আল্লাহ কি নিরাকার?

আল্লাহ কি আসলেই নিরাকার? জানুন
আসসালামু আলাইকুম।
আমাদের সমাজের অনেকের মধ্যেই একটা বদ্ধমূল ধারণা আছে যে, মহান আল্লাহ ‘নিরাকার’। অর্থাৎ তাঁর কোনো আকার বা আকৃতি নেই। আমরা ছোটবেলা থেকে অনেকেই এটাই শুনে এসেছি। কিন্তু আপনারা কি জানেন, কুরআন ও হাদিস এবং বড় বড় ইমামদের কথা অনুযায়ী এই ধারণাটি আসলে পুরোপুরি সঠিক নয়?
আজকের এই লেখায় খুব সহজ ভাষায় এবং প্রমাণসহ জানাব—কেন আল্লাহ নিরাকার নন এবং তাঁর আকার সম্পর্কে ইসলাম আসলে কী বলে।
আসল সত্যটা কী?
সোজা কথায় উত্তর হলো: “আল্লাহ নিরাকার নন, বরং তাঁর আকার আছে।”
তবে এখানে একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। সেটি হলো—আল্লাহর আকার আছে, কিন্তু সেই আকার আমাদের বা পৃথিবীর কোনো সৃষ্টির মতো নয়।
মূল কথা: আল্লাহর আকার বা আকৃতি কেমন, সেটা একমাত্র তিনিই ভালো জানেন। তাঁর আকার তাঁর শান ও মান অনুযায়ী। এর সাথে মানুষের বা অন্য কোনো প্রাণীর আকারের কোনো মিল নেই। আমরা কল্পনাও করতে পারব না তাঁর আকার কেমন।
কুরআন ও হাদিসে কী প্রমাণ আছে?
পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদিসে আল্লাহ তায়ালা নিজেই নিজের সম্পর্কে কিছু বর্ণনা দিয়েছেন। আসুন দেখি সেগুলো কী-
১. আল্লাহর হাত ও হাতের মুঠো
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, তাঁর ‘হাত’ আছে। ইহুদিরা যখন বলেছিল আল্লাহর হাত বাঁধা, তখন আল্লাহ কুরআনে জবাব দেন যে, “বরং তাঁর (আল্লাহর) উভয় হাত প্রসারিত” (সূরা মায়িদাহ)।
আবার কিয়ামতের দিন আল্লাহ পুরো পৃথিবীকে তাঁর হাতের মুঠোয় রাখবেন এবং আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে। (সহীহ বুখারী ও সূরা যুমার)।
২. আল্লাহর আঙুল
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষের অন্তরসমূহ আল্লাহর আঙুলগুলোর মধ্যে দুই আঙুলের মাঝে থাকে। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিচালনা করেন। (সহীহ মুসলিম)।
৩. আল্লাহর পা
জাহান্নামে যখন পাপীদের ফেলা হবে, তখন জাহান্নাম আরও চাইবে। তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর পা মোবারক জাহান্নামে রাখবেন, তখন জাহান্নাম বলবে—’যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে’। (সহীহ বুখারী)।
৪. আল্লাহর চেহারা ও চোখ
কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু একমাত্র আপনার রবের ‘চেহারা’ বা সত্তা বাকি থাকবে। (সূরা আর রহমান)। এছাড়া আল্লাহ মুসা (আ.) কে বলেছিলেন যে, তিনি আল্লাহর চোখের সামনে প্রতিপালিত হয়েছেন।
৫. আল্লাহকে দেখা
সবচেয়ে বড় এবং সহজ যুক্তি হলো—যিনি নিরাকার (যার কোনো আকার নেই), তাকে কি দেখা সম্ভব? না। কিন্তু আমরা জানি, জান্নাতিরা আল্লাহকে দেখবেন।
রাসুল (সা.)-কে সাহাবীরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমরা কি আল্লাহকে দেখব? তিনি পূর্ণিমার চাঁদের উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, চাঁদ দেখতে যেমন কোনো কষ্ট হয় না, জান্নাতে তোমরা আল্লাহকে ঠিক তেমনই স্পষ্ট দেখতে পাবে। (সহীহ বুখারী)। এতেই প্রমাণ হয়, আল্লাহর নির্দিষ্ট আকার আছে বলেই তাঁকে দেখা যাবে।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) কী বলেছেন?
আমরা যারা হানাফি মাযহাব মানি, সেই ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তাঁর ‘ফিকহুল আকবার’ বইতে পরিষ্কার বলেছেন|
“আল্লাহর হাত, মুখমন্ডল এবং নফস (সত্তা) আছে, যেমনটি কুরআনে বলা হয়েছে। তবে আল্লাহর হাত আমাদের হাতের মতো নয়। তাঁর কোনো গুণের সাথেই সৃষ্টির মিল নেই।”
তিনি আরও সাবধান করেছেন যে, কেউ যেন নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে আল্লাহর ‘হাত’-কে ‘ক্ষমতা’ বা অন্য কিছু না বলে। যা কুরআনে আছে, তা-ই বিশ্বাস করতে হবে।
শেষ কথা
ভাই ও বোনেরা, বিষয়টি খুব সংবেদনশীল কিন্তু সহজ। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে:
১. আল্লাহর আকার আছে।
২. সেই আকার কেমন, তা আমরা জানি না এবং কল্পনাও করব না।
৩. তাঁর আকারের সাথে কোনো সৃষ্টির মিল নেই (লাইসা কামিসলিহি শাইউন)।
আল্লাহ তায়ালা যেভাবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন, আমরা সেভাবেই বিশ্বাস করব—কোনো প্রশ্ন বা তুলনা ছাড়া। আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করুন।
অনুরোধ!! পোষ্ট ভালো লাগলে প্লিজ উপরের শেয়ার আইকনে ক্লিক করে পোষ্টটি শেয়ার করে দিন।









