ইসলাম চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়ে নারীদেরকে অপমানিত করেছে কী?

ইসলামে একাধিক বিবাহঃ নারীকে সম্মান না কি অপমান?
আমাদের সমাজে একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়— “ইসলাম পুরুষকে চারটি বিয়ের অনুমতি দিয়ে নারীদের অপমান করেছে।” অনেকে মনে করেন, এটি কেবল পুরুষদের সুযোগ দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। কিন্তু আমরা কি কখনো এর পেছনের প্রকৃত কারণ বা ইসলাম যে কঠিন শর্তগুলো দিয়েছে তা তলিয়ে দেখেছি?
আজকের ব্লগে আমরা একদম সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করব, ইসলাম কেন এই নিয়মটি রেখেছে এবং এটি আসলে নারীর জন্য সম্মানের না কি অপমানের।
ইসলাম কি সবার জন্য?
ইসলাম কেবল নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা সময়ের জন্য নয়। এটি কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল যুগের এবং পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। একেক সমাজের মানুষের চাহিদা এবং পরিস্থিতি একেক রকম হয়। সেই সব বিচিত্র পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই ইসলামে কিছু বিকল্প রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে। একাধিক বিবাহ তেমনি একটি সমাধান।
১. একাধিক বিয়ে কি বাধ্যতামূলক বা খুব ভালো কাজ?
অনেকে ভুল বোঝেন যে, ইসলাম বোধহয় চার বিয়ে করতে উৎসাহিত করে। মোটেও তা নয়!
- ইসলামে একাধিক বিয়ে করা আবশ্যক বা ফরজ নয়।
- এমনকি এটিকে খুব বড় ‘উত্তম’ কাজও বলা হয়নি।
- এটি কেবল একটি ‘বৈধ’ কাজ। অর্থাৎ বিশেষ প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তি চাইলে এটি করতে পারেন।
২. ইসলাম যখন কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়
ইসলাম বললেই যে কেউ গিয়ে চারটি বিয়ে করে ফেলবে—বিষয়টি এমন নয়। একজন ব্যক্তি যদি একাধিক বিয়ে করতে চান, তবে তাকে কোরআনের দেওয়া অত্যন্ত কঠিন কিছু শর্ত মানতে হবে-
- ন্যায়বিচার বা ইনসাফ: সব স্ত্রীর সাথে সমান ব্যবহার করতে হবে।
- ভরণ-পোষণ: প্রত্যেকের থাকা, খাওয়া এবং পরার সুব্যবস্থা করতে হবে।
- জৈবিক অধিকার: প্রত্যেক স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক চাহিদা সমানভাবে পূরণ করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
যদি কারো মনে সামান্যতম ভয় থাকে যে তিনি সবার সাথে সমান বিচার করতে পারবেন না, তবে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশ হলো— সে যেন একটির বেশি বিয়ে না করে।
৩. নারীর অসম্মান না কি সুরক্ষা?
এখন আসা যাক আসল কথায়। এটি কি নারীকে ছোট করে? চলুন একটু বাস্তবতার দিকে তাকাই।
দুনিয়ায় এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয় (যেমন: যুদ্ধ বা সামাজিক কারণ), যেখানে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেড়ে যায়। অথবা কোনো বিশেষ পারিবারিক কারণে দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজন পড়ে।
এখন এই পরিস্থিতিতে দুটি পথ খোলা থাকে-
১. ইসলামি নিয়ম মেনে তাকে ‘স্ত্রী’র মর্যাদা দিয়ে ঘরে তোলা।
২. অথবা তাকে কোনো স্বীকৃতি ছাড়া ‘অবৈধ’ সম্পর্কে জড়িয়ে রাখা।
ভেবে দেখুন তো কোনটি সম্মানের? যারা ইসলামের এই বিধানের সমালোচনা করেন, তাদের অনেকের কাছেই বিয়ের বাইরে একাধিক ‘গার্লফ্রেন্ড’ রাখাটা দোষের মনে হয় না। কিন্তু সেখানে নারীর কোনো আইনি অধিকার নেই, সামাজিক মর্যাদা নেই। ইসলাম নারীকে ‘ভোগের বস্তু’ বানাতে নিষেধ করে। ইসলাম বলে, যদি প্রয়োজন হয় তবে তাকে স্ত্রীর সম্মান দাও, তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নাও এবং তার সন্তানদের বৈধ পরিচয় দাও।
৪. জবরদস্তির কোনো জায়গা নেই
ইসলামে কোনো নারীকে জোর করে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দেওয়া যাবে না। বিয়ের সময় একজন নারী চাইলে শর্ত দিতে পারেন যে তিনি সতীন মেনে নেবেন না বা বিশেষ কোনো অধিকার দাবি করতে পারেন। অর্থাৎ নারীর ইচ্ছা এবং সম্মতির ওপর এখানে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামের এই নিয়মটি মূলত সমাজ থেকে ব্যভিচার বা অবৈধ সম্পর্ক দূর করার জন্য এবং অসহায় নারীদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। তবে সমস্যা হয় তখন, যখন কিছু মানুষ ইসলামের এই আইনের সঠিক ব্যবহার না করে কেবল নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে এবং স্ত্রীদের ওপর জুলুম করে।
তাই আমাদের উচিত ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা জানা। যদি এই আইনগুলো সঠিকভাবে মেনে চলা হয়, তবে এটি সমাজে বিশৃঙ্খলা না বাড়িয়ে বরং শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে।
পরিশেষে, ইসলাম নারীকে পরপুরুষের খেলনা হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রানীর মতো সম্মানের সাথে ঘরে স্থান দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। তাই সঠিক তথ্য না জেনে ইসলামকে ভুল বোঝা আমাদের উচিত নয়।
আপনার কি মনে হয়? ইসলামের এই সামাজিক সমাধানের ব্যাপারে আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

![চন্দ্রকে নূরের তৈরি এবং সূর্যকে প্রদীপ বা আগুণ বলা হয়েছে, চন্দ্র নূরের তৈরি নয় এবং সূর্যের পুরো অংশ আগুন নয়, তাহলে কোরানের একথা কিভাবে সত্য হল? [৭১:১৫-১৬; ২৫:৬১] চন্দ্রকে নূরের তৈরি এবং সূর্যকে প্রদীপ বা আগুণ বলা হয়েছে। চন্দ্র নূরের তৈরি নয় এবং সূর্যের](https://informationbangla.com/wp-content/uploads/2023/03/চন্দ্রকে-নূরের-তৈরি-এবং-সূর্যকে-প্রদীপ-বা-আগুণ-বলা-হয়েছে।-চন্দ্র-নূরের-তৈরি-নয়-এবং-সূর্যের.jpg)







