রমজান মাসে শয়তানকে বদ্ধ করে রাখা সত্বেও!! কেন আমরা সব ধরনের পাপাচারে লিপ্ত হই?

রমজান মাস শুরু হলেই আমাদের মনে একটা প্রশ্ন বারবার ঘোরে— “যদি শয়তান বন্দিই থাকে, তবে মানুষ কেন এখনো মিথ্যা বলছে, ঝগড়া করছে বা পাপ কাজ করছে?”
খুব সহজ ভাষায় এই বিষয়টি নিচে বুঝিয়ে বলা হলো-
শয়তান বন্দি থাকলে আমরা পাপ কেন করি?
আসলে মানুষ শুধু শয়তানের বুদ্ধিতেই পাপ করে না। এর পেছনে আরও কিছু কারণ আছে। চলুন এক নজরে দেখে নেই:
১. আমাদের ভেতরের ‘শয়তান’ বা কুপ্রবৃত্তি
মানুষের নিজের ভেতরেই একটা সত্তা আছে যেটাকে আমরা বলি ‘নফস’ বা মনের কুপ্রবৃত্তি। সারা বছর শয়তান আমাদের যেসব খারাপ কাজ শিখিয়েছে, সেগুলো আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। এখন শয়তান বন্দি থাকলেও আমাদের সেই পুরনো অভ্যাসগুলো আমাদের দিয়ে খারাপ কাজ করিয়ে নেয়।
২. সব শয়তান কি বন্দি?
হাদিস শরীফের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সব শয়তানকে বন্দি করা হয় না। বরং বড় বড় বা শক্তিশালী শয়তানদের (মারাদা) বন্দি করে রাখা হয়। ছোটখাটো শয়তানরা হয়তো বাইরে থাকে এবং মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়।
৩. ফ্যান বন্ধ করার পরের অবস্থার মতো
আপনি যখন একটা বৈদ্যুতিক পাখা (ফ্যান) বন্ধ করে দেন, সেটি কিন্তু সাথে সাথেই থেমে যায় না। বেশ কিছুক্ষণ ঘোরার পর থামে। তেমনি ১১ মাস শয়তান আমাদের ওপর যে প্রভাব ফেলেছে, তার একটা রেশ রমজান মাসেও রয়ে যায়। তাই শয়তান বন্দি থাকলেও আমরা হুট করে সব পাপ ছাড়তে পারি না।
৪. শয়তান বন্দি হওয়ার আসল মানে
অনেক আলেম বলেন, শয়তান বন্দি হওয়ার মানে হলো—রমজানে মানুষের মধ্যে ইবাদত করার ইচ্ছা এত বেড়ে যায় যে শয়তান আর সুবিধা করতে পারে না। অর্থাৎ রোজা রাখার কারণে আমাদের রক্ত চলাচল ও প্রবৃত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে শয়তানের প্রভাব আমাদের ওপর কাজ করে না। কিন্তু যারা ঠিকমতো রোজা রাখে না বা রমজানের মর্যাদা দেয় না, তাদের জন্য শয়তান যেন মুক্তই থাকে।
৫. দিনের বেলা না কি রাতে?
কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শয়তান হয়তো শুধু রোজা বা দিনের বেলায় বন্দি থাকে। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কথা হলো—শয়তান বন্দি থাকা সত্ত্বেও আমাদের ‘নিজের মনের খারাপ ইচ্ছা’ই আমাদের বড় শত্রু হয়ে দাঁড়ায়।
সহজ কথায় মূল কথা:
শয়তানকে জেলে ভরে রাখা হলেও আমাদের ভেতরের ‘খারাপ অভ্যাস’ আর ‘কুপ্রবৃত্তি’ কিন্তু জেলে নেই। রমজান মাস হলো সেই অভ্যাসগুলো বদলে ফেলার সেরা সময়। শয়তানকে দোষ না দিয়ে আমাদের উচিত নিজেদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা।
আরও বিস্তারিত জানতে দেখতে পারেন:
ফাতহুল বারী, উমদাতুল কারী, মিরকাতুল মাফাতীহ, শরহে মুসলিম (ইমাম নববী), শরহুজ যুরকানী লিলমুয়াত্তা ইত্যাদি কিতাবসমূহ।









