আসলে অজান্তেই নিজেদের বুদ্ধিমত্তা এবং মনুষ্যত্বকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনেন।
আমাদের প্রথমেই বুঝতে হবে যে ‘Human Nature’ (মানুষের স্বভাব) আর ‘Animal Nature’ (পশুর স্বভাব) এক জিনিস নয়। আকাশ আর পাতালের যেমন তফাৎ, মানুষ আর পশুর মনস্তত্ত্বে ঠিক তেমনই তফাৎ।
মানুষের আছে বিবেক, বুদ্ধি, ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা এবং একটি উন্নত সামাজিক কাঠামো। অন্যদিকে, পশুরা চলে তাদের সহজাত প্রবৃত্তি বা ‘Instinct’ দিয়ে। পশুর কোনো কাজকে মানুষের সমাজে টেনে এনে সেটাকে ‘স্বাভাবিক’ বলে দাবি করাটা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়। যারা পশুর মাঝে তথাকথিত সমকামিতা দেখে ভাবেন, “মানুষ এই কাজ করলে কি সমস্যা?”—তাদের সমস্যাটা আসলে চিন্তার গভীরতায়।
২. পশুদের কি আসলেই সমকামী বলা যায়? বিজ্ঞান কী বলে?
চলুন এবার সরাসরি বিজ্ঞানের রেফারেন্সে যাওয়া যাক। স্পেনের নাভারা ইউনিভার্সিটি (University of Navarre)-এর বায়োএথিক্স বা জৈব-নীতিশাস্তরের প্রফেসর অ্যান্টোনিও পারদো (Antonio Pardo) এই বিষয়ে খুব চমৎকার এবং স্পষ্ট কথা বলেছেন।
তিনি পশুদের সমকামী হওয়ার বিষয়টিকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার মতে-
“সঠিকভাবে বলতে গেলে, পশুদের মাঝে সমকামিতার কোনো অস্তিত্ব নেই। বংশবৃদ্ধি করার প্রবৃত্তি থেকে পশুরা সবসময় বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাই একটা পশু কখনোই সমকামী হতে পারে না।” [১]
প্রফেসর পারদোর এই কথার অর্থ খুবই গভীর। প্রকৃতির নিয়মেই প্রতিটি প্রাণীর মূল লক্ষ্য থাকে তার প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখা। আর প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন বংশবৃদ্ধি। বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিপরীত লিঙ্গের (পুরুষ ও নারী) মিলন। তাই প্রাকৃতিকভাবেই পশুদের ‘ডিএনএ’ বা মস্তিষ্কের গঠন এমনভাবে তৈরি যে তারা বিপরীত লিঙ্গের প্রতিই আকৃষ্ট হবে। তাদের মধ্যে মানুষের মতো ‘সমকামী প্রবৃত্তি’ বা ‘Homosexual Instinct’ থাকার কোনো সুযোগ নেই।
তাহলে আমরা মাঝে মাঝে যা দেখি, সেটা কী? সেটা আসলে ভুল, বিভ্রান্তি বা আধিপত্য বিস্তারের লড়াই—যা নিয়ে আমরা লেখার পরের অংশে বিস্তারিত আলোচনা করব। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মূল কথা হলো, পশুর জগতে ‘সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন’ বা লিঙ্গ পছন্দের কোনো ব্যাপার নেই, পুরোটাই প্রজননকেন্দ্রিক।
৩. প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপ: নরখাদক ও সন্তান ভক্ষণ
এবার আসুন একটু সাধারণ যুক্তির দিকে তাকাই। যারা সমকামিতাকে বৈধ করতে পশুর উদাহরণ টানেন, তারা প্রকৃতির অন্যান্য ভয়ঙ্কর স্বভাবগুলো কেন এড়িয়ে যান?
পশুদের জগতে কেবল প্রজনন আচরণই নয়, এমন অনেক আচরণ আছে যা মানুষের চোখে জঘন্য অপরাধ। যেমন:
- Filicide (নিজ সন্তানকে হত্যা ও ভক্ষণ): অনেক প্রাণী আছে যারা নিজের বাচ্চাকেই খেয়ে ফেলে।
- Cannibalism (স্বজাতিকে ভক্ষণ): অনেক প্রাণী তাদের নিজ প্রজাতির অন্য সদস্যদের মেরে খেয়ে ফেলে।
ইরান নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যাগাজিন (Iran Nature and Wildlife Magazine) ক্যানিবালিজম বা স্বজাতি ভক্ষণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে লিখেছে-
“নরখাদক বা ক্যানিবাল হলো এমন প্রাণী, যারা নিজেদের প্রজাতির অন্য প্রাণীদের খেয়ে বেঁচে থাকে… প্রায় ১৪০টি ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এই নরখাদক স্বভাব দেখা যায়।” [৩]
উদাহরণ হিসেবে বিড়ালের কথাই ধরা যাক। আমরা বিড়ালকে খুব আদুরে প্রাণী মনে করি। কিন্তু জীববিজ্ঞানী সারাহ হার্টওয়েল (Sarah Hartwell) ব্যাখ্যা করেছেন যে, বিড়ালদের মধ্যেও ‘Filicide’ বা সন্তান হত্যার প্রবণতা দেখা যায়। তিনি বলেন-
“বেশিরভাগ মা বিড়াল তাদের বাচ্চাদের ক্ষতি না করার জন্য নিজেদেরকে ‘Play mode’ (খেলার মুড) ও ‘Hunt mode’ (শিকারের মুড) এ নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু পুরুষ বিড়ালদের ক্ষেত্রে শিকার করার প্রবৃত্তি বন্ধ করার প্রক্রিয়াটা অসম্পূর্ণ থাকে। যখন তারা খেলার মাধ্যমে উত্তেজিত হয়ে যায়, তখন তাদের ভেতরের শিকারি সত্তা জেগে ওঠে এবং তারা তাদের নিজেদের বাচ্চাদের মেরেও ফেলতে পারে।” [২]
মূলত, বিড়াল ছানাদের নড়াচড়া দেখে পুরুষ বিড়াল অনেক সময় তাদের ‘শিকার’ ভেবে ভুল করে এবং খেয়ে ফেলে।
এখন প্রশ্ন হলো, পশুদের এই আচরণগুলো তো ‘ন্যাচারাল’ বা প্রাকৃতিক। ১৪০টি প্রজাতির প্রাণী স্বজাতিকে খেয়ে ফেলে। তাহলে কি মানুষের জন্যও নরমাংস খাওয়া বৈধ হয়ে যাবে?
আজ যারা পশুর সমকামিতার উদাহরণ দিচ্ছেন, কাল যদি তারা বলেন— “জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমাদের বেশি বেশি মানুষ খাওয়া উচিত! কারণ প্রাণীরা এই কাজ করে, এটা ন্যাচারাল!”—তখন কি আমরা সেটা মেনে নেব?
কিংবা ‘ব্ল্যাক উইডো’ (Black Widow) মাকড়সার কথা ভাবুন। মিলনের পর স্ত্রী মাকড়সাটি পুরুষ মাকড়সাটিকে খেয়ে ফেলে। এখন পশুর এই স্বভাব দেখে কি কোনো মানুষ দাবি করবে যে, শারীরিক সম্পর্কের পর সঙ্গীকে হত্যা করে খেয়ে ফেলা উচিত?
নিশ্চয়ই না! এসব দাবি যেমন হাস্যকর এবং পাগলামি, ঠিক তেমনি পশুর আচরণের দোহাই দিয়ে মানুষের সমকামিতা বা ব্যভিচারকে বৈধ করার দাবিটিও একই রকমের হাস্যকর। পশুর সব আচরণ মানুষের জন্য অনুকরণীয় নয়।
৪. যৌনতার পার্থক্য: মানুষ বনাম পশু
মানুষ এবং পশুর যৌন আচরণের মধ্যেও আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। যারা বলেন “Animal Sex” আর “Human Sex” একই, তারা আসলে ইথলজি (Ethology) বা প্রাণীর আচরণবিদ্যা সম্পর্কে অজ্ঞ।
বিখ্যাত ইথলজিস্ট সিজার এডিস (Cesar Ades) মানুষ এবং পশুর যৌনতার পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলেছেন। তিনি বলেন-
“মানুষ যৌন সঙ্গম করে একভাবে আর পশুরা করে আরেকভাবে। মানুষের সঙ্গম হয় পছন্দের ভিত্তিতে, যেখানে একজন সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিকে পছন্দ করে সঙ্গম করার জন্য। এটা পশুদের ক্ষেত্রে সত্য নয়। তাদের জন্য সঙ্গমের লক্ষ্য হলো বংশবৃদ্ধি করা। শারীরিক বা মানসিক সুখ অর্জন করা তাদের সঙ্গমের লক্ষ্য নয়।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন-
“গন্ধই এখানে সিদ্ধান্ত নেয়: যখন কোনো স্ত্রী প্রাণী ‘Heat’ বা প্রজননের সময়ে আসে, তখন তার শরীর থেকে এক বিশেষ গন্ধ বের হয়, যাকে ফেরোমোন (Pheromone) বলে। এই গন্ধ পুরুষ প্রাণীকে আকর্ষণ করে এবং তাকে মিলনে বাধ্য করে। এটাই পশুদের যৌনতা। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।” [৩], [৪]
সিজার এডিসের এই ব্যাখ্যাটি খুবই পরিষ্কার।
- মানুষের ক্ষেত্রে: যৌনতা একটি মানসিক ও শারীরিক পছন্দের বিষয়। এখানে ভালোবাসা, ভালোলাগা, সৌন্দর্য এবং মানসিক তৃপ্তির ব্যাপার আছে।
- পশুদের ক্ষেত্রে: যৌনতা কোনো রোমান্স বা সুখের বিষয় নয়। এটা নিতান্তই হরমোন এবং গন্ধের খেলা। স্ত্রী প্রাণীর শরীর থেকে গন্ধ বের হলে পুরুষ প্রাণী যন্ত্রের মতো সাড়া দেয়। এখানে “সঙ্গী কে?”—সেটা তাদের দেখার বিষয় নয়, গন্ধটাই মুখ্য।
সুতরাং, মানুষের ভালোবাসামিশ্রিত সম্পর্কের সাথে পশুর যান্ত্রিক বা গন্ধভিত্তিক মিলনকে গুলিয়ে ফেলা চরম বোকামি।
৫. পশুদের তথাকথিত সমকামিতার আসল রহস্য
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, “তাহলে আমরা যে মাঝে মাঝে দেখি কুকুর বা অন্য প্রাণীরা সমলিঙ্গের সাথে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করছে, সেটা কী?”
আগেই বলা হয়েছে, পশুরা মানুষের মতো বুদ্ধিমান নয়। তারা তাদের যৌন সঙ্গী নির্ধারণ করে মূলত গন্ধ (Smell) দিয়ে। তারা বুদ্ধি বা দৃষ্টিশক্তি ব্যবহার করে বিচার করে না। এই গন্ধের ওপর নির্ভর করতে গিয়েই তারা মাঝে মাঝে বড় ধরনের ভুল করে বসে, যেটাকে আমরা দূর থেকে দেখে ‘সমকামিতা’ বলে ভুল করি।
কুকুরের উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি সহজ করা যাক। বিজ্ঞানে এই আচরণটিকে খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে-
“আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, ‘Heat’ বা প্রজনন সময়ে থাকা স্ত্রী কুকুরের গন্ধ পুরুষ কুকুরকে পাগলের মতো আচরণ করতে বাধ্য করে। এমনকি অন্য স্ত্রী কুকুররা (যাদের প্রজনন সময় হয়নি) তারাও সেই গন্ধে বিভ্রান্ত হয়ে প্রজনন সময়ে থাকা স্ত্রী কুকুরের ওপর চড়াও হতে পারে। আবার, কোনো পুরুষ কুকুর যদি সদ্য কোনো প্রজননক্ষম স্ত্রী কুকুরের সাথে মিলিত হয়ে আসে, তবে তার শরীরেও সেই স্ত্রী কুকুরের গন্ধ লেগে থাকে। তখন অন্য পুরুষ কুকুররা সেই গন্ধের কারণে বিভ্রান্ত হয়ে ওই পুরুষ কুকুরটির ওপর চড়াও হয়… এমনকি পুরুষ কুকুররা বাতাসের গন্ধে উত্তেজিত হয়ে সামনে যা পায় (দুর্ভাগা কোনো মানুষ বা বস্তু), তার সাথেই মিলিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।” [৫]
সহজ কথায় বিষয়টি হলো-
১. একটি পুরুষ কুকুর (কুকুর-ক) একটি স্ত্রী কুকুরের সাথে মিলিত হলো।
২. কুকুর-ক এর শরীরে স্ত্রী কুকুরের ‘ফেরোমোন’ বা গন্ধ লেগে গেল।
৩. অন্য একটি পুরুষ কুকুর (কুকুর-খ) সেই গন্ধ শুঁকে ভাবল কুকুর-ক বুঝি কোনো স্ত্রী কুকুর।
৪. এই ভুল ধারণা বা ‘Sensory Error’ এর কারণে কুকুর-খ, কুকুর-ক এর ওপর চড়াও হলো।
এটা কোনো সমকামিতা নয়, এটা হলো শনাক্তকরণের ভুল (Mistaken Identity)। পশুদের এই আচরণকে বিজ্ঞানীরা ‘Abnormal Behavior’ বা অস্বাভাবিক আচরণ হিসেবেই গণ্য করেন। অথচ এই ‘ভুল’ আচরণ দেখেই কিছু মানুষ আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন এবং রায় দিয়ে দেন যে, “কুকুরও সমকামী, তাই মানুষেরও সমকামী হতে বাধা নেই!”—এটা যে কতটা অবৈজ্ঞানিক এবং হাস্যকর যুক্তি, তা উপরের ব্যাখ্যা থেকেই স্পষ্ট।
৬. পার্থনোজেনেসিস এবং অপবিজ্ঞানের আশ্রয়
কিছু অতি-উৎসাহী মানুষ সমকামিতাকে বৈধতা দিতে গিয়ে ‘পার্থনোজেনেসিস’ (Parthenogenesis)-এর মতো জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়কেও টেনে আনেন। পার্থনোজেনেসিস হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে শুক্রাণু ছাড়াই ভ্রূণ তৈরি হয় (যেমন কিছু পতঙ্গ বা উদ্ভিদের ক্ষেত্রে)।
কিন্তু তারা এটা বুঝতে চান না যে, পার্থনোজেনেসিস হলো অযৌন প্রজনন (Asexual reproduction), এর সাথে মানুষের যৌনতা বা সমকামিতার কোনো সম্পর্কই নেই। মানুষ স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং মানুষের প্রজনন ব্যবস্থার সাথে নিম্নবর্গের প্রাণীর প্রজনন ব্যবস্থা মেলানো মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
শেষ কথা: যুক্তির কাছে আবেগের পরাজয়
পরিশেষে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, পশুর জগত আর মানুষের জগত সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি সত্তা। পশুরা চলে প্রবৃত্তি, গন্ধ এবং হরমোনের তাড়নায়। তাদের কোনো বিচার-বুদ্ধি নেই, তাই তারা সন্তানও খেয়ে ফেলতে পারে, স্বজাতিকেও খেয়ে ফেলতে পারে, আবার গন্ধের ভুলে পুরুষ হয়ে পুরুষের পিছু নিতে পারে।
কিন্তু মানুষ “Rational Animal” বা বুদ্ধিমান প্রাণী। মানুষের জন্য পশুর ‘ভুল’ বা ‘অস্বাভাবিক’ আচরণ কখনোই আদর্শ হতে পারে না।
যারা নাস্তিকতা বা সমকামিতার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে পশুর উদাহরণ টানেন, তাদের উদ্দেশে একটি কথাই বলার আছে—
“Irrational Animal Behavior is No Blueprint For Rational Man.”
অর্থাৎ, পশুর অযৌক্তিক আচরণ কখনোই বুদ্ধিমান মানুষের জন্য নকশা বা আদর্শ হতে পারে না।
বিজ্ঞানকে নিজের সুবিধামতো ব্যবহার না করে, আসুন প্রকৃত সত্যটা জানি। পশুর ভুল আচরণ দিয়ে মানুষের ভুলের সাফাই গাওয়া বন্ধ হোক। মানুষ হিসেবে আমাদের মর্যাদা আমাদের বিবেকে, পশুত্বে নয়।
তথ্যসূত্র:
- [১] Antonio Pardo, “Aspectos médicos de la homosexualidad,” Nuestro Tiempo, Jul.-Aug. 1995, pp. 82-89.
- [২] Sarah Hartwell, Cats that kill kittens.
- [৩] Cannibalism in animals / “Cachorro Gay?”
- [৪] Cesar Ades, Ethologist explanations on animal behavior.
- [৫] Frans B. M. de Waal, “Bonobo Sex and Society,” Scientific American, Mar. 1995, pp. 82-88.




![চন্দ্রকে নূরের তৈরি এবং সূর্যকে প্রদীপ বা আগুণ বলা হয়েছে, চন্দ্র নূরের তৈরি নয় এবং সূর্যের পুরো অংশ আগুন নয়, তাহলে কোরানের একথা কিভাবে সত্য হল? [৭১:১৫-১৬; ২৫:৬১] চন্দ্রকে নূরের তৈরি এবং সূর্যকে প্রদীপ বা আগুণ বলা হয়েছে। চন্দ্র নূরের তৈরি নয় এবং সূর্যের](https://informationbangla.com/wp-content/uploads/2023/03/চন্দ্রকে-নূরের-তৈরি-এবং-সূর্যকে-প্রদীপ-বা-আগুণ-বলা-হয়েছে।-চন্দ্র-নূরের-তৈরি-নয়-এবং-সূর্যের.jpg)




