হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ শিবপুরাণ অনুসারে, শিব ও পার্বতীর বিয়ের আসরে, পার্বতীকে দেখে কামাসক্ত হয়ে ব্রহ্মার বীর্যপাত এর কাহিনীর বর্ণনা

বর শিব ও কণে পার্বতীর বিয়ের আসরে, বিয়ের পুরোহিত ব্রহ্মা পার্বতীর সৌন্দর্যের মোহিত হয়ে বীর্যপাত করেন। শিবপুরাণের (রুদ্র সংহিতা, পার্বতী খণ্ড, ৪৮তম অধ্যায়) একটি অংশটিতে এই কাহিনী বর্ণিত রয়েছে। কাহিনী অনুসারে, শিব ও পার্বতীর বিয়ের সময় ব্রহ্মা (যিনি পুরোহিত হিসেবে ছিলেন) পার্বতীর পায়ের সৌন্দর্য দেখে মোহিত হন এবং তাঁর অজান্তেই বীর্যপাত ঘটে। এতে শিব অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং ব্রহ্মাকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন (পরবর্তীতে বিষ্ণুর মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং ওই বীর্য থেকে বালখিল্য ঋষিদের জন্ম হয়)।
শিবপুরাণের বিতর্কিত এই অংশটির মূল সংস্কৃত শ্লোক, গীতা প্রেস সংস্করণের অবিকল হিন্দি অনুবাদ এবং বাংলা অনুবাদ নিচে উপস্থাপন করা হলো:




হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ শিবপুরাণের রেফারেন্স
- গ্রন্থের নাম: শ্রীশিবমহাপুরাণ (Shree Shiva Mahapuran)
- খণ্ড ও বিভাগ: রুদ্রসংহিতা, পার্বতীখণ্ড (Rudra Samhita, Parvati Khanda)
- অধ্যায়: ঊনপঞ্চাশত্তম অধ্যায় (৪৯তম অধ্যায়) — পার্বতীর নখ দেখে ব্রহ্মার মোহিত হওয়া, বীর্যপাত হওয়া এবং শিবের ক্রোধ
- শ্লোক নম্বর: ৫ থেকে ৯
- উৎস সংস্করণ: গীতা প্রেস গোরখপুর (কোড নম্বর: २२२३), পৃষ্ঠা: ७०३ (৭০৩)
মূল সংস্কৃত শ্লোক
तस्मिन्काले शिवस्याहं मायया सुविमोहितः । पार्वत्याश्चरणे रम्यं नखचन्द्रमवैक्षत ॥ ५ ॥
तद्दर्शनान्मुनिश्रेष्ठ मोहितोऽहं भृशं त्वभूत् । ततश्च मन्मनोऽत्यन्तं क्षुभितं च बभूव ह ॥ ६ ॥
मोहितश्च तथा चाहं तदङ्गान्यवलोकयन् । तदा वीर्यं च पतितं पृथिव्यां मे मुनीश्वर ॥ ७ ॥
अत्यन्तलज्जितोऽहं च बभूव तदनन्तरम् । तद्दृष्ट्वा कुपितो जातः शिवः परमदीप्तिमान् ॥ ८ ॥
शीघ्रं मां हन्तुमुद्युक्तो बभूव वृषभध्वजः ॥ ९ ॥
হিন্দি অনুবাদ (গিয়া প্রেস)
श्लोक ५: “उस समय शिवकी मायासे मोहित हुआ मैं पार्वतीके चरणोंमें मनोहर नखचन्द्रको देखने लगा॥ ५॥”
श्लोक ६-९: “हे देवमुने! उसके दर्शनसे मैं मोहित हो उठा और मेरा मन अत्यन्त क्षुब्ध हो गया। मोहित होकर मैं बार-बार उनके अंगोंको देखने लगा, तब उस देखनेसे मेरा तेज अर्थात् वीर्य शीघ्र ही पृथ्वीपर गिर गया और मैं अत्यन्त लज्जित हो गया। यह देखकर महादेवजी अत्यन्त कुपित हो गये और तब उन्होंने मुझ ब्रह्माको शीघ्र मारनेकी इच्छा की॥ ६-९॥”
বাংলা অনুবাদ
শ্লোক ৫: “সেই সময় শিবের মায়ায় অত্যন্ত মোহিত হয়ে আমি (ব্রহ্মা) পার্বতীর চরণের সুন্দর নখরূপ চন্দ্রের দিকে অপলক তাকিয়ে রইলাম।”
শ্লোক ৬: “হে দেবমুনি (নারদ)! তা দর্শন করে আমি কামমোহিত হয়ে পড়লাম এবং আমার মন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও কামাসক্ত হয়ে উঠল।”
শ্লোক ৭: “মোহগ্রস্ত অবস্থায় আমি বারবার তাঁর (পার্বতীর) অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখতে লাগলাম। হে মুনীশ্বর! তখন সেই দর্শনের ফলে আমার তেজ অর্থাৎ বীর্য শীঘ্রই মাটির ওপর স্খলিত হয়ে পড়ল।”
শ্লোক ৮-৯: “এর পরপরই আমি অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে পড়লাম। তা দেখে পরম দীপ্তিশালী মহাদেব (শিব) অত্যন্ত কুপিত (ক্রুদ্ধ) হলেন এবং তখনই তিনি আমাকে (ব্রহ্মাকে) অবিলম্বে হত্যা করার জন্য উদ্যত হলেন।”
কাহিনীর বিশ্লেষণ
ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা হওয়া সত্ত্বেও পার্বতীর (যিনি আদিশক্তির রূপ) মায়ায় মোহিত হয়েছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছিল শিব ও পার্বতীর বিয়ের আসরে, যেখানে ব্রহ্মা ছিলেন প্রধান পুরোহিত।
- কুদৃষ্টি ও আচরণ: বিয়ের পিঁড়িতে বসা কনে পার্বতীর রূপ দেখে পুরোহিতের আসনে বসা ব্রহ্মা কামাসক্ত হয়ে পড়েন।
- শারীরিক স্খলন: এই কামাসক্তির তীব্রতা এতটাই ছিল যে, পবিত্র যজ্ঞশালার ভেতরেই তাঁর বীর্যপাত ঘটে।
- সহিংস প্রতিক্রিয়া: এই দৃশ্য দেখে বর শিব চরম ক্ষুব্ধ হন এবং ব্রহ্মাকে তৎক্ষণাৎ হত্যা করতে উদ্যত হন।
ভগবাদ ব্রহ্মার বিয়ের আসরে বীর্যপাতের এই কাহিনীটি কয়েকটি কারণে চরমভাবে ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়:
- গুরুতর পদের অবমাননা ও বিশ্বাসভঙ্গ: একজন পুরোহিত বা অভিভাবক সমতুল্য চরিত্রের কাছ থেকে বিয়ের পবিত্র আসরে কনের প্রতি এমন কামুক আচরণ চরম মাত্রার চরিত্রহীনতা ও নৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করে।
- নারীর মর্যাদাহানি: কনেকে একজন মানুষ বা শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে না দেখে, কেবল কামনার উপাদান হিসেবে দেখার এই মানসিকতা অত্যন্ত সংকীর্ণ ও প্রগতিবিরোধী।
- সামাজিক ও ধর্মীয় শালীনতার চরম লঙ্ঘন: পবিত্র অনুষ্ঠান এবং সামাজিক রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যজ্ঞের স্থানে এমন শারীরিক ও মানসিক স্খলন যেকোনো সভ্য সমাজের মানদণ্ডেই এক অপরাধ।
- ন্যায়বিচারের অভাব: শিবের প্রতিক্রিয়াও ছিল চরমপন্থী। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিচার বা সংশোধনের সুযোগ না রেখে সরাসরি হত্যার চেষ্টা এক ধরণের আদিম ও সহিংস বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে ইঙ্গিত করে।
মানুষের চিন্তাভাবনা কতটা স্থূল ও আদিম হলে বিয়ের মতো পবিত্র সামাজিক বন্ধনের আবহে এমন একটি কামাসক্ত ও সহিংস কাহিনীর অবতারণা করা সম্ভব, তা সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ। নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, এই কাহিনীটি মানবিক মূল্যবোধের নিরিখে এক চরম অন্ধকার এবং সম্পূর্ণ নিন্দনীয় অধ্যায়।



