অনলাইন ইনকাম সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর

ডিজিটাল যুগে অনলাইন ইনকাম এখন অনেকের জন্য আকর্ষণীয় এবং বাস্তবসম্মত উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফরেক্স ট্রেডিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, অনলাইন জব, এবং ছবি বিক্রির মতো বিভিন্ন পদ্ধতি বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এই ব্লগে আমরা অনলাইন ইনকাম সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করব।
১. চাকরি ছেড়ে ফরেক্স ট্রেডিং ফুল টাইম পেশা হিসেবে নেওয়া কি উচিত হবে?
উত্তর:
চাকরি ছেড়ে ফরেক্স ট্রেডিংকে ফুল-টাইম পেশা হিসেবে নেওয়া উচিত হবে না। এর কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলো-
ফরেক্স ট্রেডিংকে ফুল-টাইম পেশা হিসেবে নেওয়া অনেকটা নদী ভাঙনের এলাকায় নদীর পাড়ে একটি বড় ভবন করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ।
আপনি যদি ফরেক্সকে ফুল টাইম পেশা হিসেবে নেন-
- সব চাপ এর ওপর পড়বে।
- সমস্ত মনোযোগ এটার দিকে চলে যাবে।
- সামান্যতম সাইকোলজিক্যাল মিসিং হলেই বড় বড় লোকসান হয়ে যেতে পারে, যা আপনার ক্যারিয়ারকে শেষ করে দিতে পারে।
তাই, ফরেক্সকে অতটা গুরুত্ব না দিয়ে এটাকে একটি সাইড ইনকাম হিসেবেই রেখে দেওয়া ভালো। এখান থেকে কোটি টাকা আসুক, কিন্তু এটা যেন আপনার সাইড ইনকাম থাকে এবং এটা দিয়ে আপনি আপনার জীবনকে উপভোগ করতে পারেন। কখনোই এমনটা ভাববেন না যে ফরেক্স থেকে ইনকাম করে আপনার ক্যারিয়ার গঠন করে ফেলবেন। এটা শুধুমাত্র বিলাসিতাপূর্ণ জীবনের (luxurious life) জন্য ঠিক আছে।
একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, ইসলামিক শরীয়াহ মোতাবেক ফরেক্স একটি নিষিদ্ধ (হারাম) ইনকামের মাধ্যম। যেটাকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে, সেটাকে আপনি ফুল টাইম ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার সাহস করলে, আপনি অবশ্যই ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
২. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার উপায় কী?
উত্তর:
নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য যারা অনলাইনে জব কিংবা ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে চান, তাদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি অন্যতম মাধ্যম। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা মোটামুটি সহজই বলা চলে।
(১) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী?
একজন অ্যাফিলিয়েটর হিসেবে আপনার কাজ হচ্ছে কোনো একটা নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট বা ওয়েবসাইট লিঙ্ক প্রমোট করা। অর্থাৎ, আপনি যখন কোনো সংস্থা বা কোম্পানির প্রোডাক্ট প্রচার করেন, তখন কেউ যদি আপনার অ্যাফিলিয়েট লিঙ্কে ক্লিক করে বা এর মাধ্যমে কোনো প্রোডাক্ট ক্রয় করে, তখন প্রত্যেকটি ক্লিক বা ক্রয়ের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন। এটিই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।
(২) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা
- অ্যাফিলিয়েটর হওয়ার জন্য কোনো টাকা খরচ করতে হয় না। ফ্রিতেই একজন অ্যাফিলিয়েটর হিসেবে আপনি নিজেকে দাঁড় করাতে পারবেন।
- পর্যাপ্ত আয় করা যায়।
- আপনাকে নিজের পণ্য তৈরি করতে এবং তালিকা (inventory) ম্যানেজ করতে হবে না।
- আপনি নিজেই নিজের মালিক। আপনি আপনার ইচ্ছে অনুযায়ী যেকোনো সময় কাজ করতে পারেন। এর জন্য নির্ধারিত কোনো সময় নেই। আপনি চাইলে যতদিন খুশি ছুটি কাটাতে পারেন।
- আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী প্রোডাক্ট প্রচার করতে পারবেন।
- কম খরচেই শুরু করা যায়। এর জন্য অল্প বিনিয়োগ দরকার।
- কোনো ঝুঁকি নেই।
- যে-কোনো জায়গায় বসে আপনি কাজ করতে পারবেন।
- এটি ব্লগার, ফ্রিল্যান্সার, ব্যাচেলর ও ব্যবসায়ীদের জন্য আদর্শ। পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই এটি সহজেই করতে পারে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করতে আপনাকে অত্যন্ত পরিশ্রমী ও কৌশলী হতে হবে। আপনার প্রতিটা পোস্টেই যদি বারবার লিঙ্ক দেন, তবে ভিজিটররা, আপনার বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা অবশ্যই বিরক্ত হবে। তাই, সবকিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য রেখে কাজ করতে হবে।
(৩) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার কৌশল
ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে আয় করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য অনেকেই এখন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপর আগ্রহী।
খুব সহজেই কীভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করা যায় তার উপায়/কৌশলগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-
ক) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে প্রবেশ করুন
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে এই মার্কেটে প্রবেশ করতে হবে। এর জন্য আপনাকে যা যা করতে হবে তা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।
i) বিজনেস মডেল নির্বাচন করুন: দুই ধরনের বিজনেস মডেল আছে-
- রিসোর্স সাইট: ব্যবসায়ীর ওয়েবসাইট, ব্যানার, অ্যাডভারটাইজমেন্ট ইত্যাদি রিসোর্স সাইটের অ্যাফিলিয়েট লিঙ্কে দেওয়া থাকে। কাস্টমার বা ক্রেতাদের ওয়েবসাইটের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর জন্য এই বিজনেস মডেলটিকে সবসময় আপডেট রাখতে হয় এবং ভালো কনটেন্ট পোস্ট করতে হয়।
- রিভিউ সাইট: রিভিউ সাইটে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের রিভিউ দেওয়া থাকে। প্রতিটা প্রোডাক্ট বা সার্ভিসে রিভিউর লিঙ্ক বা ব্যানার যুক্ত থাকে, যাতে সেখান থেকে ওয়েবসাইটে খুব সহজেই কাস্টমার আসতে পারে। এই মডেলের একটা বিশেষ গুণ হচ্ছে এটাকে সচরাচর আপডেট করার প্রয়োজন পড়ে না।
আপনি যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে কাজ করতে চান, তার সাথে আপনি কতটা পরিচিত তার ওপর নির্ভর করে আপনাকে মডেল নির্বাচন করতে হবে।
ii) ওয়েবসাইট তৈরি করুন: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে কাজ করার জন্য আপনার নিজস্ব একটা প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন (যেমন- নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ব্লগ) যেখানে আপনি আপনার ইচ্ছামতো প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের লিঙ্ক পোস্ট এবং অ্যাডভার্টাইজ করতে পারবেন। আপনার যদি একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে থাকে, তাহলে সেই প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে আপনি অতিরিক্ত আয় শুরু করতে পারেন। যদি না থাকে, তাহলে এটি তৈরি করে নিতে হবে।
- ব্লগ এর অন্যতম সুবিধা হচ্ছে এটা ফ্রি অপারেট করা যায়। যেখানে কিছু কিছু ওয়েবসাইট ফি নিয়ে থাকে। GoDaddy.com এবং Hostgator জাতীয় সাইটগুলো স্বল্প মূল্য রাখে।
- একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে কোনো কোম্পানিতে জয়েন করতে চাইলে যারা অনলাইন মার্কেটিংয়ে বিশেষজ্ঞ সেসব কোম্পানি সিলেক্ট করা উচিত। যেমন- MoreNiche। এ কোম্পানিগুলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের অ্যাডভারটাইজ করার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে সহায়তা করে।
- আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট না থাকলেও এমন অনেক ওয়েবসাইট আপনি পাবেন যেগুলো আপনাকে পে-পার-ক্লিক (PPC) হিসেবে কমিশন দিবে। এক্ষেত্রে আপনি প্রোডাক্টের অ্যাড লিঙ্ক নিজের ফেসবুকে পোস্ট করতে পারবেন। কেউ যদি সেই লিঙ্কে ক্লিক করে বা ক্লিক করে প্রোডাক্ট ক্রয় করে, তার ওপর ভিত্তি করে আপনাকে নির্দিষ্ট কমিশন দেওয়া হবে। যেমন- Associate Programs, Affiliates Directory, E-commerce Guide এবং Link Share অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কগুলো এ ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে।
iii) লিঙ্ক অ্যাডের জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন করুন: প্রায় ক্ষেত্রেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররাই একটা নির্দিষ্ট স্থান বা বিশেষ সীমানা সিলেক্ট করে নেয়, যেখানে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের অ্যাড দিয়ে আয় করা যায়।
- এমন জায়গা সিলেক্ট করবেন না যেখানে আপনি নিজেকে যথেষ্ট অভিজ্ঞ বলে মনে করেন না। তাই জায়গা সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে এমন জায়গা সিলেক্ট করবেন যেটাতে আপনার যথেষ্ট আগ্রহ আছে।
- শুরু থেকেই দায়িত্ববান হওয়াটা খুব জরুরি। তাই জায়গা সিলেক্টের ক্ষেত্রে এমনটা সিলেক্ট করা উচিত যেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে অনেক সময় কাজ করা যায়।
iv) প্রোডাক্ট বা সার্ভিস পছন্দ করে নিন: জায়গা সিলেক্ট করার পরেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার জন্য আপনাকে আপনার ইচ্ছে অনুযায়ী প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সিলেক্ট করে নিতে হবে।
- Commission Junction কোম্পানি নতুনদের জন্য একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। কারণ এটি ঐতিহ্যবাহী প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের অ্যাডভারটাইজমেন্টে আগ্রহী।
- মার্কেটাররা যদি ডিজিটাল যেমন- ই-বুক, সফটওয়্যার প্রভৃতি কনটেন্টের প্রতি আগ্রহী হয়, তবে তাদের উল্লিখিত কোম্পানিগুলো সিলেক্ট করা উচিত যেমন- Amazon, Clickbank, E-junkie এবং PayDotCom ইত্যাদি।
- পে-পার- ক্লিক মার্কেটিংয়ের জন্য উপযোগী হচ্ছে “Google Adsense”। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার জন্য পে-পার-ক্লিকে কম কমিশন পাওয়া যায়। এর একটি সুবিধা হচ্ছে, এখানে খুব একটা অ্যাকটিভ অ্যাফিলিয়েট হবার দরকার নেই।
v) অ্যাফিলিয়েটর খুঁজে নিন এবং তাদের সাথে কাজ করুন: আরও অভিজ্ঞ প্রাপ্ত হওয়ার জন্য অ্যাফিলিয়েটদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অ্যাফিলিয়েটদের সাথে নিম্নোক্ত উপায়ে যোগাযোগ করতে পারেন-
- ই-মেইলের মাধ্যমে বা বিভিন্ন ব্লগার অথবা অনলাইন মার্কেটারদের সাথে যোগাযোগ করে একে অপরের প্রোডাক্টের অ্যাডভারটাইজ দিতে পারেন।
- সফল অ্যাফিলিয়েটদের সাথে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন ফোরাম বা যৌথ যোগাযোগ অথবা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক (যেমন: Clickbank, Commission Junction ইত্যাদি) ব্যবহার করতে পারেন।
vi) অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে ট্রাফিক বাড়ান (Traffic Drive): যখন আপনি একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করাবেন এবং বিভিন্ন নিরাপদ অ্যাফিলিয়েটদের সাথে কাজ করবেন, তখন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে ট্রাফিক বাড়ানোর দরকার পড়বে। অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে। এর মাঝে সবচেয়ে সহজ ও সফল একটি হচ্ছে, ভালো কোনো একটা ব্লগ পোস্ট বা ওয়েব আর্টিকেল লিখে সাবস্ক্রাইবারদেরকে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে ইনভাইট করা।
এছাড়াও আছে-
- বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ফ্রি কনটেস্টের ব্যবস্থা করা।
- ভাইরাল মার্কেটিং ব্যবহার করা।
- এর মাঝেই অনেক ট্রাফিক ড্রাইভ করা কোনো ফ্রি লিঙ্ক ওয়েবসাইটে সিকিউর করা।
খ) বিজনেস ডেভেলপ করা
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ভালো আয় করতে হলে অবশ্যই ধীরে ধীরে আপনার বিজনেস ডেভেলপ করতে হবে। অ্যাফিলিয়েট বিজনেসকে ভালোভাবে ডেভেলপ করার জন্য নিচের কাজগুলো করতে পারেন-
i) নিজে স্টাডি করুন এবং অন্যান্য অ্যাফিলিয়েটদের থেকে শিখুন: একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে যে কোনো অনলাইন কমিউনিটি বা ফোরামে জয়েন করে আপনার অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারেন। এই অনলাইন রিসোর্সগুলোতে সম্পূর্ণ ফ্রি জয়েন করা যায়।
কয়েকটি ফ্রি রিসোর্স হলো-
- Digital Point
- aBestWeb
- Warrior Forum
ii) সম্পর্ক স্থাপন করুন: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করতে বা সাফল্য লাভ করার জন্য ধৈর্যের সাথে প্রচুর কাজ করতে হয়। মার্কেটারকে অবশ্যই অন্যান্য অ্যাফিলিয়েটদের সাথে একটা সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়।
- একেক জনের কাজের ধরন একেক রকমের হয়। তাছাড়া প্রত্যেকের সাথে যোগাযোগ রাখার মাধ্যমও ভিন্ন ভিন্ন। আপনার অ্যাফিলিয়েট পার্টনার যে ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা পছন্দ করে সে সম্পর্কে আগে জেনে নিন। তারপর সকলের পছন্দের উপর প্রাধান্য দেওয়া আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
- আপনার অ্যাফিলিয়েটের কী প্রয়োজন এবং আপনার কাছ থেকে তাঁরা কী আশা করে সেগুলো আগে জানুন।
- আপনার পরিচিত অ্যাফিলিয়েটরা যেভাবে তাদের ওয়েবসাইট এবং সার্ভিসের উন্নতি করছে তা নিয়ে রিসার্চ করুন।
- আপনার প্ল্যাটফর্মটার উন্নতি করতে তাদের কাছে পরামর্শ চান।
iii) আপনার টার্গেটেড ট্রাফিক আকর্ষণ করুন: অর্থোপার্জনের মূল কাজ হলো লোকজনকে আপনার অ্যাফিলিয়েট সংস্থাগুলির লিঙ্কগুলিতে ক্লিক করার জন্য উৎসাহিত করা। অর্থাৎ, আপনাকে দর্শকদের আকর্ষণ করতে হবে। এজন্য কেবল নিজের ওয়েবসাইট ভিজিট করানোই যথেষ্ট নয়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় তখনি হবে যখন কেউ আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করবে বা ক্লিক করে প্রোডাক্ট ক্রয় করবে। এর জন্য চারটি পদ্ধতি রয়েছে-
- পেইড অ্যাডভারটাইজিং: এখানে অ্যাড কপি, গ্রাফিক্স এবং উচ্চমানের ক্লিকযোগ্য লিংকের মিশ্রণ প্রয়োজন। Google’s AdSense এক্ষেত্রে কার্যকর।
- ফ্রি অ্যাডভারটাইজিং: Craigslist অথবা US Free Ads এর মতো ফ্রি ওয়েবসাইটে লিঙ্ক এবং অ্যাডভারটাইজমেন্টে ফ্রি আয় করা যায়। এখানে যে কেউ আপনার লিঙ্কে ক্লিক করলে দুজনই অর্থাৎ, আপনি এবং আপনার ওয়েবসাইট (যেমন – Craigslist) উভয় ক্ষেত্রেই কমিশন যোগ হবে।
- আর্টিকেল মার্কেটিং: আর্টিকেল পাবলিশের জন্য অনেক মার্কেটাররা Ezine Articles এর মতো ওয়েবসাইট ব্যবহার করে। এখানে একটা আলাদা ‘রিসোর্স বক্স’ থাকে। অন্যান্য ব্লগার বা ওয়েবসাইট এই আর্টিকেল পুনরায় পাবলিশ করলে যে মার্কেটার সর্বপ্রথম এটি পাবলিশ করেছিল, সার্চ ইঞ্জিনে তার র্যাঙ্কিং হবে উপরে।
- ই-মেইল মার্কেটিং: ই-মেইল মার্কেটিং এর জন্য, অ্যাফিলিয়েট ব্যবসায়ীরা ওয়েবসাইট ভিজিটরের জন্য একটি ইমেল সাবস্ক্রিপশন অপশন রাখে। এ অপশন থেকে মার্কেটার ভিজিটরদের নাম এবং ই-মেইল অ্যাড্রেস পায়। মার্কেটার এবং ভিজিটরের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে এটি সাহায্য করে।
iv) একটি পে-পার-ক্লিক (PPC) অ্যাড লিখুন: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার জন্য পে-পার-ক্লিক সবচেয়ে সহজ উপায়। এটি একটি ব্যবসায়িক চুক্তি। এর মাধ্যমে আপনি ব্যবসায়ীর ওয়েবসাইটে যে ক্রেতাদের পাঠাবেন তারা সেখান থেকে ক্রয় করুক বা না করুক আপনি সেখান থেকে কমিশন পাবেন।
একটা ভালো পে-পার-ক্লিক অ্যাডে যা রাখবেন-
- ভোক্তারা সচরাচর যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয় সেসব সমস্যা উল্লেখ করুন এবং সেটার সমাধানের বিষয়ে নজর রাখুন অথবা আপনার প্রোডাক্টের লাভজনক দিক উল্লেখ করুন।
- এমন কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করুন যা ট্রাফিক বাড়াতে সাহায্য করে।
- এমনভাবে পাবলিশ করুন যাতে ভোক্তা নিজ থেকেই আপনার লিঙ্কে ক্লিক করে।
v) সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানের দিকে বেশি লক্ষ্য করুন: বেশি সংখ্যক অ্যাফিলিয়েট থাকলেই যে আপনি বেশি আয় করবেন এরকম ভাবার কোনো কারণ নেই। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সফল হওয়ার চাবিকাঠি হচ্ছে সঠিক অ্যাফিলিয়েটদেরকে দিয়ে প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করানো। ওয়েবসাইট ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, অ্যাফিলিয়েটদের সাথে সুসম্পর্ক রাখাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গ) আপনি কী আশা করছেন সেটা জানুন
আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করতে চান, তাহলে প্রথমেই আপনাকে আপনার টার্গেট সেট করে নিতে হবে। অর্থাৎ আপনি কী কী আশা করেন, কী করবেন, কীভাবে কাজ করবেন ইত্যাদি ঠিক করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি কী কী করতে পারেন নিম্নে তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো-
i) বেশি পরিশ্রমী হতে আশা করুন: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে এসে অনেকেই এক লাফে খুব দ্রুত ধনী হবার আশা করে। কিন্তু ইনকাম করা খুব সহজ নয়। বিশেষ করে প্রথম দিকে এখানে অনেক পরিশ্রমের প্রয়োজন। অনেক মার্কেটাররা সপ্তাহের ৭ দিনই দৈনিক ১২ ঘণ্টা করে পরিশ্রম করেন।
সবসময় খেয়াল রাখবেন, এই ক্ষেত্রটা অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং অনেক মার্কেটিং কোম্পানি নিজেদের মার্কেটার দিয়েই নিজেদের কোম্পানি ম্যানেজ করে। এজন্য আপনাকে অধিক পরিশ্রমী হতে হবে।
ii) এটা কীভাবে কাজ করে জানুন: একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের নিজস্ব আলাদা অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক থাকে। এটা কাস্টমারদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। এতে করে নির্ধারিত প্রোডাক্ট রেটও চেঞ্জ হয় না। কেউ যদি ওই লিঙ্কে ক্লিক করে কোনো প্রোডাক্ট ক্রয় করে, তখন অ্যাফিলিয়েট সেই ক্রয়ের উপর নির্ধারিত কিছু অংশ কমিশন পাবে। অ্যাফিলিয়েটর হিসেবে আপনি কী পরিমাণ ইনকাম করতে পারবেন তা ওই প্রোডাক্টের দাম এবং কমিশন পার্সেন্টেজের ওপর নির্ভর করবে।
iii) আপনার ডেমোগ্রাফি বুঝুন: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে অবশ্যই আপনার একটা টার্গেট ডেমোগ্রাফি থাকবে। আপনার প্রোডাক্ট বিজ্ঞাপন এমনভাবে দিতে হবে যেন টার্গেট ডেমোগ্রাফি সংখ্যক ভিজিটর অ্যাড দেখেই আপনার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে বাধ্য হয়।
মূল কথা হচ্ছে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করতে হলে আপনাকে হতে হবে অধিক পরিশ্রমী এবং ধৈর্যশীল। এখানে একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হলে অনেক সময়ের প্রয়োজন। টার্গেট অনুযায়ী অধিক পরিশ্রম এবং কৌশল অনুযায়ী কাজ করলে আপনি খুব সহজেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করতে পারবেন।
৩. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ সফল হওয়ার কিছু উপায় বলবেন কি?
উত্তর:
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সবাই সফল হতে চায়। অনলাইন থেকে খুব দ্রুত ও সহজে ইনকাম করার মাধ্যম হিসেবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এখন সকলের কাছেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে অনেকেই ইন্টারনেটের বিভিন্ন আর্টিকেল এবং টিউটোরিয়াল দেখে থাকেন।
বর্তমানে অনেক ওয়েবমাস্টার তাদের ওয়েবাসাইটকে শুধুমাত্র পে-পার-ক্লিক (PPC) প্রোগ্রামের মধ্যে স্থির না রেখে ওয়েবসাইটে আসা ভিজিটরদের কাজে লাগিয়ে নতুন কোনো পদ্ধতিতে আয় করতে আগ্রহী হচ্ছেন। এজন্যই তারা ধীরে ধীরে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অন্যর প্রোডাক্ট প্রমোট করার মাধ্যমে সেগুলোকে বিক্রয় করার চেষ্টা করা এবং যখন এ লিঙ্কের মাধ্যমে কোনো প্রোডাক্ট বিক্রয় হবে তার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন গ্রহণ করার প্রক্রিয়া।
এক্ষেত্রে আপনাকে কোনো প্রোডাক্ট কেনা বা বেচার ঝামেলায় পড়তে হয় না। এমনকি নিজস্ব ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানানোরও প্রয়োজন পড়ে না। আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভিজিটরদের প্রোডাক্ট সম্পর্কে এমন ধারণা প্রদান করতে হবে, যাতে তারা দেখেই পণ্যটি ক্রয় করতে আগ্রহী হয়।
যদি কোনো ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে থাকা লিঙ্কে ক্লিক করে কোনো প্রোডাক্ট ক্রয় করে, তাহলে আপনি সেই প্রোডাক্টের জন্য নির্ধারিত অংশ কমিশন পাবেন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এমন একটি কমিশন বেজড রেফারেল সিস্টেম যেখানে আপনাকে কোনো ওয়েবসাইটের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হতে হয় এবং বিক্রয়ের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে পার্সেন্টেজ গ্রহণ করতে হয়। অন্যান্য সকল পেশার মতোই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সফল হতে চাইলে আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করাও অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হওয়ার উপায়:
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সফল হতে হলে কিছু উপায় অবলম্বন করতে হবে। আজ আমি এ সম্পর্কে কিছু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। নিচে কিছু উপায় দেওয়া হলো-
১। আপনার কাজকে ভালোবাসুন: আমার মতে, এটাকে প্রথমে রাখা উচিত। আপনি যা করেন তা যদি না ভালোবাসেন, তবে আপনি কখনই সফল হতে পারবেন না। যদি আপনি কেবল অর্থের জন্য এটি করে থাকেন, তবে আপনার এবং মার্কেটিং কোম্পানির কোনো কর্মচারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, যিনি তার চাকরিতে উদাস হয়ে তাকে ঘৃণা করেন। তবুও তিনি এটি চালিয়ে যাচ্ছেন যেহেতু এটি দিয়ে তার জীবন চলে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে, আপনি যা করছেন তা ভালোবাসা জরুরি। অন্যথায়, আপনি নতুন আইডিয়া এবং মার্কেটিং অ্যাঙ্গেলগুলোর সাথে আসতে পারবেন না, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসাবে সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয়।
২। আপনার প্রমোট করা প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানুন: ভিজিটরদের জন্য একটি সংস্থান হিসাবে আপনার ওয়েবসাইট দেখুন। আপনি যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসগুলো সরবরাহ করছেন সেগুলো এবং সেইসাথে আপনার টার্গেট করা সম্পর্কে জানতে হবে। সময় নিয়ে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য এমন প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারেন যা আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে। সেই বিশ্বাসযোগ্যতা আস্থা তৈরি করে। যদি আপনার ভিজিটর আপনার উপর আস্থা না রাখে, তবে সম্ভবত তারা আপনার স্টোরহাউস থেকে কিনবে না।
৩। আপনার লক্ষ্যে স্থির থাকুন: আপনি যে লক্ষ্যে কাজ করছেন তা থেকে কখনো পিছিয়ে যাবেন না। কাজ করতে গেলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে, এতে করে সেটা বাদ দিলে হবে না। কারণ ব্যর্থতা কখনো সাফল্যের পথে বাধা দেয় না। ব্যর্থতাই আপনাকে সফল করে তোলে। সুতরাং হাল ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে, আবার নতুন করে উঠে পড়ুন এবং আপনি কোথায় ভুল করেছেন তা নির্ধারণ করার চেষ্টা করুন এবং নিজেকে সংশোধন করুন।
৪। প্ল্যান ঠিক করুন: কোনো কিছু সম্পর্কে আগে থেকে প্ল্যান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কী কী করতে চান সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে ফেলুন (যেমন- আপনি কোন ব্যবসা চালাতে চান, কীভাবে চালাতে চান, সেই ব্যবসাতে কী কী দরকার, কী কী প্রোডাক্ট প্রয়োজন, কোন কাজে ব্যর্থ হলে কী করতে হবে ইত্যাদি)। এই পরিকল্পনাগুলো আগে থেকে করা থাকলে আপনার কাজ করতে অসুবিধা হবে না। যা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং আপনি খুব সহজেই সফল হতে পারবেন।
৫। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য উপযুক্ত নিশ নির্বাচন করুন: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে নিশ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা আপনার সাফল্যের দায়ভার গ্রহণ করে। নিশ এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আপনি কাজ করতে আগ্রহী। যেমন, আপনি যদি দেখেন কোনো ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র কম্পিউটার সম্পর্কেই আর্টিকেল/ব্লগ রয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন কম্পিউটার সম্পর্কে রিভিউ করা হচ্ছে, তাহলে উক্ত ওয়েবসাইট কম্পিউটার নিশ নিয়ে কাজ করে, এটা সহজেই বুঝা যায়।
আমার মতে, একসাথে সব নিয়ে কাজ করার চাইতে কোনো একটি বা দুটি নির্দিষ্ট নিশ নিয়ে কাজ করলে সবচেয়ে বেশি সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য আপনাকে অবশ্যই একটি উপযুক্ত নিশ সিলেক্ট করতে হবে এবং তার জন্য উপযোগী ভিজিটরদের টার্গেট করে কাজ করতে হবে। নিশ সিলেক্ট করার পর আপনাকে প্রথমে নিশ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রোডাক্ট এবং সেবা সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কে ভিজিটরদের জানাতে হবে।
৬। আপনার ওয়েবসাইটের মার্কেটিংকে গুরুত্ব দিন: অন্যান্য প্রোডাক্টের মতো আপনার যদি ভিজিটরের প্রয়োজন হয়, তবে আপনাকে সেটি প্রচার করতে হবে। সার্চ ইঞ্জিন এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার উপস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে। কখনোই ট্রাফিক ভিত্তিক কোনো প্রোডাক্ট বা সেবা ক্রয় না করাই ভালো। কারণ – ২ লক্ষ সাধারণ ভিজিটরের চাইতে, আপনার নিশ সম্পর্কিত ২ হাজার ভিজিটর অনেক বেশি লাভজনক।
এজন্য সার্চ ইঞ্জিন থেকে আসা ট্রাফিক সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। কারণ, এখান থেকে শুধুমাত্র সেইসব ভিজিটরই আপনার ওয়েবসাইটে আসে, যারা উক্ত প্রোডাক্ট ক্রয় করতে বা সে সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। এ কারণে ওয়েবসাইটের প্রচারণার জন্য অবশ্যই আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও (SEO) এর প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আপনার ওয়েবসাইটটি সার্চে উপস্থিত থাকার অর্থই হচ্ছে আপনার প্রোডাক্টের রিভিউ সম্পর্কে মানুষ জানতে আগ্রহী।
৭। ভিজিটরদের বুঝতে শিখুন: বেশিরভাগ সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা তাদের ভিজিটরদের সাথে কথা বলেন। আপনার যদি একটি ব্লগ থাকে তবে কমেন্ট করার অনুমতি দিন। এটি আপনাকে আপনার ভিজিটরদের সাথে কথোপকথনের সুযোগ দেবে। হ্যাঁ, আপনার স্প্যাম ফিল্টার করতে হবে, তবে আপনি যদি বেশিরভাগ কমেন্টকারীকে রিপ্লাই দেন এবং কথোপকথন শুরু করেন, তারা কথোপকথন চালিয়ে ফিরে আসবে।
একটি ব্লগ পোস্ট শেষে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। “অন্যান্য কোন বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত?” “আপনি কি এই বিষয়ে আরও তথ্য চান?” “আপনার মতামত আমাদের বলুন!” এই কলগুলি অ্যাকশন থেকে সম্প্রদায়ের মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করবে। রিপ্লাই দেওয়ার সময়, যেখানেই সম্ভব কমেন্টারদের নাম ব্যবহার করুন। এতে করে তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠবে। তারা আপনার সাইটে বারবার আসতে উৎসাহিত হবে।
তাছাড়া, আপনি যদি আপনার ভিজিটরদের ভুল প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণা দেন, তাহলে এটি ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না। আপনাকে অবশ্যই আপনার ভিজিটর সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। যেমন- আপনার ব্লগের ভিজিটররা কোন প্রকৃতির, তারা কী জানতে চায় ইত্যাদি বিষয়গুলো বুঝতে পারলেই আপনি তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ আপনার ওয়েবসাইটে দিতে পারবেন। এজন্যই উপরে নিশকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন সাইটের অ্যাফিলিয়েশন নেওয়ার ব্যাপারে ওয়েবমাস্টাররা ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়ে থাকেন। তবে ইন্টারনেটে থাকা বড় বড় কোম্পানি, যেমন-
- Clickbank
- ShareaSale
- Amazon Association
- Commission Junction
- eBay এসব বড় বড় সেরা অ্যাফিলিয়েট কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করাটাই সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত বলে আমি মনে করি।
উপরে দেওয়া যে কোম্পানির অ্যাফিলিয়েশন নিয়েই আপনি কাজ করেন না কেন, মোটামুটি সব কোম্পানির কাজের ধরন প্রায় একই। তবে ভিজিটরের কাছে এদের মধ্যে কোন কোম্পানির গ্রহণযোগ্যতা বেশি, সেটা বুঝে নিয়েই আপনাকে অ্যাফিলিয়েশন নিতে হবে। যদি এমন কোনো ওয়েবসাইটের অ্যাফিলিয়েশন নেন, যেখান থেকে ভিজিটররা প্রোডাক্ট কিনতে আগ্রহী নন সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটটি কোনো কাজেই আসবে না।
শুধু সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হওয়ার উপায় জানলেই হবে না, এগুলো জানার পরে তা নিয়ে কাজ করাই হচ্ছে বড় ব্যাপার। শুধু শুধু বসে থেকেই কেউ সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে পারে না। এর জন্য বিনিয়োগ, পর্যাপ্ত মেধা এবং কঠোর পরিশ্রম— এই তিনটিই অধিক প্রয়োজন হয়।
৮। এক্টিভ থাকুন ও লেগে থাকুন: অনেক সময় সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েবসাইটকে র্যাঙ্ক করাতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। এরকম সময়ে ধৈর্য রাখার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে তারপরেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা উচিত। এছাড়া শুরু করার আগে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সফল কিছু ওয়েবসাইট ঘুরে দেখে, জানার চেষ্টা করা উচিত, যে কেন তারা সফল, তাদের সফলতার পিছনে কিসের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ইত্যাদি। তাহলে আপনার মাথায় একটা আইডিয়া আসবে, স্ট্র্যাটেজি জানা যাবে এবং সফল হওয়া সহজ হবে।
৪. অনলাইনে ইনকাম করার মত সেরা অনলাইন জবগুলো কি কি?
উত্তর:
ইন্টারনেটের এই যুগে এখন মানুষ ঘরে বসেও অনলাইনে ইনকাম করার সুযোগ পাচ্ছে। এজন্য আপনি অনলাইনে কিছু পার্ট টাইম জব পেতে পারেন যার মাধ্যমে কিছু অতিরিক্ত টাকাও কামাই করতে পারেন।
ইন্টারনেটে আপনি অনেক প্ল্যাটফর্ম পাবেন যেগুলো ব্যবহার করে সহজেই অনলাইনে জব খুঁজে নিতে পারেন। কখনও কখনও মানুষ পার্টটাইম হিসেবে অনলাইনে কাজ শুরু করার পর আস্তে আস্তে তা ফুল টাইম হিসেবে বেছে নেন।
তাই আপনি যদি অনলাইনে কাজ করে কিছু টাকা অনলাইনে আয় করার কথা ভেবে থাকেন তাহলে অনলাইনে কাজ করার জন্য আপনার প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
আপনার সুবিধার্থে এখানে আমি বাংলাদেশের সেরা ১০টি অনলাইন জব সম্পর্কে বিস্তারিত জানাচ্ছি যাতে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।
সেরা ১০ অনলাইন পার্ট-টাইম জব যেগুলো আপনি ঘরে বসেই করতে পারবেন:
যারা আসলে পার্টটাইম জব খোঁজেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই এমন জব খোঁজেন যেগুলো ঘরে বসে করা যায়। তাই আপনি যদি ঘরে বসে পার্ট টাইম জব করার কথা ভেবে থাকেন তবে আপনি সঠিক জায়গাতেই এসেছেন।
আমরা আপনার সুবিধার্থে সেরা ১০ অনলাইন জবের তালিকা সাজিয়ে রেখেছি। এতে করে আপনার আয়ের পথ যেমন সুগম হবে তেমনি অনেক তাড়াতাড়ি টাকা আয় করার সুযোগ পাবেন।
এখানে আমরা এমন সব অনলাইন জবের কথা বলব, যেগুলো আপনি পার্ট টাইম বা ফুল টাইম উভয় ভাবেই করতে পারবেন।
১। ব্লগিং (Blogging): অনলাইনে ইনকামের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রথমেই আমরা ব্লগিংকে রেখেছি। পার্টটাইম কিংবা ফুলটাইম উভয় ক্ষেত্রেই আপনি ব্লগিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন। প্রচুর পরিমাণ ছাত্রছাত্রী, গৃহিণীরা ব্লগিং এর কাজ করে ইনকাম করছেন এবং তারা মাসে প্রায় ৳১০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০ অনায়াসে আয় করে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তো আবার ব্লগিং করে লাখ লাখ টাকা আয় করেন।
ব্লগিং শুরুর ক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে তা হচ্ছে নিজের নামে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে হবে। সেখানে আপনি আপনার দক্ষতা, জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপর টিউটোরিয়াল তৈরি করে কিংবা আর্টিকেল লিখে পোস্ট করতে পারেন। আপনার আর্টিকেলগুলো ভালো হলে আস্তে আস্তে আপনার ব্লগে ভিজিটর বাড়বে এবং আপনি টাকা আয় শুরু করতে পারবেন।
আপনার ব্লগে যদি দিনে মাত্র ১০০০ বা ২০০০ ইউনিক ভিজিটর আসে, তাহলে আপনি সহজেই গুগল অ্যাডসেন্সের (Google AdSense) মাধ্যমে মোটামুটি ভালো মাপের টাকা আয় করতে পারবেন। ভালোভাবে আপনি যদি ব্লগিং করেন তবে প্রথম দিকেই ৳৫০০০ থেকে ৳৭০০০ আয় করতে পারবেন।
এটি ছাড়াও ব্লগ থেকে আরও কিছু উপায়ে আপনি টাকা আয় করতে পারবেন যেমন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, অ্যাডভার্টাইজিং নেটওয়ার্ক, প্রোডাক্ট সেল ইত্যাদি। তবে, ব্লগিং সম্পর্কে সকল জরুরি তথ্য জানার জন্য ও ব্লগিং শেখার জন্য কিছু সময় তো আপনার লাগবেই।
বর্তমানে অনলাইনের প্রত্যেকটি জায়গায় প্রচুর প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই, ব্লগিং বা যে কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে পার্ট টাইম ইনকাম করার জন্য আপনাকে যথেষ্ট সময় দিতে হবে। তবে আপনি যদি সেরা অনলাইন জব এর খোঁজ করেন তবে ব্লগিং আপনার জন্য সবচেয়ে লাভজনক হতে পারে।
২। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: আপনার যদি অনলাইনে ইনকাম করার ইচ্ছা থাকে তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনার জন্য পারফেক্ট সমাধান। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে ইনকাম করার প্রচুর সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে অনেকেই অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন এক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে আপনি নামীদামী অনলাইন কোম্পানিগুলোর “অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম” অপশনে গিয়ে সেখানে জয়েন করে তাদের প্রোডাক্টস ও সার্ভিসগুলো প্রচার করে দিবেন। আপনার প্রচারকৃত প্রোডাক্ট বা সার্ভিসগুলো যদি কেউ নেয় তবে সেখান থেকে আপনি ভালো পরিমাণ একটা অংশ কমিশন পাবেন।
এক্ষেত্রে আপনার শুধু একটাই কাজ। সেটি হল অনলাইন কোম্পানিগুলোকে গ্রাহক এনে দেওয়া, বাকি কাজ কোম্পানি নিজেই করে নিবে। এভাবে অনেকে Amazon, eBay, Flipkart এবং ইন্টারনেটে থাকা হাজার হাজার অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কগুলোতে যুক্ত হয়ে তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসগুলো অনলাইনে বিক্রি করিয়ে দিচ্ছেন। যার বিপরীতে, ভালো পরিমাণের টাকা তারা ইনকাম করে নিতে পারছেন।
৩। অনলাইন পেইড সার্ভে (Online Paid Survey): এটা এমন একটা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে আপনার বেশি সময় দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। যে সময়টুকু আপনি ফ্রি থাকবেন সে সময়টুকুতে আপনি অনলাইনে সার্ভের কাজ করতে পারেন। অনলাইন সার্ভে মানে হচ্ছে আপনাকে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসগুলোতে নিজের মতামত ব্যক্ত করবেন। তাই অবসর সময়ে সার্ভের কাজকে অনলাইন পার্ট টাইম জব হিসেবে চাইলে করতেই পারেন।
এখানে, আপনাকে খুব বেশি সময় দিতে হবে না। শুধুমাত্র নিজের ফ্রি সময়গুলোতেই এই অনলাইন সার্ভের কাজ করে অতিরিক্ত টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করলে আপনি অনেক অনলাইন সার্ভে ওয়েবসাইট পাবেন যারা আপনাকে সত্যি সত্যি টাকা দিবে।
৪। ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোতে কাজ করুন: অনলাইনে ইনকাম করার আরেকটি ভালো মাধ্যম হচ্ছে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট। এইসব সাইটগুলিতে বিভিন্ন এমপ্লয়ার বা ক্লায়েন্টরা বিভিন্ন রকমের কাজ করানোর জন্য ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করানোর জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন এবং অপরদিকে ফ্রিল্যান্সাররা এই সাইটগুলোকে ব্যবহার করেন নতুন নতুন কাজ খোঁজার জন্য।
যেমন ধরুন, আপনি খুব ভালোভাবে ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে, যারা তাদের ব্যবসার জন্য ভালো একটি ওয়েবসাইট বানাতে চাচ্ছেন এবং সেটি বানানোর জন্য ফ্রিল্যান্সার খুঁজছেন, আপনি তাদের ওয়েবসাইট বানিয়ে দেওয়ার জন্য আপনার চাহিদা অনুযায়ী টাকা নিতে পারেন।
এরকম যেকোনো কাজ যদি আপনি জানেন যেমন, আর্টিকেল রাইটিং, ওয়েব ডিজাইনিং, অ্যানিমেশন মেকিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও ইত্যাদি কাজের জন্য অনায়াসে ক্লায়েন্ট পেয়ে যাবেন।
চলুন এবার আমরা দেখে নেই, ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আমরা কোন কোন সাইট ব্যবহার করতে পারি। যেমন-
- Freelancer.com: এই ওয়েবসাইটে আপনি প্রায় সব রকম কাজের জন্য ক্লায়েন্ট পেয়ে যাবেন। ১৩৫০টিরও বেশি সংখ্যক আলাদা আলাদা ক্যাটাগরিতে এখানে মানুষজন তার কাজ খুঁজে নিচ্ছেন। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ক্যাটাগরি হলো – অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স, এসইও, ফটোশপ, ইন্টারনেট মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, মোবাইল অ্যাপ ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন ইত্যাদি। এসব ছাড়াও আরও অনেক জনপ্রিয় বিষয়ের উপর এখানে কাজ পেয়ে যাবেন।
- Fiverr: Fiverr হলো অনেক পুরোনো, বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট। এখানে আপনি অনেক কাজ খুঁজে পাবেন। প্রত্যেকটি কাজের শুরু এখানে ৫ ডলার থেকে। এখানে আপনি গ্রাফিক ডিজাইনিং থেকে শুরু করে ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও বা অ্যানিমেশন রিলেটেড কাজ, কনটেন্ট রাইটিং ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করতে পারবেন।
- Upwork: Upwork অনেক নামকরা একটি ফ্রিল্যান্সিং সাইট। এই সাইটে ১২ মিলিয়নেরও বেশি ফ্রিল্যান্সার কাজ করে প্রতিনিয়ত টাকা আয় করছেন। প্রতি বছর এখানে ৩ মিলিয়নের বেশি কাজের বিজ্ঞাপন দিয়ে পোস্ট করা হয়। এই সাইটে প্রায় সব ধরনের কাজই পাওয়া যায়।
- Guru: Guru ওয়েবসাইটে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ কানেক্টেড আছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষাধিক কাজ এই সাইটের মাধ্যমে করানো হয়েছে। এখানেও আপনারা নিজের পছন্দের প্রায় সব রকম বিষয়ের উপর কাজ খুঁজে নিতে পারবেন।
তাই, আপনি যদি নিজের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে উপরের ওয়েবসাইটগুলোতে গিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।
৫। কনটেন্ট রাইটিং: অনলাইনে ইনকাম করার আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো কনটেন্ট রাইটিং। যদি আপনি ভালো আর্টিকেল লিখতে পারেন তাহলে কনটেন্ট রাইটিংকে আপনি সেরা পার্টটাইম জব হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।
অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেগুলো থেকে আপনি পার্ট টাইম জব খুঁজতে পারেন। তারমধ্যে কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম হলো- Fiverr, Freelancer.com, Upwork, Hirewriters.com, iWriter.com ইত্যাদি। এই ওয়েবসাইটগুলোতে গিয়ে আপনি সহজেই কনটেন্ট লেখার কাজ খুঁজতে পারবেন।
যদি আপনার ভালো লেখার অভিজ্ঞতা থাকে আর ভালোভাবে এই কাজ করতে পারেন তাহলে কম করে হলেও ঘন্টায় ৫ থেকে ২০ ডলার করে আয় করতে পারবেন।
৬। ক্যাপচা সমাধান (Captcha Solving): যারা ইন্টারনেট চালান তারা প্রায় ক্যাপচা মানে বোঝেন। কারণ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে আমাদের এটির সম্মুখীন হতে হয়। ক্যাপচা হলো এমন কিছু ইমেজ বা সংখ্যার মিশ্রণ যা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় দেখানো হয়ে থাকে। তাছাড়া বাংলাদেশের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট দেখার সময় আপনাকে ক্যাপচার সম্মুখীন হতে হয়।
এই ক্যাপচা ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রোবটের হাত থেকে বাঁচা। অনেকে খারাপ উদ্দেশ্যে কিংবা ওয়েবসাইট স্লো ডাউন করে ফেলার জন্য বট দিয়ে ওয়েবসাইট ভারি করে ফেলে এবং একের পর এক অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। এসব সমস্যা থেকে বাঁচার জন্যই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ক্যাপচার আবির্ভাব।
ক্যাপচা সল্ভিং কোম্পানিগুলো প্রায় ১০০০ ক্যাপচা সঠিকভাবে টাইপ করার বিনিময়ে আপনাকে ১ থেকে ২ ডলারের মত টাকা দেয়। যদি আপনার টাইপিং স্পিড অনেক ভালো থাকে তবে কেবল ১ থেকে ২ ঘন্টার মধ্যেই ১০০০ ক্যাপচা সল্ভ করে ফেলতে পারবেন।
আপনার সুবিধার্থে আমরা নিচে কিছু ক্যাপচা সল্ভিং ওয়েবসাইটের সন্ধান দিচ্ছি যেখান থেকে আপনি ক্যাপচা সল্ভিং এর পার্ট টাইম জব খুঁজতে পারবেন। যেমন-
- 2captcha.com: প্রায় ১ ডলার পেতে পারেন ১০০০ ক্যাপচা সল্ভ করে।
- kolotibablo.com: ০.৩৫ ডলার থেকে ১ ডলার প্রতি ১০০০ ক্যাপচা ইমেজ এর জন্য।
- protypers.com: ০.৪৫ ডলার থেকে ১.৫ ডলার প্রত্যেক ১০০০ ক্যাপচা ইমেজ সল্ভ করে পাবেন।
- megatypers.com: নতুন কাজের ক্ষেত্রে আপনি প্রত্যেক ১০০০ ওয়ার্ড ইমেজ এর জন্য পাবেন ০.৪৫ ডলার থেকে ১ ডলার।
৫. প্রশ্ন: অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার সেরা ওয়েবসাইট নাম?
উত্তর:
ছবি তুলতে কে না পছন্দ করে? কমবেশি সবাই ছবি তুলতে ভালোবাসে। বর্তমান ফোনের যুগে ছবি তোলা এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। কোথাও গেলেই সবাই ছবি তুলে। তবে আপনি কি জানেন এই ছবি বিক্রি করেও আয় করা যায়? এই ছবি তোলা থেকেও যদি বাড়তি আয় করা যায়, তাহলে কেমন হয়?
অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার জন্য অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে। সেখান থেকে আপনার সুবিধার জন্য এখানে সেরা ৯টি ওয়েবসাইট সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
অনলাইন থেকে আয় করার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। এর মধ্যে ফটোগ্রাফি করেও আয় করার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি ফোনে ছবি তুলতে পছন্দ করেন বা ছবি তুলে আনন্দ অনুভব করেন, তাহলে আপনি এই ছবি বিক্রি করে ইনকামও করতে পারবেন।
এই ওয়েবসাইটগুলো হতে পারে আপনার অবসর সময় কাটানোর চমৎকার একটি উপায়।
অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার সেরা ৯টি সাইট হলো-
- iStock Photo
- Art Storefronts
- SmugMug
- Alamy
- Stockxpert
- PhotoShelter
- Zenfolio
- Redbubble
- 123RF
১। iStock Photo
iStock এর মাধ্যমে ছবি বিক্রি করে আয় করা যায়। প্রতিটি ডাউনলোডের জন্য ১৫% রয়্যালটি ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়াও বিশেষ অবদানকারী অপশন আছে, যেখান থেকে ৪৫% পর্যন্ত ইনকাম করা যায়।
এখান থেকে ইনকাম করতে হলে আপনাকে এখানে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এর জন্য কোনো টাকা দিতে হবে না, আপনি ফ্রিতেই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর আপনি এখানে ইমেজ আপলোড করতে পারবেন। যখন কোনো ইউজার আপনার ছবি ডাউনলোড করে নিবে, তখন এই ওয়েবসাইট থেকে আপনাকে কিছু টাকা দেওয়া হবে।
২। Art Storefronts
এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি শিখতে পারবেন কীভাবে অনলাইনে আপনার ছবি চারুকলা হিসেবে বিক্রি করতে পারবেন। পেশাদার ফটোগ্রাফারদের জন্য এটা একটি শক্তিশালী সাইট। এখানে আর্ট প্রিন্ট হিসেবে তাদের ছবি বিক্রি করা হয়।
৩। SmugMug
এই ওয়েবসাইটটি একটি অনলাইন গ্যালারির মতো। এই ওয়েবসাইটের দুটি উদ্দেশ্য আছে-
- আপনার ছবি অনলাইনে বিক্রি করা।
- তাদের ওয়েবসাইটকে আপনার ছবি দিয়ে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা।
SmugMug-এ আপনার ছবির দাম আপনি নিজেই ঠিক করতে পারবেন। এই সাইট থেকে আপনি ৮৫% পর্যন্ত রয়্যালটি উপার্জন করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, এর আরেকটি সুবিধা হচ্ছে এখান থেকে আপনি অন্যদের ছবি ডাউনলোড করেও আয় করতে পারবেন।
৪। Alamy
Alamy ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে খুব সহজেই ছবি আপলোড করতে পারবেন। এখানে প্রতিটি ছবি বিক্রি করার জন্য আপনাকে ৪০-৫০% ইনকাম দেওয়া হবে। এখানে ইনকাম করা টাকা প্রতি মাসে একসাথে দেওয়া হবে।
এই সাইটটি বিশ্বের বৃহত্তম ছবি স্টকগুলোর মধ্যে একটি। এখানে ছবি তোলার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। আপনি চাইলে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
৫। Stockxpert
অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার জন্য সেরা একটি ওয়েবসাইট হলো Stockxpert। এই ওয়েবসাইটে নতুনদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা থাকে। নতুনদের ছবি বিক্রি করে আয় করার জন্য এটি একটি সেরা ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইট থেকে আপনার কোনো ছবি বিক্রি হলে ইনকাম থেকে আপনি ৫০% পাবেন।
৬। PhotoShelter
পুরো পৃথিবীজুড়ে ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি পরিচিত ওয়েবসাইট হলো PhotoShelter। এটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর হেডকোয়ার্টার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।
৭। Zenfolio
এই ওয়েবসাইটে আপনি আপনার কাজের একটি পোর্টফোলিও তৈরি করতে পারবেন, যেখানে আপনি আপনার ছবিগুলো আপলোড করতে পারবেন। তাছাড়া গ্যালারিও তৈরি করতে পারবেন এবং গ্যালারির সুরক্ষার জন্য পাসওয়ার্ড দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। বিয়ে এবং ইভেন্ট ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি একটি সেরা সাইট। এখানে আপনি নানারকম ইভেন্টের ছবি বিক্রি করতে পারবেন। এই ওয়েবসাইটে প্রথমে আপনাকে ১৪ দিনের ফ্রি ট্রায়াল দেওয়া হবে।
৮। Redbubble
অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার একটি ভিন্নধর্মী সাইট হচ্ছে Redbubble। এখানে আপনি আপনার ছবিগুলো বিক্রির পাশাপাশি, তারা আপনার ছবির সাথে অন্য প্রোডাক্ট সম্পর্কেও বার্তা দিবে।
৯। 123RF
এই ওয়েবসাইটে আপনার ইনকাম ঠিক করা হয় আপনার অংশগ্রহণের উপর ভিত্তি করে। এখানে আপনি যত বেশি ছবি আপলোড করবেন, আপনার ইনকামও তত বাড়তে থাকবে। এখানে আপনি যদি নিয়মিতভাবে কাজ করেন, তাহলে আপনি ৩০% থেকে ৬০% পর্যন্ত রয়্যালটি পাবেন।
আপনি যদি অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করতে চান, তাহলে আর দেরি না করে আজই আপনার পছন্দের যেকোনো সাইটে জয়েন করে ছবি বিক্রি করা শুরু করে দিন। আপনার ফটোগ্রাফি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অনলাইন থেকে আয় করার এই সুযোগটি গ্রহণ করতে পারেন।
পরিশেষে বলা যায়, অনলাইন ইনকামের জগৎ বিশাল এবং সম্ভাবনায় ভরপুর। ফরেক্স ট্রেডিং থেকে শুরু করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ছবি বিক্রির মতো ক্ষেত্রগুলোতে সঠিক দক্ষতা, পরিকল্পনা, এবং ধৈর্য থাকলে উল্লেখযোগ্য আয় সম্ভব। নিয়মিত শেখার মাধ্যমে এবং বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আপনি অনলাইনে সফলভাবে আয় করতে পারেন। নিজের দক্ষতা বাড়ান এবং সুযোগগুলো কাজে লাগান।
